আগামী কয়েক বছরে বাড়ির দাম বাড়বে বছরে ৫-১০% — বলছে CII রিপোর্ট ভারতের রিয়েল এস্টেট খাতে আসছে আশার খবর। শিল্প সংগঠন CII (Confederation of Indian Industry) এবং কনসালট্যান্সি সংস্থা Colliers India-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে দেশে আবাসনমূল্য বছরে গড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ ইউনিট বাড়ি বিক্রি হয়, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ লক্ষ ইউনিটে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে আয় বৃদ্ধি, শহরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং প্রিমিয়াম হাউজিংয়ের বাড়তি চাহিদা। বর্তমানে ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজারের আকার প্রায় ০.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগামী দুই দশকের মধ্যে বেড়ে ৫ থেকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। শুধু মেট্রো শহর নয়, এবার টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলিতেও বিনিয়োগ ও হাউজিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন রাস্তাঘাট, এক্সপ্রেসওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পের মতো উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এই বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম এখন স্মার্ট, সাস্টেইনেবল ও প্রিমিয়াম বাড়ির দিকে ঝুঁকছে, যা বাজারে বৈচিত্র্য আনছে। তবে চ্যালেঞ্জও আছে — বাড়ির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি কমে যেতে পারে। নির্মাণসামগ্রীর দাম ও জমির অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতাও বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। তবু, বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি নির্ভর রিয়েল এস্টেটের বিকাশের ফলে ভারতের আবাসন বাজার আগামী ২০ বছরে বিশ্বের অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হতে পারে। সব মিলিয়ে, CII রিপোর্ট বলছে— ভারতীয় রিয়েল এস্টেট সেক্টর এখন স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময়। ক্রেতা, নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি হতে পারে এক সুবর্ণ সময়।
ভারতের রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন আশার সঞ্চার। শিল্প সংগঠন CII (Confederation of Indian Industry) ও প্রপার্টি কনসালট্যান্ট Colliers India-র যৌথ রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে দেশের আবাসনমূল্য বছরে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয় বৃদ্ধি, শহরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রিমিয়াম হাউজিং চাহিদার কারণে এই বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। বর্তমানে ভারতে প্রতিবছর প্রায় ৩-৪ লাখ ইউনিট বাড়ি বিক্রি হয়, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে বেড়ে ১০ লাখ ইউনিটে পৌঁছতে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের রিয়েল এস্টেট মার্কেটের আকার বর্তমানে ০.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ৫ থেকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ভারতের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এখন দেশজুড়ে নতুন ‘গ্রোথ করিডর’ বা বিকাশ-পথ তৈরি করছে। শুধুমাত্র মেট্রো শহর নয়, বরং টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতেও হাউজিং সেক্টর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি হরলিন কৌর বলেছেন, “ভারতের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপ্যানশন এখন রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে এক নতুন রূপ দিচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ও ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (TOD) প্রকল্পগুলো জমির ব্যবহার ও নগর উন্নয়নকে রূপান্তর করছে।”
আয় বৃদ্ধি ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিস্তার:
মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয়ের বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় হাউজিংয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
শহরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
নতুন সড়ক, মেট্রো ও এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পগুলো ছোট শহরগুলোকে বিনিয়োগের দিক থেকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।
নীতিগত সহায়তা ও সরকারী প্রকল্প:
প্রধানমন্ত্রী আওয়াস যোজনা (PMAY) ও স্মার্ট সিটি প্রকল্পের মতো সরকারি পদক্ষেপগুলি আবাসন বাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রিমিয়াম ও সাস্টেইনেবল হাউজিংয়ের উত্থান:
পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর বাড়ির চাহিদা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বাড়ির সরবরাহ প্রায় ৩০% কমে ৮২,০২৭ ইউনিটে নেমেছে, যা আগে ছিল ১,১৭,০০০ ইউনিট। এই ঘাটতি ভবিষ্যতে মূল্যের বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (RERA)-র নীতি প্রয়োগ সঠিকভাবে হয়, তবে আগামী ৫-১০ বছরে হাউজিং মার্কেটে এক নতুন উত্থান দেখা যাবে।
রিয়েল এস্টেট এখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসছে।
বাড়ির দামে ৫-১০% বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়মিত রিটার্নের সুযোগ তৈরি করছে।
টিয়ার-২ শহরগুলোতে যেমন ইন্দোর, নাগপুর, কোয়েম্বাটুর, গৌহাটি, ভুবনেশ্বর, দুর্গাপুর ইত্যাদি জায়গায় বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে।
রেন্টাল ইনকামের ক্ষেত্রেও উন্নতির সম্ভাবনা প্রবল, কারণ অফিস স্পেস ও হোম ওয়ার্কিং ট্রেন্ডে চাহিদা বাড়ছে।
যদিও সম্ভাবনা বিশাল, তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে—
আবাসনের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের শ্রেণির নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
নির্মাণ সামগ্রীর দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রকল্প খরচ বাড়াচ্ছে।
কিছু অঞ্চলে জমি সংক্রান্ত নীতি বা অনুমোদনের জটিলতা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য পরীক্ষা করছে।
তবে সরকার এবং রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
রিপোর্টের মূল বার্তা স্পষ্ট — ভারতের আবাসন বাজার এখন আর কেবল বড় শহরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন করে উজ্জীবিত হচ্ছে টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোয়।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতে আবাসন বিক্রয়ের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে এবং শহরগুলোর আকার ও গুণমান উভয়ই উন্নত হবে।