Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিজয় হজারে ট্রফির ম্যাচে জয়পুরে দর্শকদের ঘেরাও রোহিত শর্মা অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ভারত অধিনায়ক

অনুশীলন শেষে সাজঘরে ফেরার পথে হঠাৎই একদল ভক্ত মাঠে ঢুকে রোহিত শর্মাকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি দ্রুত ধাক্কাধাক্কির আকার নেয় এবং ভক্তরা সাজঘর পর্যন্ত তাঁর পিছু নেন, ফলে সাময়িকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মুম্বই দলের হয়ে বিজয় হজারে ট্রফি খেলতে গিয়ে জয়পুরে এক অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখে পড়লেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। অনুশীলন শেষে সাজঘরে ফেরার সময় হঠাৎ করেই মাঠের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ধরেন একদল অনুরাগী। ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে তাঁদের কয়েক জন সাজঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত এক নিরাপত্তাকর্মীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রোহিতকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী সোয়াই মান সিংহ স্টেডিয়ামে মুম্বই দলের অনুশীলন চলছিল। বিজয় হজারে ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন রোহিত শর্মা ও তাঁর সতীর্থরা। অনুশীলন শেষ করে রোহিত যখন ধীরে ধীরে সাজঘরের দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় মাঠের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়েন কয়েক জন অনুরাগী। প্রথমে তাঁরা রোহিতকে ঘিরে ধরে সই ও নিজের (সেলফি) তোলার অনুরোধ করতে শুরু করেন।

শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। একাধিক অনুরাগী একসঙ্গে কাছে চলে আসায় সামান্য ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। রোহিত শর্মা বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি কয়েক জন সমর্থকের অনুরোধ রাখেন, তাঁদের সই দেন এবং সংযত ভঙ্গিতেই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে ভিড় বাড়তে থাকায় দ্রুত বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর দিকে এগোচ্ছে। তিনি তখন ধীরে ধীরে ভিড় কাটিয়ে সাজঘরের দিকে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে ওই ভক্তদের কয়েক জন রোহিতের পিছু নেন এবং অবাক করার মতোভাবে সাজঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যান। সাধারণত যেখানে সাধারণ দর্শকদের প্রবেশের কোনও সুযোগ থাকে না, সেখানেই দাঁড়িয়ে তাঁরা ফের সই ও নিজের অনুরোধ জানাতে থাকেন।

এই আচরণে স্পষ্টতই বিরক্ত হন রোহিত শর্মা। যদিও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তিনি নিজের সংযম বজায় রাখেন এবং কোনও অপ্রীতিকর প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ঠিক সেই সময় এক নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে এসে ভক্তদের পথ আটকান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার পরেই রোহিতকে দ্রুত সাজঘরের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সোয়াই মান সিংহ স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অনুশীলন চলাকালীন এবং বিশেষ করে সাজঘরের আশপাশে সাধারণত বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা। সেখানে কীভাবে সাধারণ সমর্থকেরা এতটা কাছে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় গাফিলতির ইঙ্গিত। একজন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, যিনি শুধু মুম্বই দলের নয়, গোটা দেশের অন্যতম বড় তারকা, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের অন্যতম দায়িত্ব। সেখানে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোহিত শর্মাকে ঘিরে ধরেছেন একাধিক ভক্ত এবং তিনি কিছুটা অস্বস্তির মধ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্রিকেটপ্রেমী এই ভিডিও দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

তবে অন্য একটি অংশের মত, এটি রোহিত শর্মার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই তারকার প্রতি সমর্থকদের আবেগ স্বাভাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সিরিজ়ে তাঁর দুর্দান্ত ফর্ম এবং আসন্ন নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের আগে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, রোহিত শর্মা মুম্বই দলের হয়ে বিজয় হজারে ট্রফির তিনটি ম্যাচ খেলবেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে জয়পুরের ক্রিকেটপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

বিজয় হজারে ট্রফি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া এক দিনের টুর্নামেন্ট। এখানে ভালো পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার বা নিজের জায়গা পাকা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোহিতের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুম্বই দলের কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনুশীলনের সময় এবং সাজঘরের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর রোহিত শর্মা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে যে তিনি এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কিছুটা বিরক্ত হলেও বিষয়টি বড় করে দেখতে চাননি। একজন অভিজ্ঞ ও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে তিনি পরিস্থিতি সংযমের সঙ্গেই সামাল দিয়েছেন। মাঠের বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে নিজের পারফরম্যান্স বা মানসিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চাননি রোহিত। তাঁর আপাতত সম্পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে চলতি বিজয় হজারে ট্রফির ম্যাচগুলি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজ়ের দিকে।

news image
আরও খবর

মুম্বই দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার পর ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে নামা মানে নিজের ফিটনেস, ছন্দ এবং ম্যাচ প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। সেই লক্ষ্যেই রোহিত এখন মনোসংযোগ করছেন বলে জানা গিয়েছে। ভক্তদের আবেগ তিনি সম্মান করেন ঠিকই, কিন্তু মাঠ ও সাজঘরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা যে কতটা জরুরি, তা তিনি ভালোভাবেই বোঝেন।

আগামী দিনে রোহিত শর্মা নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ় খেলতে ভারতীয় শিবিরে যোগ দেবেন। এই সিরিজ় ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামনে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এক দিনের সিরিজ়ে রোহিতের ব্যাট থেকে গুরুত্বপূর্ণ রান এসেছে। চাপের মুখে দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখনও যে ভরসাযোগ্য, তা প্রমাণ করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর কাছ থেকে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স আশা করছে। অভিজ্ঞ ওপেনার হিসেবে রোহিতের ভূমিকা শুধু রান করা নয়, বরং দলের তরুণ ক্রিকেটারদের পথ দেখানোও। সেই দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি সচেতন এবং সেই লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে ফের একবার সামনে এল ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আধুনিক ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এক বিশাল বিনোদনশিল্প, যেখানে ক্রিকেটাররা হয়ে উঠেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের তারকা। তাঁদের জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই তাঁদের ঘিরে উন্মাদনাও বেড়েছে। কিন্তু এই উন্মাদনার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ঝুঁকি। জনপ্রিয়তা যত বাড়ে, নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও তত জটিল হয়ে ওঠে—এই বাস্তবতা নতুন নয়। তবে আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ফাঁক থেকেও যে কতটা বড় বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, জয়পুরের এই ঘটনা তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

ক্রিকেট মাঠে বা অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়দের ঘিরে সমর্থকদের আবেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে রোহিত শর্মার মতো একজন অভিজ্ঞ ও সফল ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এই আবেগ আরও প্রবল। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়া, একাধিক স্মরণীয় জয় উপহার দেওয়া এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার ফলে তিনি আজ কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে কাছ থেকে একবার দেখার বা একটি সই কিংবা ছবি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেকের মধ্যেই কাজ করে।

কিন্তু এই আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখনই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ক্রিকেটারদের জন্য মাঠ ও সাজঘর শুধুমাত্র কাজের জায়গা নয়, বরং এটি তাঁদের ব্যক্তিগত ও নিরাপদ পরিসর। অনুশীলনের পর ক্লান্ত শরীরে সাজঘরে ফেরার সময় যদি অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়ের মুখে পড়তে হয়, তা খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা—দুটির পক্ষেই ক্ষতিকর। জয়পুরের ঘটনায় দেখা গিয়েছে, কীভাবে ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে সাধারণ দর্শকেরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন, যেখানে তাঁদের থাকার কথা নয়।

এই ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনের বা একটি স্টেডিয়ামের সমস্যা নয়। এটি গোটা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে দেয়। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা ও একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকার কথা। মাঠ, ডাগআউট, সাজঘর এবং তার আশপাশের এলাকা—সব জায়গায়ই কড়া নজরদারি প্রয়োজন। সেখানে যদি সাধারণ দর্শকেরা অনায়াসেই ঢুকে পড়েন, তা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগ নিঃসন্দেহে এই খেলাটির প্রাণশক্তি। দর্শক ছাড়া ক্রিকেট কল্পনাই করা যায় না। গ্যালারির উল্লাস, প্রিয় ক্রিকেটারের নাম ধরে চিৎকার, জয়ের আনন্দ—সব মিলিয়েই ক্রিকেট এক আবেগঘন উৎসব। কিন্তু সেই আবেগ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তা হলে সেই উৎসবই বিপদের রূপ নিতে পারে। ক্রিকেটাররা মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে স্থির ও নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজন অনুভব করেন। নিরাপত্তার অভাব তাঁদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

এই কারণেই আবেগের সঙ্গে সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সমর্থকদেরও বুঝতে হবে যে প্রিয় ক্রিকেটারের প্রতি ভালোবাসা মানে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করা নয়। সই বা ছবি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক, কিন্তু তার জন্য নিরাপত্তা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। জয়পুরের ঘটনা এই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনার পর ক্রিকেট মহলে এবং সমর্থকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে—ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার কি না। অনেকের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটেও এখন আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক স্তরের তারকারা অংশ নেন। কারণ তাঁদের উপস্থিতিতে দর্শকদের সংখ্যা ও আবেগ—দুটিই অনেক বেশি থাকে।

বোর্ড ও আয়োজকদের তরফে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আরও কড়া ও সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি উঠছে। শুধু নিরাপত্তার সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দরকার সঠিক পরিকল্পনা, স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত নজরদারি। স্টেডিয়ামের কোন এলাকায় কে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কোন এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এই বিষয়গুলি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

কারণ ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়। এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বৃহৎ সংস্কৃতি। এই খেলাকে ঘিরে মানুষের স্বপ্ন, আনন্দ, গর্ব ও পরিচয়—সবকিছুই জড়িয়ে আছে। সেই আবেগকে সুরক্ষিত রাখা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনই সমর্থকদেরও দায়িত্ব রয়েছে সচেতন ও সংযত আচরণ করার। প্রিয় ক্রিকেটারের প্রতি সম্মান দেখানোর সবচেয়ে বড় উপায় হল তাঁর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা।

জয়পুরের ঘটনা তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে ক্রিকেট মাঠে আবেগ ও উন্মাদনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পায়।

Preview image