বিয়ের আগে শুটিংয়ের ইনজুরি লুকে সুকান্তের ছবি মুহূর্তে ভাইরাল। উদ্বেগ ছড়ালেও অনন্যা জানালেন সবটাই সিরিয়ালের দৃশ্য, বাস্তবে কোনও চোট নয়।
বিয়ের আগে নতুন জীবনকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু। মার্চ মাসেই জীবনের অন্যতম বিশেষ দিন—তাদের বিয়ে। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী—সবাই মেতে আছেন প্রস্তুতিতে। কিন্তু এর মাঝেই হঠাৎ একটি ছবি তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হবু বর সুকান্তের মাথায় ব্যান্ডেজ, মুখে রক্তের দাগ, চোখেমুখে যন্ত্রণার ছাপ! দেখতে এমন লাগছিল, যেন কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনি। ছবির ক্যাপশন—“শুট করতে গিয়ে এই অবস্থা, পাশে থেকো।” আর তাতেই আগুনে ঘি! সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি।
ভক্তদের মনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন—“কি হয়েছে?”, “অনুষ্ঠানের আগে এমন দুর্ঘটনা কেন?”, “সত্যিই গুরুতর আহত হলেন নাকি?” শুধু ভক্তরা নয়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আলোচনার ঝড় ওঠে। অনন্যার দিদি অলকানন্দা গুহও দ্রুত মন্তব্য করেন—“তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো।” তাই দেখে সবার মনে আরও প্রশ্ন—বেশি কি গুরুতর হয়েছে?
সোশ্যাল মিডিয়া যেমন দ্রুত উদ্বেগ ছড়ায়, তেমনি অল্প সময়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিও দূর হয়ে যায়। অনন্যা গুহ নিজে জানালেন—“সব ঠিক আছে। এটা ‘সিরিয়াল বৌমা’র শুটিংয়ের দৃশ্য।” অর্থাৎ সবটাই রিলের গল্প। কোনও প্রকৃত আঘাত নয়, বরং সিরিয়ালের শুটিংয়ের সময় চরিত্রগত প্রয়োজনে তৈরি করা মেকআপ ইফেক্ট। কিন্তু যতক্ষণের মধ্যে সত্যিটা প্রকাশ্যে আসে, তার আগেই ঘটনাটি যথেষ্ট আলোচনা কুড়িয়েছে।
এই ভুল বোঝাবুঝির জেরে অনন্যাকে একদিকে যেমন বারবার ‘সব ঠিক তো?’ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, অন্যদিকে সুকান্তেরও হেসে যেতে হয়েছে নিজেরই তৈরি করা নাটুকে পরিস্থিতি দেখে। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, জনপ্রিয় তারকাদের সবকিছুই কীভাবে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে মানুষের মনোযোগ কাড়ে।
সেলিব্রেটিদের জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা আজকাল কতটা গভীর, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়। রাতে শুটিং শেষ করে সুকান্ত যখন ছবিটি পোস্ট করেন, তখন হয়তো ভাবেননি এত বড়সড় প্রতিক্রিয়া আসবে। সাধারণত শুটিং সেটে মেকআপের সাহায্যে ‘ইনজুরি লুক’ তৈরি করা হয়, যা বাইরে থেকে একদম বাস্তব মনে হয়। সুকান্তের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল।
তবে ছবির সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশন—“শুট করতে গিয়ে এই অবস্থা, পাশে থেকো”—পোস্টটিকে অন্য মাত্রা দেয়। যারা সুকান্ত ও অনন্যার বিয়ের প্রস্তুতির খবর জানতেন, তারা আরও চমকে যান। ভাবতে থাকেন—‘এমন সময়ে কেন এত বিপদ?’ আর এটাই পোস্টটিকে মুহূর্তে ভাইরাল করে তোলে।
পরিচিতজনেরা চিন্তিত হয়ে সুকান্তকে ফোন করা শুরু করেন। ইনবক্স ভরে যায় মেসেজে। বহু জন শুভেচ্ছা পাঠান দ্রুত আরোগ্যের জন্য। আর তাই দেখে সুকান্ত নিজেও খানিকটা হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান—কারণ আসলে তেমন কিছুই ঘটেনি!
যখন বিষয়টি আর সহনীয় হলো না, তখন অনন্যা গুহ নিজেই সব পরিষ্কার করে দেন। প্রিয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ভক্তদের উদ্বেগ স্বাভাবিকই বটে। অনন্যা বলেন—
“সবার চিন্তার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ভয় নেই, এটা শুধু সিরিয়ালের শুটিংয়ের দৃশ্য। বাস্তবে ওর কোনও চোট লাগেনি।”
তিনি হাসতে হাসতেই আরও যোগ করেন—
“রিল আর রিয়েলের পার্থক্য মাঝে মাঝে ভক্তরা ভুলেই যান। তবে তাঁদের ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ।”
এই মন্তব্যের পর অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। তবে অনেকেরই মত—“এমন ছবি পোস্ট করার আগে সতর্কতা থাকা দরকার ছিল।”
তারপরও বেশিরভাগ ভক্তই সুকান্তের ‘অভিনয় কুশলতার’ প্রশংসা করেছেন, কারণ এতটাই বাস্তব দেখাচ্ছিল মেকআপ, তারা সত্যিই বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন।
এই আলোচনার মাঝেই উঠে আসে তাঁদের সম্পর্কের গল্প। টেলিভিশন জগতের দুই জনপ্রিয় মুখ অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদের মজাদার বন্ধুত্ব, খুনসুটি, একে অপরকে সমর্থন আর পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক টলিপাড়ায় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
অনেকেই বলতেন—“ওদের দু’জনের মধ্যে আলাদা একটা কেমিস্ট্রি আছে।”
হাসি-মজা, পরস্পরের পেশাগত উন্নতিতে সহযোগিতা, এবং একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তাঁরা ভক্তদের কাছেও হয়ে উঠেছেন ‘পারফেক্ট কাপল’।
তাই মার্চ মাসে তাঁদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে টলিপাড়ায়। বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় হবে, কোন থিম থাকবে, কারা থাকবেন অতিথি হিসেবে—সবই নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
টেলিভিশন অভিনেতাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনের সময় বের করা। দৈনিক পর্বের চাপ, গল্পের নতুন মোড়, চরিত্রের পরিবর্তন—এসবের মাঝেই সময় ধরে টিকে থাকতে হয়।
অনন্যা বর্তমানে এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে সুকান্তও “সিরিয়াল বৌমা”-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। দুজনেরই প্রতিদিন শুটিং থাকে। তবুও তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনকে সুন্দর করে তুলতে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।
পোশাক নির্বাচন থেকে শুরু করে অতিথি তালিকা, ভেন্যুর সাজসজ্জা, মেনু—সবই দেখছেন তারা নিজেরাই। পরিবারও পাশে রয়েছে। তাই শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।
এই ঘটনার পর অনেকে মন্তব্য করেছেন—
“সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার আগে ভাবা উচিত, মানুষ যে কতটা সিরিয়াসলি নেয়!”
কারণ ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকাদের জীবনের প্রতিটি খবর নিয়ে কতটা সংবেদনশীল, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে। অন্যদিকে অনেকেই বলেছেন—
“এসব মাঝে মাঝেই হয়। অভিনেতাদের রিল-লুক এতটাই বাস্তবিক হয়ে যায় যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে।”
সুকান্তও পরে মজার ছলে লিখেছেন—
“সবাইকে ধন্যবাদ ভালোবাসার জন্য। এবার থেকে রিল ইনজুরি পোস্ট করার আগে ওয়ার্নিং দেব!”
এই কথায় হাসিতে ফেটে পড়েছেন ভক্তরা।
বর্তমান যুগে রিল আর রিয়েলের সীমারেখা অনেকটাই ঝাপসা। দর্শকরা যেমন একদিকে অভিনেতাদের পর্দার চরিত্রে আবেগে ভাসেন, তেমনই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একই রকম কৌতূহলী। ফলে অনেক সময় রিলের গল্পকেও ভক্তরা বাস্তবের ঘটনা বলে ধরে নেন।
এ কারণেই টেলিভিশন অভিনেতাদের ক্ষেত্রে এমন ‘মেকআপ লুক’ ঘিরে ভুল ধারণা হওয়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন দৃশ্যটি হয় রক্তাক্ত বা আহত অবস্থার। সুকান্তের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। শুটিং সেটে তৈরি করা বাস্তবসম্মত “ইনজুরি স্পেশাল ইফেক্ট”—মাথার ব্যান্ডেজ, কপালের পাশে কাটা, গাল বেয়ে রক্ত—সবই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছিল। যে কেউ দেখলেই মনে হতো বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তাই পোস্টটি ভাইরাল হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়।
পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর যেসব প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, সেগুলির বেশিরভাগই উদ্বিগ্ন ছিল। অনেকেই লিখেছিলেন—
“বিয়ের আগে কী এমন হলো?”
“দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো ভাই।”
“এমন সময় এত বড় দুর্ঘটনা! ভালো থেকো।”
পরে যখন অনন্যা পরিষ্কার করে জানান যে এটা সবই শুটিংয়ের অংশ, তখন ভক্তরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। কেউ কেউ মজা করেও লেখেন—
“এভাবে হার্ট অ্যাটাক দেওয়ার দরকার ছিল?”
“রিল ইনজুরিতে রিয়েল টেনশন দিলেন!”
সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন তর্ক-বিতর্ক, গুঞ্জন চলে, তেমনই এই ঘটনায় দেখা গেছে অসংখ্য মজাদার প্রতিক্রিয়াও। সব মিলিয়ে ঘটনাটি একেবারে রঙিন হয়ে ওঠে।
সব ভুল বোঝাবুঝি কাটার পর দেখা যায়, অনন্যা ও সুকান্ত নিজেরাই এই ঘটনাটি নিয়ে বেশ মজা করছেন। তাঁদের মধ্যে খুনসুটির ছাপ ভক্তদেরও আনন্দ দেয়। হয়তো এই ছোট্ট ঘটনা তাঁদের সম্পর্কের মজার স্মৃতির তালিকাতেও জায়গা করে নেবে।
শুটিংয়ের বাস্তবতা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ, এবং বিয়ের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে এই সময়টি তাঁদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনই একসঙ্গে এগিয়ে চলার নতুন অভিজ্ঞতাও।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া অন্তর থেকে ছুঁয়ে গেছে তাঁদের।
অনন্যা বলেন—
“এত মানুষ আমাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, এটা একটা আশীর্বাদ। ভালোবাসাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে—সেলিব্রেটিদের জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা?
একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া তাঁদের ভক্তদের সঙ্গে থাকা সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃহৎ আকার নিতে পারে।
যখন অভিনেতারা কোনও চরিত্রে আহত হন বা বেদনাদায়ক দৃশ্যের শুটিং করেন, তখন সেটির ছবি পোস্ট করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু ভক্তরা সবসময় বুঝতে পারেন না কোনটি বাস্তব আর কোনটি রিল। সুকান্ত–অনন্যার ঘটনা তারই উদাহরণ।
সবাইকে আশ্বস্ত করে অনন্যা জানিয়ে দিয়েছেন—
সুকান্ত সম্পূর্ণ সুস্থ। কোনও বাস্তব আঘাত লাগেনি। বিয়ের প্রস্তুতিও আগের মতোই চলছে।
এই ছোট্ট ভাইরাল ঘটনাটি তাই কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং রিলের গল্প থেকে জন্ম নেওয়া ‘রিয়েল’ আলোড়ন।
বিয়ের আগে এমন ঘটনার কারণে যদিও খানিকটা মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তবে বর্তমানে তা হাসিতেই উড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা দুজনেই।
ভক্তেরা অপেক্ষায় রয়েছেন—মার্চে কেমন জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হবে তাঁদের।
শুটিং-ব্যস্ততার মাঝেও সুখের সেই দিনের জন্য উত্তেজনা তুঙ্গে।
আর এদিকে নেটদুনিয়া?
এখনও বলছে—
“রিল ইনজুরিতে রিয়েল আবেগ—এটাই সেলিব্রিটি জীবনের জাদু!”