Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শাকিরা আসছেন ভারতে,কনসার্টের জন্য টিকিটের দাম জানুন

১৯ বছর পর ভারতে আসছেন শাকিরা, ২০০৭ সালের পর আবারো মাতাতে প্রস্তুত ভারতীয় শ্রোতাদের

শাকিরা, বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ল্যাটিন পপস্টার, ১৯ বছর পর ভারত সফরে আসছেন। ২০০৭ সালে তার ওরাল ফিক্সেশন ট্যুর  ভারতীয় দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই সময় থেকে ভারতের শ্রোতারা আবার তার পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় ছিলেন। এবার তিনি আবারো ভারতীয় শ্রোতাদের সঙ্গে তার যাদু ছড়ানোর জন্য প্রস্তুত। শাকিরা নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘোষণা করেন যে, তিনি ভারতে কনসার্ট করবেন এবং এটি তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ কিছু। তিনি বলেন, ভারতে পারফর্ম করা সবসময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা, আমি উত্তেজিত, কারণ এখানে ভক্তদের সঙ্গে আরও একবার সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবো।

এই সফরের উদ্দেশ্য শুধু পারফর্ম করা নয়, বরং একটি মহৎ উদ্দেশ্যও রয়েছে। শাকিরা জানিয়ে দিয়েছেন যে তার কনসার্টগুলির উদ্দেশ্য হচ্ছে  প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা। এই কনসার্টগুলো জোমাটো-ডিস্ট্রিক্টের সহযোগিতায় ফিডিং ইন্ডিয়া নামে একটি অলাভজনক উদ্যোগের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এটি ভারতের বিভিন্ন শহরে ফিডিং ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কনসার্ট আয়োজন করবে। প্রথমবারের মতো, একাধিক শহরে শাকিরা তার পারফরম্যান্স উপস্থাপন করবেন।

শাকিরা ভারতের দুটি শহরে, মুম্বই এবং দিল্লিতে পারফর্ম করবেন। ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে কনসার্টের শুরু হবে এবং ১৫ এপ্রিল দিল্লির জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে তার পারফরম্যান্সের আয়োজন থাকবে। এই কনসার্টের টিকিট শুধুমাত্র ডিস্ট্রিক্ট অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। তবে এই টিকিট কেনার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত একটি এক্সক্লুসিভ অফার থাকবে, যেখানে HSBC ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট কিনতে পারবেন। অন্যরা ১ মার্চ দুপুর ১টা থেকে টিকিট কিনতে পারবেন।

শাকিরা, যার পূর্ণ নাম শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপল, একজন বিশ্বখ্যাত গ্র্যামি পুরস্কৃত কলম্বিয়ান শিল্পী। তিনি ল্যাটিন পপ মিউজিকের রাজকন্যা হিসেবে পরিচিত এবং তার গানের মাধ্যমে বিশ্বের হাজার হাজার শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন। ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে তার ক্যারিয়ার শুরু হলেও, ২০০০ সালে তার এলবাম ওরাল ফিক্সেশন ভলিউম ১  মুক্তি পাওয়ার পর তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি আরও বেড়ে যায়। সেই সময় থেকেই তিনি পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

তার অন্যতম সেরা গান, হিপস ডোন্ট লাই ওয়াকা ওয়াকা, হোওয়েভেন এবং শি উলফ এখনো বহু মানুষের প্লেলিস্টে রয়েছ। তার গানগুলোর কথা ও মিউজিক বিশ্বের বিভিন্ন শ্রোতাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে তার গান ওয়াকা ওয়াকা দিয়ে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

এছাড়া, শাকিরা দুই সন্তানের মা এবং তার ব্যক্তিগত জীবনও অনেকবার মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি স্প্যানিশ ফুটবলার পিকের সঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছর একসঙ্গে কাটানোর পর ২০২২ সালে তাদের ডিভোর্সের ঘোষণা দেন। তারা দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান। শাকিরা জানান, পিকে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় দুঃখজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এই সমস্ত ব্যক্তিগত বিষয় সত্ত্বেও, শাকিরা তার কর্মজীবনে কখনোই থেমে যাননি। তিনি তার কাজকে এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন। তার এই ভারত সফর তার ভক্তদের কাছে এক নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে, যেখানে শুধুমাত্র কনসার্টের মাধ্য়মেই নয়, তার সংগীত এবং সমাজসেবার উদ্দেশ্যও মিশে যাবে।

ফিডিং ইন্ডিয়া ও শাকিরা এই কনসার্টের মাধ্যমে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, যা দেশের প্রতি তার ভালোবাসা এবং শিশুদের প্রতি তার সহানুভূতির প্রদর্শন। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্য পুষ্টির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে, যা তার এক মহৎ লক্ষ্য।

শাকিরার এই সফর শুধু একটি কনসার্ট নয়, এটি একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা তার ভক্তদের এবং দেশের মানুষদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেবে।

শাকিরার ভারত সফর এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠবে, যেটি কেবল তার ভক্তদের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই আন্তর্জাতিক স্টার আবার ভারত সফর করছেন, যা ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক দুর্দান্ত উপহার। তার আগমন এবং কনসার্টের আয়োজন শুধু একটি পারফরম্যান্স নয়, বরং একটি বিশাল উদ্যোগের অংশ। যেখানে শাকিরা তার মিউজিক এবং তার শিল্পীসত্তার মাধ্যমে ভারতের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

news image
আরও খবর

শাকিরার গানগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বার্তা, এক বিশেষ ধরনের মানবিকতা এবং সহানুভূতি। তার সংগীতের মাধ্যমে তিনি যে অনুপ্রেরণা এবং সাহস দেন, তা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। তার প্রতিটি গান, তার প্রতিটি পারফরম্যান্স, তার শ্রোতাদের জীবনে এক নতুন শক্তি যোগ করেছে। শাকিরার শিল্পীসত্তা কেবল তার ভক্তদের কাছে মিউজিক নয়, বরং একটি বিশেষ জীবনধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা হয়েছে।

এবার যখন তিনি ভারতে ফিরে আসছেন, তার পারফরম্যান্স শুধু সাংস্কৃতিক বিনোদন হিসেবে দেখা যাবে না, বরং এটি একটি সামাজিক উদ্দেশ্য পূরণের অংশ হিসেবেও দেখা হবে। তার কনসার্টের আয় থেকে যে অর্থ সংগৃহীত হবে তা ফিডিং ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের পুষ্টির জন্য ব্যবহৃত হবে। ফিডিং ইন্ডিয়া একটি অলাভজনক সংস্থা, যা খাবারের অভাবে থাকা শিশুদের সহায়তা করে। শাকিরা তার কনসার্টের মাধ্যমে ভারতের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এটি তার শখ এবং সংগীতের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি তার মানবিক দায়িত্ববোধেরও প্রমাণ।

এই সফরের মাধ্যমে শাকিরা প্রমাণ করবেন যে, তিনি শুধুমাত্র একজন পপস্টার নন, বরং একজন সমাজসেবী, যিনি বিশ্বের বিভিন্ন কোণে তার স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং তার কর্মের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট। তার গান এবং তার উদ্দেশ্য যেমন মানুষকে একত্রিত করে, তেমনি তা জনগণের মধ্যে একটি সচেতনতা সৃষ্টি করে। তার এই উদ্যোগ, যেখানে শিশুদের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

শাকিরার পারফরম্যান্সে ভারতীয় দর্শকরা যে উন্মাদনা দেখাবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ২০০৭ সালে তার শেষ সফরের পর ভারতীয় দর্শকরা শাকিরাকে মিস করেছেন এবং এবার তার আবার আসা তাদের জন্য একটি তীব্র অপেক্ষার ফলস্বরূপ। ভারতীয় শ্রোতাদের জন্য শাকিরার গান যেমন বিশেষ, তেমনি তার পারফরম্যান্সও হবে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তার প্রতিটি নৃত্য, প্রতিটি গান, প্রতিটি শব্দ যেন তার ভক্তদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করে।

শাকিরার এই সফর শুধু ভারতীয় শ্রোতাদের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের শ্রোতাদের জন্যও এক বিশাল উদাহরণ হয়ে থাকবে। কারণ তিনি প্রতিভা এবং সহানুভূতির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে নিজেকে একজন চিরস্থায়ী আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে, শুধু ভারতীয় শ্রোতারা নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তার গানের মাধ্যমে আরো বেশি একত্রিত হবে এবং তাদের মধ্যে একটি ঐক্য এবং ভালবাসার অনুভূতি তৈরি হবে।

অবশ্যই, তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য শুধু মিউজিকের মাধ্যমে আনন্দ দেওয়াই নয়, বরং তার কাজের মাধ্যমে আরও একটি সমাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করা, যা বহু শিশুদের জীবনকে বদলে দিতে পারে। এটি একটি বিশ্বব্যাপী বার্তা, যা প্রতিটি শ্রোতাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবতা এবং সহানুভূতির মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

এই সফরের মধ্য দিয়ে শাকিরা আবারো প্রমাণ করবেন যে তিনি কেবল একজন পপস্টার নন, বরং একজন মানবিক শিল্পী, যিনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের শুধু মিউজিক নয়, বরং ভালোবাসা, সহানুভূতি, এবং সমাজসেবার বার্তা দিচ্ছেন। তার গান এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি যে সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, তা তার বিশাল প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। তার দর্শন ও উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ হিসেবে কাজ করবে, যারা শুধু বিনোদনই নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দিকে মনোযোগী।

ভারতে তার কনসার্টে গানের পাশাপাশি তিনি বিশেষ বার্তা দেবেন, যা দেশের জনসাধারণের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিশুশিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াবে। এটি কেবল একটি মিউজিকাল ট্যুর নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশ, যা শাকিরা নিজেকে একজন শিল্পী এবং সমাজসেবী হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করবে। তার এই সফর শুধুমাত্র তার ভক্তদের জন্য নয়, বরং ভারতের উন্নতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।

 

Preview image