Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

৮৪ বলে ১৯০ বিশ্বরেকর্ড গড়ে ধোনির শহরে ঝড় তুলল ১৪ বছরের বৈভব

সংশোধিত বর্ণনা: বৈভবের বিহারের ম্যাচটি ছিল অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিহারের ইনিংসের ভরকেন্দ্রে ছিলেন বৈভব। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কা। অরুণাচল প্রদেশের কোনও বোলারই তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। পুরো ম্যাচ জুড়ে কার্যত একাই প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন এই কিশোর ব্যাটার।

বিজয় হজারে ট্রফির প্রথম দিনেই ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল এক কিশোর ব্যাটার। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এমন এক ইনিংস খেলল বৈভব সূর্যবংশী, যা শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়নি, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বই নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছে। বিহারের হয়ে খেলতে নেমে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বৈভব। এই অসাধারণ কৃতিত্বের মাধ্যমে সে নিজের নাম তুলে ধরেছে বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্ময় প্রতিভাদের তালিকায়।

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচীতে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই শহরই বিশ্ব ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে। সেই ধোনির শহরেই এবার এক কিশোর ব্যাটারের দাপট দেখল ক্রিকেটপ্রেমীরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিহার। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, বিহারের ইনিংসের মূল ভরসা হয়ে উঠেছে বৈভব সূর্যবংশী।

ইনিংসের প্রথম বল থেকেই বৈভব খেলেছে নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। বয়সে অনেক ছোট হলেও তার ব্যাটিংয়ে কোনও জড়তা বা চাপের ছাপ ছিল না। অরুণাচল প্রদেশের বোলাররা বারবার লাইন-লেন্থ বদলালেও কোনও কৌশলই কাজে আসেনি। পেস হোক বা স্পিন—সব ধরনের বোলিংকেই সমান দক্ষতায় মোকাবিলা করেছে বৈভব।

তার এই ইনিংসে ছিল চার-ছক্কার বন্যা। মোট ১৬টি চার ও ১৫টি বিশাল ছক্কা মেরে সে কার্যত একার হাতে অরুণাচলের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মাঠের চারদিকে শট খেলতে তার অসাধারণ দক্ষতা ও শক্তিশালী স্ট্রোকপ্লে দর্শকদের মুগ্ধ করে। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা বারবার দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানান এই কিশোর ব্যাটারকে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত আসে যখন বৈভব মাত্র ৩৬ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করে। এর মাধ্যমে সে লিস্ট এ ক্রিকেটে কনিষ্ঠতম শতরানকারী ব্যাটার হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করে বৈভব ছাপিয়ে যায় সমস্ত আগের নজির। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ইনিংসের আগে লিস্ট এ ক্রিকেটে বৈভবের কোনও শতরান ছিল না।

শতরানের পরেও থামেনি বৈভবের ব্যাট। দ্রুতগতিতে রান তুলতে তুলতে সে পৌঁছে যায় দেড়শো রানের গণ্ডিতে। মাত্র ৫৪ বলে ১৫০ রান করে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫০ রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে সে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডিভিলিয়ার্সের দখলে।

ইনিংস যত এগোচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল বৈভব হয়তো দ্বিশতরানও ছুঁয়ে ফেলবে। ১৯০ রানে পৌঁছনোর পর দ্বিশতরান প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেচি নেরির বলে আউট হয়ে যায় সে। তবুও তার এই ইনিংস যে ম্যাচের সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

বৈভব সূর্যবংশীর এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের দিকেও ইঙ্গিত দেয়। এত অল্প বয়সে এমন পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং ক্রিকেট মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিজয় হজারে ট্রফির প্রথম দিনেই এই কিশোর প্রমাণ করে দিল—ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী প্রজন্ম কতটা উজ্জ্বল হতে চলেছে।

ধোনির শহর রাঁচীতে ঐতিহাসিক ম্যাচ

এই স্মরণীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচীতে—যে শহর ভারতীয় ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো কিংবদন্তি অধিনায়ককে। সেই ধোনির শহরেই এবার নতুন এক কিশোরের ব্যাটে ঝড় দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিহার। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, বিহারের ইনিংসের চালিকাশক্তি হতে চলেছে বৈভব সূর্যবংশী।

শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ

ইনিংসের শুরু থেকেই বৈভবের ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাস আর আগ্রাসনের নিখুঁত মিশেল। বয়সে কিশোর হলেও তার ব্যাটিংয়ে কোনও স্নায়ুচাপের ছাপ দেখা যায়নি। অরুণাচল প্রদেশের বোলারদের একের পর এক আক্রমণ নির্বিঘ্নে সামলে বৈভব দ্রুত রান তুলতে শুরু করে। প্রথম কয়েক ওভারেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই ইনিংস সাধারণ কিছু হতে চলেনা।

চার-ছক্কার বৃষ্টি

পুরো ইনিংসে বৈভব মেরেছে ১৬টি চার ও ১৫টি বিশাল ছক্কা। কখনও কভার ড্রাইভ, কখনও পুল, আবার কখনও লং অন বা লং অফের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ছক্কা—সব ধরনের শটেই সাবলীল ছিল সে। অরুণাচলের বোলাররা একের পর এক পরিবর্তন করেও কোনওভাবেই তাকে থামাতে পারেননি। স্পিন হোক বা পেস—সব বোলিংকেই সমান দাপটে মোকাবিলা করেছে এই ১৪ বছরের ব্যাটার।

৩৬ বলে শতরান, বিশ্বরেকর্ড

ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে যখন বৈভব মাত্র ৩৬ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করে। এর মাধ্যমেই সে হয়ে ওঠে লিস্ট এ ক্রিকেটে কনিষ্ঠতম শতরানকারী ব্যাটার। ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই নজির গড়ে বৈভব ছাপিয়ে যায় বিশ্বের সব আগের রেকর্ড। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ইনিংসের আগে লিস্ট এ ক্রিকেটে বৈভবের কোনও শতরানই ছিল না।

news image
আরও খবর

ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান

৩৬ বলে শতরান করে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরানের মালিক হয়েছে বৈভব। এই তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছেন পঞ্জাবের আনমোলপ্রীত সিংহ। গত বছর অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধেই তিনি ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন। মাত্র এক বলের জন্য সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি বৈভব। তবে বয়সের বিচারে বৈভবের কৃতিত্ব অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব ক্রিকেটের দ্রুততম শতরানের তালিকায় চতুর্থ

লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম শতরানের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জেক ফ্রেজার ম্যাকগুর্কের দখলে। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে তিনি মাত্র ২৯ বলে শতরান করেছিলেন। সেই তালিকায় বৈভব এখন চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তার ওপরে রয়েছেন এবি ডিভিলিয়ার্স (৩১ বল), জেক ফ্রেজার ম্যাকগুর্ক (২৯ বল) এবং আনমোলপ্রীত সিংহ (৩৫ বল)।

১৫০ রানে নতুন বিশ্বরেকর্ড

দ্রুততম শতরানের রেকর্ড না ছুঁতে পারলেও বৈভব গড়েছে আরও এক বিশ্বরেকর্ড। লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫০ রানের নজির এখন তার দখলে। মাত্র ৫৪ বলে ১৫০ রান পূর্ণ করে সে ভেঙে দেয় এবি ডিভিলিয়ার্সের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ডিভিলিয়ার্স ৬৪ বলে ১৫০ রান করেছিলেন ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে। যদিও সেটি ছিল আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচ, তবুও লিস্ট এ তালিকাতেই সেই ইনিংস গণ্য হয়।

দ্বিশতরানের স্বপ্নভঙ্গ

ইনিংস যত এগোচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল বৈভব হয়তো দ্বিশতরান ছুঁয়ে ফেলবে। ১৮০ পেরোনোর পর গ্যালারিতেও তৈরি হয় উত্তেজনা। কিন্তু ১৯০ রানে পৌঁছনোর পর টেচি নেরির বলে আউট হয়ে যায় সে। সেই মুহূর্তে রাঁচীর মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হতাশার সুর থাকলেও, বৈভবের ইনিংসকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সবাই।

বিহার ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক দিন

বৈভব সূর্যবংশীর এই ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বিহার ক্রিকেটের জন্যও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বিহার আলাদা করে আলোচনায় আসেনি। কিন্তু এই ইনিংস প্রমাণ করে দিল, রাজ্যের ক্রিকেট কাঠামো থেকে ভবিষ্যতের তারকারা উঠে আসছে।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভবের ব্যাটিং শুধু শক্তির উপর নির্ভরশীল নয়, বরং ম্যাচ সচেতনতা ও শট নির্বাচনের পরিণতিও চোখে পড়ার মতো। ১৪ বছর বয়সে এত পরিণত ব্যাটিং খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। অনেকেই ইতিমধ্যেই তুলনা টানছেন সচিন তেণ্ডুলকরের শুরুর দিনের সঙ্গে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বৈভব

এই ইনিংসের পর বৈভব সূর্যবংশীর সামনে খুলে গেল সম্ভাবনার দরজা। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে শুরু করে জাতীয় দলে ওঠার স্বপ্ন এখন আর অসম্ভব মনে হচ্ছে না। তবে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করাচ্ছেন, এই বয়সে তার উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়াই হবে সঠিক পথ।

উপসংহার

বিজয় হজারে ট্রফির প্রথম দিনেই বৈভব সূর্যবংশী বুঝিয়ে দিল, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল। ধোনির শহর রাঁচীতে তার ব্যাট থেকে যে ঝড় উঠল, তা হয়তো আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চে দেখা যাবে। বিশ্বরেকর্ড, আগ্রাসী ব্যাটিং আর নির্ভীক মানসিকতা—সব মিলিয়ে বৈভব সূর্যবংশী এখন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Preview image