২০২৫ সালের ১০ মে এই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ করছে পাকিস্তান। ভ্যান্টর উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল সেই দৃশ্য।মুরিদ বিমানঘাঁটির পর এ বার ভোলারি। পহেলগাঁও হামলা পরবর্তী সিঁদুর অপারেশনে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল এই বিমানঘাঁটি। ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে পাকিস্তান। ভ্যান্টর উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল সেই দৃশ্য। ২০২৫ সালের ১০ মে এই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ঘটনাচক্রে, তার কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর দীর্ঘ ৮৮ ঘণ্টার সামরিক সংঘাতে ইতি টানে দুই প্রতিবেশী দেশ।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার বিশ্বাস, ভালোরির যে বিমানঘাঁটি এবং হ্যাঙ্গারে হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে পাকিস্তানের এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (অ্যাওয়াক) বিমান সাব ২০০০ ‘ইরিয়াই’ রাখা ছিল। সেটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ভালোরির হ্যাঙ্গারের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত। সবুজ রঙের ছাদের একটি জায়গায় শক্তিশালী কোনও কিছু আছড়ে পড়ার মতো চিহ্ন ধরা পড়েছে। ভাঙা ছাদ, ধ্বংসে ছবি স্পষ্ট উপগ্রহচিত্রে। চার সময়ের ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহে। ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিলের যে ছবি ধরা পড়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বিমানঘাঁটিটি অক্ষত। তার পরের ছবিটি ১১ মে, ২০২৫। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানঘাঁটি ধ্বংসস্তূপে বদলে গিয়েছে। হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। তৃতীয় ছবি ওই বছরেরই ২ জুনের। বিমানঘাঁটি মেরামতের ছবি ধরা পড়েছে। চতুর্থ ছবি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হ্যাঙারের ছাদ নতুন ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের ন’টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পর পরই বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল। এনডিটিভি-র কয়েকটি প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়েছিল যে, মুরিদ, সুক্কুর নুর খান বিমানঘাঁটির মেরামত করছে পাকিস্তান। এ বার ভোলারি বিমানঘাঁটি মেরামতের ছবি প্রকাশ্যে এল। তবে কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন, রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ১০ মে ভোলারিতে হামলার পর বিকেল ৩টে ৩৫ মিনিটে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা ভারতের ডিজিওমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাইয়ের সঙ্গে হটলাইনে কথা বলেন। পাক ডিজিএমও যুদ্ধবিরতির কথা জানান। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা হামলা চালায়। ২৬ পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত ভূখণ্ডে সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। সেই অভিযানে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের বায়ুসেনা।
অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে ভারত–পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের যে অধ্যায়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। পাকিস্তানের অন্তত ন’টি সামরিক ঘাঁটিতে ভারতীয় বাহিনীর হামলার অভিযোগ, সেই হামলার পর একের পর এক স্যাটেলাইট ছবি ও মেরামতির প্রমাণ প্রকাশ্যে আসা, এবং দুই দেশের সামরিক আধিকারিকদের হটলাইন যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহটি এক জটিল কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক পর্বে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা দিয়ে। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের উপর অতর্কিত গুলিবর্ষণে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দেশ–বিদেশের পর্যটক ছিলেন। এই হামলা শুধু মানবিক বিপর্যয়ই তৈরি করেনি, বরং ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোর উপর বড়সড় প্রশ্নও তুলেছিল।
ভারত সরকার দ্রুতই এই হামলার দায় জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর চাপায়, যাদের পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ। গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ ট্র্যাকিং, আর্থিক লেনদেনের সূত্র—সব মিলিয়ে দিল্লির দাবি ছিল, হামলার নেপথ্যে সীমান্তপারের মদত ছিল স্পষ্ট। এই ঘটনার পরই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত প্রথমে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা, রাষ্ট্রদূত তলব, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ, জলচুক্তি পর্যালোচনার ইঙ্গিত—সবই ছিল চাপ বাড়ানোর কৌশল। কিন্তু সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও লঞ্চপ্যাড সক্রিয় থাকার রিপোর্ট আসতে থাকায় সামরিক বিকল্প গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে তখন “প্রিসিশন প্যানিশমেন্ট স্ট্রাইক” বা লক্ষ্যভিত্তিক শাস্তিমূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল—পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং জঙ্গি অবকাঠামো ও সামরিক সহায়ক ঘাঁটিকে ধ্বংস করা।
“অপারেশন সিঁদুর” নামটি প্রতীকী বলেই মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা—এটি ছিল প্রতিশোধ, সম্মানরক্ষা ও কৌশলগত বার্তার সমন্বয়। ভারতীয় বায়ুসেনা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাইবার নজরদারি ইউনিট যৌথভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
টার্গেট তালিকায় ছিল—
জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির
লজিস্টিক ডিপো
এয়ারবেস সহায়ক অবকাঠামো
রাডার ও নজরদারি ইউনিট
অস্ত্র মজুত কেন্দ্র
পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর—দুই অঞ্চলেই হামলার অভিযোগ ওঠে।
সরকারিভাবে ভারত অস্ত্রের ধরন প্রকাশ করেনি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, উচ্চ নির্ভুলতার স্ট্যান্ড–অফ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে যুদ্ধবিমান শত্রু আকাশসীমায় গভীর প্রবেশ না করেও লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।
অনেকের মতে, রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে স্ক্যাল্প ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। স্ক্যাল্পের বৈশিষ্ট্য—
২৫০–৫০০ কিমি পাল্লা
লো অবজারভেবল ফ্লাইট প্রোফাইল
হার্ডেন্ড বাঙ্কার ধ্বংসক্ষমতা
জিপিএস ও ইনফ্রারেড গাইডেন্স
স্যাটেলাইট ছবিতে যে ধরনের নির্দিষ্ট স্থাপনা ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গেছে, তা এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে জোরদার করে।
হামলার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থাগুলি যে ছবি প্রকাশ করে, তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানি ঘাঁটির ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়।
মুরিদ এয়ারবেস – ড্রোন ও নজরদারি অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রানওয়ের পাশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি।
সুক্কুর ঘাঁটি – লজিস্টিক সাপোর্ট ও ট্রান্সপোর্ট অপারেশনের কেন্দ্র। জ্বালানি সংরক্ষণ ইউনিটে আঘাতের চিহ্ন।
নুর খান এয়ারবেস – ইসলামাবাদের নিকটবর্তী কৌশলগত ঘাঁটি। ভিআইপি ও সামরিক উড়ান—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। মেরামতির কাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে ভোলারি এয়ারবেসে মেরামতির কাজ নজরে আসে। রানওয়ে প্যাচিং, হ্যাঙ্গার মেরামত, এবং সহায়ক অবকাঠামো পুনর্গঠনের চিহ্ন বিশ্লেষকেরা চিহ্নিত করেছেন।
ভোলারি ঘাঁটির গুরুত্ব—
দক্ষিণ পাকিস্তানে কৌশলগত অবস্থান
ফাইটার ডিপ্লয়মেন্ট পয়েন্ট
আরব সাগর উপকূল নজরদারি
এই ঘাঁটিতে হামলা হয়ে থাকলে তা পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১০ মে বিকেল ৩:৩৫ মিনিটে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাইয়ের সঙ্গে হটলাইনে কথা বলেন।
এই যোগাযোগের তাৎপর্য—
তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ
পাল্টা হামলা এড়ানো
ভুল বোঝাবুঝি কমানো
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা
হটলাইন ব্যবস্থাটি মূলত পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান প্রথমে হামলার মাত্রা অস্বীকার করে। পরে “সীমিত ক্ষয়ক্ষতি”র কথা স্বীকার করে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়—
বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে
সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ
উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে
তবে মেরামতির স্যাটেলাইট ছবি পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
এই সংঘাতে তথ্যযুদ্ধ বড় ভূমিকা নেয়। দুই দেশই—
নির্বাচিত ছবি প্রকাশ
ক্ষয়ক্ষতি কম/বেশি দেখানো
সামাজিক মাধ্যমে প্রচার
আন্তর্জাতিক মতামত প্রভাবিত করার চেষ্টা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে ন্যারেটিভ কন্ট্রোল সামরিক সাফল্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন—সবাই সংযমের আহ্বান জানায়। কারণ—
দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর
আঞ্চলিক যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে
জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য রুট ঝুঁকিতে পড়তে পারে
জাতিসংঘও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানায়।
অপারেশন সিঁদুর কয়েকটি কৌশলগত বার্তা দেয়—
স্ট্যান্ড–অফ স্ট্রাইক সক্ষমতা
সীমান্ত না পেরিয়েও গভীর আঘাত হানা সম্ভব।
ইন্টেলিজেন্স–স্ট্রাইক ইন্টিগ্রেশন
রিয়েল–টাইম তথ্যের ব্যবহার।
মাল্টি–টার্গেট সিমালটেনিয়াস আঘাত
শত্রুর প্রতিরক্ষা বিভ্রান্ত করা।
এস্কেলেশন কন্ট্রোল
পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানো।
এই অভিযানে স্থলসেনা নয়, বায়ুসেনা মুখ্য ভূমিকা নেয়। কারণ—
দ্রুত আঘাত
কম প্রাণহানি
উচ্চ নির্ভুলতা
রাজনৈতিক অস্বীকারযোগ্যতা (plausible deniability)
সম্ভাব্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি—
স্যাটেলাইট রিকনিস্যান্স
AWACS নজরদারি
ইলেকট্রনিক জ্যামিং
সাইবার ডিসরাপশন
এসব মিলিয়ে শত্রুর প্রতিরক্ষা দুর্বল করা হয়।
এই সংঘাত কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আনে—
সীমান্তপারের জঙ্গি অবকাঠামো কতটা সক্রিয়?
প্রিসিশন স্ট্রাইক কি কার্যকর প্রতিরোধ?
পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতা (nuclear deterrence) কতটা স্থিতিশীল?
সীমান্ত উত্তেজনায়—
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি
বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি
আঞ্চলিক বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা
অপারেশন সিঁদুরের পর তিনটি সম্ভাব্য পথ—
ডি–এস্কেলেশন ও সংলাপ
প্রক্সি সংঘাত অব্যাহত
সীমিত সামরিক পাল্টা অভিযান
ভারত সাম্প্রতিক বছরে—
রাফাল অন্তর্ভুক্তি
এস–৪০০ এয়ার ডিফেন্স
নেটওয়ার্ক–সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার
পাকিস্তান পাল্টা—
জেএফ–১৭
চীনা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
মিসাইল ডিটারেন্স
এ ধরনের হামলা শুধু অবকাঠামো ধ্বংস নয়, বরং বার্তা দেয়—
জঙ্গি মদত সহ্য করা হবে না
গভীর লক্ষ্যও নিরাপদ নয়
দ্রুত প্রতিশোধ সম্ভব
হামলার পর—
LOC–এ গোলাগুলি বৃদ্ধি
ড্রোন নজরদারি বাড়ে
সেনা মোতায়েন জোরদার হয়
সীমান্ত রাজ্যগুলিতে—
এয়ার রেইড ড্রিল
স্কুল বন্ধ
বাঙ্কার প্রস্তুতি
ভারতে জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্র হয়। পাকিস্তানেও পাল্টা প্রতিরোধের দাবি ওঠে। জনমত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন?
আত্মরক্ষার অধিকার?
প্রি–এম্পটিভ স্ট্রাইক বৈধতা?
এই প্রশ্নগুলি আন্তর্জাতিক আইনে বিতর্কিত।
অপারেশন সিঁদুর দেখাল—
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এখন নীতির অংশ
এয়ার–ডমিন্যান্স গুরুত্বপূর্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধই ভবিষ্যৎ
অপারেশন সিঁদুর দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। পহেলগাঁওয়ের রক্তাক্ত হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের একাধিক ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ক্ষয়ক্ষতি, ভোলারি ঘাঁটির মেরামতি, এবং শেষ পর্যন্ত ডিজিএমও স্তরের হটলাইন যোগাযোগ—সমস্ত ঘটনাপ্রবাহই দেখায় আধুনিক যুদ্ধ কেবল বন্দুক ও বোমার লড়াই নয়; এটি তথ্য, কূটনীতি, প্রযুক্তি ও মনস্তত্ত্বের সম্মিলিত সংঘর্ষ।
পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়েও কীভাবে কৌশলগত বার্তা দেওয়া যায়, তার উদাহরণ হিসেবে এই অভিযান দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে। তবে একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয়—ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপই বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ, এবং স্থায়ী শান্তির বিকল্প আজও কূটনৈতিক সংলাপই।