Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দুই অলিম্পিকে সোনার ছেলে! টোকিও থেকে প্যারিস—পরপর দুইবার পদকজয়ী নীরজ চোপড়া

ভারতের গর্ব নীরজ চোপড়া আবারও লিখলেন ইতিহাস!  টোকিওর পর প্যারিস অলিম্পিকেও পদক জিতে পরপর দুইবার দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন এই জ্যাভলিন তারকা। 

নীরজ চোপড়া—একটি নাম, যা আজ ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা আছে। তিনি শুধু একজন জ্যাভলিন থ্রোয়ার নন, বরং ভারতের গর্ব, প্রেরণা এবং এক অদম্য মানসিকতার প্রতীক। টোকিও অলিম্পিকে সোনার পদক জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু নীরজের কাহিনি এখানেই শেষ নয়। প্যারিস অলিম্পিকেও পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্য কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়, বরং এটি এক নিরন্তর সাধনা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের ফল।

টোকিও অলিম্পিকের সেই মুহূর্ত আজও সবার মনে গেঁথে আছে। ৮৭.৫৮ মিটার জ্যাভলিন ছুঁড়ে তিনি সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। ভারতীয় দর্শকরা তখন চোখে জল, মুখে গর্ব আর মনে একটাই ভাবনা—“নীরজ চোপড়া ইতিহাস গড়েছেন।” কিন্তু তিনি নিজে জানতেন, এটাই শেষ নয়। টোকিওর পর থেকেই শুরু হয়েছিল প্যারিসের জন্য প্রস্তুতি। দেশের প্রত্যাশার ভার যেন তার কাঁধে, কিন্তু নীরজের মুখে কখনও ক্লান্তি বা ভয় ছিল না—ছিল কেবল দৃঢ়তা আর জয়ের তৃষ্ণা।

চার বছর পর প্যারিস অলিম্পিকে আবারও ভারতের পতাকা উড়ল জ্যাভলিনের মঞ্চে। নীরজ এবারও নিজের শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স তুলে ধরলেন। যদিও টোকিওর মতো সোনা নয়, এবার তিনি রৌপ্য পদক জিতলেন, কিন্তু দেশের গর্ব কোনো অংশে কম ছিল না। কারণ পরপর দুই অলিম্পিকে পদক জেতা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। এটি এমন এক অর্জন, যা ভারতের ইতিহাসে খুব কম অ্যাথলিটের ঝুলিতে আছে। এই ধারাবাহিকতা, এই মনোযোগ এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করে দিল যে নীরজ কেবল একজন খেলোয়াড় নন—তিনি একজন লেজেন্ড।

প্যারিসে নীরজের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয়েছিল তার পরিপক্বতা। প্রতিটি থ্রো তিনি পরিমিত শক্তি ও নিখুঁত কৌশলে করেছেন। দর্শকরা প্রতিবার নিশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করেছেন—এইবার হয়তো নতুন রেকর্ড হবে! যদিও তিনি স্বর্ণ জিততে পারেননি, তবুও তার প্রতিটি থ্রো ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই নীরজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যিকারের নায়ক সেই, যে প্রতিবার জেতে না হলেও প্রতিবার লড়ে যায় নিজের সেরাটা দিয়ে।

news image
আরও খবর

নীরজ চোপড়ার সাফল্যের পেছনে আছে বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি। ছোটবেলা থেকেই তিনি খেলাধুলার প্রতি ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। হরিয়ানার একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া—এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুশীলন, শরীরচর্চা, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ—সব কিছু তিনি করেছেন নিরলসভাবে। মাঝে বহুবার চোট পেয়েছেন, কিন্তু কখনও হার মানেননি। বরং প্রতিবার ফিরে এসে আরও শক্তিশালী হয়েছেন।

নীরজের এই যাত্রা শুধু তার নয়, এটি গোটা ভারতের তরুণ প্রজন্মের এক প্রেরণার উৎস। তিনি দেখিয়েছেন, যদি মন থেকে চেষ্টা করা যায়, তবে কোনো বাধাই অসম্ভব নয়। খেলাধুলার জগতে যেখানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুবই কঠিন, সেখানে পরপর দুই অলিম্পিকে পদক জেতা এক অনন্য কৃতিত্ব। তার এই অর্জন শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এক উদাহরণ।

আজ নীরজ চোপড়া কেবল একজন অ্যাথলিট নন, বরং এক জাতীয় নায়ক। তার হাতে ভারতের পতাকা যখন উড়ে, তখন মনে হয় যেন কোটি কোটি ভারতীয়ের স্বপ্নও তার সঙ্গে উড়ছে। টোকিও থেকে প্যারিস পর্যন্ত তার পথচলা প্রমাণ করে, সাফল্য আসে না সহজে—এটি আসে বিশ্বাস, শৃঙ্খলা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে তিনি আরও কত উচ্চতায় পৌঁছাবেন তা সময়ই বলবে, কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—নীরজ চোপড়া চিরকাল ভারতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবেন।

Preview image