Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আকাশ নিরাপত্তায় আরও এক ধাপ এগোল ভারত! শত্রুবিমান ধ্বংস করতে এ বার সেনা পাচ্ছে র‌্যামজেট শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র

ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে র‌্যামজেট শক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ডিআর়ডিও জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত সবক’টি প্রক্রিয়া নিখুঁত ভাবে হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সফল ভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হল র‌্যামজেট শক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের বিমানে অব্যর্থ আঘাত হানতে পারে এই বিশেষ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআর়ডিও-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশের আকাশ-প্রহরাকে আরও নিশ্ছিদ্র করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

র‌্যামজেট হল এক বিশেষ ধরনের জেট ইঞ্জিন, যা সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতি সম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার হয়। বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির ইঞ্জিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতে কোনও জটিল টার্বাইন থাকে না। ফলে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্র খুব হালকা হয় এবং তীব্র গতিতে শত্রুপক্ষের উপর আঘান হানতে পারে।

র‌্যামজেট প্রযুক্তির ইঞ্জিনগুলি সামনের দিক থেকে আসা বায়ুকে তীব্র গতিতে টেনে নেয়। তার পরে সেই বায়ুই ইঞ্জিনে ‘থ্রাস্ট’ তৈরি করে। ডিআর়ডিও-র তৈরি এই ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট’ প্রযুক্তি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গতি এবং কার্যকারিতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ও়ড়িশার চাঁদিপুর থেকে র‌্যামজেট শক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। পরে ডিআর়ডিও জানায়, উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। ডিআরডিও আরও জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ক্ষেপণাস্ত্রটির সবক’টি মাপকাঠি নিখুঁত ভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে তারা। ফলে যে স্বল্প সংখ্যক দেশের হাতে এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেই তালিকায় জুড়ে গেল ভারতও।

অপারেশন সিঁদুর এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পরবর্তী সময়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। আগামী অর্থবর্ষের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করেছে নয়াদিল্লি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে প্রতিরক্ষায়। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকেও সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে গতিসম্পন্ন) করে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে র‌্যামজেট প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফেলল ভারত।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট। ওড়িশার বালাসোর জেলার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করা হল একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। র‌্যামজেট প্রযুক্তি-নির্ভর এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) জানিয়ে দেয়—পরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল। ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, উচ্চতা, লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা—সবক’টি মাপকাঠিই নিখুঁত ভাবে কাজ করেছে।

এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ভারত এমন এক বিশেষ প্রযুক্তিগত ক্লাবে প্রবেশ করল, যেখানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই সদস্য। কারণ র‌্যামজেট প্রযুক্তি-নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশ্ন নয়, এটি একটি দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা গবেষণা, শিল্পভিত্তি এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন।

র‌্যামজেট প্রযুক্তি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

র‌্যামজেট ইঞ্জিন সাধারণ রকেট বা টার্বোজেট ইঞ্জিনের থেকে মৌলিক ভাবে আলাদা। এই ইঞ্জিনে কোনও ঘূর্ণায়মান অংশ থাকে না। উচ্চ গতিতে চলার সময় সামনের দিক থেকে প্রবেশ করা বাতাস স্বাভাবিক ভাবেই সংকুচিত হয়, তারপর সেই সংকুচিত বাতাসের সঙ্গে জ্বালানি মিশিয়ে দহন ঘটানো হয়। এর ফলে তুলনামূলক কম জ্বালানিতে অত্যন্ত বেশি গতি অর্জন করা সম্ভব।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—

  • দীর্ঘ সময় ধরে সুপারসনিক বা তারও বেশি গতিতে উড়ে চলার ক্ষমতা

  • লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্রমাগত গতি ধরে রেখে আঘাত হানার দক্ষতা

  • শত্রুপক্ষের রাডার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা

র‌্যামজেট-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ম্যাক 3 থেকে ম্যাক 5 গতিতে উড়তে পারে। অর্থাৎ শব্দের গতির তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি।

কেন এখন এই সাফল্য এত তাৎপর্যপূর্ণ

এই পরীক্ষার সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশন সিঁদুর এবং তার পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার পর জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে নয়াদিল্লিতে। সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত আধুনিকীকরণের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু ট্যাঙ্ক বা সৈন্যের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। আজকের যুদ্ধ নির্ভর করে—

  • প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব

  • দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা

  • দূর থেকে নিখুঁত আঘাত হানার দক্ষতা

এই প্রেক্ষাপটে র‌্যামজেট প্রযুক্তি ভারতের হাতে এক নতুন অস্ত্র তুলে দিল।

ব্রহ্মোস থেকে হাইপারসনিকের পথে

ভারত ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সুপারসনিক প্রযুক্তিতে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। ব্রহ্মোস বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটি, যার গতি ম্যাক 2.8 থেকে ম্যাক 3-এর কাছাকাছি।

কিন্তু ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু সুপারসনিক গতিও যথেষ্ট নয়। সেই কারণেই ব্রহ্মোসকে হাইপারসনিক—অর্থাৎ ম্যাক 5 বা তার বেশি গতিসম্পন্ন করে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। র‌্যামজেট এবং স্ক্র্যামজেট প্রযুক্তি এই লক্ষ্যপূরণের মূল চাবিকাঠি।

এই সদ্য পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সীমিত সংখ্যক দেশের ক্লাবে ভারতের প্রবেশ

বর্তমানে র‌্যামজেট বা হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পেরেছে এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম।
এই তালিকায় রয়েছে—

  • যুক্তরাষ্ট্র

  • রাশিয়া

  • চিন

  • ফ্রান্স (আংশিক প্রযুক্তি)

এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল ভারতও। এটি শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আধুনিক বিশ্বে সামরিক প্রযুক্তিই অনেক সময় কূটনৈতিক শক্তির ভাষা হয়ে ওঠে।

news image
আরও খবর

প্রতিরক্ষা বাজেট এবং রাজনৈতিক বার্তা

২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা বাজেট। এই বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে—

  • দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনে বিনিয়োগ

  • গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বাড়তি অর্থ

  • বেসরকারি সংস্থাকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও যুক্ত করা

র‌্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা কার্যত প্রমাণ করে দিল, এই অর্থ শুধুই খাতায়-কলমে বরাদ্দ নয়, বাস্তব ফলাফলও সামনে আসছে।

আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিফলন

এই সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হল—আত্মনির্ভরতা। অতীতে ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশই বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র বদলাচ্ছে।

ডিআরডিও, ভারত ডায়নামিক্স, ভারত ইলেকট্রনিক্স এবং একাধিক বেসরকারি সংস্থা মিলিত ভাবে দেশীয় প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে। র‌্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্র তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে—

  • নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রে

  • বায়ুসেনার ফাইটার জেট থেকে ছোড়া অস্ত্রে

  • এমনকি স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যবহার করা যেতে পারে

আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব

দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক শক্তির ভারসাম্য ক্রমশ বদলাচ্ছে। চিনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং সীমান্তে একাধিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়।

এই প্রেক্ষাপটে র‌্যামজেট প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। কারণ এমন ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ এবং ভারতের প্রস্তুতি

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে—

  • দ্রুত

  • প্রযুক্তিনির্ভর

  • কম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তিমূলক

সেখানে যে দেশ প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তার হাতেই থাকবে কৌশলগত সুবিধা। র‌্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা দেখিয়ে দিল—ভারত শুধু বর্তমানের জন্য নয়, আগামী দশকগুলির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপসংহার

চাঁদিপুরের আকাশে উড়ে যাওয়া সেই ক্ষেপণাস্ত্র শুধু একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ নয়। এটি ছিল ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির এক শক্তিশালী ঘোষণা। একটি ঘোষণা—যে ভারত আর শুধু প্রতিক্রিয়াশীল নয়, আগাম প্রস্তুত।

র‌্যামজেট প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ প্রমাণ করে দিল, ভারত এখন শুধু অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং উচ্চপ্রযুক্তি সামরিক শক্তির নির্মাতা ও উদ্ভাবক। অপারেশন সিঁদুর–পরবর্তী সময়ে এই সাফল্য দেশের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াল, তেমনই বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করল।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং বহুমুখী প্রয়োগ—সব মিলিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই র‌্যামজেট শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার বদলেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে ভারত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মূলত প্রতিক্রিয়াশীল নীতি অনুসরণ করে এসেছে—শত্রুর পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা প্রস্তুতি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নয়াদিল্লি যে কৌশলগত রূপান্তরের পথে হাঁটছে, এই পরীক্ষা তারই প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, র‌্যামজেট প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর নিরবচ্ছিন্ন গতি বজায় রাখার ক্ষমতা। প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল জড়তার উপর নির্ভর করে এগোয়। কিন্তু র‌্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্র বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে জ্বালানি দহন চালিয়ে যেতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এর অর্থ—শত্রুর হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়, এবং আঘাত প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।

এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে যদি এই ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য করে তোলা যায়, তা হলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক আধিপত্য আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে চিনের নৌ-উপস্থিতি যেভাবে এই অঞ্চলে বাড়ছে, তার মোকাবিলায় এমন দ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলগত ভারসাম্য ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ। এই প্রকল্পে শুধুমাত্র ডিআরডিও নয়, একাধিক ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনে দেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিযোগ্য প্রতিরক্ষা পণ্যের তালিকায় ভারতের নাম আরও উপরে উঠবে।

কূটনৈতিক দিক থেকেও এই সাফল্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতের এই অগ্রগতি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে, এবং মিত্র দেশগুলির কাছেও ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে তুলে ধরবে।

সব মিলিয়ে, র‌্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্রের এই সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা যাত্রায় আরেকটি মাইলফলক—যা ভবিষ্যতের যুদ্ধ বাস্তবতায় দেশকে আরও প্রস্তুত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

Preview image