প্যানাসনিক ইন্ডিয়া: জাপানি শিকড়, ভারতীয় পরিচয়ের নতুন অধ্যায় নয়াদিল্লি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও নামকরা ব্র্যান্ড প্যানাসনিক এখন ভারতে এক নতুন পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরছে। সংস্থার চেয়ারম্যান মনীশ শর্মা জানিয়েছেন, “আজ প্যানাসনিক ইন্ডিয়া কেবল জাপানি কোম্পানির ভারতীয় শাখা নয়, বরং ভারতের জন্য গড়ে ওঠা একটি ভারতীয় কোম্পানি — যার মূল জাপানে।” গত এক দশকে প্যানাসনিক ইন্ডিয়া সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা হিসেবে নয়, এখন তারা স্মার্ট সিটি, এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, অটোমেশন ও ডিজিটাল সলিউশনসের মতো খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। শর্মা বলেন, “আমরা এখন পণ্য বিক্রি করি না, আমরা সমাধান দিই।” ‘Make in India’ থেকে ‘Made for India’ — এই নীতিতেই সংস্থা এখন কাজ করছে। গুরুগ্রাম, সুরজপুর ও হরিদ্বারের ইউনিট থেকে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য। এখান থেকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। প্যানাসনিকের দুটি প্রধান খাত এখন সামনে এসেছে: কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স (টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর) এবং স্মার্ট ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস। কোম্পানির অনুমান, শুধুমাত্র স্মার্ট ফ্যাক্টরি ব্যবসা থেকেই আগামী কয়েক বছরে ₹২,০০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি হতে পারে। মনীশ শর্মা ২০২৫ সালের শেষে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাচ্ছেন, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন তাদাশি চিবা। শর্মার নেতৃত্বেই কোম্পানি ভারতের বাজারে “Indian company with Japanese roots” হিসেবে নতুন পরিচয় পেয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন — যেখানে কর্মীরা এখন সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজেদের মালিক মনে করে।” ভবিষ্যতে কোম্পানি ক্লিন এনার্জি, ইলেকট্রিক ভেহিকল ব্যাটারি, স্মার্ট হোম ও ডেটা-ড্রিভেন সার্ভিসে জোর দেবে। স্থানীয় স্টার্টআপদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্যানাসনিক ইন্ডিয়া আগামী দশকে “Japanese Roots, Indian Wings” মডেলের অন্যতম উদাহরণ হতে চলেছে।
প্যানাসনিক ইন্ডিয়া: জাপানি মূল থেকে ভারতীয় পরিচয়ে—এক নতুন কর্পোরেট যাত্রা
নয়াদিল্লি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — “আমরা এখন শুধু জাপানের একটি কোম্পানির ভারতীয় শাখা নই, বরং একটি ভারতীয় কোম্পানি যার মূল জাপানে।” — এই মন্তব্যই এখন প্যানাসনিক ইন্ডিয়ার নতুন আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এমনই বলেছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মনীশ শর্মা (Manish Sharma), যিনি দীর্ঘ এক দশক ধরে কোম্পানির রূপান্তরের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
Panasonic Corporation-এর ভারতীয় শাখা আজ তার কর্পোরেট রূপ সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলেছে। একসময় শুধুমাত্র ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের জন্য পরিচিত এই কোম্পানি এখন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে B2B (বিজনেস টু বিজনেস), ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস, এবং স্মার্ট টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন-এর দিকে।
মনীশ শর্মা বলেন,
“আমরা কেবল টিভি বা ফ্রিজ বিক্রি করছি না; আমরা এখন স্মার্ট সিটি, এনার্জি ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল অটোমেশন নিয়ে কাজ করছি। এটা কনজিউমার প্রোডাক্ট থেকে সলিউশন-ড্রিভেন বিজনেসে রূপান্তর।”
এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বাজারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িকভাবে গভীর সংযোগ স্থাপন করা। শর্মা মনে করেন, প্যানাসনিক এখন এমন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে কর্মচারীরা ভারতীয় হিসেবে গর্ববোধ করেন, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা বেড়েছে।
প্যানাসনিক ইন্ডিয়া গত কয়েক বছরে ভারত সরকারের “Make in India” উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে।
গুরুগ্রাম, হরিদ্বার, সুরজপুর এবং চেন্নাইয়ের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলো এখন শতভাগ স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। শুধু দেশীয় বাজার নয়, এখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।
কোম্পানিটি এখন “Made in India, Made for India” নীতিতে কাজ করছে — অর্থাৎ ভারতীয় বাজারের জন্য তৈরি পণ্যগুলিকে স্থানীয় গ্রাহকের জীবনধারা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন করা হচ্ছে।
প্যানাসনিক ইন্ডিয়া আজ কেবল একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি নয়। এটি দ্রুত পরিণত হচ্ছে একটি ইন্টিগ্রেটেড টেকনোলজি সলিউশনস কোম্পানি-তে।
সংস্থার এখন দুটি বড় ব্যবসা বিভাগ:
Consumer Electronics: টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি।
Smart Factory & Industrial Solutions: অটোমেশন, রোবোটিক্স, এনার্জি স্টোরেজ, ও ডিজিটাল কন্ট্রোল সিস্টেম।
মনীশ শর্মা জানান, স্মার্ট ফ্যাক্টরি সলিউশনস সেগমেন্ট আগামী কয়েক বছরে ₹১,০০০–২,০০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি করতে পারে। ভারতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য প্যানাসনিক এই প্রযুক্তি-সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মনীশ শর্মা তাঁর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাচ্ছেন, এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন তাদাশি চিবা (Tadashi Chiba)। তবে শর্মার নেতৃত্বেই প্যানাসনিক ইন্ডিয়া ভারতের অন্যতম সফল ম্যানুফ্যাকচারিং-নির্ভর জাপানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
তাঁর মেয়াদকালে কোম্পানির বার্ষিক রাজস্ব দ্বিগুণের বেশি হয়েছে, এবং প্যানাসনিক ভারতের কর্পোরেট সংস্কৃতিতে “ইন্ডিয়ান ইমোশন” এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমার সবচেয়ে বড় অর্জন পণ্য বিক্রি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন — যেখানে কর্মীরা নিজেদের মালিক মনে করেন, সিদ্ধান্ত নেন, এবং কোম্পানির প্রতি দায়িত্ব অনুভব করেন।”
নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্যানাসনিক ইন্ডিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে চায়।
ক্লিন এনার্জি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি, স্মার্ট হোম সলিউশনস, এবং ডেটা-ড্রিভেন সার্ভিস হবে আগামী ৫ বছরের মূল ফোকাস।
কোম্পানি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ভারতীয় স্টার্টআপের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে, যাতে স্থানীয় উদ্ভাবনকে প্যানাসনিকের বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানাসনিক ইন্ডিয়ার এই রূপান্তর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
একদিকে তারা জাপানি মান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ভারতীয় ব্যবসার দ্রুত গতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।
এই মডেলকে বলা হচ্ছে “Japanese Roots, Indian Wings” — যেখানে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ দুই-ই একে অপরকে সমৃদ্ধ করছে।