দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ভারতের দল, আর সেখানে বড় খবর রিষভ পন্তের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ চোট পর্ব শেষে আবারও দলে ফিরছেন এই তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামিকে রাখা হয়নি দলে। তরুণ বোলারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এই সিরিজে। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি একদিকে প্রত্যাবর্তনের আনন্দ, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার অনুপস্থিতিতে কিছুটা চিন্তার বিষয়।
মুম্বাই: ভারতীয় ক্রিকেটে এক নাটকীয় মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের জন্য BCCI যে দল ঘোষণা করেছে, তাতে রয়েছে দুটি চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত — রিষভ পন্তের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন এবং অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামির চমকপ্রদ বাদ পড়া।
প্রায় এক বছর আগের সেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীরা যে মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, অবশেষে সেটি এসেছে। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রিষভ পন্ত ফিরছেন টেস্ট দলে — এবং তা-ও ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধক্ষেত্র, দক্ষিণ আফ্রিকায়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। রিষভের জীবনই যখন হুমকির মুখে, তখন ক্রিকেট ফিরে আসার স্বপ্ন অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হয়েছিল। কিন্তু যে যুবক পিচে আগুনের মতো খেলেন, জীবনের যুদ্ধেও তিনি হার মানেননি।
"এটি শুধু একটি কামব্যাক নয়, এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তির জয়," বলছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার। "রিষভ প্রমাণ করলেন, মানসিক দৃঢ়তা যে কোনও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারে।"
দীর্ঘ রিহ্যাবিলিটেশন, অসংখ্য ফিজিওথেরাপি সেশন, এবং নিজের সঙ্গে লড়াই করে রিষভ আজ আবার দলে। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিশীল পিচে তাঁর ব্যাটিং হবে সবার নজরে।
তবে রিষভের আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন — কেন মোহাম্মদ শামি নেই দলে?
দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দ্রুতগতি ও বাউন্সিং পিচে অভিজ্ঞ পেসারের গুরুত্ব অপরিসীম। শামির সিম ও সুইং বোলিং সেখানে প্রাণঘাতী হতে পারত। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হয়তো "নতুন প্রজন্মকে পরীক্ষা করার" সিদ্ধান্ত। অথবা শামির ফিটনেস নিয়ে অপ্রকাশিত উদ্বেগ থাকতে পারে। তবে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা না থাকায় জল্পনা-কল্পনার জন্ম হচ্ছে।
"শামির অভিজ্ঞতা আমাদের মিস হবে, বিশেষত সেই আউটসুইংগারগুলো," বলছেন সাবেক পেসার জহির খান। "তবে টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই কিছু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছেন:
অধিনায়ক: রোহিত শর্মা
ব্যাটসম্যান: বিরাট কোহলি, শুভমন গিল, কে. এল. রাহুল, সূর্যকুমার যাদব
অলরাউন্ডার: রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল
পেসার: জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, আর্শদীপ সিং
উইকেটকিপার: রিষভ পন্ত, কে. এস. ভরত
দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে — দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে?
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারতের রেকর্ড কখনোই সন্তোষজনক ছিল না। দ্রুতগতির পিচ, অতিরিক্ত বাউন্স, এবং প্রোটিয়াদের আক্রমণাত্মক পেসিং — সবকিছুই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।
এবার রিষভের আগ্রাসী ব্যাটিং, কোহলির অভিজ্ঞতা, এবং বুমরাহের নেতৃত্বে পেস আক্রমণ — তিনটি দিকই ভারতের হাতিয়ার। কিন্তু সফলতা নির্ভর করবে তাদের সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রিষভের ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। #RishabhReturns হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে। অন্যদিকে #WhereIsShami নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে।
"রিষভের প্রত্যাবর্তন আবেগের," লিখেছেন এক ভক্ত। "কিন্তু শামিকে কেন বাদ দিলেন, সেটা বুঝতে পারছি না।"
এই সিরিজ হবে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট — যেখানে দেখা যাবে পুরনো নায়কের পুনর্জন্ম এবং নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ।