Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতার রেল স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, বিঘ্নিত ট্রেন চলাচল

কলকাতার একাধিক রেল স্টেশনে আজ সকাল বেলা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আগুন লেগে যাওয়ার কারণে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেসময় স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অনেক সময় ধরে প্রচুর সংখ্যক ট্রেনের চলাচল থমকে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে বেশ কিছু ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন হয় এবং কিছু ট্রেন বাতিলও করা হয়। স্টেশনের আশপাশের এলাকা ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে স্টেশন কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচলের সময়সীমা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। এতে করে যাত্রীদের যাত্রায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন।

কলকাতার রেল স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, বিঘ্নিত ট্রেন চলাচল
Accident or Fire Incident)

কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে আজ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা না শুধুমাত্র স্টেশন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, বরং ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে হাজার হাজার যাত্রী বিপদে পড়েন, এবং রেল স্টেশনের চারপাশের পরিবেশে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছিল সকাল ৮টার দিকে, যখন স্টেশনের একাধিক প্ল্যাটফর্মে এবং কাছাকাছি স্থানগুলোতে আগুনের তীব্র লেলিহান শিখা দেখা যায়। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্টেশনের কিছু অংশ পুরোপুরি দাউ দাউ করে পুড়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে, আগুনের সূত্রপাত একটি শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা এখনো সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি। স্টেশন কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার সাথে সাথে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করে এবং দ্রুত দমকল বাহিনীকে খবর দেয়। দমকল বাহিনীর সদস্যরা প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নেভানোর কাজে লিপ্ত হন। তবে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু সময় লেগে যায়।

এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্টেশনটির চারপাশের এলাকা, বিশেষত যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। স্টেশনের প্রধান প্রবেশপথে আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং স্টেশনের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু যাত্রী প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি বুঝে না উঠেই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু দমকল বাহিনী ও পুলিশ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য স্টেশনটি কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে।                                                                                                                                                                                                         

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত এখনও নিশ্চিতভাবে জানানো যায়নি, তবে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে একটি শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। দমকল বাহিনী আগুন নেভানোর পর, বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় তদন্ত শুরু করেছেন যাতে মূল কারণ জানা যায়।

রেল কর্তৃপক্ষ এবং দমকল বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা সবধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। তারা পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করার পর, তারা নিশ্চিত করবে যে, স্টেশন পুরোপুরি নিরাপদ এবং যাত্রীদের জন্য কোনো বিপদ থাকবে না। এর পাশাপাশি, স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, আগুন লাগার পর থেকে তারা স্টেশনের সেফটি সিস্টেম পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অগ্নিকাণ্ডের পর, কলকাতা রেল স্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়, এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতা মেট্রোর অধিকারী অফিস থেকেও জানানো হয় যে, তাদের প্ল্যাটফর্মের ট্রেন চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হলেও তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেট্রোর রুটগুলো পুনরায় চালু করতে সক্ষম হবে। তবে, যাত্রীদের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, যেহেতু স্টেশন থেকে নির্ধারিত যাত্রার জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু আগুনের কারণে তাদের প্ল্যান পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

এদিকে, আগুনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিছু দোকানপাট এবং ছোট ব্যবসাগুলোও জানিয়েছে যে, তাদের জন্য এটা একটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি। অনেক দোকানের শাটার গলে গিয়েছিল এবং কিছু দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। সেখানকার মালিকরা স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরি সাহায্য দাবি করেছেন যাতে তারা তাদের ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে বেশ কিছু ট্রেনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এবং কিছু ট্রেনের সময়সূচি ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়। বিশেষ করে, যেসব ট্রেনগুলির গন্তব্য কলকাতা রেল স্টেশনে ছিল, তাদেরকে অন্য স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয় বা বাতিল করা হয়। এই কারণে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দেয় এবং অনেকেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা করেন। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে অন্য যানবাহন ব্যবহারের চেষ্টা করেন, তবে তাও বিপদজনক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা কঠিন হয়ে ওঠে। কিছু যাত্রী, যারা বিশেষ করে কলকাতা শহরের বাইরে থেকে এসেছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়, কারণ তারা জানতেন না কখন আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

news image
আরও খবর

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি সংকটকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। স্টেশন থেকে বিপদজনক জায়গাগুলো দ্রুত খালি করে ফেলা হয় এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিতভাবে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যান। এমনকি, কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, এবং যাত্রীদের দ্রুত তাদের নিজস্ব নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা সাহায্য করেন। তবে, পরিস্থিতি শান্ত হলে রেল কর্তৃপক্ষ পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারে বলে আশ্বস্ত করে।                                                                                                                           

স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। তবে আগুন এত তীব্র ছিল যে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা সময় লাগে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে, স্টেশনে ভীড় ও আতঙ্কের কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিশাল অরাজকতা সৃষ্টি হয়। কিছু যাত্রী আতঙ্কের কারণে প্ল্যাটফর্মে দৌঁড়ে চলে যান, যার ফলে আরো কিছু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও রেল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, স্টেশনের কিছু অংশে বিদ্যুতের তারে শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণে আগুন লেগে ছিল। তবে এখনও সঠিক কারণ নিশ্চিত করা হয়নি এবং তদন্তকারী দল এই বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা পুরো বিষয়টির তদন্ত করবে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া, কলকাতা রেল স্টেশনের আশেপাশে থাকা দোকান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও বড় ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি দোকানের শাটার গলে গেছে এবং কিছু দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মালিকরা জরুরি তহবিলের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা তাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

কলকাতা রেল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে, এবং তারা তাদের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যতটা সম্ভব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা খুব শীঘ্রই পুনরায় স্টেশনটির সব কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কাজ করবে, তবে ট্রেন চলাচল এবং স্টেশনের অন্যান্য কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে কিছু সময় লাগবে।

এদিকে, কলকাতা শহরের অন্যান্য রেল স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। পুলিশ এবং রেল নিরাপত্তা বাহিনী স্টেশনগুলোর চারপাশে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং যাত্রীদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তারা এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এর পাশাপাশি, তারা যাত্রীদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো বিপদ ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এই বিপর্যয়টির ফলে যাত্রীদের মধ্যে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটানোর জন্য স্টেশন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা প্রচারের উদ্যোগ নেবে। আশা করা যাচ্ছে যে, শিগগিরই স্টেশনটি আবার সচল হবে এবং আগের মতো ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

Preview image