ধারাবাহিকের সেটে অস্বস্তিকর পরিবেশের জেরে জিতু কমল শো থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এমনটাই জানাচ্ছে টিমের সূত্র। তাঁর পরপর ইঙ্গিতপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জল্পনা আরও বেড়েছে।ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করছেন জিতু কমল, যার মাঝেই জানা গেছে তিনি ধারাবাহিক ছাড়ছেন। ঠিক কী কারণে সিদ্ধান্ত তা স্পষ্ট না হলেও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ঘটনাটি।ধারাবাহিকের শুটিং-পরিবেশ নিয়ে জিতু কমল নাকি অসন্তুষ্ট ছিলেন এমনই শোনা যাচ্ছে। শো থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলো নতুন ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।সম্প্রতি জিতু কমলের একটি রহস্যময় পোস্টে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর মাঝেই তাঁর ধারাবাহিক ছাড়ার খবর সামনে আসায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
টলিপাড়ার বাতাস এমনিতেই একটু আলগা। কোনো নতুন প্রবাহ এলেই সেখানে দ্রুত ঢেউ ওঠে, আর সেই ঢেউ কখন যে ঝড়ে রূপ নেয়, বলা মুশকিল। গত কয়েকদিনে এই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন অভিনেতা জিতু কমল, যিনি বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ। তাঁর ধারাবাহিক সম্পর্কিত একের পর এক আলোচনা, গুঞ্জন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট—সব মিলিয়ে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে টেলিভিশন দুনিয়ার অভ্যন্তরীন মহল পর্যন্ত উত্তেজনার পারদ বেড়েছে।
তবে উল্লেখ্য—এই সময়কালের অনেক কথাই এসেছে সূত্র, অনুমান বা দর্শক–ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট কেউই প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মন্তব্য না করায় বিষয়গুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং মাধ্যমিক সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং শিল্পী–দর্শক প্রতিক্রিয়ার মিলিত চিত্র হিসেবেই দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
টেলিভিশন দুনিয়ায় গুঞ্জন নতুন নয়। শুটিং ফ্লোরে নতুন কাস্টিং, চরিত্রের পরিবর্তন, হঠাৎ বিরতি—সবই নানা জল্পনার জন্ম দেয়। তবে এই ঘটনার সূত্রপাত একটু অন্যরকম। কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, জিতু কমল ও তাঁর সহ–অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়ের মধ্যে নাকি কোনো কারণে অসংগতি দেখা দিয়েছে। কী কারণ, কী প্রসঙ্গ—সমস্যা কোথায়—এসব নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। কিন্তু “গুঞ্জন”—এই শব্দটাই বরাবর রহস্যকে ঘন করে তোলে।
শোয়ের ইউনিটে কাজ করা কয়েকজনের মন্তব্য নিয়ে মিডিয়ায় দাবি করা হয়, সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নাকি শুটিংয়েও প্রভাব ফেলছিল। তবে আবার কেউ কেউ বলেন—টেলিভিশনের ব্যস্ত শুটিং সূচি, ক্লান্তিকর দিন–যাপন, চরিত্রে নিয়মিত মানসিক প্রবেশ—এসব কারণে ভুল–বোঝাবুঝি বা চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
গোটা বিষয়ই তাই ছিল অস্পষ্ট, অর্ধেক শোনা, অনুমানভিত্তিক—কিন্তু আগুন নেই, ধোঁয়া নেই—এমনটা তো হয় না। গুঞ্জনের ধোঁয়াটা এতটাই ঘনীভূত হয়েছিল যে, দর্শক বিশেষ করে দুই শিল্পীর অনুগামীরাও ব্যাখ্যা খুঁজতে শুরু করেন।
প্রথমে বিস্ময়কর ছিল উভয় পক্ষের নীরবতা। জিতু কমল বা দিতিপ্রিয়া—কেউই কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। নীরবতা অনেক সময়ই সংবাদমাধ্যম বা দর্শক–মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। এখানে তার ব্যতিক্রম হলো নীরবতা ভেঙে প্রথম ইঙ্গিতটি কিন্তু এল জিতুর নিজের কাছ থেকেই—একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।
সাধারণত ফিটনেস ভিডিও, জিম রুটিন বা অনুপ্রেরণামূলক বার্তা পোস্ট করা জিতুর নতুন কিছু নয়। তিনি নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে নিজের শরীরচর্চা–জার্নির বিভিন্ন মুহূর্ত শেয়ার করেন। সেদিনও তিনি পোস্ট করেছিলেন নিজের ওয়ার্কআউটের একটি ভিডিও। কিন্তু সেই ভিডিওর লেখাটি যেন অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশি তীক্ষ্ণ, একটু বেশি দৃঢ় অর্থবোধক:
“কঠিন পরিশ্রম হলো সফল হওয়ার সর্বশেষ উপায়।”
পোস্টটি পড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন—এটা হয়তো সাধারণ মোটিভেশনাল কিছু কথা মাত্র। আবার অনেকেরই মনে হয়েছিল—এটি হয়তো কোনো চাপের মধ্যেও দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যক্তিগত বার্তা।
এখান থেকেই শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের জল্পনা—জিতু কি ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
মোটিভেশনাল পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরেই আসে একটি স্টোরি—যা আর সাধারণ মনে হয়নি কারো কাছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন:
“ধন্যবাদ, দারুণ অভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু এটা তোমার জয় নয়, বরং তোমার অভিশপ্ত জীবনের শুরু…”
এক লাইনের এই বাক্যই সোশ্যাল মিডিয়া আলোচনাকে নিমেষে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
এমন বক্তব্য শুধুমাত্র নাটকীয় বা প্রতীকী হতে পারে—আবার এটা কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট কারও উদ্দেশে এটি বলা হয়েছে কিনা—তা তিনি উল্লেখ করেননি। ফলে দর্শকরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন।
অবশ্যই—অনুমান সত্যকে প্রতিস্থাপিত করতে পারে না। তাই এই পোস্টের অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় এগুলোকে ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে দেখা যথাযথ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ফোরকের মতো। অনেক অনুরাগী মন্তব্য করেন—
“জিতু না থাকলে সিরিয়াল দেখা বন্ধ!”
“টিম যদি সমস্যার সমাধান করতে পারত, ভালো হতো।”
“এটা কি সিরিয়াল ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত?”
আবার অনেকে দিতিপ্রিয়া রায়ের দিকেও আঙুল তোলেন—যা সম্পূর্ণই দর্শক–ব্যাখ্যা, কারণ তিনি কখনও কোনো মন্তব্য করেননি এবং কোনো প্রমাণও সামনে আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতে শিল্পীদের ব্যক্তিগত সম্মান ও পেশাদারিত্বকে সম্মান জানিয়ে সতর্কভাবে এগোনোই সর্বোত্তম—এটাও অনেকেই মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
টেলিভিশন দুনিয়ার বেশ কিছু পরিচিত মুখও প্রতিক্রিয়া না দিলেও নিজেদের মতো করে জিতুর প্রতি সহানুভূতি বা সমর্থনের মন্তব্য রেখে যান।
গুঞ্জন ছড়ানোর পর শো–টিমের কিছু সূত্রের উদ্ধৃতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়—
ধারাবাহিকের সেটের পরিবেশ নাকি কিছুদিন ধরে অস্বস্তিকর হয়ে উঠছিল জিতুর কাছে। পেশাদার মনোভাব বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তিনি করেছেন, কিন্তু পরিস্থিতি এমন জটিল হয়ে উঠেছিল যে আর পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না—এমনটাই দাবি করে কিছু সংবাদমাধ্যম।
তবে এটিও একেবারে স্পষ্ট করে বলা দরকার—এ ধরনের দাবি শুধুই সূত্র–নির্ভর।
যে কোনো বড় ইউনিটে কাজ করার মতো এখানেও বিভিন্ন চাপ থাকতে পারে—দীর্ঘ শুটিং সময়, গল্পের পরিবর্তন, চরিত্রের চাহিদা, সময়ের ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তে মতান্তর—অনেক কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সমস্যা কী ছিল—তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কেউই দেননি।
সেট থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে জিতু নিজেও কোনো সরাসরি কারণ প্রকাশ করেননি। শুধু জানানো হয়—তিনি নীরবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং টিম সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—টেলিভিশন সেটে শিল্পীদের পরিস্থিতি।
দৈনিক পর্ব নির্মাণ, চরিত্র ধরে রাখা, গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—এসবই একটি সীমাহীন মানসিক চাপ তৈরি করে। কখনো কখনো সহ–অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, লেখক—সব পক্ষের মতপার্থক্যও হতে পারে।
এগুলো পেশাগত জগতের চিরাচরিত অংশ, কিন্তু কখনো যদি পরিস্থিতি ব্যক্তিগত বা অতিরিক্ত চাপের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন শিল্পীর সরে দাঁড়ানোই শ্রেয় হতে পারে—শিল্পীর মানসিক শান্তি ও পেশার প্রতি নিষ্ঠা বজায় রাখার স্বার্থে।
জিতুর ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল—তা তিনি প্রকাশ্যে বলেননি। তাই এই সিদ্ধান্তকে তাঁর নিজের ভাবনা ও সীমারেখার সম্মান হিসেবেই দেখা উচিত।
ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ ছিল দর্শকের প্রতিক্রিয়া।
বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা তাঁদের প্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে গভীর আবেগে জড়িয়ে থাকেন। চরিত্রের মাধ্যমে শিল্পী তাঁদের জীবনের একাংশ হয়ে যান।
তাই জিতুর শো ছাড়ার খবর—অফিশিয়াল ঘোষণা না এলেও—তাদের মনে নানা রকম প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ হতাশ, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ দুঃখিত। আবার কেউ বা মনে করেছেন—এটা যদি সত্যি হয়, তবে হয়তো তার কারণ যুক্তিযুক্তই হবে।
দর্শকরা যে নায়ককে পর্দায় প্রতিদিন দেখেন, তিনি যদি হঠাৎ অনুপস্থিত হন, তা সহজভাবে মেনে নেওয়া কঠিনই বটে।
জিতুর স্টোরির ওই এক লাইনের বক্তব্য অনেকেই বিশ্লেষণ করেছেন—‘তিনি আঘাত পেয়েছেন’।
তবে আঘাতের কারণ কী—তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
সেটা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে লেখা কি না—তা জানা যায়নি।
কেউ কেউ বলেছেন—এটা হয়তো জীবনের কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নিয়ে ব্যক্তিগত আবেগ। আবার কেউ বলেছেন—এটি হয়তো শিল্পীজীবনের সঙ্গে মিশে থাকা ক্লান্তি বা হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
এমন ক্ষেত্রে অনুমান কখনই সত্যের জায়গায় বসতে পারে না। তাই যথাযথ হবে এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির অংশ হিসেবেই দেখা।
যা–ই হোক, একটি বিষয় একেবারেই পরিষ্কার—জিতু তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ়ভাবে এবং নীরবে।
শিল্পীরা তাঁদের কাজ বেছে নেন নানা কারণে—সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্রের পরিসর, কর্মপরিবেশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি।
একটি সিদ্ধান্ত কখনোই কোনো একক ঘটনার ফল নয়; বরং একাধিক অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও পরিস্থিতির সমষ্টি।
জিতুর ক্ষেত্রেও সেই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ—তিনি তাঁর পথ নিজেই ঠিক করেছেন।
দর্শকের ভালোবাসা এখনো তাঁর সঙ্গে আছে। তাঁর পরবর্তী কাজ কী হবে, তিনি কোথায় দেখা দেবেন—সেসবই এখন আগ্রহের কেন্দ্র।
টেলিভিশন দুনিয়ায় এক দরজা বন্ধ হলে অন্য দরজা খুলতেই থাকে। একজন শিল্পীর প্রতিটি সিদ্ধান্তই তাঁর কেরিয়ারের নতুন অধ্যায় তৈরি করে।
জিতু কমল যেমন বাংলা টেলিভিশনের একজন স্থায়ী মুখ, তেমনই তাঁর অভিনয়শৈলী এবং উপস্থিতি তাঁকে অন্যান্য মাধ্যমেও সাফল্যের সুযোগ এনে দিতে পারে—ওটিটি, সিনেমা বা নতুন ধারাবাহিক—কোন দিক তিনি বেছে নেবেন, তা এখনো অজানা।
তবে অভিজ্ঞতা বলে—প্রতিটি পরিবর্তনই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে।
এই কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহে যা স্পষ্ট তা হলো—
১. গুঞ্জন ছিল, এবং সেটিকে জোরালো করেছে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।
২. শোয়ের ইউনিট সূত্র কিছু বলেছে, কিন্তু সেগুলো নিশ্চিত বিবৃতি নয়।
৩. কোনো পক্ষ কোনো সরাসরি অভিযোগ আনেনি।
৪. দর্শকের প্রতিক্রিয়া ঘটনাটিকে অনেক বেশি আলোচিত করেছে।
৫. শিল্পী হিসেবে জিতু নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছেন—এবং তা যথেষ্ট পরিপক্বভাবে।
টলিপাড়ার বিতর্ক হয়তো কিছুদিন চলবে।
গল্প, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ—সবই হবে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।
কিন্তু দিনের শেষে শিল্পীর পছন্দ ও ব্যক্তিগত সীমারেখাই প্রধান।
এখন কেবল অপেক্ষা—জিতু কমল কোন নতুন পথে এগোবেন।
দর্শক তাঁর পরবর্তী ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন—শান্ত, কিছুটা উদ্বিগ্ন, কিন্তু অপরিবর্তনীয় সমর্থন নিয়ে।