Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

RBI গভর্নর: এক দশকে ভারতের ব্যাংকিং খাত হয়েছে আরও পরিপক্ব ও শক্তিশালী

RBI গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা: “ভারতের ব্যাংকিং খাত এখন আরও পরিপক্ব ও শক্তিশালী” ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Reserve Bank of India (RBI)-এর গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা জানিয়েছেন যে, দেশের ব্যাংকিং খাত গত এক দশকে গুণগতভাবে অনেক পরিপক্ব হয়েছে। তিনি বলেন, “আজকের ব্যাংকগুলো শুধু বড় নয়, বরং ঝুঁকি-সহনশীল, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।” মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত SBI Banking & Economics Conclave 2025-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মলহোত্রা বলেন, “২০১৪ সালের তুলনায় এখন ভারতীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন, সম্পদমান ও লাভজনকতা সবদিক থেকেই উন্নত।” তিনি উল্লেখ করেন, NPA (Non-Performing Assets) ১০%-এর উপরে থেকে নেমে এখন ৩%-এর নিচে, এবং Capital Adequacy Ratio (CRAR) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন — বিশেষত UPI ও RuPay প্ল্যাটফর্ম — দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে এক নতুন বিপ্লব এনেছে। গত দশ বছরে বড় ব্যাংক একত্রীকরণ, Prompt Corrective Action (PCA) নীতি ও Asset Quality Review (AQR) চালুর ফলে ব্যাংকগুলির আর্থিক স্থিতিশীলতা অনেক বেড়েছে। RBI-র কৌশলগত নজরদারি ও রেগুলেশন এখন ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। মলহোত্রা বলেন, “আজ ভারতের ব্যাংকিং খাত বিশ্বমানের। আমাদের ব্যাংক এখন শুধু আমানত গ্রহণ বা ঋণ প্রদান করছে না, বরং বিনিয়োগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।” তবে RBI গভর্নর সতর্ক করেছেন, “ব্যাংকগুলিকে আত্মতুষ্টিতে ভোগা চলবে না। ফিনটেক ঝুঁকি, সাইবার সিকিউরিটি, ও ডেটা প্রাইভেসি এখন নতুন চ্যালেঞ্জ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ব্যাংকিং সেক্টরের এই উত্থান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়েছে। ব্যাংকিং খাত এখন আর কেবল অর্থনৈতিক সেবা নয়, বরং ভারতের উন্নয়নযাত্রার মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে।

এক দশকে বদলে গেছে ভারতের ব্যাংকিং খাত — RBI গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা

ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা আজ থেকে দশ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী, পরিপক্ব ও দায়িত্ববান — এমনটাই দাবি করেছেন Reserve Bank of India (RBI)-এর গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা।
তিনি শুক্রবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত SBI Banking & Economics Conclave 2025-এ বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “আজকের ভারতীয় ব্যাংকগুলি শুধু বড় নয়, আরও বেশি পরিপক্ব ও ঝুঁকি-সহনশীল হয়ে উঠেছে।”


এক দশকের ব্যাংকিং রূপান্তর

মলহোত্রা বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের ব্যাংকিং সেক্টরে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে।

  • ব্যাংক একত্রীকরণ ও সংযুক্তি (Mergers & Consolidations) ব্যাংকগুলিকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করেছে।

  • NPA (Non-Performing Assets)-এর হার ১০%-এর বেশি থেকে নেমে এখন ৩%-এর নিচে এসেছে।

  • Capital Adequacy Ratio (CRAR) আগের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলা ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

  • ডিজিটাল পেমেন্ট, UPI ও অনলাইন ব্যাংকিং ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।

মলহোত্রা বলেন, “আজ ভারতের ব্যাংকিং খাত বিশ্বে অন্যতম স্থিতিশীল। আমরা এখন আর দুর্বল ব্যাংকের নয়, শক্তিশালী ব্যাংকের যুগে প্রবেশ করেছি।”


রিজার্ভ ব্যাংকের সংস্কার ও ফলাফল

গত এক দশকে RBI একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে —

এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরে এসেছে এবং সাধারণ আমানতকারীর সুরক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে।


মলহোত্রার মন্তব্য: “Stronger, Smarter, Sustainable Banks”

গভর্নর মলহোত্রা বলেন, “ভারতের ব্যাংকিং খাত এখন শুধু বড় নয়, স্মার্টও হয়েছে। আমরা প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে একই প্ল্যাটফর্মে এনেছি।”
তিনি জানান, ভারতের ব্যাংকগুলো এখন ESG (Environmental, Social & Governance) মডেল অনুসরণ করছে, যেখানে সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “এক দশক আগে ব্যাংকগুলো মূলত ঋণ বিতরণের দিকে মন দিত। আজ তারা বিনিয়োগ, ডিজিটাল সার্ভিস ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতেও সমান দক্ষ।”


ডিজিটাল রূপান্তরের ভূমিকা

২০১৬-তে শুরু হওয়া ডিজিটাল পেমেন্ট বিপ্লব (UPI) এখন ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে।
২০২5 সালে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ট্রানজাকশন প্রতি মাসে গড়ে ১২,০০০ কোটি টাকা অতিক্রম করছে।
UPI, IMPS, AEPS ও RuPay প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অংশের মানুষ সহজে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে।

মলহোত্রা বলেন, “ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ব্যাংকিং সেক্টরকে শুধু স্বচ্ছই করেনি, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে বিপ্লব এনেছে।”


চ্যালেঞ্জ এখনও আছে

তবে RBI গভর্নর সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি বলেন —

  • “NPA কমেছে ঠিকই, কিন্তু ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট ঋণ ও ভোক্তা ঋণ সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

  • “সাইবার সিকিউরিটি, ফিনটেক ঝুঁকি এবং গ্রাহক ডেটা সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।”

  • “ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং-এর সঙ্গে সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দায়িত্বও রক্ষা করা জরুরি।”


ভারতের ব্যাংকিং খাত: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ভারতের ব্যাংকিং খাত এখন শক্তিশালী অবস্থানে।
IMF ও World Bank রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ব্যাংকিং সিস্টেম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল এবং দ্রুতবর্ধনশীল ব্যবস্থাগুলির একটি।
দেশের ব্যাংকগুলো এখন আন্তর্জাতিকভাবে ‘Investment Grade’ হিসেবে স্বীকৃত।

মলহোত্রা বলেন, “আমাদের ব্যাংকগুলো এখন বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। ভারত আজ ‘Borrower’-এর নয়, ‘Lender’-এর দেশে পরিণত হচ্ছে।”

Preview image