Short Description (Within 500 Words, Bengali) রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে গত কয়েক বছর ধরে বায়ুদূষণ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছিল। মরুপ্রধান অঞ্চলের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই বাতাসে ধুলোকণার আধিক্য থাকে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত বাড়তে থাকা যানবাহন, পুরনো ডিজেল গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন এবং পর্যটকদের বড় ভিড়— ফলে শহরের AQI শীতকাল এলেই আরও নিচে নেমে যাচ্ছিল। ধুলো-কণা ও ধোঁয়ার মিশ্রণে তৈরি ভারি বাতাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বহু সমস্যার সৃষ্টি করছিল। ছোট শিশু থেকে প্রবীণ, হাঁপানি রোগী থেকে অফিসযাত্রী— সবার জন্যই এটি এক বিরাট স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছিল। ঠিক এই পরিস্থিতিতে জয়পুর প্রশাসন বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এক অনন্য ও সাহসী উদ্যোগ নেয়— ব্যস্ত রাস্তা, মোড়, বাজার এলাকা, স্কুল-কলেজের সামনে, হাসপাতালের আশপাশ এবং পর্যটনকেন্দ্রে বসানো হয় বিশেষ শিল্পমানের এয়ার পিউরিফায়ার। ভারতের খুব কম শহর এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তাই জয়পুরের এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। জয়পুরের চারদিকে মরুপ্রকৃতির কারণে ধুলোর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। সামান্য বাতাসেই ধুলো উড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যোগ হয় প্রতিদিনের ট্র্যাফিকের ধোঁয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের মোট বায়ুদূষণের প্রায় অর্ধেকই আসে রাস্তার ধুলো থেকে। সেই কারণেই শহরের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন— সবচেয়ে দূষণপ্রবণ এলাকাগুলোতে এয়ার পিউরিফায়ার বসালে বাতাসের মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে। এয়ার পিউরিফায়ারগুলিতে স্মার্ট সেন্সর যুক্ত রয়েছে, যা বায়ুর গুণমান মাপতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের গতি বাড়ায় বা কমায়। ভেতরে রয়েছে বহুস্তরীয় ফিল্টার— বড় ধুলোকণা থেকে সূক্ষ্ম PM2.5 পর্যন্ত সবই ধরে রাখে। কার্বন ফিল্টার ক্ষতিকর গ্যাস শোষে এবং UV প্রযুক্তি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার ঘনমিটার দূষিত বাতাস টেনে নিয়ে তা বিশুদ্ধ করে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যস্ত এলাকায় মানুষের শ্বাস নেওয়া কিছুটা আরামদায়ক হয়ে উঠছে। মানুষের প্রতিক্রিয়াও উজ্জ্বল। স্কুটি, বাইক, অটো বা বাসে যাতায়াতকারীরা জানিয়েছেন— রাস্তায় দাঁড়ালে আগের মতো চোখে জ্বালা বা নাকে ধুলোর গন্ধ লাগছে না। অনেকেই এটিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উদ্যোগ বলে প্রশংসা করছেন। তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়; দূষণের উৎসস্থল যেমন পুরনো ডিজেল গাড়ি, নির্মাণকাজ, শিল্প নির্গমন— এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি সাফল্য আসবে না। তারা এয়ার পিউরিফায়ারকে ‘সহায়ক সমাধান’ হিসেবে দেখছেন, পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে নয়। পর্যটন শিল্পেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। জয়পুরে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন। অনেকেই শুষ্ক ও ধুলোময় বাতাসে অস্বস্তি বোধ করতেন। এখন তাদের অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও উন্নত হবে বলে প্রশাসনের ধারণা। শহরের ভাবমূর্তিও আরও উন্নত হবে। জয়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই প্রকল্প কেবল শুরু। ট্রায়াল সফল হলে শহরজুড়ে আরও শতাধিক পিউরিফায়ার বসানো হবে এবং সঙ্গে চলবে আরও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ভবিষ্যতের লক্ষ্য— পুরো শহরকে ‘ক্লিন এয়ার জোন’ ঘোষণা করা। সার্বিকভাবে বলা যায়, জয়পুরের এই পদক্ষেপ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ভারতের শহরগুলোর মধ্যে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। যদিও সীমাবদ্ধতা আছে, তবুও এই প্রযুক্তির ব্যবহার শহরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর, যাকে সারা বিশ্ব চেনে ‘পিঙ্ক সিটি’ নামে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে— বায়ুদূষণ। মরুপ্রধান এই শহরে সবসময়ই ধুলোকণার উপস্থিতি কিছুটা ছিল, কিন্তু দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ, নির্মাণের বিস্তার, শিল্পাঞ্চলের প্রসার এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ভিড়ে শহরের বায়ুমণ্ডল যেন ক্রমশ ভারি হয়ে উঠছিল। বিশেষত শীতের দিনে ধুলো-কণা আর ধোঁয়া মিলে শহরের AQI প্রায়ই বিপজ্জনক হয়ে উঠতো। প্রতিবছরই দেখা যাচ্ছিল, হালকা কুয়াশার সঙ্গে ধুলোর স্তর মিশে বায়ুকে আরও ঘন করে দিচ্ছে, আর তার ফলে ছোট-বড় অসংখ্য মানুষ শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, নাক-গলা জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি এবং হাঁপানির সমস্যায় ভুগছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই জয়পুর প্রশাসন এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে সরাসরি রাস্তায় এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানোর চেষ্টা।
জয়পুরের রাস্তার ধুলো সবসময়ই রাজ্যের পরিবেশ দফতরের কাছে উদ্বেগের বিষয় ছিল। শহরের আশেপাশে মরুভূমির মতো ভূপ্রকৃতি হওয়ায় সামান্য বাতাসেই শুকনো ধুলো উড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিদিনের যানবাহনের ধোঁয়া, পুরনো ডিজেল গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং বিভিন্ন শিল্প এলাকার নির্গমন। দিনদিন কুয়াশার মতো ধুলোচাপা আবহাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে উঠছিল। এমন অবস্থায় শহর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন তাদের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়, বড় বড় মোড়ে, ব্যস্ত এলাকায় এবং প্রধান রাস্তা-ঘাটে বিশেষ ধরনের এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে। এই ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ভারতের খুব কম শহরেই দেখা গেছে, তাই জয়পুরের উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে গত কয়েক বছর ধরে বায়ুদূষণ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছিল। মরুপ্রধান অঞ্চলের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই বাতাসে ধুলোকণার আধিক্য থাকে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত বাড়তে থাকা যানবাহন, পুরনো ডিজেল গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন এবং পর্যটকদের বড় ভিড়— ফলে শহরের AQI শীতকাল এলেই আরও নিচে নেমে যাচ্ছিল। ধুলো-কণা ও ধোঁয়ার মিশ্রণে তৈরি ভারি বাতাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বহু সমস্যার সৃষ্টি করছিল। ছোট শিশু থেকে প্রবীণ, হাঁপানি রোগী থেকে অফিসযাত্রী— সবার জন্যই এটি এক বিরাট স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছিল।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে জয়পুর প্রশাসন বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এক অনন্য ও সাহসী উদ্যোগ নেয়— ব্যস্ত রাস্তা, মোড়, বাজার এলাকা, স্কুল-কলেজের সামনে, হাসপাতালের আশপাশ এবং পর্যটনকেন্দ্রে বসানো হয় বিশেষ শিল্পমানের এয়ার পিউরিফায়ার। ভারতের খুব কম শহর এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তাই জয়পুরের এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
জয়পুরের চারদিকে মরুপ্রকৃতির কারণে ধুলোর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। সামান্য বাতাসেই ধুলো উড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যোগ হয় প্রতিদিনের ট্র্যাফিকের ধোঁয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের মোট বায়ুদূষণের প্রায় অর্ধেকই আসে রাস্তার ধুলো থেকে। সেই কারণেই শহরের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন— সবচেয়ে দূষণপ্রবণ এলাকাগুলোতে এয়ার পিউরিফায়ার বসালে বাতাসের মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে।
এয়ার পিউরিফায়ারগুলিতে স্মার্ট সেন্সর যুক্ত রয়েছে, যা বায়ুর গুণমান মাপতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের গতি বাড়ায় বা কমায়। ভেতরে রয়েছে বহুস্তরীয় ফিল্টার— বড় ধুলোকণা থেকে সূক্ষ্ম PM2.5 পর্যন্ত সবই ধরে রাখে। কার্বন ফিল্টার ক্ষতিকর গ্যাস শোষে এবং UV প্রযুক্তি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার ঘনমিটার দূষিত বাতাস টেনে নিয়ে তা বিশুদ্ধ করে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যস্ত এলাকায় মানুষের শ্বাস নেওয়া কিছুটা আরামদায়ক হয়ে উঠছে।
মানুষের প্রতিক্রিয়াও উজ্জ্বল। স্কুটি, বাইক, অটো বা বাসে যাতায়াতকারীরা জানিয়েছেন— রাস্তায় দাঁড়ালে আগের মতো চোখে জ্বালা বা নাকে ধুলোর গন্ধ লাগছে না। অনেকেই এটিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উদ্যোগ বলে প্রশংসা করছেন। তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়; দূষণের উৎসস্থল যেমন পুরনো ডিজেল গাড়ি, নির্মাণকাজ, শিল্প নির্গমন— এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি সাফল্য আসবে না। তারা এয়ার পিউরিফায়ারকে ‘সহায়ক সমাধান’ হিসেবে দেখছেন, পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে নয়।
পর্যটন শিল্পেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। জয়পুরে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন। অনেকেই শুষ্ক ও ধুলোময় বাতাসে অস্বস্তি বোধ করতেন। এখন তাদের অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও উন্নত হবে বলে প্রশাসনের ধারণা। শহরের ভাবমূর্তিও আরও উন্নত হবে।
জয়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই প্রকল্প কেবল শুরু। ট্রায়াল সফল হলে শহরজুড়ে আরও শতাধিক পিউরিফায়ার বসানো হবে এবং সঙ্গে চলবে আরও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ভবিষ্যতের লক্ষ্য— পুরো শহরকে ‘ক্লিন এয়ার জোন’ ঘোষণা করা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, জয়পুরের এই পদক্ষেপ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ভারতের শহরগুলোর মধ্যে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। যদিও সীমাবদ্ধতা আছে, তবুও এই প্রযুক্তির ব্যবহার শহরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর পিছনে মূল ভাবনাটি হল, অন্তত সেই জায়গাগুলোয় কিছুটা হলেও দূষণ কমানো যেখানে প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা যায়। রাস্তার ধুলো-কণাই জয়পুরের বায়ুদূষণের প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ধুলো যখন বাতাসে ভাসতে থাকে, তখনই তা PM2.5 ও PM10 মাত্রা বাড়িয়ে ফেলে। এসব কণা এতটাই সূক্ষ্ম যে মানুষের নাকের ফিল্টার ছাড়িয়ে সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায়। তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রথম থেকেই নজর কাড়ে। শহরের একাধিক মোড়, ক্রসিং, বাজার এলাকা, হাসপাতালের সামনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছে বড় আকারের শিল্পমানের এয়ার পিউরিফায়ার বসানো শুরু হয়। প্রতিটি পিউরিফায়ারই সম্পূর্ণ স্মার্ট সিস্টেমে চালিত, যেখানে AQI সেন্সর যুক্ত আছে, যা আশেপাশের বায়ুর মান পরিমাপ করে নিজে থেকেই গতি বাড়ায় বা কমিয়ে দেয়।
জয়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই এয়ার পিউরিফায়ারগুলোর ভিতরে একাধিক স্তরের ফিল্টার থাকে। প্রথম স্তর বড় ধুলোকণা টেনে নেয়, দ্বিতীয় স্তর সূক্ষ্ম কণাগুলি ধরে, তৃতীয় স্তর কার্বন ফিল্টারের মাধ্যমে দূষিত গ্যাসগুলো পরিষ্কার করে, এবং শেষে UV প্রযুক্তি ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীবাণু ধ্বংস করে। অর্থাৎ একেকটি পিউরিফায়ার কার্যত একটি ছোটখাটো ‘রাস্তার ফুসফুস’ হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি মেশিন ঘণ্টায় হাজার হাজার ঘনমিটার দূষিত বায়ু টেনে নিয়ে তা ছেঁকে আবার পরিষ্কার বাতাস ছেড়ে দেয়। ফলে আশেপাশের জনবহুল এলাকায় শ্বাস নেওয়া একটু সহজ হয়ে ওঠে।
যদিও এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর খরচ কম নয়। প্রতিটি মেশিনের খরচ ছয় থেকে বারো লক্ষ টাকার মধ্যে। বড় আকারের এসব মেশিনে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও যথেষ্ট। তাই সরকারি তহবিল ছাড়াও বেশ কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থা CSR প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ সাহায্য করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনও কয়েকটি ইউনিট স্পনসর করেছে। তবে প্রশাসনের মতে, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এ ধরনের বিনিয়োগ একেবারেই প্রয়োজন।
এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর পর থেকেই জয়পুরের সাধারণ মানুষ এতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। রাস্তায় চলাচলকারী স্কুটি, বাইক, অটো কিংবা বাসযাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, ধুলোর গন্ধ বা চোখ জ্বালা আগের মতো হচ্ছে না। ট্রাফিক সিগনালের কাছে দাঁড়ালে বাতাসে যে ধুলোর কণা চোখ-মুখে এসে লাগত, এখন অনেকটাই কম মনে হচ্ছে। বহু পরিবেশপ্রেমী নাগরিক বলছেন, উদ্যোগটি দেরিতে হলেও ঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্কুলের সামনে, হাসপাতালের আশেপাশে এবং ব্যস্ত বাজার এলাকায় এই পিউরিফায়ারগুলি আরও বেশি সংখ্যায় বসানো হলে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব আরও ভালো হবে।
তবে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। অনেক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ ধরনের পিউরিফায়ার দূষণ কমালেও এটি কেবলমাত্র সাময়িক সমাধান। দূষণের উৎসস্থল বন্ধ না করলে বা নিয়ন্ত্রণ না করলে অনেকদূর পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে না। পুরনো ডিজেল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে ধুলো রোধ, সড়ক ধোয়া ব্যবস্থা, ইলেকট্রিক গাড়ির প্রচলন— এসব না হলে শুধুমাত্র রাস্তায় পিউরিফায়ার বসিয়ে দূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাওয়া কঠিন। তাদের মতে, পিউরিফায়ার একটি সহায়ক ব্যবস্থা, মূল সমাধান নয়। তবুও তারা স্বীকার করেছেন যে শহরের কিছু ব্যস্ত এলাকায় মানুষের শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
পর্যটন শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই পদক্ষেপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জয়পুরে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন। পর্যটকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরির পর প্রচণ্ড ধুলো আর শুষ্ক বাতাসে তারা অস্বস্তি বোধ করেন। এবার সেই অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও উন্নত হবে বলে মনে করছে পর্যটন দফতর। শহরের ভাবমূর্তি আরও উন্নত হবে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে জয়পুর আরও পরিচ্ছন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এই উদ্যোগের পর শহরের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও আশাবাদী। তাদের মতে, শ্বাসজনিত রোগ, অ্যালার্জি ও হাঁপানির মতো সমস্যা কমাতে হলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত শিশু এবং প্রবীণেরা বায়ুদূষণের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্কুলের আশপাশে পিউরিফায়ার বসানোর ফলে শিশুদের শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমতে পারে। প্রবীণ ও রোগীরা সতেজ বাতাস পেলে তাদের দৈনন্দিন জীবনও সহজ হবে।
জয়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানিয়েছে, এটি কেবলমাত্র প্রথম ধাপ। ট্রায়াল ফল ভালো হলে শহরের আরও ২০০ ২৫০ জায়গায় এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে। পাশাপাশি রাস্তায় পানি ছেটানো মিস্ট স্প্রে, ইলেকট্রিক বাসের প্রচলন, বর্জ্য পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ, নির্মাণস্থল নজরদারি এবং আরও অনেক সবুজ উদ্যোগ শীঘ্রই চালু করা হবে। লক্ষ্য একটাই পুরো শহরকে একদিন ‘ক্লিন এয়ার জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জয়পুরের এই উদ্যোগ যতটা অভিনব, ততটাই ভবিষ্যতমুখী। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ভারতের অন্য শহরগুলোও এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যদিও সমালোচনার জায়গা রয়েছে এবং আরও দৃঢ় পরিবেশ নীতি গ্রহণ করা জরুরি, তবুও নিঃসন্দেহে স্বীকার করতে হয় যে জয়পুর একটি সাহসী পরীক্ষা শুরু করেছে। এই উদ্যোগ শহরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাধারণ মানুষ এবং পর্যটক সবার অংশগ্রহণে এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের বিভিন্ন বড় শহরেও এমন পিউরিফায়ার শিগগিরই দেখা যেতে পারে।