আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এসআইআর সংক্রান্ত এনুমারেশন ফর্ম বিতরণের কাজ সম্পন্ন করবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্লক লেভেল অফিসাররা (বিএলও) প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে সরাসরি ফর্ম পৌঁছে দেবেন। কমিশনের এই উদ্যোগে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে বর্তমান সময়ের ভোটার তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করা যায়। কমিশনের লক্ষ্য হলো প্রত্যেক ভোটারকে এই ফর্ম পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের তথ্য নিশ্চিত করা। এছাড়া, যারা আগে কোনো কারণে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করতে পারেননি বা তথ্য হালনাগাদ করতে চান, তাদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এবারের এনুমারেশন প্রক্রিয়া শুধু ভোটারের তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং ভোটার তালিকাকে আরও সঠিক ও নির্ভুল করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে প্রত্যেক বাসিন্দার জন্য ফর্ম গ্রহণ ও তথ্য যাচাই অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ‘এনুমারেশন ফর্ম’ বিতরণ শুরু করেছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাড়ির সংলগ্ন অফিসে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ফর্ম পৌঁছে দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার মমতা স্পষ্ট করেছেন, যতক্ষণ রাজ্যের প্রতিটি মানুষের ফর্ম পূরণ হচ্ছে না, ততক্ষণ তিনি নিজে কোনও ফর্ম পূরণ করবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “যতক্ষণ বাংলার প্রতিটি মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন না, আমি নিজে কোনও ফর্ম পূরণ করিনি এবং করবও না।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বুধবার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও তাঁর পাড়ায় এসেছিলেন কাজ করার জন্য। কর্মসূত্রে বিএলও মুখ্যমন্ত্রীর রেসিডেন্স অফিসে গিয়ে দেখেছেন কতজন ভোটার আছেন এবং সেই অনুযায়ী ফর্ম পৌঁছে দিয়েছেন। মমতা নিজে হাতে ফর্ম গ্রহণ করেননি, এমনকি কেউ যে খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছে যে তিনি নিজের হাতে ফর্ম গ্রহণ করেছেন, তা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর বিধানসভার কেন্দ্রের ভোটার এবং সেই কেন্দ্রের বিধায়ক। তাঁর ভোটার নাম ৭৭ নম্বর বুথে রয়েছে, যা হরিশ পার্কের পাশে মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলে অবস্থিত। মমতা নিয়মিত এই বুথে ভোট দেন। বুধবার রাত থেকেই বিজেপি-সহ বিরোধীরা দাবি করতে থাকে, মমতা এতদিন বলে এসেছিলেন, বাংলায় এসআইআর কার্যক্রম চালু করতে দেবেন না। কিন্তু বিএলও তাঁর বাড়িতে ফর্ম পৌঁছে দিয়েছেন, এবং মমতা তা নিজের হাতে গ্রহণ করেননি।
মমতা এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করেছেন যে, মঙ্গলবার রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত ‘মহামিছিল’ করে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। মিছিলের শেষে তিনি সভায় বলেছিলেন, এসআইআর কার্যক্রম এনআরসি চালুর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার মমতা আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ রাজ্যের সব মানুষের ফর্ম পূরণ হবে না, ততক্ষণ তিনি নিজে ফর্ম পূরণ করবেন না। ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, তিনি এসআইআর নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন এবং সেই আন্দোলন দিল্লি পর্যন্ত প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৎপর সময়েই ‘নিজের হাতে ফর্ম গ্রহণ’ সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসআইআর সংক্রান্ত এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করবে। এই কার্যক্রমের মধ্যে বিএলওরা প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে ফর্ম দেবেন। কমিশন এই কাজের জন্য ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করছে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম বিতরণ ও তথ্য সংগ্রহের পর ৯ ডিসেম্বর প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।