Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে থিমের সঙ্গে মিলে গেল দেবলীনার শাড়ি, মুগ্ধ দর্শকরা

দেবলীনার শাড়ি পুরোপুরি মানিয়েছে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের থিমের সঙ্গে।রেড কার্পেটে দেবলীনার লুক ছিল থিমভিত্তিক ও আকর্ষণীয়।দেবলীনার শাড়িতে ফুটে উঠেছে ফেস্টিভ্যালের মূল ভাবনা।দেবলীনার পোশাকের ছোঁয়ায় উৎসব পেল নতুন রঙ।দর্শক ও ফটোগ্রাফারদের নজর কাড়ল তার অনবদ্য শাড়ি।  

 

বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেট মানেই গ্ল্যামার, ফ্যাশন, আর আলো–ঝলমলের এক অনন্য উৎসব। প্রতিবারের মতো এবারও ফেস্টিভ্যালের থিম ছিল সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ—যেখানে সিনেমা যেমন সময়ের গল্প বলে, তেমনই পোশাকও একেকটি শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে। আর এই বছরের সেই রেড কার্পেটেই দেবলীনা দত্তের উপস্থিতি যেন এক কথায় পরিপূর্ণ ‘থিমেটিক ম্যাজিক’।

দেবলীনার পরনে ছিল একটি হ্যান্ডলুম শাড়ি, যার রঙ, বুনন ও নকশা ঠিক যেন ফেস্টিভ্যালের থিমের প্রতিধ্বনি। ঐতিহ্যের শিকড়ে দৃঢ় থেকেও তিনি আধুনিকতার ছোঁয়ায় এনেছিলেন এক অভিনব ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। দর্শক, ফটোগ্রাফার, এমনকি ফ্যাশন সমালোচক—সবাই মুগ্ধ তাঁর অনবদ্য রুচি ও আত্মবিশ্বাসে ভরা উপস্থিতিতে।

এবারের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল থিম ছিল—“Tradition Meets Transition”। মানে, যেখানে পুরোনো ও নতুনের মেলবন্ধন ঘটবে শিল্পে, চিন্তায় ও ফ্যাশনে। দেবলীনার শাড়ি ছিল এই ভাবনারই প্রতীক। তিনি বেছে নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথাগত জামদানি শাড়ি, যার ওপর আধুনিক কাঁথা স্টিচের কাজ করা হয়েছে। রঙের দিক থেকে ছিল এক নিস্তব্ধ অথচ রাজকীয় সমন্বয়—গাঢ় মেরুনের ওপর সোনালি ও রূপালি জরি।

এই বস্ত্র বাছাই শুধু ফ্যাশন নয়, এক ধরনের বক্তব্যও ছিল—আমাদের মাটির ঐতিহ্য আজও কতটা প্রাসঙ্গিক ও গর্বের। দেবলীনা নিজেই পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন,

“আমি চাইছিলাম এমন কিছু পরতে, যা আমাদের বাংলার শিকড়ের কথা বলে, কিন্তু একেবারেই পুরোনো বা ক্লাসিক ধারায় বন্দী নয়। এই শাড়িটা ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।”

শুধু শাড়ি নয়, দেবলীনার পুরো লুকই ছিল সুষম ও চিন্তাশীল। তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি মিনিমালিস্ট ব্লাউজ—হালকা গোল্ডেন টোনে, যাতে শাড়ির কাজ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গয়না হিসেবে পরেছিলেন শুধুমাত্র একটি ঐতিহ্যবাহী পোলকি নেকপিস ও ছোট ঝুমকা। চুল বাঁধা ছিল নিচু খোঁপায়, যাতে লুকটি আরও এলিগ্যান্ট হয়।

মেকআপে ছিল প্রাকৃতিক ভাব—নিউড বেস, হালকা কোকো লিপস্টিক আর চোখে সূক্ষ্ম কাজল। দেবলীনা সর্বদাই বিশ্বাস করেন “কমই বেশি”, আর সেই বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটেছিল তাঁর প্রতিটি ফ্যাশন পছন্দে।

ফ্যাশন বিশ্লেষক অনন্যা চক্রবর্তী বলেছেন,

“দেবলীনাকে আমি বহুবার রেড কার্পেটে দেখেছি, কিন্তু এ বছর তাঁর লুক ছিল সবচেয়ে পরিপক্ব ও থিমেটিক। তিনি জানেন, কীভাবে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে থিমকে মিশিয়ে তুলতে হয়।”

রেড কার্পেটের মুহূর্তটা ছিল যেন সিনেমার দৃশ্য। ক্যামেরার ফ্ল্যাশে যখন দেবলীনা ধীরে ধীরে হেঁটে এলেন, দর্শক-ফটোগ্রাফাররা একসঙ্গে বলে উঠলেন—“Wow!”। তাঁর মুখের হাসি, ভঙ্গিমা, আর চোখের আত্মবিশ্বাস যেন প্রমাণ করে দিচ্ছিল—একজন শিল্পী শুধু অভিনয়ে নয়, উপস্থিতিতেও গল্প বলেন।

তিনি হাত নেড়ে অভ্যর্থনা জানালেন দর্শকদের, থেমে কয়েক মুহূর্ত পোজ দিলেন ক্যামেরার সামনে। কিন্তু তাঁর মধ্যে কোথাও অতিরিক্ত আত্মপ্রচার ছিল না; বরং একধরনের সংযমী সৌন্দর্য।

একজন উপস্থিত সাংবাদিক বলেন,

“দেবলীনাকে দেখে মনে হচ্ছিল, থিমটা যেন ওঁর জন্যই বানানো। ঐতিহ্যের শাড়ি, কিন্তু আধুনিক ভঙ্গি—এটাই তো ‘Tradition Meets Transition’!”

এবারের ফেস্টিভ্যালে দেশ-বিদেশের বহু তারকা হাজির ছিলেন। কেউ বেছে নিয়েছিলেন ডিজাইনার গাউন, কেউ বা স্যুট। কিন্তু দেবলীনার শাড়ি ও লুকের মতো থিমের সঙ্গে এত সুন্দর সামঞ্জস্য আর কারও মধ্যে দেখা যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর ছবিগুলি। ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (টুইটার)-এ ভক্তরা লিখেছেন—

“দেবলীনা মানেই ক্লাস ও কালচার।”
“বাংলার ঐতিহ্যকে এইভাবে উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ!”

ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কমিটিও দেবলীনার ফ্যাশনকে প্রশংসা করে একটি পোস্ট করে লিখেছে,

“এই বছরের থিমের সবচেয়ে নিখুঁত উপস্থাপনা—দেবলীনা দত্তের মাধ্যমে।”

দেবলীনার এই শাড়ি-চয়ন নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা। এখন যেখানে ওয়েস্টার্ন পোশাকই অনেকের প্রথম পছন্দ, সেখানে একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর এই ঐতিহ্যময় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এক ইতিবাচক বার্তা দেয়।

news image
আরও খবর

বাংলার হ্যান্ডলুম শিল্প আজও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। দেবলীনার মতো সেলিব্রিটি যখন এই বস্ত্রকে তুলে ধরেন, তখন তা শুধুমাত্র স্টাইল নয়—একটি সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা। তাঁর মতে,

“আমি মনে করি, আমাদের ফ্যাশনের মধ্যেও সংস্কৃতির দায়িত্ব থাকে। যদি আমরা নিজের জিনিসগুলো ভালোবেসে পরি, তাহলে সেই ঐতিহ্য টিকে থাকবে।”

এই বক্তব্য যেন আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্যও এক বার্তা—গ্ল্যামার মানেই পশ্চিমা নয়, আমাদের শিকড়ও সমান মোহময়।

বিভিন্ন ফ্যাশন পোর্টাল ও ম্যাগাজিন দেবলীনার এই উপস্থিতিকে বছরের সেরা রেড কার্পেট লুকগুলির মধ্যে স্থান দিয়েছে। Vogue India–র অনলাইন সংস্করণে লেখা হয়েছে,

“Debolina Dutta’s fusion of Bengal’s heritage and contemporary minimalism perfectly embodied the festival’s theme.”

দেশের খ্যাতনামা ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,

“দেবলীনার শাড়িটা প্রমাণ করে, ফ্যাশন তখনই পূর্ণতা পায় যখন সেটি গল্প বলে। ওর লুকটা ছিল এক জীবন্ত গল্প।”

ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যেও দেবলীনার লুক নিয়ে আলোচনা থামেনি। কেউ বলছেন, তাঁর লুক “রেড কার্পেটের সবচেয়ে ক্লাসি”, কেউ বলছেন “বাঙালি নারীত্বের নিখুঁত প্রতীক।”

টেলিভিশন চ্যানেলগুলির ফ্যাশন সেগমেন্টেও তাঁকে তুলে ধরা হয়—“দেবলীনার থিমেটিক শাড়ি লুক” নামে। ইউটিউবে তাঁর ভিডিও ক্লিপে মিলিয়ন ভিউস। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “এটাই তো সত্যিকারের ‘ইন্ডিয়ান রেড কার্পেট ফ্যাশন’।“

ফ্যাশনের ব্যাপারে দেবলীনার নিজস্ব এক দর্শন আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, পোশাক কখনোই কেবল বাহ্যিক সাজ নয়—এটি আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। তাঁর কথায়,

“আমি সবসময় এমন কিছু পরতে চাই যা আমাকে উপস্থাপন করে, কেবল ট্রেন্ড নয়। ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মানেই নিজের শিল্পীসত্তাকে ফ্যাশনের ভাষায় প্রকাশ করা।”

এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। দেবলীনার ফ্যাশন বেছে নেওয়ার পেছনে সবসময় একটা গল্প থাকে—কখনও সেটা বাংলার তাঁতিদের পরিশ্রমের গল্প, কখনও বা নারীর আত্মনির্ভরতার প্রতীক।

দেবলীনাকে শুধু অভিনেত্রী বললে কম বলা হবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। তাঁর রেড কার্পেট উপস্থিতি শুধু ফ্যাশনের প্রদর্শনী নয়, বরং শিল্প ও সংস্কৃতির সংযোগের প্রতীক।

এই ফেস্টিভ্যালে তাঁর অভিনীত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিও প্রদর্শিত হয়, যেখানে তিনি একজন বুননশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন—আর তাঁর শাড়ি যেন সেই চরিত্রেরই সম্প্রসারিত রূপ! এ যেন বাস্তব ও সিনেমার এক দুর্দান্ত মিলন।

ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মানে শুধু সিনেমা নয়, সংস্কৃতির এক মহাউৎসব। আর দেবলীনা দত্ত এই উৎসবের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ হয়ে উঠলেন তাঁর নিখুঁত ফ্যাশন বোধ ও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থাপনার জন্য।

তিনি প্রমাণ করেছেন, রেড কার্পেটে ঝলমলে গাউন বা ভারী কস্টিউমই নয়, একটি সাদামাটা অথচ ভাবনাসমৃদ্ধ শাড়িও হতে পারে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।

দেবলীনার এই শাড়ি যেন এক অনুপ্রেরণা—নিজের শিকড়ে থেকে আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলানোর। তাঁর উপস্থিতি বার্তা দেয়,

“গ্ল্যামার তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন সেটি নিজের সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত।”

এ কারণেই, এ বছরের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেবলীনার লুককে অনেকে বলছেন—“একেবারে থিমের সঙ্গে মিলে যাওয়া এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।”

Preview image