Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বেঙ্গালুরুতে পোষা কুকুরের ভয়াবহ হামলা, মুখ ও ঘাড়ে ৫০টির বেশি সেলাই নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই মহিলা

পোষা কুকুরটি অমরেশ রেড্ডির বলে জানা গেছে। হামলায় গুরুতর আহত মহিলাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

বেঙ্গালুরু শহরের এইচএসআর লেআউট এলাকায় সোমবার ভোরে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের মতোই প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এক মহিলা। কিন্তু সেই স্বাভাবিক সকালই তাঁর জীবনে পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটার সময় আচমকাই একটি পোষা কুকুরের আক্রমণে গুরুতর আহত হন তিনি। এই হামলায় তাঁর মুখ ও ঘাড়ে ৫০টিরও বেশি সেলাই পড়েছে। পাশাপাশি হাত ও পায়েও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকাল প্রায় ৬টা ৫৪ মিনিট নাগাদ। স্থান এইচএসআর লেআউটের টিচার্স কলোনি এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মহিলাটি একা হাঁটছিলেন। রাস্তায় তখন খুব বেশি লোকজন ছিল না। সেই সময় আচমকাই একটি পোষা কুকুর তাঁকে লক্ষ্য করে তেড়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই কুকুরটি তাঁর মুখ ও ঘাড়ে আক্রমণ চালায়। আচমকা এই হামলায় মহিলা নিজেকে রক্ষা করার সুযোগও পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুকুরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল। মহিলার চিৎকার শুনে এক ব্যক্তি তাঁকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু কুকুরটি তাকেও আক্রমণ করে বলে জানা গিয়েছে। পরে একাধিক মানুষ ছুটে এসে কোনওভাবে কুকুরটিকে সরিয়ে আহত মহিলাকে উদ্ধার করেন।

আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর মুখ ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ক্ষতের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে ৫০টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়। এছাড়াও তাঁর হাত ও পায়ে কামড়ের চিহ্ন এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত বিপর্যস্ত। এই ধরনের আকস্মিক হামলা একজন মানুষের উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁকে মানসিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পরেই আহত মহিলার স্বামী এইচএসআর লেআউট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে কুকুরটির মালিকের অবহেলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, পোষা কুকুরটি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়নি এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুকুরটি স্থানীয় বাসিন্দা অমরেশ রেড্ডির মালিকানাধীন। ঘটনার সময় কুকুরটি কোনও রকম মুখবন্ধনী বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মধ্যে ছিল না বলে অভিযোগ। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ কুকুরটির মালিকের বক্তব্য রেকর্ড করছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, পোষা প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে যে নিয়মকানুন রয়েছে, সেগুলি মানা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অবহেলার প্রমাণ মেলে, তবে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর এইচএসআর লেআউটসহ বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় পোষা কুকুরের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু বাসিন্দাই অভিযোগ করেছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোষা কুকুরকে খোলা অবস্থায় ঘোরানো হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা কুকুর সাধারণত প্রশিক্ষিত হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যদি তারা ভয় পায়, উত্তেজিত হয় বা অপরিচিত কাউকে হুমকি হিসেবে মনে করে। তাই পোষা কুকুর বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় মালিকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখবন্ধনী ব্যবহার করা, লিশের মাধ্যমে কুকুরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এগুলি না মানলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেকের দাবি, শহরের আবাসিক এলাকায় পোষা কুকুর সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। ফলে মাঝেমধ্যেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, পোষা প্রাণী পালনের নিয়ম আরও কড়াভাবে প্রয়োগ করা হোক।

মানবাধিকার কর্মীরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে পোষা প্রাণীর কল্যাণ এবং নিরাপত্তার দিকটিও দেখতে হবে। তবে কোনওভাবেই মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা যায় না।

এই ঘটনার পর বহু মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন প্রাতঃভ্রমণ বা সকালের হাঁটা নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, এখন ভোরে বা সকালে একা বেরোতে ভয় লাগছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

news image
আরও খবর

এইচএসআর লেআউট থানার এক আধিকারিক জানান, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বেঙ্গালুরুতে পোষা কুকুরের এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি শহুরে জীবনে নিরাপত্তা, দায়িত্ববোধ এবং সচেতনতার অভাবকে সামনে এনে দিয়েছে। একজন মহিলার স্বাভাবিক সকাল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।

এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন এই ঘটনার পর কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়। তবে একথা নিশ্চিত, এই ঘটনা শহরের মানুষের মনে দীর্ঘদিন আতঙ্ক ও প্রশ্ন রেখে যাবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বেঙ্গালুরু শহরের নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় পোষা কুকুরের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। অনেক বাসিন্দার বক্তব্য, পোষা প্রাণীর প্রতি ভালবাসা থাকা স্বাভাবিক হলেও তার দায়িত্ববোধ না থাকলে তা অন্যের জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এইচএসআর লেআউট এলাকায় এর আগেও একাধিকবার পোষা কুকুরের আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনা তার ভয়াবহতার কারণে আলাদা করে নজর কেড়েছে। মুখ ও ঘাড়ে এতগুলি সেলাই পড়া যে কোনও মানুষের জন্যই শারীরিক এবং মানসিকভাবে গভীর আঘাতের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আঘাত থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগে।

চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, মুখ ও ঘাড়ের আঘাত শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ট্রমাও তৈরি করে। আয়নার সামনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সামাজিক জীবনে ফিরতে গিয়ে অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়। ফলে এই ধরনের ঘটনায় আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই ঘটনার পর পশুপ্রেমী সংগঠনগুলিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কুকুরটি পোষা হলেও মালিকের অবহেলা থাকলে তার দায় এড়ানো যায় না। পোষা প্রাণীর আচরণ, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মালিকের উপরেই বর্তায়। নিয়ম না মানলে তার আইনি ফল ভোগ করতেই হবে।

একই সঙ্গে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি এটাও স্পষ্ট করেছে যে এই ঘটনায় কুকুরটির উপর অকারণে কোনও নিষ্ঠুর আচরণ করা উচিত নয়। কুকুরটির মানসিক অবস্থা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং পরিবেশগত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনে পোষা প্রাণীর মালিকের দায়িত্ব সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। যদি প্রমাণ হয় যে মালিক যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করেননি, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে জরিমানা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইনি পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এই ঘটনার পর বেঙ্গালুরু শহরের বিভিন্ন আবাসিক সমিতি নিজেদের উদ্যোগে সচেতনতা বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সেখানে পোষা প্রাণী পালনের নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহাবস্থানের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, শহরের রাস্তায় নিয়মিত টহল এবং আবাসিক এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে সকালের দিকে যখন বহু মানুষ হাঁটতে বেরোন, তখন এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।

এই ঘটনার প্রভাব সামাজিক মাধ্যমেও স্পষ্ট। বহু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন এবং পোষা কুকুরের মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবিও তুলেছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বেঙ্গালুরুতে এই ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা। শহুরে জীবনে মানুষ এবং পোষা প্রাণীর সহাবস্থান তখনই নিরাপদ হয়, যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকে দায়িত্ববোধ, নিয়ম মেনে চলা এবং পারস্পরিক সম্মান। এই ঘটনার তদন্তের ফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর শহরবাসীর।

Preview image