Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গোয়া নাইটক্লাব অগ্নিকাণ্ড আমি শুধু ব্যবসার পার্টনার নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার মালিক অজয় গুপ্ত

গোয়ার পর্যটনমুখর অঞ্চলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নতুন মোড় নিল তদন্ত। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্লাবের অন্যতম মালিক অজয় গুপ্তকে। গ্রেফতারের পরই তিনি দাবি করেছেন আমি শুধু একজন ব্যবসার পার্টনার দৈনন্দিন পরিচালনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আমার কোনো প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না।তার এই বক্তব্য এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের রাতে ক্লাবে প্রবল ভিড় ছিল। হঠাৎ একটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে পুরো ভবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। আতঙ্কিত অতিথি ও কর্মীরা বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে বহুজন আহত হন। জরুরি সেবাদানকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। এরপর থেকেই মালিকপক্ষ ও পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে বিশেষত নিরাপত্তা অনুমোদন, প্রস্থানপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায়, মালিকানায় একাধিক অংশীদার থাকলেও দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন অধরা ছিলেন। অজয় গুপ্তও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন, যাকে খুঁজে পেতে বাইরে একটি লুক আউট নোটিসও জারি করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাজধানী দিল্লিতে তাকে আটক করে গোয়া পুলিশের বিশেষ দল। তাকে গোয়া নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অজয় গুপ্ত দাবি করেছেন যে তিনি ক্লাবের আর্থিক বিনিয়োগকারী হলেও পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না। তার কথায়, দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, অনুমোদন সবকিছু দেখতেন অন্যরা। তিনি শুধু ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে নাম ব্যবহার করেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মালিকানা যেহেতু যৌথ, তাই কারও ভূমিকা বা দায় সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা যায় না। প্রত্যেক মালিককেই জানতে হবে প্রতিষ্ঠানের আইনগত অনুমোদন, নিরাপত্তা অবস্থা এবং পরিচালনা নিয়মনীতি সম্পর্কে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পর্যটননির্ভর এলাকায় একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে চলছিল, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সরকার জানিয়েছে, সব নাইটক্লাব, বার ও বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিদর্শন নতুন করে শুরু করা হবে। অজয় গুপ্তের গ্রেফতার তদন্তে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এখন দেখা হবে, তার বক্তব্য কতটা সত্য, আর কতটা দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা। একই সঙ্গে, প্রকৃত দায় কারা নেবে এবং নিহত আহতদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ কত দ্রুত এগোয় তা নিয়েই এখন গোয়া জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

গোয়ার রাত সাধারণত উজ্জ্বল আলো, গানের তালে তালে নাচ, মদ্যপান, হাসি এবং পর্যটকদের ভিড়ের সঙ্গে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। কিন্তু সেই রাতটি ছিল অন্যরকম। উত্তরের গোয়ার ব্যস্ত পর্যটন অঞ্চলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাব, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভিড় করেন, সেই ক্লাবেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রাত তখন এখনও তরুণ, সঙ্গীতের শব্দ তখনও তীব্র, মানুষ তখনও আনন্দে ডুবে। এমন সময় হঠাৎ করে পুরো পরিবেশ বদলে যায়। আলো নিভে যায়, আতঙ্কের চিৎকার শোনা যায়, তারপর ধোঁয়া, উত্তাপ, অস্বস্তি আর অবিশ্বাসের ভেতর দিয়ে শুরু হয় লড়াই জীবন বাঁচানোর লড়াই। সেই রাত গোয়া শুধু নয়, পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। দুর্ঘটনার পর দিন কেটে গেছে, কিন্তু সেই রাতের দগদগে স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে প্রত্যক্ষদর্শীদের মনুষ্যত্বের গভীরে। আর সেই ভয়াবহ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে এসেছে মালিকদের নাম, তাদের দায়িত্ব, তাদের গাফিলতি এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই তদন্ত শুরু হয়, এবং তদন্তের প্রথম পর্যায়ে যেটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় সেটি হলো মালিকদের ভূমিকা। ক্লাবটির মালিকানায় ছিলেন একাধিক ব্যক্তি, যাদের কেউ ছিলেন সক্রিয় ব্যবসায়ী, কেউ বিনিয়োগকারী, আর কেউ নাকি শুধু নামমাত্র অংশীদার। কিন্তু দুর্ঘটনার পর সবাই যেন একযোগে হারিয়ে গেলেন। তাদের ফোন নম্বর বন্ধ, অবস্থান অজানা, পরিবাররাও অনেক সময় সঠিক তথ্য দিতে পারছিলেন না। এর মধ্যেই পুলিশের কাছে উঠে আসে ক্লাবটির নথিপত্রের অসংখ্য অসঙ্গতি। ফায়ার এনওসি, বৈদ্যুতিক সংযোগ, নির্মাণ কাঠামো, জরুরি প্রস্থানপথ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সন্দেহ তৈরি হয়। এমনকি অনেক নথি যে মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বা সেগুলো নবায়ন করা হয়নি, সেটিও তদন্তে উঠে আসে। এরপরই মালিকদের খুঁজে বের করার অভিযান আরও জোরদার হয়।

এই সময়েই সামনে আসে অজয় গুপ্তের নাম। স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে তাকে একজন পরিচিত উদ্যোক্তা হিসেবে জানা যায়। বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি বিনিয়োগ করতেন, কিছুতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকতেন, আবার কিছু ব্যবসায় তিনি ছিলেন নীরব অংশীদার। তার স্বভাব শান্ত, জটিলতায় না জড়ানোর প্রবণতা আছে এমনটাই পরিচিতদের দাবি। কিন্তু দুর্ঘটনার পর অজয় গুপ্তও অন্য মালিকদের মতো হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যান। তার মোবাইল ফোন বন্ধ, বাড়িতে তিনি নেই, এবং কেউ বলতে পারছিল না তিনি কোথায় গেছেন। এই পরিস্থিতিতেই Goa Police তার বিরুদ্ধে একটি লুক আউট সার্কুলার জারি করে, যাতে দেশের সব বিমানবন্দর এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে তার গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়।

অবশেষে বহুদিনের অনুসন্ধান শেষে তাকে নয়াদিল্লির একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের সময় তিনি শান্তই ছিলেন, তবে কিছুটা ক্লান্ত এবং মানসিক চাপে ছিলেন তা পুলিশের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন। গোয়ার থেকে যাওয়া তদন্তকারী দলের সদস্যরা প্রথমেই জানতে চান কেন তিনি পলাতক ছিলেন, কেন তিনি হঠাৎ এতদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছিলেন, এবং তার ভূমিকা ঠিক কতটা। এই প্রশ্নগুলোর জবাবে অজয় গুপ্ত যে উত্তর দেন, সেটিই পরে শিরোনাম হয়ে যায় আমি শুধু ব্যবসার পার্টনার। ক্লাবের দৈনন্দিন কাজ, নিরাপত্তা বা অনুমোদনের বিষয়ে আমার কোনো সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা ছিল না।

তার এই বক্তব্য তৎক্ষণাৎ দেশে বিতর্কের সৃষ্টি করে। একজন মালিক কি সত্যিই দায়মুক্ত থাকতে পারেন? শুধু  পার্টনার বললে কি তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন? ক্লাবটির নিয়মকানুন সম্পর্কে জানা কি তার দায়িত্ব নয়? নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তার জবাবদিহি নেই? তিনি কি জানতেন যে ক্লাবের কিছু অনুমোদন মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল? যদি জানতেন, তাহলে কেন তিনি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি? আর যদি না জানতেন, তাহলে কি এটি আরও বড় গাফিলতির প্রমাণ নয় একজন মালিক হয়েও তিনি কি প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন?

তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করেন, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা মানেই যৌথ দায়বদ্ধতা। আপনি সক্রিয় হোন বা নীরব, আর্থিক ভূমিকা থাকুক বা দৈনন্দিন পরিচালনায় না থাকুন, আইন বলে প্রতিষ্ঠানের সব ঝুঁকি, নিরাপত্তা, বৈধতা, অনুমোদন, নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে প্রত্যেক মালিককেই অবগত থাকতে হবে। এ কারণে অজয় গুপ্তের দাবি যে তিনি শুধু পার্টনার  তা তদন্তের চোখে সরল অজুহাত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং পুলিশ জানতে চাইছে ক্লাবটি কীভাবে চলছিল, কারা প্রকৃতভাবে সিদ্ধান্ত নিত, আর অজয় গুপ্ত সেই সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে কতটা যুক্ত ছিলেন। তিনি কি সত্যিই নীরব অংশীদার ছিলেন, নাকি ব্যবস্থাপনা পর্ষদের নিয়মিত বৈঠকে অংশ নিতেন, নথিতে সই করতেন, নাকি আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন?

যদিও অজয় গুপ্ত এ সব অস্বীকার করছেন, তিনি জানিয়েছেন যে ক্লাবের দৈনন্দিন মজুরি, কর্মী নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার দাবি তিনি শুধু বিনিয়োগ করেছিলেন, এবং বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়াই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু তদন্তকারীরা বলছেন, এটি এত সহজ সমীকরণ নয়। একটি নাইটক্লাব পরিচালনা করা সাধারণ ব্যবসা নয়। এখানে মানুষের জীবন নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত, তাই নিয়মকানুন অমান্য করার দায় মালিকদের ঘাড়েই পড়ে।

এই অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়েছেন, কেউ দরজায় চাপা পড়ে আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তারা বলছেন, তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয় যা অবহেলা, নিয়মভঙ্গ এবং লাভের লোভের ফলে ঘটেছে।

news image
আরও খবর

ভুক্তভোগী পরিবারের চোখে, অজয় গুপ্তের অবস্থান কিংবা তার ব্যাখ্যা কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তাদের কাছে মূল প্রশ্ন তিনি একজন মালিক হিসেবে কেন এই নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ক্লাব চলতে দিলেন? কেন তিনি নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি করেননি? কেন তিনি নথিপত্র যাচাই করেননি? আর যদি নথি সত্যিই ঠিক থাকে তবে ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কে? এবং সেই ব্যক্তি এখন কোথায়?

এদিকে অজয় গুপ্তের আইনজীবীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত। তারা দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই ক্লাবের অপারেশনাল কাজে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, দুর্ঘটনার সময় গোয়াতেও ছিলেন না, তাই তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা উচিত নয়। তারা এটিও বলেন যে তিনি পলাতক ছিলেন না, বরং পরিস্থিতির চাপে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে তদন্তকারীরা এই ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করেনি। তাদের মতে, একজন নির্দোষ ব্যক্তি কখনোই দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকেন না।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গোয়া প্রশাসনও সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন এত বড় ক্লাব বছর পর বছর কীভাবে নথি নবায়ন ছাড়াই বা নিরাপত্তার নিয়ম ভঙ্গ করেও চালু ছিল? স্থানীয় প্রশাসন কি নিয়মিত পরিদর্শন করত? নাকি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থে চোখ বন্ধ করে ছিল? এই প্রশ্নগুলোর জবাব এখনও মেলেনি। তবে সরকার জানিয়েছে যে গোয়ার সব নাইটক্লাব, রেস্তোরাঁ, বার এবং বিনোদন কেন্দ্রকে পুনরায় নিরাপত্তা পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে। তবু এই ঘোষণা ভুক্তভোগী পরিবারদের ব্যথা কমায় না। তাদের কাছে নিরাপত্তা পরিদর্শনের ঘোষণা নয় প্রয়োজন প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি।

দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন। কেউ এখনও মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ক্লাবের ভেতর থেকে ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছিলেন তারা ধোঁয়ার মধ্যে ছুটোছুটি, বন্ধ দরজায় ঠোকাঠুকি, ভয়ে চিৎকার করা মানুষ, অসহায় কর্মীরা, এবং মুহূর্তের মধ্যে নিভে যাওয়া বহু জীবনের স্বপ্ন। তাদের কাছে এই দুর্ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গোয়ার নাইটলাইফের নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক।

অজয় গুপ্তকে গ্রেফতারের পর গোয়া পুলিশ জানিয়েছে যে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তার বক্তব্য, নথিপত্র, ব্যাঙ্ক লেনদেন, মিটিং এর রেকর্ড, আর্থিক নথি সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি প্রকৃতপক্ষে কতটা জড়িত ছিলেন, ক্লাবের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা সরাসরি ছিল, আর তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের ভূমিকা কম বলে দেখানোর চেষ্টা করছেন এসবই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শেষ পর্যন্ত একটাই প্রশ্ন মুখ্য হয়ে উঠেছে এই অগ্নিকাণ্ডে দায় কার? একটি ব্যবসার মালিকানা শুধুই লাভ নয়, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তার ফল কত ভয়াবহ হয়, তার নির্মম উদাহরণ হলো এই অগ্নিকাণ্ড। অজয় গুপ্ত বলেছেন তিনি শুধু ব্যবসার পার্টনার। কিন্তু গোয়া, গোটা দেশ এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার জানতে চায় কিন্তু সেই ব্যবসার দায়িত্বটি নেবে কে? দায়িত্ব কি শুধু লাভের সময় ভাগ করে নেওয়ার জন্য, আর ক্ষতি বা বিপর্যয়ের সময় কেউ কি মালিক হয় না?

অজয় গুপ্তের গ্রেফতার এই গল্পের শেষ নয়। এটি কেবল শুরু এক দীর্ঘ তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া, আর সত্য উন্মোচনের পথযাত্রার। গোয়ার মানুষ, ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং সারা দেশের নজর এখন এই মামলার প্রতি। কারণ শুধু একটি ক্লাব নয়, এই মামলায় লুকিয়ে আছে প্রশ্ন জীবনের মূল্য কত? আর সেই মূল্য কি কিছু মানুষের অসতর্কতার কারণে হারিয়ে যেতে পারে?

Preview image