২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার—বিশেষত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট (DoS)—একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, H-1B ভিসা (এবং তার নির্ভরশীল H-4 ভিসা) আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যম বা অনলাইন উপস্থিতি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হবে। এর ফলে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে যাঁদের ভিসা সাক্ষাৎকার ছিল, তাঁদের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট (যেমন Facebook, Instagram, LinkedIn ইত্যাদি) কনস্যুলার অফিসাররা প্রকাশ্য হিসেবে মূল্যায়ন করবেন। নতুন এই যাচাই প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পরই ভারতের বিভিন্ন মার্কিন কনস্যুলেট—বিশেষত দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও কলকাতা—হঠাৎ বহু H-1B সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত করে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নির্ধারিত অনেক সাক্ষাৎকার এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজারো ভারতীয় আবেদনকারীর কর্মজীবন, ভ্রমণ ও অভিবাসন পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে।
মার্কিন সামাজিক মাধ্যম যাচাই–নিয়মে বহু ভারতীয়র H-1B ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত: পরিস্থিতি, প্রভাব ও বিশ্লেষণ
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার—বিশেষত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট (DoS)—একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, H-1B ভিসা (এবং তার নির্ভরশীল H-4 ভিসা) আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যম বা অনলাইন উপস্থিতি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হবে। এর ফলে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে যাঁদের ভিসা সাক্ষাৎকার ছিল, তাঁদের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট (যেমন Facebook, Instagram, LinkedIn ইত্যাদি) কনস্যুলার অফিসাররা প্রকাশ্য হিসেবে মূল্যায়ন করবেন।
নতুন এই যাচাই প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পরই ভারতের বিভিন্ন মার্কিন কনস্যুলেট—বিশেষত দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও কলকাতা—হঠাৎ বহু H-1B সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত করে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নির্ধারিত অনেক সাক্ষাৎকার এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজারো ভারতীয় আবেদনকারীর কর্মজীবন, ভ্রমণ ও অভিবাসন পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে।
নীচে এই ঘটনাটির প্রেক্ষাপট, কারণ, প্রভাব এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ করা হলো।
U.S. Department of State (DoS) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে H-1B ও H-4 visa আবেদনকারীদের — পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী/পরিচর্যা প্রার্থীদের — সামাজিক মাধ্যম (Facebook, Instagram, LinkedIn ইত্যাদি) এবং “অনলাইন উপস্থিতি / সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল” যাচাইয়ের (online presence review) আওতায় আনা হবে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকেই মার্কিন কর্তৃপক্ষ ছাত্রভিসা (F, M), এক্সচেঞ্জ ভিসা (J) সহ কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম স্ক্রিনিং শুরু করেছিল। এরপর ডিসেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে H-1B এবং H-4 ভিসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ঘোষণা দেওয়া হয় যে ১৫ ডিসেম্বর থেকে সব H-1B/H-4 আবেদনকারীকে সামাজিক মাধ্যম তথ্য প্রকাশযোগ্য রাখতে হবে। তাঁদের পূর্ববর্তী পোস্ট, মন্তব্য, পাবলিক অ্যাক্টিভিটি ইত্যাদি ব্যাকগ্রাউন্ড-চেকের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল—
“প্রত্যেকটি ভিসা সিদ্ধান্ত হলো জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত।”
এই স্ক্রিনিং দিয়ে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে বের করাই লক্ষ্য।
বিশ্বব্যাপী H-1B অনুমোদনপ্রাপ্তদের মাঝে ভারতীয় নাগরিকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিশেষত আইটি ও টেক-ইন্ডাস্ট্রির দক্ষ কর্মীদের জন্য H-1B হল প্রধান প্রবেশদ্বার। নতুন নিয়মের ফলে লক্ষাধিক আবেদনকারীর অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম যাচাই করতে হবে—যা বাস্তবে কনস্যুলেটগুলোর ওপর বিশাল প্রশাসনিক চাপ তৈরি করেছে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষাৎকার সংখ্যা সীমিত করতে হয়েছে, এবং ডিসেম্বরের অনেক সাক্ষাৎকার মার্চ-এপ্রিল ২০২৬-এ ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
যে আবেদনকারীরা নতুন ইমেইল পেয়েছেন, তাঁদের পুরোনো তারিখে গেলে কনস্যুলেট প্রবেশের অনুমতি দেবে না। ফলে বেশিরভাগ আবেদনকারীকে তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি আবেদনকারীর প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করতে সময় লাগে। তাই কনস্যুলেটগুলো দৈনিক সাক্ষাৎকার স্লট কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে পিছিয়ে গেছে।
অনেক পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু বা পুনরায় ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। সন্তানদের স্কুল, বাসা ভাড়া, আর্থিক ব্যবস্থাপনা—এসবই আটকে গেছে।
তাঁরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যম এখন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, পরিচয় ও সম্পর্কের একটি বড় নির্দেশক। সেগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে ঝুঁকি শনাক্ত করা সহজ হবে।
আগেই ছাত্র ও এক্সচেঞ্জ ভিসার ক্ষেত্রে একই যাচাই চালু হয়েছে। এবার H-1B/H-4-এ তা বিস্তৃত করা হলো।
এই বৃহৎ স্কেলে অনলাইন-স্ক্রিনিং চালাতে সময় লাগে, আর সেই সময়টিই সাক্ষাৎকার কমিয়ে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।
Reddit ও বিভিন্ন ভারতীয় ফোরামে হাজারো আবেদনকারী ক্ষোভ, দুশ্চিন্তা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সাধারণভাবে দেখা যাচ্ছে:
এটি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আরও কঠোর যাচাই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ডিজিটাল/অনলাইন আচরণও এখন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
ভারতীয় পেশাজীবীরা মার্কিন প্রযুক্তি খাতে একটি বড় অংশ। বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে:
বারবার সাক্ষাৎকার বাতিল বা বিলম্ব:
কনস্যুলেট নতুন সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে সাক্ষাৎকার শুরু হতে পারে।
চাহিদা বেশি হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল ২০২৬-এর পরও অপেক্ষা বাড়তে পারে।
নির্দিষ্ট কিছু পোস্ট বা অ্যাক্টিভিটি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।
অনেক ভারতীয় H-1B-এর বদলে কানাডা, ইউরোপ, সিঙ্গাপুর, দুবাই ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।
গোপনীয়তা অধিকার/বৈষম্য ইত্যাদি অভিযোগে ভবিষ্যতে আইনগত চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামাজিক মাধ্যম-স্ক্রিনিং নিয়ম H-1B ও H-4 ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাজারো ভারতীয়র ওপর—যাঁরা চাকরি, শিক্ষা, পরিবার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই ভিসার ওপর নির্ভর করে।
ডিসেম্বরের বহু সাক্ষাৎকার হঠাৎ বাতিল হয়ে ২০২৬ পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে, যা অনেকের জন্য আর্থিক, মানসিক এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও এটি বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন সরকার নিরাপত্তাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে—কিন্তু মানবিক ও অপারেশনাল দিক থেকে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশাল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে বা ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন হবে কিনা—তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত, ভারতীয় আবেদনকারীদের সতর্কতা, ধৈর্য ও বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।