কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, ব্লু, গ্রিন, অরেঞ্জ ও পার্পেল— সব লাইনেই দুপুর ২টার পর থেকে মেট্রো চলাচল শুরু হবে। তবে শেষ ট্রেনের সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
দোলের দিন সকালে মিলবে না মেট্রো পরিষেবা। ব্লু (শহিদ ক্ষুদিরাম–দক্ষিণেশ্বর), গ্রিন (হাওড়া ময়দান–সেক্টর ফাইভ), অরেঞ্জ (কবি সুভাষ–বেলেঘাটা) এবং পার্পেল (জোকা–মাঝেরহাট)— কোনও লাইনেই সকালবেলা ট্রেন চলবে না বলে জানাল কলকাতা মেট্রো।
আগামী ৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোলযাত্রা উপলক্ষে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই দিন উত্তর-দক্ষিণ শাখা অর্থাৎ ব্লু লাইনে প্রথম মেট্রো ছাড়বে দুপুর ২টার পর। প্রথম ট্রেনের সময় বদলানো হলেও শেষ মেট্রোর সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ রাতের শেষ পরিষেবা স্বাভাবিক সময়েই চলবে।
অন্যদিকে, গ্রিন লাইনেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুপুর ২টার পর দুই প্রান্তিক স্টেশন— হাওড়া ময়দান ও সেক্টর ফাইভ থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। মেট্রো সূত্রে খবর, বিকেলের মধ্যে বিস্তারিত সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। এই লাইনেও শেষ ট্রেনের সময়ে কোনও বদল করা হচ্ছে না।
অরেঞ্জ ও পার্পেল লাইনেও সকালবেলা পরিষেবা বন্ধ থাকবে এবং দুপুরের পর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলেই জানা গিয়েছে।
দোলের পরের দিন অর্থাৎ হোলির দিনে পরিষেবায় কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সেদিন স্বাভাবিক সময়সূচিই বজায় থাকতে পারে।
যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাত্রার আগে অফিসিয়াল ঘোষণা দেখে সময় নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা রাখতে।
আগামী ৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোলযাত্রা উপলক্ষে মেট্রো পরিষেবায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উৎসবের আবহ, নিরাপত্তা এবং পরিচালনাগত বিষয়গুলি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা মেট্রো। প্রতি বছরের মতো এবারও দোলের দিন সকালে মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে এবং দুপুরের পর থেকে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
কলকাতা মেট্রোর সবচেয়ে ব্যস্ত রুট হল উত্তর-দক্ষিণ শাখা, যা ব্লু লাইন নামে পরিচিত। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডর প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী বহন করে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দোলের দিন এই লাইনে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ২টার পর। অর্থাৎ সকালবেলা কোনও পরিষেবা মিলবে না।
প্রথম ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা হলেও শেষ মেট্রোর সময়সূচিতে কোনও বদল করা হচ্ছে না। রাতের শেষ পরিষেবা স্বাভাবিক দিনের মতোই চলবে। ফলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর যাঁদের যাতায়াতের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের তুলনামূলকভাবে কম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। অফিস-ফেরত যাত্রী বা সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মানুষজনের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
পূর্ব-পশ্চিম করিডর বা গ্রিন লাইনের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত বিস্তৃত এই লাইন শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তকে যুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুপুর ২টার পর হাওড়া ময়দান এবং সেক্টর ফাইভ— দুই প্রান্তিক স্টেশন থেকেই প্রথম ট্রেন ছাড়বে।
তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। মেট্রো সূত্রে খবর, বিকেলের মধ্যে বিস্তারিত সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। এখানেও শেষ ট্রেনের সময়ে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ফলে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে যাতায়াত মোটামুটি স্বাভাবিক থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
শুধু ব্লু ও গ্রিন নয়, অরেঞ্জ এবং পার্পেল লাইনেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সকালবেলা কোনও পরিষেবা পাওয়া যাবে না। দুপুরের পর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
অরেঞ্জ লাইন, যা ভবিষ্যতে বিমানবন্দর সংযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, বর্তমানে আংশিক পরিষেবা দিচ্ছে। পার্পেল লাইনও দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সংযুক্ত করছে। এই দুই লাইনেই দোলের দিন দুপুর ২টার পর পরিষেবা শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। শেষ ট্রেনের সময় অপরিবর্তিত থাকবে।
দোলের দিন সকালে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রঙ খেলা, আবির ছোড়া এবং জমায়েতের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পায়। মেট্রো স্টেশন, প্রবেশ ও নির্গমন পথ এবং প্ল্যাটফর্ম এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতেই সকালে পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়াও রঙ ও জল থেকে পরিকাঠামো রক্ষা, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপারেশনাল ঝুঁকি কমানো— এই সব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়। সকালবেলা যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সহজ হয়।
দোলের পরের দিন অর্থাৎ হোলির দিনে পরিষেবায় কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই দিন স্বাভাবিক সময়সূচিই বজায় থাকতে পারে। সূত্রের খবর, পরিষেবা সূচি বদলের সম্ভাবনা কম।
তবে যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ— চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়। যাত্রার আগে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
১. সকালে জরুরি কাজ থাকলে বিকল্প পরিবহন ঠিক করুন।
২. দুপুরের পর যাত্রা করলে প্রথম ট্রেনের সঠিক সময় জেনে নিন।
৩. ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে একটু পরে যাত্রা করুন।
৪. ট্রাফিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সময় হাতে রাখুন।
৫. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা বিজ্ঞপ্তি নজরে রাখুন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সকালে অফিসগামী, পরীক্ষার্থী, চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী বা দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে যাওয়া যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত মেট্রোর উপর নির্ভরশীল, তাঁদের আগেভাগে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
তবে দুপুরের পর পরিষেবা শুরু হওয়ায় দিনের বড় অংশেই যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। শেষ ট্রেনের সময় অপরিবর্তিত থাকায় রাতের যাত্রায় কোনও বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
দোলের পরের দিন অর্থাৎ হোলির দিনে মেট্রো পরিষেবা নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা করেনি কলকাতা মেট্রো। ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে মেট্রো সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ওই দিন পরিষেবা সূচিতে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, স্বাভাবিক কর্মদিবস বা ছুটির দিনের যে নিয়মিত সময়সূচি থাকে, সেটিই বজায় থাকতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— দোল ও হোলি দুই দিনের আবহ আলাদা। দোলের দিন সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রঙের উৎসব শুরু হয়। অন্যদিকে, অনেক ক্ষেত্রেই হোলির দিন তুলনামূলকভাবে কম জমায়েত দেখা যায়, বিশেষ করে শহরের ব্যবসায়িক ও অফিস এলাকায়। সেই কারণেই সম্ভবত মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবুও, কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনও সময়সূচিকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অনেক সময় পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তেও পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাত্রীদের সবসময় সতর্ক ও আপডেট থাকা প্রয়োজন।
উৎসবের সময় গণপরিবহন চালু রাখা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর—
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
যাত্রী সংখ্যা
কর্মীদের উপস্থিতি
নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি
স্টেশন ও ট্র্যাকের সুরক্ষা
দোলের দিনে রঙ ও জল ব্যবহারের কারণে স্টেশন এলাকা বা ট্রেনের ভিতরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বেশি থাকে। কিন্তু হোলির দিনে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকলে পরিষেবা চালু রাখা সহজ হয়। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত পরিষেবা বদলের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
উৎসবের মরশুমে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একটু বাড়তি সতর্কতা সবসময়ই উপকারী। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হল—
দোলের দিন সকালে মেট্রো বন্ধ থাকায় আগেভাগে বাস, ট্যাক্সি, অটো বা অ্যাপ-ক্যাবের ব্যবস্থা করে রাখুন। বিশেষ করে হাসপাতাল, পরীক্ষাকেন্দ্র বা দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে হলে সময় হাতে নিয়ে বেরোনো জরুরি।
দুপুর ২টার পর পরিষেবা শুরু হলেও সব লাইনে প্রথম ট্রেনের নির্দিষ্ট সময় এক নাও হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে কখন ট্রেন ছাড়বে, তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিষেবা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক যাত্রী একসঙ্গে স্টেশনে ভিড় করতে পারেন। ফলে প্রথম এক-দু’ঘণ্টা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। সম্ভব হলে বিকেলের দিকে যাত্রা করলে তুলনামূলক কম ভিড় পাওয়া যেতে পারে।
উৎসবের দিন রাস্তায় যানজট বাড়তে পারে। অনেক এলাকায় পুলিশ রুট পরিবর্তন বা ব্যারিকেড বসাতে পারে। তাই বিকল্প রুট ও ট্রাফিক আপডেট দেখে বেরোন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অফিসিয়াল ঘোষণা। মেট্রো কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে সর্বশেষ আপডেট জেনে নিন। গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের উপর নির্ভর করবেন না।
দোল উৎসবের আবহে শহর রঙিন হয়ে উঠলেও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন স্বাভাবিক। ৩ মার্চ সকালে কোনও লাইনে মেট্রো চলবে না— ব্লু, গ্রিন, অরেঞ্জ বা পার্পেল— সব ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। দুপুর ২টার পর থেকে পরিষেবা শুরু হবে এবং শেষ ট্রেন স্বাভাবিক সময়েই চলবে।
যাত্রীদের একটাই অনুরোধ— উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি যাত্রা পরিকল্পনাও সঠিকভাবে করুন। আগেভাগে সময়সূচি জেনে নিন, প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা রাখুন এবং নিরাপদে ভ্রমণ করুন। ??