Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চিত্রনাট্য-পরিচালক-প্রযোজক ঠিক না হলে কাজ নয়!’ পুজোয় কি ফিরছেন প্রসেনজিৎ?

সৃজিতের পর ‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দায়িত্ব গেল পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়ের হাতে — ভবিষ্যতে তিনিই কি সিরিজের নতুন মুখ?

চিত্রনাট্য-পরিচালক-প্রযোজক ঠিক না হলে কাজ নয়!’ পুজোয় কি ফিরছেন প্রসেনজিৎ?
বিনোদন

সরস্বতীপুজোর আবহে বড়পর্দায় ফিরলেন বহু প্রজন্মের প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র — কাকাবাবু ও সন্তু। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় সাহিত্যসৃষ্ট এই অ্যাডভেঞ্চার জুটিকে নতুন করে দর্শকের সামনে হাজির করল পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত ছবি ‘বিজয়নগরের হীরে’। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে বাগ্‌দেবীর আরাধনার আগের দিন, আর প্রথম দিনের বিশেষ প্রদর্শনীতেই মিলেছে দর্শকের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া।

এই ছবির হাত ধরেই দীর্ঘ চার বছর পরে বড়পর্দায় ফিরলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় — টলিউডের ‘বুম্বাদা’, যিনি একাধিক প্রজন্ম ধরে ‘কাকাবাবু’ চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠেছেন। শুধু তাই নয়, এই ছবির মাধ্যমে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পর ‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির পরিচালনার ব্যাটন কার্যত হাতে তুলে নিলেন চন্দ্রাশিস রায়। ফলে টলিউডে জোর জল্পনা — আগামী দিনে কি তিনিই এই জনপ্রিয় সিরিজের ভবিষ্যৎ পরিচালক হতে চলেছেন?

একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে ঘুরছে — এ বছর দুর্গাপুজোয় কি দেবের ছবিতে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে? দেব নিজেই সদ্য ঘোষণা করেছেন, তাঁর পুজোর ছবির নায়িকা হচ্ছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ছবিতে প্রসেনজিতের অভিনয় নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে টলিউডের দুই সুপারস্টারের পর্দা ভাগাভাগি নিয়ে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।

এই সব জল্পনার মাঝেই আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে বিশেষ কথোপকথনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জানালেন তাঁর কাজের শর্ত, পছন্দ, পুজোর ছবি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির ভবিষ্যৎ ভাবনা।

‘বিজয়নগরের হীরে’: কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

সরস্বতীপুজোয় মুক্তি পাওয়া ‘বিজয়নগরের হীরে’ ছবিটি শুধু আরেকটি অ্যাডভেঞ্চার ফিল্ম নয় — এটি বাংলা ছবির এক ঐতিহ্যবাহী চরিত্রের নতুন অধ্যায়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে আবারও ফিরেছেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় কাকাবাবু (রাজা রায়চৌধুরী) ও তাঁর কিশোর সঙ্গী সন্তু।

বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ছবির সম্পূর্ণ দল — পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। সবার মুখেই ছিল তৃপ্তির হাসি। দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন প্রসেনজিৎ নিজেও। আনন্দবাজার ডট কম তাঁর কাছে যেতেই অভিনেতা বললেন,

“খবর পাচ্ছি, দর্শকের ভাল লাগছে। ভালই টিকিট বিক্রি হচ্ছে।”

এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই স্পষ্ট, কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন দর্শকের মনে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। চার বছর পরে বড়পর্দায় এই চরিত্রে ফেরার অভিজ্ঞতা প্রসেনজিতের কাছেও যে বিশেষ, তা তাঁর কথাবার্তায় বার বার ফুটে উঠেছে।

সৃজিতের পরে চন্দ্রাশিস: বদলের ব্যাটন কি পাকাপাকি?

‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ১৩ বছরের ব্যবধানে তিনি তিনটি ছবিতে কাকাবাবু চরিত্রকে বড়পর্দায় তুলে ধরেছেন — প্রতিটিই বক্স অফিস ও দর্শকমহলে সাফল্য পেয়েছে। সৃজিতের হাত ধরে এই চরিত্রে আধুনিকতা, নতুন টোন ও আন্তর্জাতিক লোকেশনের ছোঁয়া এসেছিল, যা বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ছবির ধরনটাই বদলে দেয়।

তবে ‘বিজয়নগরের হীরে’র মাধ্যমে সেই দায়িত্ব কার্যত হাতে নিলেন চন্দ্রাশিস রায় — যিনি পরিচালনায় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছাত্র এবং ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা ঘরানা তৈরি করেছেন। প্রসেনজিতের কথায়,

“ওর কাজে বুদ্ধির ছাপ থাকে বরাবর। খুব যত্ন নিয়ে ছবি বানায়।”

করোনাকালে তাঁদের দু’জনের প্রথম কাজ ছিল ‘নিরন্তর’ নামে একটি ছবি, যা ছোটপর্দায় মুক্তি পেয়েছিল। সেই কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই চন্দ্রাশিসের পরিচালনার প্রতি তাঁর আস্থা তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ।

তবে প্রশ্ন উঠছে — এই দায়িত্ব কি স্থায়ী ভাবে চন্দ্রাশিসের হাতেই থাকছে? উত্তরে প্রসেনজিতের কণ্ঠে ছিল বাস্তবতা ও সংযমের মিশেল:

“এখনই এই কথা বলার সময় আসেনি। চন্দ্রাশিসের হাতেও কাজ রয়েছে অনেক। দেখা যাক, আগামী দিনে কী হয়।”

এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ‘বিজয়নগরের হীরে’র সাফল্য যদি বজায় থাকে, তবে এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির পরবর্তী অধ্যায়ে চন্দ্রাশিসের নাম উঠে আসা যে অস্বাভাবিক নয়, তা বলাই যায়।

প্রসেনজিৎ ও তাঁর কাজের দর্শন: “তিনটে জিনিস ছাড়া কাজ নয়”

পুজোর ছবি নিয়ে টলিউডে আগ্রহ বরাবরের মতোই তুঙ্গে। এ বছর দেব নিজেই ঘোষণা করেছেন, তাঁর পুজোর ছবির নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেই ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে প্রসেনজিতের সঙ্গে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে — এ বারের দুর্গাপুজোয় কি দেবের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নেবেন ‘বুম্বাদা’?

এই প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ খুবই স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কথায়,

“যখন সিনেমা বানাই বা অভিনয় করি, তখন আমার হাতে চিত্রনাট্য থাকতে হবে। ছবির নাম থাকতে হবে। আমার সঙ্গে আমার পরিচালককেও থাকতে হবে। এই তিনটি আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাতে যদি আমি এক বছর কাজ না-ও করি, কিচ্ছু এসে যায় না।”

এই বক্তব্য শুধু একটি ছবি বা সহযোগিতা নিয়ে নয় — এটি প্রসেনজিতের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের দর্শনের প্রতিফলন। তিনি কখনওই শুধুমাত্র তারকাখ্যাতি বা বক্স অফিস সমীকরণের ভিত্তিতে কাজ বেছে নেন না। বরং গল্প, পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযোজনার মান — এই তিনটি বিষয়ের উপরেই নির্ভর করে তাঁর সিদ্ধান্ত।

দেবের সঙ্গে পুজোর ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে আরও বলেন,

“ছবি দেখে, তৈরি হয়ে, পুজোয় আসার মতো হলে আসব। না হলে আসব না।”

এই বক্তব্যে স্পষ্ট, পুজোর মতো বড় উৎসব হলেও তিনি আপস করতে রাজি নন। গল্প ও নির্মাণ যদি তাঁর মানদণ্ডে না ওঠে, তবে সময় নষ্ট না করে অপেক্ষা করাই তাঁর কাছে শ্রেয়।

দেব-প্রসেনজিৎ জুটি: কেন এত প্রত্যাশা?

টলিউডে দেব ও প্রসেনজিৎ — দু’জনেই নিজ নিজ প্রজন্মের সুপারস্টার। দেব আধুনিক বাণিজ্যিক ছবির প্রতীক, অন্যদিকে প্রসেনজিৎ দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ারে শিল্পীসত্তা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল মেলবন্ধন তৈরি করেছেন। এই দুই তারকার একসঙ্গে কাজ মানেই বক্স অফিসে ঝড় ওঠার সম্ভাবনা।

তবে বাস্তবে তাঁদের একসঙ্গে কাজের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তাই যখনই এই জুটির কথা ওঠে, দর্শকের প্রত্যাশা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পুজোর মতো বড় রিলিজ উইন্ডোতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেলে সেটি শুধু একটি ছবি নয় — টলিউডের ইভেন্টে পরিণত হতে পারে।

কিন্তু প্রসেনজিতের বক্তব্যে বোঝা যায়, শুধুমাত্র তারকাখ্যাতি নয় — গল্প ও নির্মাণের মানই তাঁর কাছে শেষ কথা। তাই দেবের ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

news image
আরও খবর

চন্দ্রাশিস রায়: নতুন প্রজন্মের পরিচালকের আত্মপ্রকাশ

‘বিজয়নগরের হীরে’র মাধ্যমে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজ়িতে প্রবেশ করলেও চন্দ্রাশিস রায় নতুন মুখ নন। তিনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছাত্র এবং এর আগেও একাধিক ছবি ও প্রজেক্টে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তাঁর পরিচালনায় সংযম, গল্প বলার ছন্দ এবং চরিত্রের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

প্রসেনজিৎ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন,

“ওর কাজে বুদ্ধির ছাপ থাকে বরাবর। খুব যত্ন নিয়ে ছবি বানায়।”

এই বক্তব্য শুধু সৌজন্য নয় — বরং এক অভিজ্ঞ অভিনেতার আস্থা ও স্বীকৃতির প্রকাশ। কাকাবাবুর মতো প্রতিষ্ঠিত চরিত্রের দায়িত্ব কোনও পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া মানে তাঁর প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকা। সেই বিশ্বাস চন্দ্রাশিসের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট।

তবে তিনি নিজেও জানিয়েছেন, এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করার সময় আসেনি। তাঁর হাতে একাধিক কাজ রয়েছে, আর প্রতিটি প্রজেক্টেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে চান।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: কাকাবাবুর প্রকৃত স্রষ্টা

প্রসেনজিৎ তাঁর কথাবার্তায় বার বার উল্লেখ করেছেন প্রয়াত ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর নাম। তাঁর মতে, সৃজিত মুখোপাধ্যায় হোক বা চন্দ্রাশিস রায় — সবাই ভাল ছবি বানাতে পেরেছেন মূলত গল্পের জোরেই।

তিনি বলেছেন,

“এর সমস্ত কৃতিত্ব প্রাপ্য প্রয়াত ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের।”

কাকাবাবু ও সন্তু চরিত্র কেবল সিনেমার সৃষ্টি নয় — তারা বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। বহু প্রজন্ম ধরে পাঠক এই চরিত্রগুলির সঙ্গে বড় হয়েছেন, অভিযানে মেতেছেন, রহস্যের সমাধান করেছেন। সেই সাহিত্যিক ঐতিহ্যকেই বড়পর্দায় রূপ দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক ও অভিনেতারা।

প্রসেনজিতের মতে, গল্পের ভিত শক্ত না হলে কোনও পরিচালকের পক্ষেই এই চরিত্রকে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হত না।

চার বছর পরে বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন: কাকাবাবু-সন্তুর আবেগ

চার বছর পর বড়পর্দায় কাকাবাবু চরিত্রে ফিরেছেন প্রসেনজিৎ। এই প্রত্যাবর্তন শুধু অভিনেতার জন্য নয় — দর্শকদের কাছেও এক আবেগঘন মুহূর্ত। কাকাবাবু মানেই বুদ্ধি, সাহস, অভিযান এবং নৈতিকতার প্রতীক। সন্তুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু গোয়েন্দা-সহকারী নয় — এক ধরনের অভিভাবকত্ব ও বন্ধুত্বের মিশেল।

‘বিজয়নগরের হীরে’ সেই আবেগকেই নতুন করে পর্দায় ফিরিয়ে এনেছে। ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখে প্রসেনজিতের যে স্বস্তি, তা তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট।

এই ছবির মাধ্যমে শুধু একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির নতুন অধ্যায় শুরু হয়নি — বরং বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ছবির ধারাতেও নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

প্রসেনজিৎ: পুজোর তারকা নাকি গল্পের অভিনেতা?

দুর্গাপুজো মানেই টলিউডে বড় বাজেটের ছবি, তারকা সমাবেশ এবং বক্স অফিস প্রতিযোগিতা। বহু অভিনেতার কাছেই পুজোর ছবি মানে কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। কিন্তু প্রসেনজিৎ বার বার দেখিয়েছেন, তিনি এই চাপের বাইরে থাকতে পছন্দ করেন।

তাঁর কথায়, “তাতে যদি আমি এক বছর কাজ না-ও করি, কিচ্ছু এসে যায় না।”

এই বক্তব্যে লুকিয়ে রয়েছে এক অভিজ্ঞ শিল্পীর আত্মবিশ্বাস — যিনি জানেন, সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজ কথা বলবে। পুজোর ছবিতে থাকা বা না থাকা তাঁর কাছে সম্মানের প্রশ্ন নয় — বরং শিল্পীসত্তার সঙ্গে আপস না করার অঙ্গীকার।

তাই দেবের ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা ভবিষ্যতের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আপাতত তাঁর ফোকাস ‘বিজয়নগরের হীরে’ এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়ায়।

কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির ভবিষ্যৎ: কোন পথে এগোবে?

‘বিজয়নগরের হীরে’র সাফল্য ভবিষ্যতে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দিশা নির্ধারণ করতে পারে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে আধুনিক রূপ পাওয়া এই চরিত্র চন্দ্রাশিস রায়ের হাতে নতুন ব্যাখ্যা পাচ্ছে — যেখানে গল্প বলার ছন্দ আরও সংযত, চরিত্রের আবেগ আরও গভীর।

প্রসেনজিতের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনই এই দায়িত্ব পাকাপাকি ভাবে কার হাতে থাকবে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে চন্দ্রাশিসের প্রতি তাঁর আস্থা এবং ছবির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে তাঁকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির মূল পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

একই সঙ্গে দর্শকও অপেক্ষায় — পরবর্তী অভিযানে কাকাবাবু ও সন্তু কোন দেশে যাবে, কোন রহস্যের সমাধান করবে, আর কীভাবে বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় চরিত্র আবারও পর্দায় প্রাণ পাবে।

টলিউডে নতুন যুগের ইঙ্গিত?

এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ — ‘বিজয়নগরের হীরে’র মুক্তি, চন্দ্রাশিস রায়ের উত্থান, দেব-প্রসেনজিৎ সহযোগিতা নিয়ে জল্পনা — সব মিলিয়ে টলিউডে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

একদিকে রয়েছে অভিজ্ঞ তারকারা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের পরিচালকেরা — দু’পক্ষের মিলনেই বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নির্মিত হচ্ছে। প্রসেনজিতের মতো অভিনেতা যখন নতুন পরিচালকের উপর আস্থা রাখেন, তখন সেটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয় — বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।

Preview image