Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মায়াপুর ফেরার পথে বিপত্তি, কৃষ্ণনগরে ডাম্পারের সঙ্গে পিক আপ ভ্যানের সংঘর্ষে জখম ২৫

মায়াপুর থেকে ফেরার পথেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। জানা গেছে মায়াপুর থেকে যাত্রী বোঝাই একটি পিক আপ ভ্যান ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বা ধীরগতিতে চলা একটি ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এই দুর্ঘটনায় পিক আপ ভ্যানে থাকা অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, পিক আপ ভ্যানটিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাঁরা মায়াপুর দর্শন শেষে নিজেদের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। ভ্যানটি কৃষ্ণনগর এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকাই সামনে থাকা ডাম্পারটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ধাক্কার তীব্রতায় পিক আপ ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ভেতরে ছিটকে পড়েন। অনেক যাত্রী গুরুতরভাবে আঘাত পান, আবার কয়েকজনের হাত পা ও মাথায় চোট লাগে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সে। আহতদের দ্রুত কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে ও আশপাশের কয়েকটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও অধিকাংশ যাত্রী বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে ।  

মায়াপুর থেকে ফেরার পথেই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর এলাকায়। এই দুর্ঘটনায় যাত্রীবোঝাই একটি পিক আপ ভ্যান সজোরে ধাক্কা মারে একটি ডাম্পারের পিছনে। ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী আহত হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মায়াপুর দর্শন শেষে একটি দল পিক আপ ভ্যানে করে নিজেদের গন্তব্যের দিকে ফিরছিলেন। ভ্যানটিতে মহিলা, পুরুষ ও কয়েকজন শিশু মিলিয়ে মোটামুটি ২৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। সাধারণত এই ধরনের পিক আপ ভ্যানে এত সংখ্যক যাত্রী বহন করা নিয়মবিরুদ্ধ হলেও, বাস্তবে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় প্রায়ই এমন ছবি দেখা যায়। ওই দিনও যাত্রীরা ভ্যানে করে বসে ছিলেন। যাত্রাপথে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কৃষ্ণনগর এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকাই দুর্ঘটনাটি ঘটে।                                                                                                                                       

মায়াপুরে তীর্থদর্শন সেরে একটি দল পিক আপ ভ্যানে করে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। যাত্রীরা বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁদের মধ্যে মহিলা, পুরুষ ও কয়েকজন শিশু ছিলেন। আনন্দঘন ভ্রমণ শেষে ক্লান্ত শরীরে সবাই বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। ভ্যানটি নির্দিষ্ট পথ ধরে এগোচ্ছিল এবং শুরুতে যাত্রাপথে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যায়নি। কিন্তু কৃষ্ণনগর এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাস্তার সামনে একটি ডাম্পার দাঁড়িয়ে ছিল বা খুব ধীর গতিতে চলছিল। আলো কম থাকায় বা অসাবধানতার কারণে পিক আপ ভ্যানের চালক সময়মতো ব্রেক করতে পারেননি। ফলস্বরূপ পিক আপ ভ্যানটি সজোরে ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা মারে। ধাক্কার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন ঘটনাস্থলের দিকে। মুহূর্তের মধ্যেই পিক আপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা একে অপরের উপর আছড়ে পড়েন। অনেকেই প্রচণ্ড আঘাত পান, কেউ কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় ভ্যানের ভেতরে আটকে পড়েন।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কেউ ভ্যানের দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন, কেউ আহতদের বাইরে বের করে আনেন। এরই মধ্যে খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের দ্রুত কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাঁদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, আর গুরুতর আহতদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন যাত্রীর মাথায় ও বুকে গুরুতর চোট লেগেছে। কারও হাত পা ভেঙেছে, আবার কেউ অভ্যন্তরীণ আঘাতে ভুগছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তাঁদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের পরিবার পরিজনেরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। হাসপাতাল চত্বরে কান্না, উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের ছবি চোখে পড়ে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত পিক আপ ভ্যান ও ডাম্পারটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। দুর্ঘটনার কারণে কিছুক্ষণ ওই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে। পিক আপ ভ্যান ও ডাম্পার দুটি গাড়ির চালকের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। গাড়িগুলির কাগজপত্র ঠিক ছিল কি না, চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

news image
আরও খবর

এই দুর্ঘটনা ফের একবার পিক আপ ভ্যানে যাত্রী পরিবহণের ঝুঁকিপূর্ণ দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে। আইন অনুযায়ী পিক-আপ ভ্যান মূলত পণ্য পরিবহণের জন্য ব্যবহার করার কথা, যাত্রী পরিবহণের জন্য নয়। তবুও বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময়ই এই ধরনের গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করা হয়। এতে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, ওই রাস্তায় প্রায়ই ভারী যানবাহন চলাচল করে এবং পর্যাপ্ত আলো বা সতর্কতামূলক চিহ্নের অভাব রয়েছে। রাতে বা ভোরের দিকে এই রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাঁদের মতে, যদি রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হতো, তবে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে তাঁরা চালকদের আরও সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর আবেদন জানিয়েছেন।                                                                                                                                                                                               

 স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, ওই রাস্তা দিয়ে প্রায়ই ভারী যানবাহন চলাচল করে এবং পর্যাপ্ত আলো বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাঁদের মতে, রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তাঁরা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন, যাতে বেআইনিভাবে যাত্রী পরিবহণ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মায়াপুর দর্শন শেষে ফেরার এই দুর্ঘটনা গোটা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে। যারা আনন্দের সঙ্গে তীর্থভ্রমণ শেষে ফিরছিলেন, তাঁদের যাত্রা যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন স্থানীয় মানুষজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল যে সড়ক নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে যানবাহন চালানো কতটা জরুরি। সামান্য অসাবধানতা বা নিয়ম লঙ্ঘন যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, কৃষ্ণনগরের এই দুর্ঘটনা তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।                                                                                                                                                                         

বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন স্থানীয় মানুষজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন আরও সুরক্ষিত থাকে।

Preview image