Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হাসির আড়ালে চাপ আর ক্লান্তি বিতর্কের পর বিরতির পথে জেমি লিভার

হাসির আড়ালে চাপ আর ক্লান্তি এই বাস্তব সত্যই যেন নতুন করে সামনে আনলেন জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ও সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন জেমি লিভার। দীর্ঘদিন ধরেই যাঁর পরিচয় ছিল নিখুঁত নকল, সাবলীল কমেডি আর মুহূর্তে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ক্ষমতা, সেই জেমিই এবার জানালেন সাময়িক বিরতির কথা। বাহ্যিক হাসিখুশি ইমেজের আড়ালে যে মানসিক চাপ, সমালোচনার ভার আর ক্লান্তি জমতে থাকে, তা অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বিতর্কের পর জেমি সেই নীরব যন্ত্রণার কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। চলতি মাসের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিও থেকেই শুরু হয় এই বিতর্ক। ভিডিওটিতে জেমি বিগ বস ১৯ এর প্রতিযোগী তানিয়া মিত্তালকে নকল করেন। প্রথমে সেটি অনেকের কাছেই নিছক হাস্যরস মনে হলেও, দ্রুতই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। একাংশের অভিযোগ, ওই নকলের মধ্যে বডি শেমিংয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রশংসার জায়গা দখল করে নেয় নেতিবাচক মন্তব্য, কটাক্ষ আর আক্রমণ। সোশ্যাল মিডিয়ার এই চাপ যে কতটা গভীর হতে পারে, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা। বিতর্কের মাঝেই বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন নোট শেয়ার করেন জেমি লিভার। সেখানে তিনি লেখেন, মানুষকে আনন্দ দিতে পারা তাঁর কাছে ঈশ্বরপ্রদত্ত আশীর্বাদ বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। কমেডিই তাঁর জীবন, তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তাঁকে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করেছে। রাগ বা ক্ষোভ নয়, বরং ভেতরের ক্লান্তি, মানসিক চাপ আর কোথাও যেন হারিয়ে যাওয়া নিজের একটা অংশকে খুঁজে পাওয়ার জন্যই এই বিরতির সিদ্ধান্ত। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতেই আপাতত তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

হাসির আড়ালে চাপ আর ক্লান্তি এই কথাটাই যেন আজকের দিনে বহু জনপ্রিয় শিল্পীর জীবনের অদৃশ্য সত্য। সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে আলো, লাখ লাখ ফলোয়ার, ভাইরাল হওয়া ভিডিও আর প্রশংসার বন্যার মাঝেও যে মানসিক চাপ, অবিরাম প্রত্যাশা আর আত্মসংঘাত জমে উঠতে পারে, তার এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠলেন জেমি লিভার। যাঁর নাম শুনলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে নিখুঁত নকল, সাবলীল কৌতুক আর অনাবিল হাসির ছবি, সেই জেমিই এবার সিদ্ধান্ত নিলেন সাময়িক বিরতির। এই বিরতি শুধুই কাজ থেকে দূরে সরে থাকা নয়, বরং নিজের ভেতরে জমে ওঠা ক্লান্তি, প্রশ্ন আর মানসিক চাপের মুখোমুখি হওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ।

জেমি লিভার মানেই বহুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার হাসির এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। বাবার মতোই কমেডিকে জীবনের শ্বাস প্রশ্বাস করে তুলেছিলেন তিনি। জনি লিভারের কন্যা হওয়া একদিকে যেমন তাঁর পরিচয়ের অংশ, তেমনই অন্যদিকে এক বিরাট প্রত্যাশার বোঝাও। শুরু থেকেই প্রমাণ করতে হয়েছে, তিনি শুধুই কোনও কিংবদন্তির সন্তান নন, নিজের যোগ্যতায় তৈরি একজন শিল্পী। নকল, ভয়েস মড্যুলেশন, মুখভঙ্গি সব কিছু মিলিয়ে খুব দ্রুতই তিনি আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন। কখনও বলিউড তারকা, কখনও রাজনীতিবিদ, কখনও আবার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আচরণ সব কিছুকেই হাসির মোড়কে তুলে ধরতে পারার ক্ষমতা তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।

কিন্তু এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে আসে অবিরাম নজরদারি। প্রতিটি ভিডিও, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে বিচারাধীন। কোথাও একটু ভুল হলেই শুরু হয় কটাক্ষ, ট্রোলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ। সোশ্যাল মিডিয়ার এই রূঢ় বাস্তবতাই এবার সামনে এল জেমির ক্ষেত্রে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে বিগ বস ১৯ এর প্রতিযোগী তানিয়া মিত্তালকে নকল করা হয়। প্রথমে ভিডিওটি অনেকের কাছেই হাস্যরস হিসেবে গ্রহণযোগ্য ছিল। বহু মানুষ আগের মতোই প্রশংসা করেছেন জেমির অভিনয় দক্ষতা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

ভিডিওটি ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। একাংশের অভিযোগ ওঠে, ওই নকলের মধ্যে বডি শেমিংয়ের উপাদান রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, হাসির আড়ালে একজন ব্যক্তির শারীরিক গঠন বা ব্যক্তিত্বকে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সমালোচনার ঢেউ ক্রমশ বড় হতে থাকে। প্রশংসার মন্তব্য চাপা পড়ে যায় নেতিবাচক মন্তব্যের ভিড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করতে শুরু করে বিতর্ক, আর সেই স্রোতে জেমির ব্যক্তিগত অনুভূতিও তলিয়ে যেতে থাকে।

এই মুহূর্তেই সামনে আসে শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের মন্তব্য পড়া, নিজের কাজ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়া এবং নিজের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া এই সব কিছু মিলিয়ে মানসিক চাপ যে কতটা গভীর হতে পারে, তা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। হাসির ভিডিও বানানো মানেই যে শিল্পী সব সময় হাসিখুশি থাকবেন, এমন ধারণা বাস্তবের সঙ্গে অনেক সময়ই মেলে না। জেমির ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটল। সমালোচনার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, তিনি হাস্যরসের জগৎ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন নোট শেয়ার করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেমি লিভার। সেখানে তিনি লেখেন, মানুষকে আনন্দ দিতে পারা তাঁর কাছে ঈশ্বরের দেওয়া এক বিশেষ উপহার। এই বিশ্বাসে কোনও পরিবর্তন আসেনি। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তাঁকে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করেছে। এই বিরতি কোনও রাগ বা অভিমান থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের ক্লান্তি আর মানসিক চাপকে বোঝার জন্য। নিজের হারিয়ে যাওয়া একটি অংশকে খুঁজে পাওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।                                                                                                               

জেমির এই ঘোষণার পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও দুই রকম। কেউ নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, তুমি লিমিটেড এডিশন, ফিরে এসো আরও শক্ত হয়ে। আবার কেউ বলেছেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সমালোচনাও আসে, আর সেই সমালোচনা কখনও কখনও শিল্পীকে আরও পরিণত করে তোলে। সমর্থন আর সমালোচনার মাঝেই আপাতত নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার দিকেই মন দিয়েছেন জেমি।

সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মানসিক শান্তি আর আত্মবিশ্লেষণই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। নিজের নোটে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিরতি স্থায়ী নয়। আগামী বছরে নতুন শক্তি, নতুন ভাবনা আর আরও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আবার ফিরে আসবেন তিনি। হাসি যে শুধু মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়, নিজের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও জরুরি জেমি লিভারের এই সিদ্ধান্ত যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

এই নোটে জেমির বক্তব্য অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। কারণ সেখানে কোনও আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা নেই, নেই আক্রমণাত্মক ভাষা। বরং রয়েছে আত্মসমালোচনা, সংযম আর নিজের মানসিক অবস্থার প্রতি সৎ স্বীকারোক্তি। তিনি বুঝিয়ে দেন, শিল্পী হওয়া মানেই নিখুঁত হওয়া নয়। ভুল হতে পারে, শেখার প্রয়োজন হতে পারে। আর সেই শেখার জন্যই মাঝে মাঝে থেমে দাঁড়ানো জরুরি।

জেমির এই সিদ্ধান্তে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্বিমুখী। একদিকে অসংখ্য অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, তুমি লিমিটেড এডিশন, তোমার হাসি আমাদের প্রয়োজন। কেউ আবার বলেছেন, নিজের যত্ন নাও, আমরা অপেক্ষা করব।এই মন্তব্যগুলি প্রমাণ করে, জনপ্রিয়তার বাইরে একজন মানুষ হিসেবে জেমির প্রতি মানুষের আবেগ কতটা গভীর।

অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করিয়ে দিয়েছেন, সমালোচনাও কখনও কখনও প্রয়োজনীয়। তাঁদের মতে, কমেডির ক্ষেত্রেও সংবেদনশীলতার সীমা থাকা দরকার। হাসির নামে যেন কাউকে আঘাত না করা হয়, সে বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি। এই মতামতও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং শিল্পী ও দর্শকের এই সংলাপই ভবিষ্যতে আরও পরিণত কনটেন্ট তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

news image
আরও খবর

এই পুরো ঘটনাটি আসলে বৃহত্তর এক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিল্পীদের জীবন আর ব্যক্তিগত পরিসর প্রায় নেই বললেই চলে। প্রতিটি কাজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আসে, আর সেই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় নির্মম হয়ে ওঠে। হাস্যরসের মতো একটি সংবেদনশীল শিল্পমাধ্যমে কাজ করা আরও কঠিন। কারণ এখানে সীমারেখা খুব সূক্ষ্ম। কোথায় হাসি শেষ হয়ে আঘাত শুরু, তা অনেক সময় বোঝা যায় না।

জেমি লিভারের বিরতি সেই কারণেই শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও বহন করে। মানসিক স্বাস্থ্য যে কোনও পেশার মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও স্পষ্ট হল। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন মানুষের সামনে থাকেন, যাঁদের কাজ মানুষের আবেগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই যত্ন আরও বেশি জরুরি।

নিজের নোটে জেমি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিরতি স্থায়ী নয়। আগামী বছরে তিনি আবার ফিরবেন নতুন শক্তি, নতুন ভাবনা আর সম্ভবত আরও পরিণত হাসি নিয়ে। এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আত্মবিশ্বাস আর আশাবাদ। বিরতি মানেই পিছিয়ে যাওয়া নয়, অনেক সময় তা আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি।

সব মিলিয়ে, হাসির আড়ালে চাপ আর ক্লান্তির এই গল্প শুধু জেমি লিভারের নয়। এটি আজকের সময়ের বহু শিল্পীর নীরব বাস্তবতা। জেমি সেই বাস্তবতাকে প্রকাশ্যে এনে দেখালেন, হাসতে হাসাতে থেমে দাঁড়ানোও যে কখনও কখনও সাহসের কাজ। নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে, নিজের ভেতরের ভারসাম্য ফিরে পেয়ে আবার হাসি ছড়ানোর প্রত্যাশাতেই এখন অপেক্ষা করছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী।

 

 

 

 

 

 

Preview image