Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তিন বছর পর মুক্তি, তবু কাঁচির ঘা! অনুরাগের ‘কেনেডি’ নিয়ে সেন্সরের চমক

প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মুক্তি পেল অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ছবি কেনেডি। তবে মুক্তির আগেই আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড কিছু সংলাপ ও দৃশ্যে কাঁচি চালিয়ে তবেই মিলেছে ছাড়পত্র। কাটছাঁট ঘিরে নতুন করে চর্চায় ছবিটি।

তিন বছর পর মুক্তি, তবু কাঁচির ঘা! অনুরাগের ‘কেনেডি’ নিয়ে সেন্সরের চমক
বিনোদন

দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষা, বিতর্ক আর অবশেষে মুক্তি

২০২৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর থেকেই চর্চায় ছিল অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ছবি ‘কেনেডি’। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা, সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং দর্শকদের কৌতূহল—সব মিলিয়ে ছবিটি যেন মুক্তির আগেই এক আলাদা মর্যাদা পেয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।

কলকাতায় যখন ছবিটি প্রদর্শিত হয় Kolkata International Film Festival-এ, তখনও ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনুরাগের অনুরাগীরা ভেবেছিলেন, খুব শিগগিরই হয়তো বড়পর্দায় দেখা যাবে এই ছবি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। উৎসবের আলোচনার পরেও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল ছবিটির ভারতীয় মুক্তি।


মুক্তির পথে সেন্সরের কাঁচি

ভারতে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে শেষ সিদ্ধান্ত নেয় Central Board of Film Certification (সিবিএফসি)। সূত্রের খবর, ছবিটিকে ‘এ’ শংসাপত্র দেওয়া হলেও একাধিক কাটছাঁটের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় কিছু সংলাপ ও উল্লেখকে ঘিরে। ছবিতে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের আপত্তির জেরে সেই নাম বাদ দিতে হয়। পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় ‘পাকিস্তানি ডন’ শব্দবন্ধ।

এছাড়াও মার্কিন রাজনীতিবিদ Donald Trump-এর নাম সরিয়ে তার জায়গায় ব্যবহার করা হয় বিকল্প শব্দ ‘পাম্প ট্রাম্প’। একটি নির্দিষ্ট আপত্তিকর শব্দও বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বোর্ডের মতে, সংলাপের কিছু অংশ সরাসরি রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল প্রসঙ্গকে উসকে দিতে পারে।

এই কাটছাঁট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত একটি ছবির ক্ষেত্রে দেশে এত কড়াকড়ি কেন?


ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ

ছবির বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের তরফে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগও ওঠে। যদিও ছবির নির্মাতারা বারবার জানিয়েছেন, ছবির মূল বিষয় মানবিক সংকট, অপরাধজগতের মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব—কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়।

তবুও অভিযোগের জেরে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। মুক্তির দিন পিছিয়ে যায় বারবার। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো ছবিটি আদৌ ভারতীয় দর্শকের সামনে আসবে না।


অনুরাগের হতাশা

এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সময়ে প্রকাশ্যে হতাশার কথা জানিয়েছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি মানসিকভাবে ‘কেনেডি’ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে এনেছেন। ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনও প্রত্যাশা রাখেন না বলেও জানান।

ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ নিয়ে তাঁর হতাশার কথাও উঠে আসে সেই সময়ে। স্বাধীনধারার ছবির জন্য যে পরিসর থাকা উচিত, তা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে—এমন মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হলেও দেশে মুক্তির ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অনুরাগের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়—ভারতে কি স্বাধীন ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ছবির জায়গা ক্রমশ কমছে?


ওটিটি—শেষ ভরসা

অবশেষে বড়পর্দা নয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মেই মুক্তি পায় ‘কেনেডি’। গত কয়েক বছরে ওটিটি ভারতের চলচ্চিত্রবাজারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। যে সব ছবি প্রেক্ষাগৃহে নানা কারণে আটকে যায়, সেগুলির জন্য ওটিটি হয়ে উঠেছে বিকল্প পথ।

‘কেনেডি’র ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সেন্সরের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে ছবিটি ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে দর্শকদের।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—যে ছবি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অপরিবর্তিত রূপে দেখানো হয়েছে, দেশে তার ভাষা ও সংলাপে পরিবর্তন কেন?


ছবির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট

‘কেনেডি’ মূলত এক মানসিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত মানুষের গল্প। অপরাধ, অপরাধবোধ, ক্ষমতা ও আত্মপরিচয়ের জটিল সমীকরণ ছবির কেন্দ্রে। অনুরাগ কাশ্যপের স্বভাবসিদ্ধ অন্ধকার আবহ, বাস্তববাদী চিত্রনাট্য এবং তীক্ষ্ণ সংলাপ ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।

আন্তর্জাতিক সমালোচকেরা ছবির ভিজ়ুয়াল টোন, অভিনয় এবং আবহসংগীতের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ছবির মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন উৎসবে।

ভারতীয় দর্শকদের একাংশের মতে, এমন ছবিই মূলধারার বাইরে অন্যরকম সিনেমার চর্চা জিইয়ে রাখে।


উৎসবের মঞ্চ থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার সময় ‘কেনেডি’কে অনেকেই অনুরাগ কাশ্যপের কেরিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখেছিলেন। ছবির ন্যারেটিভ গঠন, আলো-ছায়ার ব্যবহার এবং চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ভাঙন—সব মিলিয়ে এটি ছিল মূলধারার হিন্দি ছবির চেনা ছক ভাঙার চেষ্টা।

উৎসবমুখর পরিবেশে ছবিটি যে স্বাধীনভাবে প্রদর্শিত হয়েছে, সেটাই অনেকের কাছে প্রমাণ ছিল—এই সিনেমা বৈশ্বিক পরিসরে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ভারতীয় মুক্তির ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হল, তা আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ভারতীয় সেন্সর ব্যবস্থায় রাজনৈতিক উল্লেখ বরাবরই স্পর্শকাতর। বাস্তব ব্যক্তিত্বের নাম বা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ থাকলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। ‘কেনেডি’র ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


সেন্সর ও শিল্প—ঐতিহাসিক টানাপোড়েন

ভারতে সেন্সর বোর্ড ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে টানাপোড়েন নতুন নয়। বহু ছবিই অতীতে কাটছাঁট, নিষেধাজ্ঞা বা বিলম্বের মুখে পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘কেনেডি’কে দেখা যেতে পারে।

সেন্সরের মূল যুক্তি সাধারণত জনস্বার্থ ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখা। কিন্তু শিল্পীদের বক্তব্য—সিনেমা সমাজের আয়না; বাস্তবের উল্লেখ মুছে দিলে শিল্প অসম্পূর্ণ হয়ে যায়।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে একটাই প্রশ্ন—শিল্পের স্বাধীনতা কতটা সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত?


ওটিটি বনাম প্রেক্ষাগৃহ

গত দশকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ভারতীয় দর্শকসংস্কৃতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সেন্সর প্রক্রিয়া থাকলেও প্রেক্ষাগৃহের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়। ফলে বহু নির্মাতা এখন ওটিটি-কে বিকল্প নয়, বরং সমান্তরাল মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।

‘কেনেডি’র মুক্তি সেই প্রবণতাকেই জোরদার করে। যদিও নির্মাতার স্বপ্ন ছিল বড়পর্দায় দর্শকের সামনে আসা, তবুও ওটিটি-র মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে।


দর্শকের চোখে ‘কেনেডি’

ছবিটি দেখার পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া নানা রকম। কেউ বলছেন, এটি অনুরাগের স্বাক্ষরধর্মী কাজ—অন্ধকার, তীক্ষ্ণ এবং অস্বস্তিকর। কেউ আবার মত দিয়েছেন, কিছু অংশে সম্পাদনার ছাপ স্পষ্ট।

তবে একটা বিষয়ে সবাই একমত—এই ছবি নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সেন্সর বিতর্ক ছবিটিকে আরও আলোচনায় এনে দিয়েছে।

‘কেনেডি’ কেবল একটি সিনেমা নয়; এটি সমকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্র-রাজনীতির এক প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক প্রশংসা, দেশীয় জটিলতা, সেন্সরের কাঁচি, ধর্মীয় বিতর্ক—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক কেস স্টাডি।

news image
আরও খবর

শিল্প, রাজনীতি ও সমাজ—এই তিনের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে ‘কেনেডি’ আমাদের ভাবতে বাধ্য করে।

নির্মাণ প্রক্রিয়া ও সৃজনদর্শন

‘কেনেডি’ কেবল একটি থ্রিলার বা অপরাধকাহিনি নয়, এটি মূলত এক ব্যক্তির অন্তর্লোকের ভাঙাগড়ার গল্প। অনুরাগ কাশ্যপ বরাবরই চরিত্রকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণে বিশ্বাসী। তাঁর ছবিতে বাহ্যিক ঘটনার চেয়ে মানসিক টানাপোড়েন বেশি গুরুত্ব পায়। ‘কেনেডি’-তেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ছবির কেন্দ্রে থাকা চরিত্রটি একদিকে ক্ষমতার ছায়ায় বাস করে, অন্যদিকে নিজের অতীত ও অপরাধবোধের সঙ্গে লড়াই করে। এই দ্বৈততা ছবির চিত্রনাট্যে বারবার ফিরে আসে। আলো-ছায়ার ব্যবহার, নৈঃশব্দ্যের মুহূর্ত, দীর্ঘ শট—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ঘন, অস্বস্তিকর আবহ।

অনুরাগের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই ছবিটি তিনি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভব থেকে তৈরি করেছেন। তাই ছবির মুক্তি আটকে যাওয়ায় তাঁর হতাশা আরও গভীর হয়েছিল। কারণ, একজন নির্মাতার কাছে তাঁর কাজ কেবল পণ্য নয়—এটি তাঁর অভিব্যক্তি, তাঁর অবস্থান।


রাজনৈতিক উল্লেখ ও প্রতীকী ভাষা

ছবিতে বাস্তব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ থাকলেও, অনেক বিশ্লেষকের মতে সেগুলি ছিল প্রতীকী। সরাসরি কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়, বরং ক্ষমতার চরিত্র, বিশ্বরাজনীতি এবং অপরাধজগতের আন্তঃসম্পর্ককে বোঝানোর জন্যই এই উল্লেখ।

কিন্তু সেন্সর বোর্ডের দৃষ্টিতে এমন উল্লেখ সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা বিতর্কিত অপরাধজগতের নাম এলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রাখা হয়। ফলে নির্মাতার শিল্পীসত্তা ও প্রশাসনিক সতর্কতার মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়।

এই সংঘাত নতুন নয়। বরং সমকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রে এটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


আন্তর্জাতিক প্রশংসা বনাম দেশীয় জটিলতা

‘কেনেডি’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার সময় সমালোচকেরা ছবির ভিজ্যুয়াল ভাষা ও অভিনয়ের প্রশংসা করেন। বিদেশি সমালোচকদের মতে, এটি ভারতীয় নয়া-নোয়ার ধারার একটি শক্তিশালী উদাহরণ।

তবে দেশে মুক্তির ক্ষেত্রে যে বাধা এল, তা অনেকের কাছে বিস্ময়কর। একই ছবি বিদেশে গ্রহণযোগ্য হলেও দেশে কেন প্রশ্নের মুখে? এর উত্তরে কেউ বলেন, প্রতিটি দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। আবার কেউ মনে করেন, শিল্পের ভাষা সার্বজনীন—তাই এই দ্বৈত মানদণ্ড প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এই দ্বন্দ্বই ‘কেনেডি’-কে কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি আলোচ্য বিষয় করে তুলেছে।


ওটিটি-র নতুন দর্শকসংস্কৃতি

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানের ফলে দর্শক এখন অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় কনটেন্টের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। মূলধারার বাইরের গল্প, পরীক্ষামূলক নির্মাণ, অন্ধকার বা রাজনৈতিক সুর—সবই এখন হাতের মুঠোয়।

‘কেনেডি’ সেই নতুন দর্শকসংস্কৃতির অংশ। প্রেক্ষাগৃহে হয়তো যে দর্শকসংখ্যা সীমিত থাকত, ওটিটি-তে তা বহুগুণ বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে এমন বিষয়ভিত্তিক ছবিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এছাড়া ওটিটি-র অ্যালগরিদমিক সুপারিশ পদ্ধতি নতুন দর্শকের কাছে ছবিকে পৌঁছে দিচ্ছে, যা প্রেক্ষাগৃহের নির্দিষ্ট শো-টাইমের সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের বিস্তার

ছবিটি মুক্তির পর সামাজিক মাধ্যমে ফের আলোচনায় আসে সেন্সর বিতর্ক। কেউ প্রশ্ন তোলেন, নাম পরিবর্তন বা শব্দ বাদ দিলে কি ছবির সারবত্তা কমে যায়? আবার কেউ মনে করেন, যদি গল্পের মূল কাঠামো অটুট থাকে, তবে এই পরিবর্তন ততটা ক্ষতিকর নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ছবির প্রচারও এক অর্থে বেড়ে যায়। অনেকেই কৌতূহলবশত ছবিটি দেখেছেন—বিতর্কের উৎস কী তা বোঝার জন্য।

এভাবে ‘কেনেডি’ হয়ে উঠেছে সমকালীন ডিজিটাল সংস্কৃতিরও অংশ।


স্বাধীন সিনেমার ভবিষ্যৎ

অনুরাগ কাশ্যপ দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীন ও বিকল্প ধারার সিনেমার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন নয়; এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার মাধ্যম।

‘কেনেডি’-র মুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা সেই বৃহত্তর প্রশ্নকেই সামনে আনে—ভারতে স্বাধীন চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

একদিকে রয়েছে বাণিজ্যিক চাপ, অন্যদিকে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ। তবুও নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা থেমে থাকছেন না। ডিজিটাল মাধ্যম তাঁদের নতুন সাহস জোগাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘কেনেডি’ একটি প্রতীক—সংগ্রামের, আপসহীনতার এবং শেষ পর্যন্ত দর্শকের কাছে পৌঁছনোর।


শিল্প বনাম দায়িত্ব—চিরন্তন বিতর্ক

শিল্পীর স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সমাজের দায়বদ্ধতাও অস্বীকার করা যায় না। প্রশ্ন হল, এই দুইয়ের সীমারেখা কোথায় টানা হবে?

‘কেনেডি’-র ঘটনাপ্রবাহ সেই আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে। একটি ছবির সংলাপ বা নাম উল্লেখ কি সত্যিই সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, নাকি দর্শক পরিপক্বভাবে তা গ্রহণ করতে সক্ষম?

সমাজ যত পরিণত হবে, এই প্রশ্নের উত্তরও তত বদলাবে।

তিন বছরের অনিশ্চয়তা, সেন্সরের নির্দেশ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক—সব মিলিয়ে ‘কেনেডি’ এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। তবুও শেষ পর্যন্ত এটি দর্শকের সামনে এসেছে।

এই মুক্তি কেবল একটি ছবির নয়, বরং এক ধরনের শিল্পীসত্তারও জয়। হয়তো সম্পূর্ণ অবিকৃত রূপে নয়, তবুও নিজের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পেরেছে ছবিটি।

ভবিষ্যতে ভারতীয় চলচ্চিত্রে এমন বিতর্ক আরও আসবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিবারই প্রশ্ন থাকবে একটাই: শিল্পকে কতটা স্বাধীনতা দেওয়া উচিত?

‘কেনেডি’ সেই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দেয় না। বরং দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে। আর হয়তো সেখানেই এর প্রকৃত সাফল্য

প্রায় তিন বছর ধরে অনিশ্চয়তা, সেন্সরের আপত্তি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক—সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে ‘কেনেডি’। যদিও বড়পর্দায় নয়, তবুও ওটিটি-তে ছবিটির আগমন এক অর্থে স্বাধীনধারার সিনেমার জয়।

এই ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রশ্ন তোলে—ভারতে সৃজনশীল স্বাধীনতার পরিসর কতটা? আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃত একটি ছবি দেশে মুক্তি পেতে এত বাধা কেন?

তবু শেষ পর্যন্ত দর্শকের কাছে পৌঁছনোই ছবির সাফল্য। আর সেই অর্থে ‘কেনেডি’ তার দীর্ঘ যাত্রার শেষে অবশেষে নিজের গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে।

Preview image