Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গণশত্রু: পাওলি দামের ত্রৈলোক্যতারিণী চরিত্রে নারী অপরাধীর গল্প

বাংলা জি-ফাইভের নতুন সিরিজ ‘গণশত্রু’ তুলে ধরছে পাঁচ বাস্তব কুখ্যাত অপরাধীর গল্প।পাওলি দাম অভিনীত ত্রৈলোক্যতারিণী দেবী হলেন ১৮৮০ সালের প্রথম মহিলা সিরিয়াল কিলার।মধুরা পালিত পরিচালিত এই সিরিজ়ে সুব্রত দত্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, আয়ুষ দাস ও দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়ও অভিনয় করছেন।পাওলি চরিত্রের মাধ্যমে নারী মনস্তত্ত্ব ও লোভ, হিংসা, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার আভাস দিচ্ছেন।সিরিজ়ে বাস্তব এবং কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছে নায়িকা।

বাংলা ওয়েব সিরিজের দুনিয়ায় নতুন করে আলোড়ন তুলেছে বাংলা জি-ফাইভের ‘গণশত্রু’। নামটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি এর গল্পও একেবারেই ভিন্নধর্মী। বর্তমান সময়ে সাধারণ দর্শক পুরুষ অপরাধীর কাহিনী দেখতেও অভ্যস্ত, কিন্তু নারী অপরাধীর জীবন এবং মানসিকতা নিয়ে কাজ করা হয় খুবই কম। ঠিক সেই শূন্যস্থান পূরণের প্রচেষ্টায় এসেছে এই সিরিজ।

‘গণশত্রু’ এক অভিনব ধারণার ওপর দাঁড়িয়েছে। এখানে পাঁচ পরিচালক মিলে পাঁচজন বাস্তব কুখ্যাত অপরাধীর গল্পকে তুলে ধরেছেন। তবে যেটি সবচেয়ে আলাদা করে তোলে, তা হলো নারীর অপরাধের চিত্রায়ন। সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র হলেন ত্রৈলোক্যতারিণী দেবী—১৮৮০ সালের প্রথম মহিলা সিরিয়াল কিলার। চরিত্রটি অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী পাওলি দাম, যিনি তাঁর অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মনে দাগ কাটার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

ত্রৈলোক্যতারিণী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করার প্রসঙ্গে পাওলি বলেন, “পুরুষ অপরাধীর গল্প রোজই শুনি, কিন্তু নারী অপরাধীর গল্প কে বলে?” এই প্রশ্ন থেকেই মধুরা পালিত পরিচালিত সিরিজের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। পাওলি চরিত্রটির রহস্যময়তা এবং অন্তর্নিহিত অন্ধকার মানসিকতা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই চরিত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য আমাকে নিজের ভেতরের কিছু দিক মনে করিয়ে দেয়।”

পাওলি বললেন, নারী চরিত্রের ক্ষেত্রে লোভ, হিংসা, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা—এসব সাধারণ মানুষের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। “প্রত্যেক নারীর মধ্যেই লোভ, হিংসা, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকে। কে কোন অনুভূতিকে গুরুত্ব দেবেন, সেটাই আসল।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সিরিজের উদ্দেশ্য শুধু একটি অপরাধীর জীবন দেখানো নয়, বরং দর্শকদেরকে নারী মনস্তত্ত্বের জটিল দিকগুলোর সঙ্গে পরিচয় করানো।

‘গণশত্রু’তে পাওলির সঙ্গে অভিনয় করেছেন সুব্রত দত্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, আয়ুষ দাস, এবং দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। প্রত্যেকে এক একজন কুখ্যাত অপরাধীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে সিরিজটি দর্শককে একটি বিস্তৃত মানসিক এবং সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত দেখাতে চাচ্ছে। শুধুমাত্র নারীর অপরাধ নয়, বরং পুরুষ অপরাধীদের জীবন, তাদের মানসিক অবস্থা এবং সমাজের প্রভাবও সিরিজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রায়শই চলচ্চিত্র ও সিরিজে পুরুষ অপরাধীর কাহিনীই প্রাধান্য পায়। সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে নারী অপরাধীকে দেখা হয় ভিন্নভাবে। তাই এই ধরনের চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে লুকিয়ে থাকা কিছু দিককে সামনে আনা সম্ভব। পাওলি বলেন, “নারী চরিত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কম, কিন্তু তাদের কাহিনীও কম চমকপ্রদ নয়।”

এছাড়া, এই সিরিজটি দেখার পর দর্শকরা ভাববেন—নারী অপরাধীর মনস্তত্ত্ব কেমন? কোন পরিস্থিতিতে একজন নারী সাধারণ মানুষ থেকে দুষ্ট হয়ে যায়? এই প্রশ্নগুলো দর্শককে শুধু কাহিনীতে নয়, বরং বাস্তব জীবনের সমাজকেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণেও নিয়ে যায়।

পাওলি একই সময়ে অরিত্র সেনের ‘জুলি’ ছবিতেও দেখা যাবে। সেখানে তিনি যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, এই দুটি চরিত্র কি একরকম? পাওলি সাফ উত্তর দিয়েছেন, “একেবারেই না। এক জন কাল্পনিক, আর এক জন বাস্তব।”

এই পার্থক্য বোঝায়, সিরিজটি শুধুই বিনোদনের জন্য তৈরি নয়। এটি একটি গবেষণামূলক উদ্যোগ, যা বাস্তব ইতিহাস এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে প্রদর্শন করে। দর্শকরা সহজেই বুঝতে পারবে, কোন চরিত্র কোন প্রেক্ষাপটের অধীনে কাজ করছে।

news image
আরও খবর

মধুরা পালিত, যিনি ‘গণশত্রু’ পরিচালনা করছেন, এই সিরিজটি নিজের পরিচালনামূলক আত্মপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বাস্তব অপরাধীদের গল্পকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সহজ নয়। তবে নারী চরিত্রের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হয়েছে, কারণ দর্শকরা অতিসংবেদনশীল হতে পারেন।”

সিরিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইল, সিনেমাটোগ্রাফি এবং মিউজিক দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি দৃশ্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে চরিত্রের অন্তর্নিহিত আবেগ এবং মানসিক চাপ ফুটে ওঠে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সিরিজটি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের কাহিনী দেখায় না, বরং সমাজের পরিবর্তনশীল মানসিকতা ও নৈতিকতার দিকও তুলে ধরে। পাওলি যখন ২০২৫ সালের সমাজে প্রশ্ন করা হলো—কারা ‘গণশত্রু’?—তখন তিনি হেসে বললেন, “খুব কঠিন প্রশ্ন! তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বুদ্ধিমান, তাঁরা জানেন সব— শুধু বলেন না।”

এটি প্রমাণ করে, সমাজে তথ্যের অদৃশ্য জালে সবাই সচেতন। ‘গণশত্রু’ সিরিজটি এই সচেতনতা এবং মানুষকে নিজেদের পরিচয় এবং সমাজের নৈতিকতার সাথে মেলাতে সহায়তা করে।

সিরিজটির ট্রেলার এবং প্রাথমিক প্রচারনার পর দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী চরিত্রের গভীর বিশ্লেষণ এবং বাস্তব অপরাধীর গল্প দেখার সুযোগ দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই সিরিজটি কি শুধুই ইতিহাস এবং অপরাধের কাহিনী দেখাবে, নাকি তা সমসাময়িক সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তাও পৌঁছে দেবে? যেহেতু প্রতিটি চরিত্রের গল্প বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই দর্শকরা একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং চিন্তার উদ্রেককারী অভিজ্ঞতা পাবেন।

‘গণশত্রু’ শুধু একটি অপরাধমূলক সিরিজ নয়; এটি ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং শিল্পের সমন্বয়। পাওলি দাম এবং অন্যান্য অভিনেতাদের পারফরম্যান্স চরিত্রের গভীরতা এবং জটিলতা ফুটিয়ে তুলেছে। মধুরা পালিত পরিচালিত এই সিরিজটি বাংলার ওয়েব সিরিজের জগতে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে এসেছে।

নারী অপরাধীকে কেন্দ্র করে গল্প বলার সাহস, বাস্তব চরিত্রের উপর ভিত্তি এবং সমাজের নৈতিকতার দিকে সূক্ষ্ম নজর—এই সব মিলিয়ে ‘গণশত্রু’ সিরিজটি দর্শককে নতুন ধরনের বিনোদন ও চিন্তাভাবনার দিগন্ত খুলে দেবে। ইতিহাস এবং আধুনিকতার সংমিশ্রণ, নারীর মনস্তত্ত্বের রহস্যময় দিক এবং সমাজের চোখে অপরাধের দিক—all একসাথে উপস্থাপিত হয়েছে এই সিরিজে।

সিরিজটি নিশ্চিতভাবেই দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগাবে, আলোচনা তৈরি করবে এবং বাংলা ওয়েব কনটেন্টে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।

Preview image