Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পর্দার ‘মা’, বাস্তবের রঙিন সুচন্দ্রা: শান্ত মায়ের ছায়ায় প্রাণবন্ত চরিত্র

পর্দার মা, বাস্তবের রঙিন রূপ সুচন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্দায় শান্ত মা হলেও, বাস্তবে তিনি চনমনে ও প্রাণবন্ত।হোমস্টে, হিউমার আর রঙিন জীবন অভিনয়ের বাইরে দার্জিলিংয়ের হোমস্টে চালানো এই অভিনেত্রী জানেন জীবনকে উপভোগ করতে।রসিক, স্বাধীনচেতা,অবিবাহিত ৩৫ বছরের সুচন্দ্রা পর্দায় ছোট মেয়ের মা হলেও বাস্তবে একেবারেই ভিন্ন চরিত্রের।রং আছে তবে কে জানে রঙটা কোথায় দিদি নম্বর ১ এ হাস্যরসের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্বের ঝলক দেখান তিনি।

পর্দার ‘মা’, বাস্তবের রঙিন সুচন্দ্রা: শান্ত মায়ের ছায়ায় প্রাণবন্ত চরিত্র

টেলিভিশনের জগতে অনেকেই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে দাগ কাটেন। কিন্তু কিছু চরিত্র এবং অভিনয়ধারা এমন হয় যে, তা দর্শকের মনে দীর্ঘকাল ধরে থাকে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের অপুর মা—এই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন সুচন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দায় তিনি শান্ত, সিধেসিধে, দায়িত্বশীল মা হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে তিনি একেবারেই উল্টো—চনমনে, প্রাণবন্ত এবং ভীষণ রসিক।

পর্দার মা, বাস্তবের রঙিন রূপ

সুচন্দ্রার অভিনয় এমনই যে, দর্শক সহজেই তাকে অপুর মা হিসেবে মেনে নেন। তিনি চরিত্রে পুরোপুরি ঢুকে যান; তার প্রতিটি ভাব, কথাবার্তা, হাসি, চোখের আভা—সবই মায়ের চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলে। দর্শকরা ভাবেন, হয়তো বাস্তবেও তিনি এমন শান্ত, মার্জিত এবং দায়িত্বশীল। কিন্তু বাস্তবের সুচন্দ্রা তা একেবারেই ভিন্ন। তিনি একেবারেই প্রাণবন্ত, চঞ্চল, এবং রসিক—যা তাকে একটি আলাদা জনপ্রিয়তা দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে, ‘দিদি নম্বর ১’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে নিজের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের ছাপ ছড়িয়েছেন। অনুষ্ঠানে ছোট ছোট চুল, উজ্জ্বল মুখ এবং প্রাণবন্ত হাসি দর্শকদের মন মাতিয়ে দিয়েছে। আড্ডার ফাঁকে যখন প্রশ্ন ওঠে, “জীবনে রং লাগছে না কেন?” সুচন্দ্রার হেসে উত্তর—“রং আছে…”—শুধু মজার নয়, দর্শকদের কৌতূহলও জাগায়।

ব্যক্তিগত জীবন এবং স্বাধীনতা

পর্দার চরিত্রে বারবার ‘মা’ হলেও, বাস্তবে সুচন্দ্রা এখনও অবিবাহিত। কলকাতার মেয়ে সুচন্দ্রা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। অভিনয়ের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের দাওয়াইপানিতে নিজের হোমস্টে চালান, যেখানে ছুটি পেলেই ছুটে যান। এই হোমস্টে শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; এটি তার স্বাধীনচেতা জীবনের প্রতিফলন। পাহাড়ের তাজা বাতাস, পাহাড়ের শান্তি এবং অতিথিদের সঙ্গে গল্প করার আনন্দ—এগুলো সুচন্দ্রার জীবনকে আরও রঙিন করে।

তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। এটি পর্দার দিতিপ্রিয়ার থেকে সামান্য বড় হলেও, তার চেনা ও চরিত্রের ভিন্নতা অনেক। একবার মজার ছলে তিনি বলেছিলেন, তিনি নাকি একসঙ্গে দুইজনের সঙ্গে প্রেম করেন—একজন তার সাইকেল, আরেকজন চার চাকা! এই রসিকতার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, সুচন্দ্রা জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে কীভাবে উপভোগ করেন।

সাহসী এবং স্বাধীনচেতা অভিনেত্রী

news image
আরও খবর

সুচন্দ্রা কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজের জীবনধারা, স্বতন্ত্র পছন্দ এবং স্বাধীন চিন্তার জন্য পরিচিত। পর্দার মা চরিত্রে তাকে যতটা শান্ত ও সংযত দেখানো হয়, বাস্তবে তার ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি উজ্জ্বল। অভিনয় জীবনের চাপে কিভাবে তিনি নিজের রঙ ধরে রাখেন, তা অনেক নতুন অভিনেতার জন্য শিক্ষণীয়।

পরিচিতরা বলছেন, সুচন্দ্রার সঙ্গে সময় কাটালে মজা এবং উদ্দীপনা অবশ্যম্ভাবী। তিনি সহজে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পারেন, গল্প করতে পারেন, এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো উদযাপন করতে জানেন। দর্শকরা যদি শুধু তার পর্দার ‘মা’ চরিত্রটা দেখেন, তাহলে হয়তো ভাববেন তিনি শান্ত ও সংযত। কিন্তু বাস্তবে তিনি একেবারেই আলাদা, স্বাধীনচেতা এবং প্রাণবন্ত।

চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব জীবনের ফারাক

এখানে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো চরিত্র এবং বাস্তব জীবনের মধ্যে পার্থক্য। পর্দায় তিনি মায়ের চরিত্রে আবদ্ধ থাকলেও, বাস্তব জীবনে তার রঙিন, মজার, এবং রসিক দিক দর্শকদেরকে আকর্ষণ করে। এই দুই দিকের সমন্বয়ই তাকে দর্শকের মনে এক অনন্য অবস্থান দেয়।

একদিকে তিনি ‘মা’ চরিত্রে দর্শককে আবেগময়ভাবে আবদ্ধ করেন; অন্যদিকে বাস্তব জীবনে তিনি হাস্যরস, স্বাধীনতা এবং রঙিন জীবনযাপনের দিক দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করেন। এই দ্বৈততা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন

সুচন্দ্রার জীবন শুধু অভিনয় এবং হোমস্টেতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আগ্রহী। পাহাড়ের হাওয়া, অতিথিদের সঙ্গে মজার আড্ডা, নিজের হোমস্টে পরিচালনা—সবকিছুই তাকে নতুন চ্যালেঞ্জ ও আনন্দ দেয়। তবে তিনি এখনো নিজের ‘রঙ’ প্রকাশে একপ্রকার রহস্য বজায় রেখেছেন। দর্শকরা সবসময় অপেক্ষায় থাকেন, কখন সেই রঙ পুরোপুরি প্রকাশ পাবে।

উপসংহার

সুচন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প আমাদের শেখায় যে, চরিত্র এবং বাস্তব জীবনের পার্থক্য কখনও কখনও মানুষের আসল রঙ দেখাতে পারে। পর্দার মা চরিত্রে তিনি যেমন শান্ত, দায়িত্বশীল ও মার্জিত, বাস্তব জীবনে তিনি ততটাই চঞ্চল, রসিক এবং স্বাধীনচেতা। এই দ্বৈততা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। দর্শকরা হয়তো পর্দায় তার ‘মা’ চরিত্রটি মনে রাখবেন, কিন্তু যারা তার ব্যক্তিগত জীবন দেখেছেন, তারা জানেন—সুচন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রঙিন জীবন এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বই তার আসল পরিচয়।

Preview image