Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ইনদওরের পর মধ্যপ্রদেশের আরও এক জেলায় বিষাক্ত পানীয় জল আতঙ্কে অসুস্থ ১৪ জন

ইনদওরের বিষাক্ত পানীয় জলের ঘটনায় মৃত্যুর অভিযোগ ও শতাধিক মানুষের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে

ইনদওরের বিষাক্ত পানীয় জলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রদেশের আরও এক জেলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল খরগোন জেলায়। রাজ্যের মানুষ যখন এখনও ইনদওরের ভয়াবহ ঘটনার ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত ঠিক তখনই একই ধরনের অভিযোগ উঠে এল খরগোন জেলার মণ্ডলেশ্বর এলাকা থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মণ্ডলেশ্বর পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ইতিমধ্যেই অন্তত চোদ্দ জন অসুস্থ হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তাঁদের সবার মধ্যেই দেখা দিয়েছে বমি মাথা ঘোরা পেটে তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খরগোন জেলার বাসিন্দাদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে কারণ ইনদওরের ঘটনা এখনও মানুষের মনে একেবারে টাটকা। ইনদওরে বিষাক্ত পানীয় জল পান করার কারণে পনেরো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছিলেন এবং দু’শোর বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। তার মধ্যেই ইনদওর থেকে মাত্র একশ সাতাশ কিলোমিটার দূরে খরগোন জেলায় একই ধরনের ঘটনার খবর সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক দ্বিগুণ হয়েছে।

মণ্ডলেশ্বর এলাকার আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানিয়েছেন গত তিন চার দিন ধরে এলাকায় অনেকেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ পেটের অসুখ বলে মনে করা হলেও ধীরে ধীরে একের পর এক মানুষ অসুস্থ হতে শুরু করলে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। অনেকের বমি হচ্ছে কারও মাথা ঘুরছে আবার কারও পেটে তীব্র যন্ত্রণা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ পানীয় জল পান করার পরই এই উপসর্গগুলি দেখা দিচ্ছে। ফলে পানীয় জলের গুণগত মান নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এই খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোন জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। স্বাস্থ্য দফতরের একটি বিশেষ দল মণ্ডলেশ্বরে পৌঁছে অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসা শুরু করে। প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আপাতত কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় তবে সতর্কতা হিসেবে সবাইকে চিকিৎসার আওতায় রাখা হচ্ছে।

খরগোন জেলার তহসিলদার সঞ্জয় বাবেল জানিয়েছেন মণ্ডলেশ্বরের আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে খবর আসে পানীয় জলের সঙ্গে নোংরা জল বেরোচ্ছে। এই খবর পেয়েই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পুরো এলাকার পাইপলাইন পরীক্ষা করার কাজ শুরু হয়। কোথাও পাইপলাইনে ফাটল রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের নিকাশি ব্যবস্থা এবং শৌচাগারের লাইনের অবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় পানীয় জলের সঙ্গে কোনওভাবেই দূষিত জল মিশছে কি না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় পানীয় জলের মান ভালো ছিল না। কখনও জল ঘোলা হয়ে আসছিল কখনও আবার দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু সেই সময় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। ইনদওরের ঘটনার পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও তত দিনে খরগোনে এই সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে মেয়র পারিষদ নিতিন পতিদার কার্যত স্বীকার করেছেন যে দূষিত জল পান করার কারণেই চোদ্দ জন অসুস্থ হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার উৎস চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পানীয় জল ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিকল্প জল সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ইনদওরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইনদওরের ভগীরথপুরা এলাকায় বিষাক্ত পানীয় জল পান করার কারণে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে যে পানীয় জলের পাইপলাইনে ফাটল থাকার কারণে শৌচাগারের নোংরা জল সরাসরি পানীয় জলের লাইনের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে সেই জল পান করার ফলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের গাফিলতি এবং পরিকাঠামোর দুর্বলতা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

ঠিক সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খরগোনে একই ধরনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের পানীয় জল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে। একের পর এক জেলায় যদি একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তবে তা যে গভীর সংকেত দিচ্ছে তা অস্বীকার করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে পুরনো পাইপলাইন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে পানীয় জলের লাইনের অস্বাস্থ্যকর সংযোগ এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

news image
আরও খবর

খরগোনের ঘটনায় আপাতত বড় কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। স্থানীয় মানুষদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে জলে ঠিক কী ধরনের দূষণ রয়েছে। তত দিন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার ফলে আবারও একবার সামনে চলে এসেছে নিরাপদ পানীয় জলের প্রশ্ন। জল মানুষের জীবনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। সেই জল যদি নিরাপদ না হয় তবে তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ইনদওরের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। খরগোনের ঘটনা যেন সেই ভয়াবহ স্মৃতিকেই নতুন করে উসকে দিল।

রাজ্যবাসীর এখন একটাই দাবি এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে কারণ পানীয় জল মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি মৌলিক প্রয়োজন নিরাপদ জল ছাড়া সুস্থ জীবন কল্পনাও করা যায় না অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে রাজ্যের একের পর এক এলাকায় পানীয় জলের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ইনদওর খরগোনের মতো ঘটনার পরে মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এই আতঙ্ক শুধু একটি এলাকার নয় বরং গোটা রাজ্য জুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছে প্রশাসন কি আদৌ এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কি না

পানীয় জলের পাইপলাইন বহু জায়গায় বহু বছর পুরনো হয়ে গিয়েছে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেখানে ফাটল তৈরি হচ্ছে সেই ফাটল দিয়েই নিকাশি বা শৌচাগারের নোংরা জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ফলে মানুষ না জেনেই বিষাক্ত জল পান করছে যার ফল হিসেবে দেখা দিচ্ছে বমি পেটের ব্যথা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে সেই অসুস্থতা প্রাণঘাতী রূপও নিচ্ছে তাই রাজ্যবাসীর দাবি নিয়মিত পাইপলাইন পরীক্ষা করতে হবে কোথাও সামান্য ফাটল দেখা গেলেও তা দ্রুত সারাই করতে হবে এই কাজে কোনও রকম অবহেলা চলবে না

নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নও অত্যন্ত জরুরি বহু এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ফলে সামান্য বৃষ্টি বা জল জমলেই নোংরা জল আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে সেই নোংরা জল যদি কোনওভাবে পানীয় জলের লাইনের কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাহলে বিপদ অনিবার্য তাই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার যাতে পানীয় জল ও নোংরা জল কখনও একে অপরের সংস্পর্শে না আসে এই বিষয়ে স্থানীয় পুরসভা ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

এ ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সময় দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দারা জল ঘোলা হচ্ছে দুর্গন্ধ আসছে বা স্বাদের পরিবর্তন হচ্ছে এমন অভিযোগ জানালেও তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না যদি শুরুতেই সেই অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো তাহলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো তাই প্রশাসনের উচিত সাধারণ মানুষের অভিযোগকে অবহেলা না করে দ্রুত তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া

পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে জল নিয়ে সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখলেই তা ব্যবহার বন্ধ করে প্রশাসনকে জানাতে হবে নিজের পরিবার প্রতিবেশীদেরও সতর্ক করতে হবে কারণ অনেক সময় সচেতনতার অভাবেই বিপদ আরও বড় আকার নেয় ইনদওরের ঘটনার পর মানুষ কিছুটা সচেতন হলেও এখনও অনেক জায়গায় সেই সচেতনতা যথেষ্ট নয়

রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব এই দায়িত্ব শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে নিয়মিত জল পরীক্ষা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নচেৎ এক জেলার পর আর এক জেলায় এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে এবং তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই তাদের স্বাস্থ্য জীবন এমনকি প্রাণ দিয়ে

এই পরিস্থিতি রাজ্যবাসীকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তাই মানুষের একটাই দাবি প্রশাসন যেন দ্রুত দায়িত্বশীল ভূমিকা নেয় এবং নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করে যাতে আর কোনও পরিবারকে এই ধরনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়

Preview image