Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ইরান সংকটে নতুন মোড় হামলা ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বিস্ফোরক ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরান ইস্যুতে আমেরিকার পরবর্তী কৌশল নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন Donald Trump  তাঁর দাবি  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পদে তিন জনের নাম ভেবে রাখা হয়েছে  পাশাপাশি সংঘর্ষ আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাত ঘিরে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিলেন Donald Trump। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times-কে দেওয়া এক ফোনালাপে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানে আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সামরিক হামলা চালাতে পারে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। তাঁর কথায়, “প্রয়োজনে অভিযান চলবে, এতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।” একই সঙ্গে ইজ়রায়েলকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন ও সৌদি আরবেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের শাসন কাঠামোয় দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পদে সম্ভাব্য তিন জনের নাম তাঁর কাছে প্রস্তুত রয়েছে। যদিও সেই নাম এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, “আগে কাজটা হোক, তারপর বলব।” এতে স্পষ্ট, ইরানের ক্ষমতার রদবদল নিয়ে ওয়াশিংটন আগাম কৌশল ঠিক করে রেখেছে।

এদিকে, ইরান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তী শাসনের জন্য। তেহরান জানিয়েছে, দেশ চালানোর দায়িত্ব আপাতত সেই কাউন্সিলের হাতে থাকবে। পাশাপাশি খামেনেই হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। ফলে পরিস্থিতি যে দ্রুত শান্ত হবে, এমন সম্ভাবনা এখনই নেই।

ইজ়রায়েলও সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তজুড়ে রকেট হামলা ও পাল্টা বিমানহানায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সমর্থন পেলে ইজ়রায়েল আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ফের কড়া বার্তা দিলেন Donald Trump। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি চান না এই সংঘাতে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য আরব দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়ুক। পরিস্থিতি যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক শক্তিই তা মোকাবিলা করতে সক্ষম— এমনটাই দাবি তাঁর। ট্রাম্পের মতে, বহুপাক্ষিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক ভারসাম্য আরও নষ্ট হবে এবং সংঘাতের পরিধি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তৃত হতে পারে। তাই আপাতত ওয়াশিংটনের কৌশল হল সীমিত কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক চাপ বজায় রাখা।

তবে সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের পথও খোলা রাখছে আমেরিকা। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক অবরোধ বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হতে পারে। অতীতে যেমন ইরানের উপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাদের আর্থিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলা হয়েছিল, তেমন কৌশল ফের ব্যবহার করা হতে পারে বলেই ধারণা কূটনৈতিক মহলের। এর ফলে ইরানের তেল রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড়সড় অভিঘাত আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, সেই অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। অতীতে সামান্য অস্থিরতার জেরেই জ্বালানি বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব পড়বে ইউরোপ, এশিয়া-সহ বহু দেশের অর্থনীতিতে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। আমেরিকা-ইজ়রায়েল জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে কি না, তা নির্ভর করছে এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতির উপর। অন্যদিকে রাশিয়া, চিন বা তুরস্কের মতো শক্তিধর দেশগুলি কী ভূমিকা নেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদি তারা কূটনৈতিক বা সামরিকভাবে কোনও পক্ষকে সমর্থন করে, তবে সংঘাতের চরিত্র আরও জটিল হয়ে উঠবে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো এই মুহূর্তে এক জটিল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা গোটা অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি, আকাশপথে নজরদারি জোরদার, নৌবাহিনীর টহল এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বক্ষণ সক্রিয়তা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধাবস্থার মতোই সতর্ক। একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমায় নজরদারি বাড়িয়েছে, বিমান চলাচলে বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক জায়গায় জরুরি প্রস্তুতি হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্কুল-কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বা অনলাইন পদ্ধতিতে স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিও ঝুঁকিপূর্ণ আকাশপথ এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্য, বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতির উপর তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

news image
আরও খবর

দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই অঞ্চল বহু দশক ধরেই নানা সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র হলে পুরনো দ্বন্দ্বগুলি আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলির পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে পারে, যার ফলশ্রুতিতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠবে।

ইরানে সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে— এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইরানের নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোয় বাইরের শক্তির প্রভাব বা হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ফলে এই প্রশ্নে বিশ্বশক্তিগুলির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শুধু সামরিক কৌশল নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপও আগামী দিনের সমীকরণ নির্ধারণ করবে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক লেনদেনে বাধা— এই সব পদক্ষেপ ইরানের উপর চাপ বাড়াতে পারে, তবে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে উন্নয়নশীল দেশগুলি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা— জাতিসংঘ বা অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে আলোচনা— পরিস্থিতি শান্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নজর স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের উপর। একদিকে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন— উভয় পক্ষের কৌশলগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বা একটি আপাত ছোট কূটনৈতিক ইঙ্গিতও বড় পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।

যদি কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে দেখা গিয়েছে, তীব্র সংঘাতের আবহেও গোপন আলোচনা, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপের ফলে আপসের রাস্তা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় শক্তিগুলি বা আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে। সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা না হলেও, পরোক্ষ বার্তা আদানপ্রদান এবং সীমিত সমঝোতা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, বন্দি বিনিময় বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলি আলোচনার সূচনা বিন্দু হতে পারে।

কিন্তু বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে বাস্তব। যদি সামরিক পদক্ষেপ আরও তীব্র হয়— যেমন নতুন করে বিমানহানা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে আক্রমণ— তবে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই বহুস্তরীয় জোট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। একটি দেশের সঙ্গে সংঘাত অন্য দেশগুলিকেও টেনে আনতে পারে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলে, লেভান্টে বা লোহিত সাগর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

এই সংঘাতের প্রভাব কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক অর্থনীতিও এর অভিঘাত অনুভব করবে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি কেন্দ্রীয় অঞ্চল। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ তাদের আমদানি নির্ভরতা বেশি। ফলে একটি আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎও এই সংকটের উপর নির্ভর করছে। বৃহৎ শক্তিগুলির ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও পক্ষকে সমর্থন করে, তবে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। আবার কেউ যদি শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে, তবে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনাও জোরদার হবে। এই মুহূর্তে প্রতিটি বিবৃতি, প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ এবং প্রতিটি কূটনৈতিক উদ্যোগ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক সন্ধিক্ষণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে রয়েছে সংঘাতের বিস্তার, অন্যদিকে রয়েছে সংলাপ ও সমঝোতার সম্ভাবনা। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। মানবিক সংকট, শরণার্থী সমস্যা, অবকাঠামোগত ধ্বংস এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়— এই সব কিছুর বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকেই। ফলে শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া শুধু কৌশলগত প্রয়োজন নয়, মানবিক দায়বদ্ধতাও।

আগামী কয়েক সপ্তাহ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সীমিত, কিন্তু তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যদি সংযম ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা প্রাধান্য পায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আর যদি প্রতিশোধ ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি প্রাধান্য পায়, তবে নতুন এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অধ্যায় শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে। বিশ্ব অপেক্ষা করছে— তেহরান ও ওয়াশিংটন কোন পথ বেছে নেয়, সংঘাত না সমঝোতা। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা।

Preview image