শীতের রাতে হাওড়ায় আতঙ্ক ছড়াল পরপর জোড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। গভীর রাতে হাওড়ার দুটি আলাদা এলাকায় প্রায় একই সময়ে আগুন লাগার খবর সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। শীতের ঠান্ডা রাতেও আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎই একটি বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা মানুষজন হইচই শুনে বাইরে বেরিয়ে এসে আগুন দেখতে পান। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাওড়ার অন্য একটি এলাকায় দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আগুন লাগে একটি ঘর,গুদাম, দোকানে । আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে দূর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। শীতের রাতে দমকলের গাড়ি পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগলেও দ্রুত একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
শীতের রাতে হাওড়ায় আতঙ্ক ছড়াল পরপর জোড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় হাওড়ার দু’টি এলাকা। একই রাতে প্রায় একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই দুই অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। শীতের রাতে যখন মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন এমন ভয়াবহ ঘটনা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।
প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। গভীর রাতে হঠাৎই স্থানীয়রা একটি বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের একাংশে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা আগুনের গন্ধ ও বাইরে মানুষের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তখন চারদিকে ধোঁয়ায় ভরে গেছে এলাকা। আতঙ্কে অনেকেই দরজা-জানালা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টাকা পয়সা বা ছোটখাটো জিনিস নিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন, আবার অনেকেই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে খালি হাতেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
দুটি জায়গাতেই দমকল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকল কর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করেন। প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর না মিললেও, দুই অগ্নিকাণ্ডেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। শীতের মরসুমে হিটার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন দমকল আধিকারিকরা। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পরপর দুই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হাওড়াবাসী। অনেকেই শীতের রাতে আগুন লাগার আশঙ্কায় সজাগ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। দমকল বিভাগও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। বৈদ্যুতিক তার, হিটার ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শীতের রাতে হাওড়ায় পরপর জোড়া অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ও সতর্কতার প্রশ্ন তুলে দিল।
শীতের রাতে কম্বল, লেপ মুড়িয়ে ঘুমোনো মানুষজন হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হয় হইচই। কেউ দমকল বিভাগে ফোন করেন, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সতর্ক করতে ছুটে যান। সংকীর্ণ গলির মধ্যে দিয়ে দমকলের গাড়ি ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছিল, আশপাশের ঘরগুলিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে হাত দেন। শীতের রাতে জল ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লেও তাঁরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ের পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ঘরের একাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার অন্য একটি এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ড। প্রায় একই সময়ে অন্য একটি জায়গায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আগুন লাগে একটি দোকান বা গুদামজাতীয় স্থাপনায়। রাতের অন্ধকারে দূর থেকেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছিল। আগুনের তাপে আশপাশের দোকান ও ঘরগুলিও বিপদের মুখে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের মতো করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে দমকল বাহিনী না আসা পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় ঘটনাস্থলেও দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একই রাতে দু’টি বড় অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে গিয়ে দমকল বাহিনীকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আগুন নেভানোর কাজ। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই দুই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার এক রাতেই কার্যত সর্বস্ব হারিয়েছে বলে জানা গেছে। শীতের রাতে ঘরছাড়া হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের মুখে আতঙ্ক ও অসহায়তার ছবি স্পষ্ট ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যদি একটু দেরিতে আগুনের বিষয়টি নজরে আসত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে দমকল আধিকারিকরা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। শীতের মরসুমে হিটার, বৈদ্যুতিক ব্লোয়ার, গিজার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। পুরনো বা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি রাতে দোকান বা ঘরে বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রেখে দেওয়ার প্রবণতাও বিপদের কারণ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে একই রাতে দুটি আলাদা জায়গায় আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও গাফিলতি ছিল কি না, অথবা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে সাহায্য করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুরনো বাড়ি, সংকীর্ণ রাস্তা এবং অপর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যে কতটা বিপজ্জনক, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক বাসিন্দাই মনে করছেন, নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
দমকল বিভাগ সাধারণ মানুষকে শীতের মরসুমে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা, প্রয়োজন ছাড়া হিটার বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু না রাখা এবং রাতে ঘুমোনোর আগে সব বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো সাধারণ সতর্কতাগুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
পরপর জোড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাওড়ার রাত যে কতটা আতঙ্কে কেটেছে, তা স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট। শীতের ঠান্ডা রাত, তার উপর আগুনের ভয়াবহতা সব মিলিয়ে এক দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এই ঘটনা শুধু হাওড়ার জন্য নয়, গোটা শহরবাসীর কাছেই একটি সতর্কবার্তা। সামান্য অসতর্কতা যে কত বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে, তা এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে মনে করিয়ে দিল। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও উদ্যোগই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।