ভারতের অর্থনীতি আগের আশঙ্কার চেয়ে ভালো অবস্থায় — জানালেন সিইএ নাগেশ্বরন ভারতের অর্থনীতি এখন আগের আশঙ্কার তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে — এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. আনন্দ নাগেশ্বরন (V. Anantha Nageswaran)। তিনি বলেন, “দুই মাস আগেও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছু ভয় ছিল, কিন্তু তথ্যপ্রমাণ বলছে — আমরা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো করছি।” নাগেশ্বরনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৫% থেকে ৬.৭% এর মধ্যে স্থিতিশীলভাবে বজায় রয়েছে। শিল্প উৎপাদন, কর আদায়, বিদ্যুৎ খরচ, এবং ভোক্তা ব্যয়ের বৃদ্ধিই এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মূল ভিত্তি। তিনি জানান, “অর্থনৈতিক গতি এখন স্থিতিশীল। ব্যাংকগুলির ব্যালান্স শিট শক্তিশালী, ঋণ বৃদ্ধি সন্তোষজনক, এবং ভোক্তাদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে।” বৈশ্বিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি এখন ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর পথে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার এবং চীনের মন্থর প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারত টিকে আছে এক শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভিত্তিতে।
ভারতের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশ নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে। দুই মাস আগেও যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, তা এখন অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে — এমনটাই জানালেন দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (Chief Economic Adviser – CEA) ভি. আনন্দ নাগেশ্বরন (V. Anantha Nageswaran)।
বুধবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক আর্থিক সম্মেলনে নাগেশ্বরন বলেন,
“দুই মাস আগে আমরা ভেবেছিলাম, ভারতের বৃদ্ধির গতি হয়তো কিছুটা ধীর হবে। কিন্তু তথ্যপ্রমাণ বলছে, অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছে।”
নাগেশ্বরনের মতে, ভারতের অর্থনীতি এখন “মধ্যম কিন্তু স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে” এগোচ্ছে। তিনি জানান, দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৬.৫ থেকে ৬.৭ শতাংশের মধ্যে বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য উন্নত।
“গত কয়েক মাসে শিল্প উৎপাদন, কর আদায়, ভোগ্যপণ্য বিক্রি এবং বিদ্যুৎ খরচ — সব ক্ষেত্রেই উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মানে হলো, দেশীয় চাহিদা এখনো শক্তিশালী,” — বলেন নাগেশ্বরন।
তিনি আরও জানান, ভারতের আর্থিক ব্যবস্থা এখন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল। ব্যাংকগুলির ব্যালান্স শিট শক্তিশালী, অনাদায়ী ঋণ (NPA) কমেছে এবং ক্রেডিট বৃদ্ধির হার ১৫% অতিক্রম করেছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে — ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার পরিবর্তন, চীনের প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা — এই সবকিছুর মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে টিকে আছে।
নাগেশ্বরন বলেন,
“বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও, ভারতের অর্থনীতি ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর পথে রয়েছে। অর্থাৎ, বড় ধাক্কা ছাড়াই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার, সেবা খাতের বৃদ্ধি, এবং সরকারের অবকাঠামো বিনিয়োগই এই স্থিতিশীলতার মূল কারণ।
CEA নাগেশ্বরন বলেন, “বেসরকারি বিনিয়োগ এখন ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, এবং সরকারী প্রকল্পগুলি সেই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে।”
কেন্দ্রীয় বাজেট অনুযায়ী ২০২৫ অর্থবছরে অবকাঠামো খাতে ₹১১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নির্মাণ, রেল, সড়ক ও শক্তি খাতে কর্মসংস্থান এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা ব্যয় (Consumption Demand) এখন ভারতের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে পণ্য বিক্রি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত।
নাগেশ্বরন উল্লেখ করেন, ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি।
IMF ও বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই FY26-এর জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৮% নির্ধারণ করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে দেশের আর্থিক নীতি “স্থির ও বাস্তবসম্মত” রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভারত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে এবং রুপির স্থিতিশীলতা বজায় আছে — যা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে।”
যদিও অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় আছে, নাগেশ্বরন সতর্ক করে দিয়েছেন যে কিছু ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
বৈদেশিক চাহিদার ওঠানামা
এই বিষয়গুলো ভারতের আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য ঘাটতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে তিনি আশাবাদী সুরে বলেন,
“ভারতের আর্থিক ভিত্তি এখন আগের চেয়ে অনেক শক্ত। এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আমাদের নীতিগত জায়গা পর্যাপ্ত আছে।”
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাগেশ্বরনের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতের অর্থনীতি এখনো ‘সুব্যবস্থাপিত প্রবৃদ্ধি’-র পথে রয়েছে।
দুই মাস আগের যেসব ভয় ছিল — রপ্তানিতে মন্থরতা, চাহিদা হ্রাস, বা বাজেট ঘাটতির চাপ — সেগুলি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি বলেন,
“ভারতের অর্থনীতি স্থিরভাবে এগোচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক প্রবৃদ্ধির মডেল তৈরি করা, যা স্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।”
এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা এবং প্রমাণ করছে যে ভারত এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলছে।