ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ নদিয়া জেলার এক বিশাল জনসভা থেকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া এবং বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন রাজ্যে এখন থেকে আইনের শাসন চলবে শাসকের আইন নয় এই কড়া বার্তার পাশাপাশি তিনি প্রত্যেক জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ঘোষণা করেন বৈধ নাগরিকদের অভয় দিয়ে তিনি অবৈধদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেন এছাড়া দুর্নীতিমুক্ত অন্নপূর্ণা যোজনা এবং সহনশীল সরকার গঠনের বার্তার মাধ্যমে এক নতুন এবং সুরক্ষিত বাংলার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি
নদিয়া ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিশাল এবং ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে শুভেন্দু অধিকারী আজ নদিয়া জেলার এক জনবহুল এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জনসভায় উপস্থিত হয়ে রাজ্যের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং প্রশাসনিক নীতির এক অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের পর রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে যে বিশাল প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে আজ সেই প্রত্যাশাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করলেন যে রাজ্যে এখন থেকে কেবল আইনের শাসন চলবে কোনো শাসকের আইন নয় এই কথাটির তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর কারণ গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক পেশিশক্তি এবং শাসক দলের নেতাদের দাদাগিরির যে অভিযোগ বারবার উঠে আসছিল আজ তার পাকাপাকি অবসানের কড়া বার্তা দেওয়া হলো মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ় কন্ঠে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন আপনারা আর কোনো ভয় পাবেন না আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই এবার থেকে প্রশাসন চলবে সংবিধান এবং আইনের ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক নেতার অঙ্গুলি হেলনে নয় রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা প্রদান করাই হলো এই নতুন সরকারের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য
জনসভার সবচেয়ে বড় এবং বিস্ফোরক ঘোষণাটি ছিল রাজ্যের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া এবং আপোষহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এবার হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হবে যারা কোনো রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বেআইনিভাবে এই দেশে এবং এই রাজ্যে প্রবেশ করেছেন তাদের চিহ্নিত করে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে রাখা হবে তিনি বলেন সীমান্ত জেলাগুলোতে বিশেষ করে নদিয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে যে বিশাল জনবিন্যাসগত বা ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন ঘটছে তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এদেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে এবং নানা রকম অসামাজিক ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার এই বিষয়টিকে আর কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে রাজি নয় মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত রুদ্রমূর্তিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যারা অবৈধভাবে এদেশে এসেছেন এবার তারা পালান পালান এই সরকার যা করার তাই করবে এবং দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো রকম রেয়াত করা হবে না তার এই কড়া বার্তার পর জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ করতালি এবং স্লোগানের মাধ্যমে তাকে পূর্ণ সমর্থন জানান
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রকৃত এবং বৈধ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক বিশাল স্বস্তির বার্তাও প্রদান করেন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে হোল্ডিং সেন্টারের কথা শুনলে সাধারণ মানুষের মনে বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে অযথা ভীতি এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে তাই তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে অর্থাৎ যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক তাদের কোনো চিন্তা নেই তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারবে না এই দেশ এবং এই রাজ্য তাদের নিজস্ব বাসস্থান সরকার তাদের সমস্ত রকম সাংবিধানিক অধিকার এবং সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তিনি বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশ্যেও এক কড়া বার্তা দিয়ে বলেন এই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কেউ যেন অযথা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে এবং সাধারণ মানুষের মনে মিথ্যা ভীতি সঞ্চার না করে প্রকৃত নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব আর বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালনে একশো শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোনো বৈধ নাগরিককে তার নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো রকম হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে আশ্বস্ত করেন
উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়েও আজ মুখ্যমন্ত্রী এক বিশাল বড় ঘোষণা করেন তিনি জানান যে রাজ্যের সাধারণ গরিব এবং খেটে খাওয়া মানুষের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত দ্রুত অন্নপূর্ণা যোজনা নামের একটি নতুন এবং যুগান্তকারী প্রকল্প চালু করা হতে চলেছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষরা অত্যন্ত কম খরচে বা বিনামূল্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী লাভ করবেন এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি শুরু করা হবে এবং তা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনলাইন এবং অফলাইন দুটি মাধ্যমেই উপলব্ধ থাকবে যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ যাদের কাছে ইন্টারনেটের সুবিধা নেই তারাও যেন এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন মুখ্যমন্ত্রী জানান যে আগের সরকারের আমলে যেভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাটমানি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠত এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় তার কোনো জায়গাই থাকবে না সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে এই প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেওয়া হবে এই অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলার গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং রাজ্যে কোনো মানুষ আর অনাহারে দিন কাটাবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন
এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলোকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বিধায়করা কেবল বিধানসভায় বসে থাকার জন্য নির্বাচিত হননি তাদের প্রধান কাজ হলো নিজেদের এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা এবং তারা যাতে কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পান তা সুনিশ্চিত করা বিধায়কদের সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে হবে এবং তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হতে হবে শুধু তাই নয় সরকারি আমলাতন্ত্রের লাল ফিতের ফাঁস থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে সরাসরি মানুষের দরবারে পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে বিডিও দপ্তরের আধিকারিকরা এবার থেকে কেবল নিজেদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পঞ্চায়েত অফিসে বসে না থেকে সরাসরি গ্রামের সাধারণ মানুষের দরবারে পৌঁছে যাবেন এবং তাদের ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে সমস্ত রকম সরকারি সহায়তা প্রদান করবেন প্রশাসনের এই জনমুখী রূপ সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং তারা মনে করছেন যে এই সরকার সত্যিই সাধারণ মানুষের সরকার
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার ভাষণের শেষ পর্বে রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করার এক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তিনি বলেন এখন থেকে রাজ্যে এক সহনশীল সরকার চলবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদেরও সমান অধিকার এবং সম্মান প্রাপ্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের জেলে পচে মরার যে সংস্কৃতি আগে ছিল তা এবার চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করবে এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে তিনি পুলিশ প্রশাসনকেও অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দেন যাতে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের দলদাসে পরিণত না হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সাধারণ মানুষ যেন থানায় গিয়ে সম্মান এবং ন্যায়বিচার পান তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশের কাজ হলো সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া কোনো রাজনৈতিক নেতার বেআইনি নির্দেশ পালন করা নয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করে এক স্বাধীন এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার এই অঙ্গীকার নাগরিক সমাজে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
নদিয়া জেলার আজকের এই জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস এবং উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির কারণে রাজ্যের মানুষ যে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই বলিষ্ঠ এবং স্পষ্ট ঘোষণায় তারা এক নতুন ভোরের আলো দেখতে পাচ্ছেন বিশেষ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার যে প্রতিশ্রুতি আজ দেওয়া হলো তা রাজ্যের যুবসমাজ এবং বেকার যুবক যুবতীদের মনে এক বিশাল আশার জন্ম দিয়েছে তারা বিশ্বাস করেন যে রাজ্যে যদি আইনের শাসন থাকে তবে মেধার যোগ্য সম্মান মিলবে এবং শিল্পপতিরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবেন যার ফলে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের সাধারণ কৃষকদেরও বিশাল স্বস্তি দিয়েছে কারণ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে সীমান্তে যে জমি দখল এবং গরু পাচারের মতো অসামাজিক কার্যকলাপ চলত তা এবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে বলে তারা মনে করছেন
নদিয়া জেলার ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করলে আজকের এই সভার তাৎপর্য আরও অনেক গুণ বৃদ্ধি পায় নদিয়া হলো বাংলার নবজাগরণ এবং সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই জেলা বাংলাদেশের সাথে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সীমানা ভাগ করে যার ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রকট দীর্ঘ দিন ধরে এই অনুপ্রবেশের ফলে এই জেলার অর্থনীতি সমাজ এবং জনবিন্যাস ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও পূর্ববর্তী সরকার ভোটের রাজনীতির কারণে এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়েছিল আজ যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং নদিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরি এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার ঘোষণা করলেন তখন এই জেলার সাধারণ মানুষ আক্ষরিক অর্থেই এক বিশাল মুক্তির স্বাদ পেলেন তারা মনে করছেন যে এবার তাদের মাতৃভূমি সুরক্ষিত হবে এবং তাদের নিজেদের অধিকার আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না
হোল্ডিং সেন্টার তৈরির এই সিদ্ধান্ত আইনি এবং সাংবিধানিক দিক থেকেও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তার সীমানা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি যারা বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হয়ে এদেশে প্রবেশ করেন তারা দেশের আইনের চোখে অপরাধী তাদের চিহ্নিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব হোল্ডিং সেন্টারগুলো সেই আইনি প্রক্রিয়ারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেখানে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে যাতে তারা সমাজের মূল স্রোতে মিশে গিয়ে দেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য কোনো রকম বিপদ সৃষ্টি করতে না পারে এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে রাজ্যের নতুন সরকার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম আপোষ করতে রাজি নয় এবং তারা অত্যন্ত কড়া হাতে এই দেশবিরোধী কার্যকলাপ দমন করতে বদ্ধপরিকর
অন্নপূর্ণা যোজনার মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য প্রশাসনের যে তৎপরতা আজ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ফুটে উঠল তা এক উন্নত এবং কল্যাণকামী রাজ্যের লক্ষণ অনলাইন এবং অফলাইন দুটি মাধ্যমেই ফর্ম ফিলাপের সুযোগ রাখার ফলে এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অত্যন্ত সহজেই প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর ফলে মাঝখানের দালাল চক্র সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়ে যাবে বিডিও দপ্তরের আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের দরবারে পাঠানোর এই উদ্যোগ এক সত্যিকারের মানুষের পঞ্চায়েত গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে গ্রামের গরিব কৃষক দিনমজুর বা বয়স্ক মানুষদের আর সরকারি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না সরকার নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের অধিকার তাদের হাতে তুলে দেবে এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক নতুন শক্তি প্রদান করবে
সবশেষে বলা যায় যে মুখ্যমন্ত্রীর এই সহনশীল সরকারের বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন এবং সুস্থ বাতাবরণ তৈরি করবে গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যে চরম হিংসা এবং প্রতিহিংসার সাক্ষী থেকেছে তা রাজ্যের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নির্বাচন আসলেই রক্তপাত এবং রাজনৈতিক হানাহানি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলত আজ যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে এক সহনশীল এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেন তখন তা রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে এক অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য হলো মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এই নতুন সরকার যদি সত্যিই সেই সম্মান এবং সহনশীলতা বজায় রাখতে পারে তবে পশ্চিমবঙ্গ আবার তার হৃতগৌরব ফিরে পাবে এবং সমগ্র দেশের সামনে এক শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে আজকের এই জনসভা কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির মঞ্চ ছিল না এটি ছিল এক নতুন এবং শক্তিশালী বাংলা গড়ার এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার যার সাক্ষী থাকল সমগ্র নদিয়া তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ