দুই বছর ধরে নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে যুবকের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত ও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই ইয়ারফোনের দীর্ঘ ব্যবহার কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন বা হেডফোন আজকাল কমবয়সিদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ ইয়ারফোন বা ইয়ারবাডে কানের ক্ষতি হওয়ার কারণে অনেকেই মনে করেন, নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। তবে এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। সম্প্রতি এক যুবক দুই বছর ধরে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা এমন ইয়ারফোন ব্যবহার করার ফলে কানে প্রায় শুনতে পাচ্ছেন না এবং সংক্রমণও ধরা পড়েছে। তিনি বিষয়টি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন।
নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন তৈরি হয় এমনভাবে যাতে বাইরের শব্দ কানে ঢোকেনা। ট্রেন বা বাসে যাত্রার সময় বা রাতে ঘুমানোর সময়ে অনেকে দীর্ঘ সময় এগুলো ব্যবহার করেন। প্রথম দিকে সুবিধা মনে হলেও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে কানের মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণে ক্ষতি হয়। ইয়ারফোন থেকে বের হওয়া ডেসিবেল শব্দ কানে একটানা পৌঁছালে কানের স্নায়ু ও কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের আওয়াজ বন্ধ থাকায় হঠাৎ কানের মধ্যে শব্দ প্রবেশ করলে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এমন ইয়ারফোন টানা ৩-৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ব্যবহার করা উচিত নয়। একটানা ব্যবহারের ফলে কানের ককলিয়া অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কানের ফ্লুইড শুকিয়ে যায় এবং শরীরের ভারসাম্যও প্রভাবিত হতে পারে। তাই কাজের জায়গায় বা ঘরে ব্যবহার করলেও প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম দেওয়া উচিত। যদি ইয়ারফোন ব্যবহারের পরে শুনতে সমস্যা হয়, কানে বাজ বা ঘোর অনুভূত হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সংক্ষেপে, নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন আরামের জন্য ভালো মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদী ও টানা ব্যবহার কানের জন্য মারাত্মক হতে পারে। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যবহার ও নিয়মিত বিশ্রাম না দিলে এটি স্থায়ী শ্রবণ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।