মাত্র ১৫ বছরের সাইনা চট্টোপাধ্যায় শুটিং আর পড়াশোনার ভারসাম্য রাখতে হোমস্কুলিং করছে।কনে দেখা আলো র লাজবন্তী সাইনা দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা শুটিংয়ের মাঝেই পড়াশোনার জন্য সময় বের করেন।অভিনয় আর পড়াশোনাকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে সাইনার সংযম ও অধ্যবসায় নজর কাড়ছে।মা সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে হোমস্কুলিং পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন সাইনা, ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে।
টেলিভিশনের পর্দায় ‘কনে দেখা আলো’-র লাজবন্তী চরিত্রে সাইনা চট্টোপাধ্যায়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি দর্শকদের মন মাতিয়ে চলেছে। মাত্র ১৫ বছরের এই কিশোরী অভিনেত্রী নিজের তালে, তালে শুটিং ও পড়াশোনার ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন। সাদা শাড়ি, শাঁখা-পলা, সিঁদুরে সাজানো সাইনার ভাবমূর্তির মধ্যে যে উজ্জ্বল আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে, তা শুধু তার অভিনয় দক্ষতার ফল নয়; এটি তার দায়িত্ববোধ ও অধ্যবসায়েরই পরিচয় বহন করে।
সাইনার জীবন, সাধারণ কিশোরীদের মতো, সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। শুটিং শুরু হয় সকাল থেকে, কখনও কখনও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও পড়াশোনা বাদ না দেওয়াই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিনয়ের স্ক্রিপ্ট মুখস্ত করার মাঝেই ট্যাব হাতে বই নিয়ে বসে পড়াশোনা করা তার দৈনন্দিন চিত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে একাধিকবার এই মুহূর্তের ছবি ভাগ করেছেন, যেখানে বই-খাতা হাতে বসে থাকা সাইনার চিত্রকে লক্ষ করা যায়। ছবির ক্যাপশনে সাইনা লিখেছেন, “জীবনে সবকিছু একসাথে চলেই তো।”
এই সংযম এবং সময়ের ব্যবস্থাপনার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, তিনি জানেন কেবল শুটিংয়ে নয়, শিক্ষায়ও এগিয়ে থাকার গুরুত্ব। ১৫ বছরের মধ্যে এই ধরনের বুদ্ধিমত্তা এবং দায়িত্ববোধ বিরল।
সাইনার পড়াশোনার পথের অন্যতম সহায়ক হিসেবে আছেন মা সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়। তার তত্ত্বাবধানে সাইনা হোমস্কুলিংয়ের সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষা এখন আর দুই-তিন মাস দূরে নয়, তাই পড়াশোনার চাপ বাড়ছে প্রতিদিন।
হোমস্কুলিংয়ের মাধ্যমে সাইনা তার সময়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেই করতে পারেন। শুটিং-এর মাঝে বিরতি পেলে দ্রুত পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেন, এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষক বা মা সংযুক্তার সহায়তায় বিষয়ভিত্তিক সংশোধন করতে পারেন। এই পদ্ধতি তাকে স্বাভাবিক স্কুলের চাপে পড়া ছাড়াই তার গতি অনুযায়ী শিখতে সাহায্য করছে।
সাইনা শুধু অভিনয়েই নয়, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও নতুন প্রজন্মের কিশোরীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি ঠিক করেছেন যে, ক্যামেরার আলো যতই ঝলমলে হোক, জীবনের আসল আলো আসবে তার জ্ঞান ও অধ্যবসায় থেকে। এই মানসিক দৃঢ়তা তাকে একদিকে অভিনয়ে প্রোফেশনাল হিসেবে গড়ে তুলছে, অন্যদিকে পড়াশোনায়ও সে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখতে সাহায্য করছে।
তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান কিশোরী এবং নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—যদি সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং অধ্যবসায় থাকে, তবে জীবনের সব ক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইনা তার পড়াশোনা ও শুটিংয়ের ফটো শেয়ার করে, অনুসারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, জীবনের কোনো ক্ষেত্রকে অন্যের সাথে তুলনা না করে নিজের গতিতে এগোলে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব। এই ধরনের স্বচ্ছ ও স্ব-উদ্দীপনাময় প্রকাশ কিশোরীদের মধ্যে একটি উদ্দীপনা জাগায়।
একজন কিশোরী অভিনেত্রী হিসেবে সাইনার সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের সক্রিয় সমর্থন। মা সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায় শুধু হোমস্কুলিংয়ের তত্ত্বাবধানই করেননি, বরং সাইনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যরক্ষার দিকেও নজর রাখেন। এমন সমর্থন থাকলে সাইনা তার দৈনন্দিন চাপ মোকাবেলা করতে পারে, সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারে, এবং অভিনয়ে নিজের সেরাটা দিতে পারে।
সাইনার অধ্যবসায় তাকে কেবল বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত করছে। তিনি জানেন যে, শুধুমাত্র প্রতিভা থাকলেই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য আসে না; নিয়মিত অধ্যবসায়, সময়ের মূল্যায়ন এবং নিজের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করাই জীবনের আসল চাবিকাঠি। শুটিং-পর্বের চাপের মাঝেও ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষায় ভাল ফল করা তার জন্য একটি বড় লক্ষ্য।
১৫ বছর বয়সী এই কিশোরী তার নিজের জীবন ও কর্মে এমন একটি ভারসাম্য স্থাপন করেছেন যা অনেক বড়দেরও প্রশংসার যোগ্য। শুটিং, পড়াশোনা, পরিবার ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সবকিছু মিলিয়ে তিনি নিজেকে একটি সুসংগঠিত, দায়িত্বশীল ও প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাইনার এই গল্প কেবল তার অভিনয় বা পড়াশোনার জন্য নয়, বরং প্রতিটি কিশোরী ও কিশোরের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ, যে জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে সাফল্য ও জ্ঞান একসাথে অর্জন করা সম্ভব।
সাইনার জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, “জীবনে সবকিছু একসাথে চলতেই পারে, যদি মনোবল, পরিকল্পনা এবং অধ্যবসায় থাকে।” শুটিংয়ের ঝলকানি আর পড়াশোনার গুরুত্বের মধ্যে সে তার ছন্দ খুঁজে নিয়েছে, এবং এই ছন্দই তাকে নতুন প্রজন্মের একটি আলোড়িত তারকা করে তুলেছে।