Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘অগ্নিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ছেলের মৃত্যুর পর সম্পদের ৭৫ শতাংশ দান করবেন বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান

ছেলের অকালপ্রয়াণের পর গভীর শোকের মধ্যে বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, তিনি তাঁর মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ সমাজকল্যাণে দান করবেন। ছেলে অগ্নিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি, যা শিল্পমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘অগ্নিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ছেলের মৃত্যুর পর সম্পদের ৭৫ শতাংশ দান করবেন বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান
Accident or Fire Incident)

ছেলের অকালপ্রয়াণের পর গভীর শোকের মধ্যে বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, তিনি তাঁর মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ সমাজকল্যাণে দান করবেন। ছেলে অগ্নিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি, যা শিল্পমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ছেলের অকালপ্রয়াণ একজন বাবার জীবনে যে গভীর শূন্যতা তৈরি করে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি অনিল আগরওয়ালের জীবনেও ঠিক তেমনই এক কঠিন অধ্যায় নেমে আসে তাঁর ছেলে অগ্নির মৃত্যুর পর। ব্যক্তিগত শোকের এই সময়েই অনিল আগরওয়াল সমাজের সামনে এমন এক সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন, যা শুধু শিল্পমহল নয়, গোটা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি ঘোষণা করেন, নিজের মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ তিনি সমাজকল্যাণের কাজে দান করবেন। এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠাৎ আবেগের ফল নয়, বরং তাঁর ছেলের সঙ্গে করা একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ।

অনিল আগরওয়াল ভারতের শিল্পজগতের এক পরিচিত নাম। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক স্তরের এক কর্পোরেট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গল্প বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বেদান্ত গ্রুপ আজ খনন, ধাতু, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি সংস্থা। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক সাধারণ মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং মূল্যবোধ। অনিল আগরওয়াল বহুবার বলেছেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবার ও নৈতিক শিক্ষাই তাঁকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। সেই মূল্যবোধই তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে আলাদা করে তুলেছে।

ছেলে অগ্নি আগরওয়ালের সঙ্গে অনিল আগরওয়ালের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। অগ্নি শুধু তাঁর সন্তানই নন, বরং তাঁর চিন্তাভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। বিভিন্ন সময় অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, অগ্নি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, দান ও মানবকল্যাণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। বাবা-ছেলের মধ্যে ভবিষ্যৎ, সমাজ ও মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে বহু আলোচনা হত। সেই আলোচনাতেই একদিন অনিল আগরওয়াল তাঁর ছেলেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জীবনের এক পর্যায়ে এসে তিনি নিজের সম্পদের বড় অংশ সমাজের কাজে উৎসর্গ করবেন।

অগ্নির মৃত্যুর পর সেই প্রতিশ্রুতি আরও গভীর অর্থ পায়। ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও অনিল আগরওয়াল অনুভব করেন, তাঁর ছেলের ভাবনা ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হল সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তাই তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ দান করা হবে সমাজকল্যাণমূলক কাজে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও প্রচার বা স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা নেই বলেই তিনি জানিয়েছেন। বরং এটি তাঁর কাছে এক নৈতিক দায়িত্ব এবং বাবার কর্তব্য।

অনিল আগরওয়াল বিশ্বাস করেন, সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত ভোগের জন্য নয়। তাঁর মতে, সমাজের কাছ থেকেই একজন শিল্পপতি সুযোগ, শ্রম ও সম্পদ পান। তাই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও থাকা জরুরি। এই চিন্তাধারা নতুন নয়, তবে বর্তমান সময়ের কর্পোরেট দুনিয়ায় এমন স্পষ্ট ও বড় সিদ্ধান্ত খুব বেশি দেখা যায় না। তাঁর ঘোষণার পর অনেকেই এটিকে ভারতের দান সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

দান করা সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিল আগরওয়াল স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র দূরীকরণ, শিশু ও নারীর উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—এই ক্ষেত্রগুলিকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলিও এগিয়ে আসার সুযোগ পায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন, কারণ এগুলিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে তোলে।

এর আগেও অনিল আগরওয়াল বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বেদান্ত গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং সামাজিক প্রকল্পে সহায়তা করেছেন। তবে ৭৫ শতাংশ সম্পদ দানের ঘোষণা সেই সব উদ্যোগকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। এটি শুধু একটি কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।

এই ঘোষণার পর শিল্পমহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অনিল আগরওয়ালের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ এটিকে তরুণ শিল্পপতিদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সমাজে ধনীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। বিতর্ক থাকলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ঘোষণা সমাজে দান ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

অনিল আগরওয়াল নিজেও বলেছেন, দান মানে কেবল অর্থ দেওয়া নয়। দান মানে নিজের সময়, চিন্তা ও মনোযোগ সমাজের প্রয়োজনে উৎসর্গ করা। তিনি চান, তাঁর এই সিদ্ধান্ত অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুক, যাতে আরও মানুষ সমাজের জন্য এগিয়ে আসে। তাঁর মতে, যদি প্রতিটি সফল মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

ছেলের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে অনিল আগরওয়াল ভবিষ্যতে বিশেষ কিছু সামাজিক প্রকল্পের পরিকল্পনাও করছেন বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে অগ্নির ভাবনা ও আদর্শকে দীর্ঘদিন ধরে জীবিত রাখা যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একজন বাবা হিসেবে এটি তাঁর কাছে শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এক ধরনের মানসিক শান্তির পথও।

অনিল আগরওয়ালের এই সিদ্ধান্ত আমাদের সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাফল্যের প্রকৃত অর্থ কী? কেবল ব্যক্তিগত অর্জন, নাকি সেই অর্জনের মাধ্যমে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া? তাঁর জীবন ও সিদ্ধান্ত দেখায়, প্রকৃত সাফল্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা অন্যের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

আজকের প্রতিযোগিতামূলক ও ভোগবাদী সমাজে এই ধরনের ভাবনা অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে। কিন্তু অনিল আগরওয়ালের গল্প প্রমাণ করে, মানবিকতা ও ব্যবসা একে অপরের বিরোধী নয়। বরং মানবিক মূল্যবোধই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যকে অর্থবহ করে তোলে।

ছেলের মৃত্যুজনিত শোককে সমাজের কল্যাণে রূপান্তরিত করার এই সিদ্ধান্ত অনিল আগরওয়ালকে শুধু একজন সফল শিল্পপতি হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও আলাদা করে তুলে ধরে। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে দানের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ পর্যন্ত অনিল আগরওয়ালের এই ঘোষণার মূল কথা একটাই—সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ চিরস্থায়ী। ছেলের দেওয়া প্রেরণা আর বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মিলনেই জন্ম নিয়েছে এমন এক সিদ্ধান্ত, যা শুধু আজ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

news image
আরও খবর

ছেলের অকালপ্রয়াণ একজন বাবার জীবনে যে গভীর শূন্যতা তৈরি করে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি অনিল আগরওয়ালের জীবনেও ঠিক তেমনই এক কঠিন অধ্যায় নেমে আসে তাঁর ছেলে অগ্নির মৃত্যুর পর। ব্যক্তিগত শোকের এই সময়েই অনিল আগরওয়াল সমাজের সামনে এমন এক সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন, যা শুধু শিল্পমহল নয়, গোটা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি ঘোষণা করেন, নিজের মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ তিনি সমাজকল্যাণের কাজে দান করবেন। এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠাৎ আবেগের ফল নয়, বরং তাঁর ছেলের সঙ্গে করা একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ।

অনিল আগরওয়াল ভারতের শিল্পজগতের এক পরিচিত নাম। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক স্তরের এক কর্পোরেট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গল্প বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বেদান্ত গ্রুপ আজ খনন, ধাতু, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি সংস্থা। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক সাধারণ মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং মূল্যবোধ। অনিল আগরওয়াল বহুবার বলেছেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবার ও নৈতিক শিক্ষাই তাঁকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। সেই মূল্যবোধই তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে আলাদা করে তুলেছে।

ছেলে অগ্নি আগরওয়ালের সঙ্গে অনিল আগরওয়ালের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। অগ্নি শুধু তাঁর সন্তানই নন, বরং তাঁর চিন্তাভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। বিভিন্ন সময় অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, অগ্নি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, দান ও মানবকল্যাণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। বাবা-ছেলের মধ্যে ভবিষ্যৎ, সমাজ ও মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে বহু আলোচনা হত। সেই আলোচনাতেই একদিন অনিল আগরওয়াল তাঁর ছেলেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জীবনের এক পর্যায়ে এসে তিনি নিজের সম্পদের বড় অংশ সমাজের কাজে উৎসর্গ করবেন।

অগ্নির মৃত্যুর পর সেই প্রতিশ্রুতি আরও গভীর অর্থ পায়। ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও অনিল আগরওয়াল অনুভব করেন, তাঁর ছেলের ভাবনা ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হল সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তাই তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর মোট সম্পদের ৭৫ শতাংশ দান করা হবে সমাজকল্যাণমূলক কাজে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও প্রচার বা স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা নেই বলেই তিনি জানিয়েছেন। বরং এটি তাঁর কাছে এক নৈতিক দায়িত্ব এবং বাবার কর্তব্য।

অনিল আগরওয়াল বিশ্বাস করেন, সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত ভোগের জন্য নয়। তাঁর মতে, সমাজের কাছ থেকেই একজন শিল্পপতি সুযোগ, শ্রম ও সম্পদ পান। তাই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও থাকা জরুরি। এই চিন্তাধারা নতুন নয়, তবে বর্তমান সময়ের কর্পোরেট দুনিয়ায় এমন স্পষ্ট ও বড় সিদ্ধান্ত খুব বেশি দেখা যায় না। তাঁর ঘোষণার পর অনেকেই এটিকে ভারতের দান সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

দান করা সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিল আগরওয়াল স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র দূরীকরণ, শিশু ও নারীর উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—এই ক্ষেত্রগুলিকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলিও এগিয়ে আসার সুযোগ পায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন, কারণ এগুলিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে তোলে।

এর আগেও অনিল আগরওয়াল বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বেদান্ত গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং সামাজিক প্রকল্পে সহায়তা করেছেন। তবে ৭৫ শতাংশ সম্পদ দানের ঘোষণা সেই সব উদ্যোগকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। এটি শুধু একটি কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।

এই ঘোষণার পর শিল্পমহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অনিল আগরওয়ালের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ এটিকে তরুণ শিল্পপতিদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সমাজে ধনীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। বিতর্ক থাকলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ঘোষণা সমাজে দান ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

অনিল আগরওয়াল নিজেও বলেছেন, দান মানে কেবল অর্থ দেওয়া নয়। দান মানে নিজের সময়, চিন্তা ও মনোযোগ সমাজের প্রয়োজনে উৎসর্গ করা। তিনি চান, তাঁর এই সিদ্ধান্ত অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুক, যাতে আরও মানুষ সমাজের জন্য এগিয়ে আসে। তাঁর মতে, যদি প্রতিটি সফল মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

ছেলের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে অনিল আগরওয়াল ভবিষ্যতে বিশেষ কিছু সামাজিক প্রকল্পের পরিকল্পনাও করছেন বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে অগ্নির ভাবনা ও আদর্শকে দীর্ঘদিন ধরে জীবিত রাখা যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একজন বাবা হিসেবে এটি তাঁর কাছে শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এক ধরনের মানসিক শান্তির পথও।

অনিল আগরওয়ালের এই সিদ্ধান্ত আমাদের সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাফল্যের প্রকৃত অর্থ কী? কেবল ব্যক্তিগত অর্জন, নাকি সেই অর্জনের মাধ্যমে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া? তাঁর জীবন ও সিদ্ধান্ত দেখায়, প্রকৃত সাফল্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা অন্যের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

আজকের প্রতিযোগিতামূলক ও ভোগবাদী সমাজে এই ধরনের ভাবনা অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে। কিন্তু অনিল আগরওয়ালের গল্প প্রমাণ করে, মানবিকতা ও ব্যবসা একে অপরের বিরোধী নয়। বরং মানবিক মূল্যবোধই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যকে অর্থবহ করে তোলে।

ছেলের মৃত্যুজনিত শোককে সমাজের কল্যাণে রূপান্তরিত করার এই সিদ্ধান্ত অনিল আগরওয়ালকে শুধু একজন সফল শিল্পপতি হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও আলাদা করে তুলে ধরে। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে দানের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ পর্যন্ত অনিল আগরওয়ালের এই ঘোষণার মূল কথা একটাই—সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ চিরস্থায়ী। ছেলের দেওয়া প্রেরণা আর বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মিলনেই জন্ম নিয়েছে এমন এক সিদ্ধান্ত, যা শুধু আজ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

Preview image