Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দেবীপক্ষের বর্ষণে কলকাতা বিপর্যস্ত, পুরসভা-সেচ দফতরের যৌথ অভিযান

খাল ও নিকাশি নালার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যৌথ পরিদর্শনে নামছে কলকাতা পুরসভা ও সেচ দফতর; পুরসভা দিয়েছে সেচ দফতরের জন্য বিশেষ পরামর্শ।

দেবীপক্ষের বর্ষণে কলকাতা বিপর্যস্ত, পুরসভা-সেচ দফতরের যৌথ অভিযান
নগর উন্নয়ন

কলকাতার বর্ষা: নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একসঙ্গে কাজ করছে পুরসভা ও সেচ দফতর

দেবীপক্ষের প্রবল বর্ষণে শহর কলকাতার একাধিক এলাকা জলে ডুবে গিয়েছিল। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, যাদবপুর, গাঙ্গুলিপুকুর থেকে যোধপুর পার্ক—প্রায় সব অঞ্চলে জল নামতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছিল। অব্যবস্থাপনার কারণে, এমনকি সম্প্রতি পলিমুক্ত করা নালা-ড্রেনও কার্যকর হতে পারেনি। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কলকাতা পুরসভা এবার সমস্যা পুনরাবৃত্তি রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বর্ষার আগে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পুরসভা এবং সেচ দফতর যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে। মঙ্গলবার নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিংহের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুরসভার বিভিন্ন আধিকারিক ও সেচ দফতরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত হয়, শহরের খাল ও নিকাশি নালার অবস্থা খতিয়ে দেখতে দুই সংস্থা যৌথ পরিদর্শনে নামবে। পাশাপাশি, সেচ দফতরকে নির্দিষ্ট পরামর্শও প্রদান করা হয়েছে।

news image
আরও খবর

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের তলায় থাকা ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা কয়েক মাস আগে পুরসভা সম্পূর্ণ পলিমুক্ত করেছিল। যাদবপুর থানার সামনে থেকে নবীনা সিনেমা হল পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে আবারও পুরো এলাকায় জল জমে যায়। খালগুলোতে প্রচুর পলি জমে যাওয়ায় জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। গাঙ্গুলিপুকুর থেকে চৌবাগা পর্যন্ত খালের গভীরতা দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত কমে গিয়েছে, ফলে বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত জল দ্রুত বেরোতে পারছে না।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “খালে পলি জমে যাওয়ায় জলধারণ ক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে। তাই সেচ দফতরকে খাল আরও গভীর করে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিবি ওয়ান ক্যানেলের পাশে একটি লিফটিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পাম্পিং স্টেশনের মতো কাজ করবে। তবে শুধু এটিই যথেষ্ট নয়—গোটা খাল পরিষ্কার না হলে জল দ্রুত নামবে না।”

বৈঠকে সমন্বয় এবং যৌথ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরসভা ও সেচ দফতর বর্ষার আগে একযোগে কাজ করে জলনির্বাসনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলে শহর কলকাতা আগামী বর্ষায় বর্ষার জলে অচল হবে না এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন সহজ হবে।

Preview image