Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভয়ঙ্কর দৃশ্য আসানসোলে: ট্রেনে ধাক্কা, ট্রাক উড়ে ছিটকে পড়ল – মুহূর্তেই বড় ধাক্কা

বৃহস্পতিবার সকালে আসানসোলের লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিকের চাপের কারণে ট্রেনের সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। তার ফলে ডাউন লাইনে গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেস ট্রাকটিকে প্রবল জোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাক ছিটকে পড়ে এবং স্টেশনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

আসানসোল: প্রবল গতিতে ছুটে আসছে ট্রেন। রেলগেটের কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাক সহ একাধিক গাড়ি। প্রবল ভিড়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালের ব্যস্ত সময়ে ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ওই মারে ট্রাকটির গায়ে। পাশে ছিল ছোট গাড়ি ও একাধিক বাইক। ট্রাকের পাশাপাশি ওই ঘটনায় ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসানসোল রেলওয়ে ডিভিশনের অন্তর্গত ঝাড়খন্ডের জসিডিহ ও মধুপুরের মাঝে রেলগেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে।

আসানসোল ডিভিশনের রোহিণী-নাওয়াডিহি রেলগেটে দুর্ঘটনা ঘটে। ১৩৫১০ গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেস এদিন একটি চাল বোঝাই ট্রাককে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় ট্রাকটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনই ট্রেনের ইঞ্জিনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ডাউন এবং আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

​ঘটনাটি ঘটেছে এদিন সকাল ১০টা নাগাদ। তবে সকাল ১১টা নাগাদ আপ লাইনটি চালু করা সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় ওই রেলগেটে প্রচুর ভিড় ছিল। সেই সময় চাল বোঝাই ট্রাকটি রেললাইন পারাপার হচ্ছিল।

সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেন ও ট্রাকের সংঘর্ষের সময় পাশে থাকা দুটি মোটরসাইকেলও ট্রাকের নীচে চলে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, মোটরসাইকেল আরোহীরা সময় মতো সেখান থেকে সরে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। গেটম্যান পঙ্কজ কুমারের দাবি, অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে ট্রেনের সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও ডাউন লাইনে গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেস চলে আসে। লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রাকটিকে প্রবল জোরে ধাক্কা মারে ওই ট্রেন।

​এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ট্রেনের গতি যদি আরও বেশি হত, তবে প্রাণহানি ও সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। ঘটনার খবর পেয়ে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে ওই রুটে রেল চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।           

নিশ্চয়ই! এখানে আপনার দেওয়া তথ্য ও প্রসঙ্গকে ধরে রেখে আসানসোল দুর্ঘটনা এবং ভারতীয় রেলওয়ের প্রসঙ্গ যুক্ত করে একটি বিস্তারিত লং আর্টিকেল তৈরি করলাম, যা ১৯৯৯ শব্দের মধ্যে থাকবে:


আসানসোল ডিভিশনে ট্রেন দুর্ঘটনা: প্রবল সংঘর্ষে আতঙ্ক, ভারতীয় রেলওয়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

বৃহস্পতিবার সকালে আসানসোলের লেভেল ক্রসিংয়ে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল গতিতে আসা গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেস ট্রেন একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেন ও ট্রাকের সংঘর্ষের সময় পাশে থাকা দুটি মোটরসাইকেলও ট্রাকের নীচে চলে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো মোটরসাইকেল আরোহীরা সময় মতো সেখান থেকে সরে যান এবং প্রাণে বেঁচে যান।

গেটম্যান পঙ্কজ কুমারের দাবি, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত ট্রাফিক এবং সিগন্যাল না দেওয়া। ব্যস্ত সকাল বেলায় ট্রাফিকের চাপ এত বেশি ছিল যে ট্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া যায়নি। তার পরও ডাউন লাইনে গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেস চলে আসে। লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রাকটিকে প্রবল জোরে ধাক্কা মারার পর মুহূর্তের মধ্যে ট্রাক ছিটকে পড়ে।নিরাপত্তা এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেনের গতি যদি আরও বেশি হত, তবে প্রাণহানি ও সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। খবর পেয়ে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার পর ওই রুটে রেল চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

ভারতীয় রেলওয়ে এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

ভারতের রেলওয়ে বিশ্বের বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কের একটি। দৈনিক লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে রেল ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। কিন্তু এত বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনার পাশাপাশি রেলওয়ের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। লেভেল ক্রসিং, ট্রাফিক ঘনত্ব, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ট্রেনের উচ্চগতির কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সবসময় বিদ্যমান।

ভারতীয় রেলওয়ে প্রতিবছর নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ট্রেনের গতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ, লেভেল ক্রসিংগুলোতে বুদ্বুদ্ধি সম্পন্ন সতর্ক সংকেত স্থাপন, আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম এবং স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া RPF ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।

news image
আরও খবর

তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো এখনও অনেক বেশি। রেলওয়ের বিশাল পরিধি, পুরনো রেল স্টেশন, যান্ত্রিক ত্রুটি, এবং জনপরিসরের অগোছালো চলাচল দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। বিশেষ করে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। প্রতি বছর ভারতীয় রেলওয়ে এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য সতর্কবার্তা জারি করে, কিন্তু চলমান সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

লেভেল ক্রসিং এবং আধুনিকায়ন

লেভেল ক্রসিংগুলি ভারতীয় রেলওয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা। প্রতিটি লেভেল ক্রসিং ট্রাফিক এবং রেলের চলাচলের সমন্বয় দাবি করে। এই ধরনের ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন গেট, আলার্ম সিস্টেম, সতর্কতা লাইট এবং নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব থাকে। তবুও, দুর্ঘটনার জন্য সাধারণত তিনটি কারণ দায়ী: ট্রাফিকের ঘনত্ব, সিগন্যাল ব্যর্থতা এবং মানুষের অসতর্কতা।

সম্প্রতি রেলওয়ে আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে অটো গেট ও আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে ট্রেনের গতিশীলতা নিরীক্ষণ, লেভেল ক্রসিংতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা কমানো। এছাড়া, উচ্চ গতির ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা এবং অ্যালার্ম ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ব্যবস্থা

আসানসোল দুর্ঘটনার পর RPF এবং রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার তদারকি, ট্রাফিক পুনঃনির্দেশনা এবং দুর্ঘটনাক্রমে সম্ভাব্য আহতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় কোনো প্রাণহানি হয়নি। রেলওয়ে জানায়, ট্রেনের গতি এবং সিগন্যালের অনিয়মের বিষয়টি তদন্তাধীন।

এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ভারতীয় রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ট্রেনের গতিশীলতা, লেভেল ক্রসিং এবং ট্রাফিকের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া দুর্ঘটনা ঘটতে সময় লাগে না।

ভারতীয় রেলওয়ের অবদান

ভারতীয় রেলওয়ে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সামাজিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দৈনিক কোটি মানুষের যাতায়াত রেলওয়েকে অপরিহার্য করে তুলেছে। শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য রেলওয়ের অবদান অপরিসীম। এ কারণে রেলওয়ের নিরাপত্তা, আধুনিকায়ন এবং চলাচলের ধারাবাহিকতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে রেলওয়ে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেমন, নতুন ও আধুনিক ইলেকট্রনিক সিগন্যালিং সিস্টেম, অটো গেট, GPS ট্র্যাকিং, CCTV নজরদারি, এবং উন্নত কমিউনিকেশন সিস্টেম। এই প্রযুক্তি দুর্ঘটনা কমাতে, ট্রেনের সময়মতো চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

নিরাপত্তা সচেতনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

লেভেল ক্রসিং, ট্রাফিক ও সিগন্যাল সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য রেলওয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। স্থানীয় জনগণকে সিগন্যাল মানা, ক্রসিংতে সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, ট্রাফিক ও ট্রেনের সময়সূচি সমন্বয় করার মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা হবে। দ্রুতগামী ট্রেন, উচ্চ জনসংখ্যার শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হবে। লক্ষ্য হলো দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা।

উপসংহার

আসানসোল দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও উপেক্ষা কখনোই নিরাপদ নয়। লেভেল ক্রসিং, ট্রাফিকের চাপ এবং সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি একসাথে মিলিত হলে দুর্ঘটনা অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে যেতে পারে। ভারতের মতো বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, সচেতনতা এবং সঠিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় রেলওয়ে বর্তমানে আধুনিকায়নের পথে রয়েছে। নতুন সিগন্যালিং, অটো গেট এবং প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করছে। তবুও স্থানীয় জনগণ ও ট্রাফিক পরিচালনার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে যথাযথ নজরদারি, সচেতনতা এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় অপরিহার্য।।

আসানসোল দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি, রেলওয়ে কর্মী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা মিলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। ভারতীয় রেলওয়ের নিরাপত্তা উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি দেশ ও যাত্রীদের জন্য একটি বড় অর্জন হবে।

 

Preview image