Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গ্যাস-অম্বলের সমস্যা মনে করে মনের অসুখকে উপেক্ষা করছেন না তো ৫টি লক্ষণ দেখে সাবধান হোন

চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ হরমোনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যখন এই হরমোনগুলির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, তখন তা অন্ত্রের কার্যক্রমেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

গ্যাস, অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা: শুধু খাবারের কারণে না, মানসিক চাপের কারণে হতে পারে আরও গুরুতর সমস্যা

সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলা, বুক বা পেটে জ্বালা বা অস্বস্তি অনুভব করছেন? অথচ রাতের খাবারে কিছুই ছিল না যা গ্যাস বা অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে? তাহলে কী? এমন লক্ষণগুলো কি শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে হতে পারে? চিকিৎসকরা বলছেন, গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির মতো উপসর্গ কেবল খাবারের কারণে হয় না। উদ্বেগ এবং মানসিক চাপও এই ধরনের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের মানসিক চাপ শারীরিক দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অ্যাসিডিটির পাশাপাশি শরীরে কী কী প্রভাব ফেলে?

মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। এসব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে গ্যাস, বুকজ্বালা, পেটফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়েরিয়া, এমনকি অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। উদ্বেগ অনেক সময় শারীরিকভাবে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, যা সাধারণত খাবারের কারণে হয় না। চিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ খেলে তা কিছুটা উপকারে আসতে পারে, কিন্তু একে মূল সমস্যার সমাধান বলে মনে করা উচিত নয়।

উদ্বেগ এবং মানসিক চাপের প্রভাব

চিকিৎসকরা বলছেন, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ শুধুমাত্র মানসিক শান্তি নষ্ট করে না, এটি শারীরিকভাবেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, উদ্বেগ সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা অন্ত্রের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে গা-গোলানো বা বমি বমি ভাব হতে পারে। এছাড়া, উদ্বেগ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যার ফলে অন্ত্রের কার্যক্রমে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

উদ্বেগের কিছু সাধারণ লক্ষণ

উদ্বেগের কারণে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে যে লক্ষণগুলো মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত, তা ঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারলে আপনি আরও দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেতে পারেন। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো:

  1. পেটের পেশিতে টান:
    উদ্বেগের কারণে পেটের পেশির সঙ্কোচন এবং প্রসারণের ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে পেটে যন্ত্রণা, খামচে ধরার অনুভূতি, পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

  2. মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন:
    উদ্বেগের কারণে অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়েরিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পেটের সমস্যাগুলোর জন্য মানসিক চাপও দায়ী।

  3. বমি-বমি ভাব:
    উদ্বেগ সেরোটোনিন হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ ঘটায়, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে। এর ফলস্বরূপ, অনেকেই গা-গোলানো বা বমি-বমি ভাব অনুভব করেন।

  4. খিদে কমে বা বেড়ে যায়:
    উদ্বেগের কারণে কিছু মানুষের খিদে কমে যায়, আবার কিছু মানুষের খিদে বেড়ে যায়। গ্রেলিন নামক হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এই অবস্থার সৃষ্টি করে।

  5. বুকজ্বালা:
    উদ্বেগের কারণে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

উদ্বেগ কমানোর জন্য কিছু উপায় অনুসরণ করতে পারেন:

উপসংহার:

উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ শুধু মনের সমস্যা তৈরি করে তা নয়, বরং এটি শরীরের নানা অংশে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল (GI) বা অন্ত্রের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে। অনেক সময় আমরা শুধু খাবারের কারণে গ্যাস, অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যায় ভুগতে থাকি, কিন্তু এগুলোর পেছনে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। মনের এই চাপগুলি শরীরের অন্যান্য অংশে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

এমন অনেক লক্ষণ রয়েছে, যা শারীরিক অসুবিধার মতো মনে হলেও আসলে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের ফলস্বরূপ ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, পেটে যন্ত্রণা, গ্যাসের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়েরিয়া, বুকজ্বালা ইত্যাদি—এগুলো সবই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য দায়ী হতে পারে, এবং এর পেছনে অজ্ঞাতভাবে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলে তা শুধু খাবারের কারণে নয়, বরং শরীরের মধ্যে চলমান মানসিক চাপের প্রভাবে ঘটছে। এজন্য এটি উপেক্ষা করা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে।

আমাদের শরীরের নানা প্রক্রিয়া এবং হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের মাধ্যমে। যখন মস্তিষ্ক উদ্বেগ বা মানসিক চাপের কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, উদ্বেগের কারণে সেরোটোনিন হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ হতে পারে, যা আমাদের অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে গ্যাস, বমি-বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়াসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এসব শারীরিক সমস্যা যদি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে, তা আমাদের জীবনের গুণমানকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এছাড়া, উদ্বেগের কারণে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন অন্ত্রের পেশির টান, মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন, বুকজ্বালার সমস্যা, খিদে কমে বা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এসব লক্ষণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও, আসলে মানসিক চাপের ফলশ্রুতি হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণগুলির মাধ্যমে শরীর আমাদের জানাচ্ছে যে আমাদের মানসিক অবস্থার উন্নতি প্রয়োজন। যদি আপনি এই ধরনের লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে সেটা উপেক্ষা না করে সঠিক চিকিৎসক অথবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনের স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে, এবং তা উপেক্ষা করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি, একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকরা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য নানা ধরনের থেরাপি, ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে পারেন, যা শরীরের শারীরিক সমস্যাগুলোরও সমাধান দিতে পারে।

এছাড়া, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কিছু মৌলিক জীবনধারা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক শান্তি এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য যে সমস্ত পরিবর্তন করতে হবে, তা সমাধানের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে:

  • ব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন: এটি উদ্বেগ কমানোর একটি প্রমাণিত উপায়।

  • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন: নিয়মিত মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম শরীর ও মনকে শান্ত রাখে।

  • বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর ও মনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় রিকভারি পিরিয়ড।

অতএব, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ যে শুধুমাত্র মনের সমস্যা সৃষ্টি করে তা নয়, তা শরীরের নানা অসুবিধা এবং রোগের সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনি এই ধরনের শারীরিক সমস্যা অনুভব করেন, তবে সেটি উপেক্ষা না করে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, এবং যখন মন ভালো থাকে, তখন শরীরও ভালো থাকে। তাই আপনার মনের শান্তি এবং স্বাস্থ্যকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।
উদ্বেগের কারণে অন্ত্রের সমস্যা:
উদ্বেগ আমাদের অন্ত্রের কাজকর্মেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের কারণে এন্টারিক স্নায়ু ব্যবস্থা, যা অন্ত্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে অন্ত্রের সমস্যা, যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়া, পেটফাঁপা বা গ্যাস হতে পারে। উদ্বেগের কারণে অন্ত্রের পেশির সঙ্কোচন বা প্রসারণের ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে পেটে যন্ত্রণা বা খামচে ধরার অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে।
 

উদ্বেগের প্রভাব শারীরিকভাবে মোকাবিলা করা:

যখন আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার শারীরিক সমস্যাগুলোর মূল কারণ মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, তখন সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। উদ্বেগের কারণে যদি শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়, তবে সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। চিকিৎসকরা উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য নানা ধরনের থেরাপি, মেডিকেশন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রস্তাব করতে পারেন।

Preview image