Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ক্যানসার শনাক্তে জিন পরীক্ষার বিনামূল্য সুযোগ: কোন প্রতিষ্ঠানগুলো দিচ্ছে?

রক্তের ক্যানসার এবং অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের দ্রুত শনাক্তকরণে জিন পরীক্ষার প্রবর্তন হচ্ছে। এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েই চলেছে, যা সচেতনতা ও তাড়াতাড়ি চিকিৎসার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এটি হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে মা-বাবা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা ক্যানসারে আক্রান্ত হলে, স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের ভয় তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, তাঁরা ভবিষ্যতে মারণরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ক্যানসার হওয়া বা তার আশঙ্কা আছে কি না তা নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো জিন টেস্টিং। জিনের বিন্যাস বিশ্লেষণ করলেই আগাম বুঝে ওঠা সম্ভব যে, শরীরে ক্যানসারের বীজ লুকিয়ে আছে কি না। যদিও জিন পরীক্ষা সময়সাপেক্ষ এবং খরচসাপেক্ষ, তবে অনেকের কাছে এটি জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু এখন, এই পরীক্ষা দেশে বিনামূল্যে করা হবে, যা ক্যানসার নির্মূলের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ।

বিশেষত রক্তের ক্যানসার এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার শনাক্তকরণে জিন টেস্টিং করা হবে। রক্তের ক্যানসারের এক ধরনের, ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (সিএমএল) এবং পিত্তথলির ক্যানসার কোলাঞ্জিওকার্সিনোমায় জিন টেস্টিং করা হয়। এই ধরনের ক্যানসারের আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৫ শতাংশ রক্তের ক্যানসার রোগী সিএমএল আক্রান্ত। যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ফরাসি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা সার্ভেয়ার ইন্ডিয়া, মেডজিনোম এবং স্ট্র্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের সঙ্গে যৌথভাবে এই পরীক্ষা শুরু করবে। রক্তের ক্যানসার এবং পিত্তথলির ক্যানসার শনাক্তকরণে দুটি টেস্ট হবে — আইডিএইচ১ এবং আইডিএইচ২। বর্তমানে এই দুটি টেস্টের খরচ ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে পিত্তথলির ক্যানসারের বায়োমার্কার টেস্টের খরচ ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

news image
আরও খবর

বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক মানুষ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন, এবং এই রোগটি আগে ধরা না পড়লে তার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সেই এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে। রক্তের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে বাঁচানোর সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ বা তারও কম হতে পারে।

গবেষকরা দাবি করেছেন, জিন টেস্টিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যাবে কোন জিনে পরিবর্তন ঘটছে এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, যা ক্যানসার ছড়ানোর আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ প্রদান করবে।

Preview image