Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অকালেই নিভে গেল সুরের আলো, প্রয়াত গায়ক ও সুরকার অভিজিৎ মজুমদার

দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর প্রয়াত সুরকার অভিজিৎ মজুমদার, বাংলা সংগীতজগতে গভীর শোকের আবহ

ওড়িয়া সংগীত জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন খ্যাতনামী সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক অভিজিৎ মজুমদার। রবিবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে ওড়িয়া চলচ্চিত্র ও সংগীত মহল। শুধু ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রি নয়, গোটা ভারতীয় সংগীত জগতেই তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

অভিজিৎ মজুমদার ছিলেন ওড়িয়া চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল সুরকার। তাঁর সুরে তৈরি বহু গান বছরের পর বছর শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। একের পর এক জনপ্রিয় ছবির সংগীত পরিচালনা করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একজন ব্যতিক্রমী সুরকার হিসেবে। তাঁর সুরে ছিল আবেগ, আধুনিকতা এবং লোকসংগীতের মেলবন্ধন, যা ওড়িয়া শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে চলছিল দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে এক কঠিন লড়াই। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যান অভিজিৎ মজুমদার। সেই সময় তাঁকে দ্রুত ভুবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

প্রায় দুই মাস পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকদের মতে, সেই সময় তিনি ধীরে ধীরে সচেতন হয়ে উঠছিলেন। ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবের মাধ্যমে সাধারণ নির্দেশে সাড়া দিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখে চিকিৎসকরা আশাবাদী হয়েছিলেন যে, ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছিল।

কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছুই লিখে রেখেছিল। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত নানা কারণে তাঁর হাসপাতাল ছাড়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে একাধিক জটিল রোগ বাসা বেঁধেছিল। স্নায়ুর সমস্যা, নিউমোনিয়া ছাড়াও তাঁর লিভারের সমস্যা ছিল। এছাড়া ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং রক্তজনিত সমস্যাও তাঁর শরীরকে আরও দুর্বল করে তুলেছিল।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রবিবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগৎ।

অভিজিৎ মজুমদারের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর চলে যাওয়া নয়, এটি ওড়িয়া সংগীত জগতের জন্য এক বড় ক্ষতি। তাঁর সৃষ্ট গানগুলো শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও মিশে গিয়েছিল। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা—সব আবেগেই তাঁর সুর ছিল মানুষের অনুভূতির ভাষা।

ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, সুরকার—সবাই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, অভিজিৎ মজুমদার শুধু একজন সুরকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন ওড়িয়া সংগীতের এক শক্তিশালী স্তম্ভ। তাঁর চলে যাওয়া মানে একটি যুগের অবসান।

শিল্পী জীবনে অভিজিৎ মজুমদার অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন। তাঁর সুরে তৈরি গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তাঁর সংগীতের বিশেষত্ব ছিল, তিনি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সুরের সমন্বয় ঘটাতে পারতেন। এই কারণেই তাঁর গান সব বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

ব্যক্তিগত জীবনে অভিজিৎ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী মানুষ। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন সহৃদয় শিল্পী। অনেক নবীন শিল্পীকে তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, অভিজিৎ শুধু নিজের সাফল্য নিয়ে ভাবতেন না, বরং ওড়িয়া সংগীতকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায়, তা নিয়েই বেশি চিন্তা করতেন।

তাঁর দীর্ঘ অসুস্থতার সময় গোটা ইন্ডাস্ট্রি তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছিল। যখন খবর আসে যে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তখন সবাই আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হল না। তাঁর প্রয়াণ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবন কতটা অনিশ্চিত।

অভিজিৎ মজুমদারের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, তাঁর অসংখ্য অনুরাগী এবং গোটা সংগীত জগতের জন্য এক গভীর বেদনার ঘটনা। তাঁর পরিবার এই কঠিন সময়ে ভেঙে পড়েছে। তাঁর সহকর্মী এবং অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করছেন তাঁর কাজ এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে।

আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সুর রয়ে যাবে। তাঁর সৃষ্টি গানগুলোই ভবিষ্যতে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে মানুষের হৃদয়ে। প্রতিটি সুর, প্রতিটি গান, প্রতিটি আবেগে অভিজিৎ মজুমদারের উপস্থিতি অনুভূত হবে।

ওড়িয়া সংগীত জগতে তাঁর অবদান কখনও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিল্পী আসবেন, নতুন গান তৈরি হবে, কিন্তু অভিজিৎ মজুমদারের জায়গা কেউ নিতে পারবে না। তাঁর প্রয়াণ ওড়িয়া সংগীত ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করল।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, অভিজিৎ মজুমদারের জীবন ছিল সুর, সংগ্রাম এবং সৃষ্টির এক অনন্য গল্প। দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি যে সাহস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। তাঁর প্রয়াণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিল্পীরা চলে গেলেও তাঁদের সৃষ্টি কখনও মারা যায় না।

আজ ওড়িয়া সংগীত জগৎ একজন কিংবদন্তিকে হারাল। কিন্তু তাঁর সুর চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে। অভিজিৎ মজুমদার চলে গেলেও তাঁর গান, তাঁর সুর এবং তাঁর স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না।

ওড়িয়া সংগীত জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রবিবার সকাল থেকে যেন থমকে গেছে সুরের পৃথিবী। মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ওড়িয়া ছবির জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক অভিজিৎ মজুমদার। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে সকাল প্রায় নয়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগৎ। শুধু ইন্ডাস্ট্রির মানুষ নয়, সাধারণ শ্রোতা ও অনুরাগীদের মধ্যেও নেমে আসে গভীর বিষাদের আবহ।

অভিজিৎ মজুমদার ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যাঁর সুরে ওড়িয়া সিনেমা নতুন প্রাণ পেয়েছিল। তাঁর তৈরি গান শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মানুষের জীবনের আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। প্রেম, বিচ্ছেদ, আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম কিংবা উৎসব—প্রতিটি অনুভূতির জন্য তাঁর সুর ছিল এক অনন্য ভাষা। ওড়িয়া সিনেমার বহু জনপ্রিয় গান তাঁর সৃষ্টির ফল, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

news image
আরও খবর

কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে চলছিল এক দীর্ঘ ও কঠিন জীবনসংগ্রাম। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যান অভিজিৎ মজুমদার। সেই সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিল যে তাঁকে দ্রুত ভুবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থেকেও যেন তিনি অদৃশ্যভাবে লড়াই করে যাচ্ছিলেন নিজের জীবনের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, নিজের সৃষ্টির জন্য। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা, পরিবারের নিরলস প্রার্থনা এবং অনুরাগীদের ভালোবাসা মিলিয়ে অনেকেই আশা করেছিলেন যে তিনি আবার ফিরে আসবেন সুরের জগতে।

প্রায় দুই মাস পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, ধীরে ধীরে তিনি সচেতন হয়ে উঠছিলেন। ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবের মাধ্যমে সাধারণ নির্দেশে সাড়া দিচ্ছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে কিছুটা সচেতন ছিলেন এবং মাঝে মাঝে প্রতিক্রিয়াও দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের মধ্যে এমনকি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। সবাই ভাবছিলেন, হয়তো ধীরে ধীরে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। কিন্তু পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে।

চিকিৎসকদের মতে, অভিজিৎ মজুমদারের শরীরে একাধিক জটিল রোগ বাসা বেঁধেছিল। স্নায়ুর সমস্যা ছিল তাঁর অন্যতম বড় শারীরিক সমস্যা। এছাড়া নিউমোনিয়া তাঁকে আরও দুর্বল করে তুলেছিল। তাঁর শরীরে লিভারের সমস্যা ছিল, যা তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা তাঁর শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়। পুষ্টির ঘাটতি এবং রক্তজনিত সমস্যাও তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটজনক করে তোলে।

এই সব রোগ একসঙ্গে তাঁর শরীরকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য। কিন্তু মানব শরীরের সীমাবদ্ধতা এবং রোগের জটিলতা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। চলতি বছরের তেইশে জানুয়ারি হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁকে আবার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতে নেমে আসে গভীর শোক। একের পর এক তারকা, শিল্পী, পরিচালক এবং সংগীতশিল্পীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। অনেকেই লিখেছেন, অভিজিৎ মজুমদারের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, এটি ওড়িয়া সংগীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

অভিজিৎ মজুমদারের সঙ্গীত জীবন ছিল সাফল্যে ভরা। তিনি ওড়িয়া চলচ্চিত্রে একাধিক জনপ্রিয় ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। তাঁর সুরে তৈরি গান বহুবার চার্টবস্টার হয়েছে। সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে সংগীত সমালোচক—সবাই তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন। তাঁর সুরে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া, আবার ছিল লোকসংগীতের মাটির গন্ধ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনই তাঁকে অন্য সুরকারদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

তিনি শুধু সুরকারই ছিলেন না, একজন দক্ষ গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক ধরনের গভীর আবেগ, যা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। বহু ছবিতে তিনি নিজেই গান গেয়েছেন এবং সেই গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাঁর গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং মানুষের অনুভূতির প্রকাশ হয়ে উঠেছিল।

ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। অনেক নবীন শিল্পীকে তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন। নতুন গায়ক, গীতিকার এবং সংগীতশিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, অভিজিৎ মজুমদার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যদের উন্নতির কথাও ভাবতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংগীত শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতির সংস্কৃতির প্রতিফলন।

ব্যক্তিগত জীবনে অভিজিৎ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী মানুষ। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজের কাজে মন দিতে ভালোবাসতেন তিনি। খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তা তাঁর জীবনযাত্রাকে কখনও প্রভাবিত করেনি। সহকর্মীরা বলেন, তিনি সবসময় সহজ জীবনযাপন করতেন এবং মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলতেন।

তাঁর দীর্ঘ অসুস্থতার সময় গোটা ইন্ডাস্ট্রি তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছিল। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সুস্থতার জন্য অসংখ্য মানুষ শুভকামনা জানিয়েছিলেন। যখন খবর আসে যে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তখন অনেকেই আশা করেছিলেন যে তিনি আবার ফিরে আসবেন সুরের জগতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হল না।

অভিজিৎ মজুমদারের মৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবন কতটা অনিশ্চিত। আজ যে মানুষটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছিল, হৃদয়ে আবেগ জাগাচ্ছিল, তিনি আজ নেই। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি রয়ে যাবে চিরকাল।

আজ ওড়িয়া সংগীত জগৎ একজন কিংবদন্তিকে হারাল। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ক্ষতি। তাঁর সৃষ্ট গানগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে এবং তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে মানুষের হৃদয়ে।

শিল্পীরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি কখনও মরে না। অভিজিৎ মজুমদারের সুর, গান এবং অবদান চিরকাল ওড়িয়া সংগীত ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর জীবন ছিল সুর, সংগ্রাম এবং সৃষ্টির এক অনন্য গল্প। দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি যে সাহস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার।

আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সুর রয়ে গেছে। প্রতিটি গানে, প্রতিটি সুরে, প্রতিটি আবেগে তিনি বেঁচে থাকবেন। ওড়িয়া সংগীত জগতে তাঁর অবদান কখনও মুছে যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিল্পী আসবেন, নতুন গান তৈরি হবে, কিন্তু অভিজিৎ মজুমদারের জায়গা কেউ নিতে পারবে না।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, অভিজিৎ মজুমদারের প্রয়াণ শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, এটি একটি যুগের অবসান। তাঁর সুরের আলো নিভে গেলেও, তাঁর গান চিরকাল মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালিয়ে রাখবে।

Preview image