Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডিভোর্স নিয়ে স্পষ্ট দেবলীনা, নতুন সম্পর্কে তথাগত — টলিউডের প্রাক্তন জুটির জীবনে নতুন অধ্যায়

দেবলীনা দত্ত সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে খুলে বললেন তাঁর বিচ্ছেদ-ভাবনা—ডিভোর্সকে তিনি দেখেন গভীরভাবে, কেবল মতভেদে নয়। অন্যদিকে, প্রাক্তন স্বামী তথাগত মুখোপাধ্যায় এখন নতুন সম্পর্কে, অভিনেত্রী আলোকবর্ষা বসুর সঙ্গে। দুজনেই জীবনের নতুন পথে এগিয়ে চলেছেন নিজের মতো করে।

 

টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন দেবলীনা দত্ত ও তথাগত মুখোপাধ্যায়। পর্দায় যেমন তাঁদেরchemistry দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, বাস্তব জীবনেও ছিল তাঁদের সম্পর্কের ঝলক। হাসি, খুনসুটি, ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তাঁদের দাম্পত্য একসময় অনেকের কাছে ছিল “গোল্ডেন কাপল”-এর প্রতীক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিটা বদলে যায়। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের সম্পর্কের ভাঙনের খবর সামনে আসে। তবে দীর্ঘ এই সময় পেরিয়ে গেলেও আইনত এখনো তাঁদের ডিভোর্স হয়নি। তবুও, জীবনের পথ দুজনেই আলাদা করে নিয়েছেন—তথাগত পেয়েছেন নতুন ভালোবাসা, আর দেবলীনা খুঁজছেন নিজের চিন্তায় স্থিতি ও পরিণতির গভীরতা।

২০১২ সালে দেবলীনা ও তথাগত বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন। সে সময় তাঁরা দুজনেই টলিউডে কর্মব্যস্ত, কিন্তু একে অপরের কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল। বহু সাক্ষাৎকারে দেবলীনা বলেছিলেন, তথাগত তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচকও বটে—কাজের জায়গায় তিনি খুব খুঁতখুঁতে, কিন্তু সেই খুঁতখুঁতেতেই ছিল আন্তরিক ভালোবাসা। তথাগতও বলতেন, দেবলীনা শুধু তাঁর স্ত্রী নন, বরং তাঁর “ক্রিয়েটিভ পার্টনার”। তাঁরা একসঙ্গে একাধিক নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। দর্শকদের কাছে তাই এই জুটির জনপ্রিয়তা ছিল অস্বীকার্য।

তবে ২০২১ সালের শেষ দিকে গুঞ্জন ছড়ায়, তাঁদের সম্পর্ক নাকি আর আগের মতো নেই। একসঙ্গে দেখা যাচ্ছিল না তাঁদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের ছবিও কমে যায়। প্রথমে বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন দেবলীনা, কিন্তু ২০২২ নাগাদ সব পরিষ্কার হয়ে যায়—তাঁরা আলাদা হয়ে গেছেন।

বিচ্ছেদের পেছনে নানা কারণ নিয়ে তখন নানা জল্পনা। কেউ বলেছিলেন, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, কেউবা বলেছিলেন সময়ের অভাব। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়ের নাম। শোনা যায়, তথাগত ও বিবৃতির বন্ধুত্ব নিয়েই নাকি দেবলীনার অস্বস্তি শুরু হয়। যদিও কেউই প্রকাশ্যে সে প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু বলেননি। কিন্তু গসিপ জগতের আগুন তখন ছড়িয়ে পড়েছিল টলিপাড়ায়।

বিচ্ছেদের পর দেবলীনা খুব একটা কথা বলেননি। নিজের জীবনে এবং কাজে মন দিয়েছেন। মঞ্চে, পর্দায়, এমনকি টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোতেও ব্যস্ত থেকেছেন তিনি। অপরদিকে, তথাগতও কাজের জগতে মন দিয়েছেন, নিজের পরিচালনার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।

তবে সম্প্রতি তথাগত মুখোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, তিনি এখন নতুন সম্পর্কে রয়েছেন। অভিনেত্রী আলোকবর্ষা বসুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বহুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি, ছুটির মুহূর্তের ঝলক, হাসিমুখের ফ্রেম—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক আর গোপন নেই। অবশেষে ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে তথাগত নিজেই বলেন, “আলোকবর্ষা এখনো ছোট। আমরা একে অপরকে ভালোভাবে জানছি। ভবিষ্যতে বিয়ের কথা নিশ্চয়ই ভাবব।”

এই মন্তব্যে টলিউডে নতুন আলোচনার ঝড় ওঠে। কারণ, দেবলীনার সঙ্গে তথাগত এখনো আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ করেননি। অনেকের প্রশ্ন—তাহলে কীভাবে তথাগত নতুন সম্পর্কে জড়াতে পারলেন? আবার কেউ কেউ বলেন, দুজনই যদি আলাদা থাকেন, তাহলে তাতে সমস্যা কোথায়?

তথাগত-আলোকবর্ষার সম্পর্ক নিয়ে যখন চারদিকে হইচই, তখন দেবলীনা দত্তের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারে শান্ত, সংযত। তিনি বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরেই আলাদা থাকি। ও যদি এখন ডিভোর্স চায়, আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই।”

এই কথাতেই ফুটে ওঠে দেবলীনার মানসিক পরিণতি। তিনি সম্পর্ক ভাঙাকে কোনো তিক্ততার চোখে দেখেন না। বরং, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আজ তিনি ভাবছেন আরও গভীরভাবে—সম্পর্ক মানে শুধু ভালোবাসা নয়, বোঝাপড়া, ধৈর্য আর মানিয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও জরুরি।

সম্প্রতি ‘সঙ্গে সংগীতা’ নামের একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে হাজির হন দেবলীনা দত্ত। সেখানে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, এবং সমাজে ডিভোর্সের ধারণা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর এক বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচিত হয়—

“ডিভোর্সকে আমরা এখন খুব সহজে নিচ্ছি। একটু মতান্তর হলেই বলছি, বনিবনা হচ্ছে না। তাহলে পরিবার কেন বলছি? স্বামী-স্ত্রী মানেই তো পরিবার।”

তিনি আরও বলেন,

“আজকাল অনেকেই ভাবে—অ্যাডজাস্টমেন্ট হচ্ছে না, তাহলে ডিভোর্স। কিন্তু পরের সম্পর্কেও যদি না হয়, তখন কী? সম্পর্ক মানে তো শুধু ভালোবাসা নয়, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও।”

news image
আরও খবর

দেবলীনার এই কথায় অনেকেই নিজের মতো করে অর্থ খুঁজেছেন। কেউ বলেছেন, তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন, আবার কেউ বলেছেন, এটি সমাজের প্রতি তাঁর বার্তা—ডিভোর্স হোক বা সম্পর্ক, তাতে দায়িত্ববোধ জরুরি।

দেবলীনার জীবনে এই পরিবর্তন এসেছে ধীরে ধীরে। ২০২২ সালে আলাদা হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। দীর্ঘদিনের হতাশা, সম্পর্কভাঙার ব্যথা—সবকিছু থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পেরেছেন কাজের মধ্যে ডুবে গিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এখন নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে শিখেছি। আগে অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যস্ত ছিলাম, এখন নিজের শান্তিটাই সবচেয়ে বড়।”

অন্যদিকে, তথাগতও নিজের মতো করে এগিয়ে গেছেন। পরিচালনায় নতুন দিশা খুঁজছেন, তরুণ প্রজন্মের অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আলোকবর্ষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও তিনি কোনো গোপনীয়তা রাখেননি। বরং প্রকাশ্যেই বলেছেন, “জীবনে নতুন মানুষ এসেছে, ভালো লাগছে। আমরা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করছি।”

এই সম্পর্ক ও দেবলীনার বক্তব্য ঘিরে টলিউডের প্রতিক্রিয়াও বেশ মিশ্র। কেউ দেবলীনাকে প্রশংসা করছেন তাঁর পরিণত ভাবনা ও শান্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এক পোস্টে লিখেছেন, “দেবলীনা সব সময় নিজের মতো করে শক্ত থেকেছেন। সম্পর্ক ভাঙা মানেই জীবনের শেষ নয়—ও সেটা প্রমাণ করেছে।”

আবার কেউ কেউ তথাগত-আলোকবর্ষা সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। টলিউডের এক পরিচালক বলেন, “তথাগত সবসময় আবেগপ্রবণ মানুষ। যদি নতুন সম্পর্ক তাঁকে সুখী করে, তাতে খারাপ কিছু নেই।”

দেবলীনার মন্তব্য যে শুধু ব্যক্তিগত নয়, তা বোঝা যায় তাঁর বক্তব্যের সামাজিক দিকেও। আজকের প্রজন্মে ডিভোর্স এক সাধারণ বাস্তবতা হয়ে উঠছে। সম্পর্ক ভাঙা আর আগের মতো সামাজিক লজ্জা নয়। কিন্তু দেবলীনার মতে, “আমরা সহজেই সম্পর্ক ছেড়ে দিই, কিন্তু ভাবি না সমস্যাটা কোথায় ছিল। নিজের ভুলটা বুঝতে না পারলে, পরের সম্পর্কেও একই জায়গায় আটকে যাব।”

এই কথায় অনেকেই একমত। সম্পর্ক মানে পারফেকশন নয়, বরং দুই অসম্পূর্ণ মানুষের মিলিত হয়ে কিছু তৈরি করার প্রয়াস। দেবলীনা যেন সেটিই মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

দেবলীনা এখন কাজের জগতে আরও ব্যস্ত। সাম্প্রতিক এক চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়াও তিনি সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে নারীস্বনির্ভরতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রচারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জীবনে সম্পর্ক ভাঙা মানে হার নয়। বরং নতুন করে নিজের ভেতরের শক্তিটাকে চেনার সুযোগ।”

তথাগতও তাঁর নতুন সম্পর্ক ও কাজ নিয়ে সুখে আছেন বলে শোনা যায়। আলোকবর্ষার সঙ্গে তাঁদের যুগলছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়মিত বিষয়। তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণ করছেন, সময় কাটাচ্ছেন, এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। তথাগত বলেন, “আমার জীবনের আগের অধ্যায়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন আমি সামনে তাকাতে চাই।”

দেবলীনা ও তথাগত—দুজনেই টলিউডের প্রিয় মুখ। তাঁদের সম্পর্কের গল্পে যেমন ভালোবাসা ছিল, তেমনই ছিল বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সাহসও। একসময় যাঁরা একে অপরের জীবনের কেন্দ্র ছিলেন, আজ তাঁরা আলাদা পথে হেঁটে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই পথে কোনো তিক্ততা নেই, বরং আছে সম্মান ও পরিণতির ছাপ।

দেবলীনা যেমন বলেছেন, “সব সম্পর্ক টিকে থাকে না, কিন্তু তাতে খারাপ কিছু নেই। কারণ, কিছু সম্পর্ক আমাদের শেখায় কিভাবে নিজের ভেতরের মানুষটাকে চিনতে হয়।”

সম্ভবত এটাই জীবনের সত্য। কেউ নতুন প্রেমে সুখ খোঁজেন, কেউ নিঃসঙ্গতায় শান্তি। তথাগত ও দেবলীনার গল্প তাই কেবল বিচ্ছেদের গল্প নয়—এটা পরিবর্তনের, উপলব্ধির, এবং নতুন করে নিজেকে গড়ার গল্প।

টলিউডের এই প্রাক্তন জুটির জীবন এখন ভিন্ন পথে বয়ে চলেছে। তথাগত মুখোপাধ্যায় আলোকবর্ষার সঙ্গে নতুন স্বপ্ন দেখছেন, আর দেবলীনা দত্ত নিজের আত্মসম্মান ও শান্তির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছেন। সময় বদলায়, সম্পর্ক বদলায়, কিন্তু জীবনের চলা থেমে থাকে না। আর হয়তো সেখানেই রয়েছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সত্যটা—শেষ মানেই শেষ নয়, বরং নতুন শুরুরই আরেক নাম।

Preview image