Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বন্ধুত্ব থেকে কি নতুন সম্পর্ক হিয়া ঋত্বিকের সমীকরণ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

নব্বইয়ের দশকের মিলেনিয়াল ঋত্বিক আর জেন জ়ি হিয়ার বয়সের ফারাক থাকলেও ভাবনায় রয়েছে আশ্চর্য মিল। মন মানে না ছবি মুক্তির আগেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বন্ধুত্ব কি ধীরে ধীরে অন্য সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে? নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।

টলিপাড়ার আকাশে নতুন এক সম্পর্কের গল্প কি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে? পর্দার জুটি কি বাস্তবেও অন্য সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে? এমনই নানা প্রশ্ন ঘিরে এখন উত্তাল টলিউড। কারণ আর কিছু দিন পরেই মুক্তি পেতে চলেছে রাহুল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত নতুন ছবি ‘মন মানে না’। এই ছবির হাত ধরেই বড়পর্দায় প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা হিয়া চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন নতুন মুখ ঋত্বিক ভৌমিক। ছবির গল্পের মতোই বাস্তবেও যেন তৈরি হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়, যা নিয়ে এখন টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

‘মন মানে না’ শুধু একটি প্রেমের ছবি নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের ভাবনা, অনুভূতি এবং সম্পর্কের ভাষাকে তুলে ধরার এক নতুন প্রয়াস। আর এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন হিয়া এবং ঋত্বিক। বয়সের হিসেবে দু’জন দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি—একজন নব্বইয়ের দশকের মিলেনিয়াল, অন্যজন ‘জেন জ়ি’। সাধারণত এই দুই প্রজন্মের ভাবনায় থাকে বিস্তর ফারাক। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, হিয়া ও ঋত্বিকের ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনদর্শনে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। আর সেই মিল থেকেই কি জন্ম নিচ্ছে আরও গভীর কোনও সম্পর্ক?

ছবির প্রচারের কাজে নায়ক যখন কলকাতায় আসেন, তখন তাঁকে আনতে বিমানবন্দরে হাজির হন হিয়া। অনেক দিন পরে দেখা হওয়ায় আবেগ সামলাতে পারেননি নায়িকা। ক্যামেরার সামনে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ বলছেন নিছক বন্ধুত্ব, কেউ আবার বলছেন, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও অনুভূতি। পর্দার বাইরে নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

শুধু বিমানবন্দরের সেই মুহূর্তই নয়, ছবির প্রচারের সময়ও তাঁদের একে অপরের প্রতি ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়েছে অনেকের। সাংবাদিক সম্মেলন, সাক্ষাৎকার, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট—সব জায়গাতেই যেন তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতা ধরা পড়ছে। একে অপরের হাত ছাড়তে না চাওয়ার ভঙ্গি, হাসি-মজা, খুনসুটি—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক যেন শুধুই সহ-অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এমনটাই মনে করছেন টলিপাড়ার একাংশ।

এই সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল হিয়ার কাছে। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তিনি বলেছিলেন, ক্যামেরার সামনে বিদিশা আর রাহুলের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তাঁরা নিজেদের মধ্যেও খুনসুটি করে গিয়েছেন। শুটিংয়ের আগেই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। প্রথম দেখা হওয়ার পরেই তাঁর মনে হয়েছিল, যেন বহুদিন ধরে তাঁরা একে অপরকে চেনেন। নিজেদের মধ্যে মজা, হাসি, ঠাট্টা—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়েছে। হিয়ার কথায়, এই বন্ধুত্ব আসলে ভাগ্যের ফল।

নায়িকা যখন এমন কথা বলছেন, তখন নায়ক ঋত্বিকও বিষয়টিকে মজার ছলে উড়িয়ে দিতে চাননি। বরং তাঁর কথায় ধরা পড়েছে অন্যরকম ইঙ্গিত। হাসতে হাসতে তিনি বলেছিলেন, “অনস্ক্রিনে আমায় মেরেছ, অফ স্ক্রিনেও মেরেছ।” সেই কথার মধ্যেও যেন লুকিয়ে ছিল এক ধরনের ঘনিষ্ঠতার আভাস। হিয়া তখন পাল্টা মন্তব্য করেন, ঋত্বিক এটারই যোগ্য। উত্তরে নায়ক বলেন, “সবটাই ভালবেসে।” এই কথোপকথন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেখতে দেখতে তাঁদের বন্ধুত্বের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষে একে অপরকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তাঁরা। বন্ধুত্বের এক বছর পূর্তি মানেই শুধু সময়ের হিসাব নয়, বরং একে অপরের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রমাণ। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এখন দর্শকদের মনে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি এই বন্ধুত্বের গভীরতা শুধুই বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ? নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও অনুভূতি?

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও ঋত্বিকের কথায় ধরা পড়েছে রহস্যময় ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ছবির মুক্তির পরেও তাঁদের সফর শেষ হবে না। বরং নতুন করে একটি সফর শুরু হবে। কলকাতায় আসা-যাওয়া, বিমানবন্দরে ফুল হাতে অপেক্ষা—এই দৃশ্যই নাকি তাঁদের ভবিষ্যতের গল্প। তাঁর কথায়, তাঁদের জীবনেও ‘মন মানবে না’। এই বক্তব্য নিছক মজা, না কি সত্যিই ভবিষ্যতের কোনও ইঙ্গিত? সেই উত্তর এখনও অধরা।

টলিপাড়ার ইতিহাস বলছে, পর্দার প্রেম অনেক সময় বাস্তবের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। বহু জনপ্রিয় জুটির ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অনস্ক্রিন রোম্যান্স ধীরে ধীরে অফস্ক্রিন সম্পর্কেও রূপ নিয়েছে। দর্শকদের মনে সেই পুরনো স্মৃতি আবার নতুন করে উসকে উঠছে হিয়া-ঋত্বিকের ঘটনায়। যদিও দু’জনেই এখনও নিজেদের সম্পর্ককে বন্ধুত্বের গণ্ডির মধ্যেই রাখছেন, তবু তাঁদের কথাবার্তা, আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গি অনেককেই ভাবাচ্ছে।

news image
আরও খবর

হিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার কারণ, কারণ তিনি শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা। টলিপাড়ার এক পরিচিত পরিবার থেকে আসা এই অভিনেত্রীকে নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বড়পর্দায় তাঁর প্রথম ছবিই যদি এমন আলোচনার জন্ম দেয়, তবে তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলা যে সহজ হবে না, তা বলাই যায়। অন্যদিকে ঋত্বিকও নতুন মুখ হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয় নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

‘মন মানে না’ ছবির গল্পও নাকি দুই প্রজন্মের ভাবনার সংঘর্ষ এবং মিলন নিয়ে। সেখানে বিদিশা ও রাহুলের চরিত্রের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়। বাস্তবেও যেন সেই গল্পের ছায়া পড়েছে হিয়া ও ঋত্বিকের জীবনে। শুটিংয়ের সময় একে অপরকে বুঝতে শেখা, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো, চরিত্রের আবেগ ভাগ করে নেওয়া—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে অন্য মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ছবি, ভিডিও এবং মন্তব্য নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ প্রশংসা করছেন, কেউ আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কেউ বলছেন, এটা শুধুই ছবির প্রচারের কৌশল। আবার কেউ বলছেন, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সত্যিকারের অনুভূতি। টলিপাড়ার অন্দরমহলেও এই বিষয় নিয়ে নানা মতামত শোনা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, নতুন ছবির প্রচারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এমন আবহ তৈরি করা হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, সম্পর্কের উষ্ণতা এত সহজে অভিনয় দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়।

হিয়া ও ঋত্বিক অবশ্য এই সমস্ত জল্পনার মাঝেও নিজেদের মতোই রয়েছেন। তাঁরা সরাসরি কোনও মন্তব্য করে জল্পনায় ইন্ধন দিতে চাননি। বরং তাঁদের কথায় বারবার উঠে এসেছে বন্ধুত্ব, ভালবাসা এবং সম্মানের কথা। কিন্তু কখনও কখনও কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে শব্দের চেয়েও অনুভূতি বেশি কথা বলে। আর সেই অনুভূতিই হয়তো এখন দর্শকদের কৌতূহলের মূল কারণ।

এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা এখনও বলা সম্ভব নয়। হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক শুধুই বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ থাকবে। আবার হয়তো ধীরে ধীরে অন্য কোনও রূপ নেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—‘মন মানে না’ ছবির মুক্তির আগেই হিয়া ও ঋত্বিক টলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

ছবির মুক্তির পর এই আলোচনা আরও কতটা গভীর হবে, তা এখন দেখার বিষয়। দর্শকরা কি শুধু পর্দার প্রেমেই সন্তুষ্ট থাকবেন, নাকি বাস্তবের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাববেন? হিয়া ও ঋত্বিক কি তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে কখনও স্পষ্ট উত্তর দেবেন? নাকি রহস্যই তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে থাকবে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ছবি, ভিডিও এবং মন্তব্য নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ প্রশংসা করছেন, কেউ আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কেউ বলছেন, এটা শুধুই ছবির প্রচারের কৌশল। আবার কেউ বলছেন, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সত্যিকারের অনুভূতি। টলিপাড়ার অন্দরমহলেও এই বিষয় নিয়ে নানা মতামত শোনা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, নতুন ছবির প্রচারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এমন আবহ তৈরি করা হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, সম্পর্কের উষ্ণতা এত সহজে অভিনয় দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়।

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তবে এটুকু বলা যায়, টলিপাড়ায় নতুন এক জুটির জন্ম শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, আলোচনার মঞ্চেও। আর সেই জুটির নাম—হিয়া চট্টোপাধ্যায় এবং ঋত্বিক ভৌমিক। তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য কোনও পথে এগোবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু আপাতত, তাঁদের ‘নতুন সফর’-এর গল্প ইতিমধ্যেই দর্শকদের মনে কৌতূহলের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

Preview image