Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তিন ক্রিকেটারের ব্যর্থতায় গম্ভীরের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল! কোচের এক ওষুধে ফিরবে টিম ইন্ডিয়ার জৌলুস

টেস্ট দলে দুই ক্রিকেটারের ধারাবাহিকতার অভাবে চিন্তিত গৌতম গম্ভীর। এর সঙ্গে ঋষভ পন্থের পারফরম্যান্স নিয়েও কিছুটা অসন্তুষ্ট ভারতের কোচ। তবে এক জন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে প্রথম একাদশে রেখে দলের ভারসাম্য ফেরাতে চান গম্ভীর।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজ শেষ হতেই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের নজর লাল বলের লড়াইয়ে। শুভমন গিলদের সামনে এবার অপেক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে দুই টেস্টের চ্যালেঞ্জ। টেস্ট বিশ্বকাপজয়ী টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দলকে হারাতে ইতিমধ্যেই রণকৌশল তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তবে তার মাঝেই তিন ক্রিকেটারের ধারাবাহিকতা ও পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট তিনি।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গম্ভীর ভারতের টেস্ট দলে ভারসাম্য ফেরাতে প্রথম একাদশে এক বিশেষ ক্রিকেটারকে রাখার পরিকল্পনা করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট ১৪ নভেম্বর শুরু হবে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে। জানা যায়, ইডেনের পিচ সাধারণত প্রথম দুই দিন কিছুটা সাহায্য করে জোরে বোলারদের, তবে ব্যাট করাও সহজ থাকে। তৃতীয় দিন থেকে ধীরে ধীরে স্পিনারদের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে ২২ গজ। সেই কারণেই প্রথম টেস্টে দু’জন উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে দলে রাখার চিন্তাভাবনা করছেন গম্ভীর।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন তরুণ ধ্রুব জুরেল। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টে শনিবারই খেলেছেন ১২৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। গত কয়েকটি ইনিংসে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করেছেন তিনি—১৪০, ১, ৫৬, ১২৫, ৪৪, ৬ ও ১৩২—যার মধ্যে চারটি শতরান। এই ধারাবাহিক ফর্মের কারণে কোচ গম্ভীর তাঁকে বাদ দিতে চাইছেন না। অন্যদিকে, চোট সারিয়ে দলে ফেরা ঋষভ পন্থ এখন সহ-অধিনায়ক এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে তাঁকেও বাইরে রাখা সম্ভব নয়। তাই গম্ভীর ভাবছেন, জুরেলকে ব্যাটার হিসেবেই খেলানোর বিষয়ে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জুরেল বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে খেলতে পারে। ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর স্থানে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। সাই সুদর্শন শেষ ইনিংসে অর্ধশতরান করলেও ধারাবাহিকতার অভাব আছে। সেই জায়গায় খেলতে পারে জুরেল।” আরও জানা গেছে, দলের ভারসাম্য রক্ষায় নীতীশ কুমার রেড্ডির জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পিচের অবস্থান বিবেচনায় গম্ভীর চারজন জোরে বোলার রাখতে চাইছেন না। ফলে ব্যাট হাতে কার্যকর জুরেলকে নীতীশের পরিবর্তে দলে আনার সম্ভাবনাই বেশি।

news image
আরও খবর

গম্ভীরের মূল উদ্দেশ্য শুধু দলের ব্যাটিং শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং পন্থের কাছে এক প্রকার সতর্কবার্তা পাঠানোও বটে। তিনি পন্থের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আপত্তি না থাকলেও অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় উইকেট ছোড়ে দেওয়ার প্রবণতায় কিছুটা বিরক্ত। কোচ মনে করছেন, দলের প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করা শেখা দরকার পন্থের। তাই জুরেলকে একাদশে রেখে তিনি একদিকে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, অন্যদিকে পন্থকে সতর্ক করতে চান।

গম্ভীরের লক্ষ্য লম্বা ব্যাটিং অর্ডার গড়া। তিনি এমন এক প্রথম একাদশ চান যেখানে অন্তত আটজন ক্রিকেটার ব্যাট করতে পারেন। তার সঙ্গে থাকবেন চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার—দু’জন স্পিনার ও দু’জন পেসার। হাতে রয়েছেন রবীন্দ্র জাডেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো অলরাউন্ডার, ফলে ব্যালান্স রক্ষা সহজ হবে।

ভারতের প্রথম একাদশে দুই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রাখা নতুন কিছু নয়। অতীতে ১৯৮৬ সালে কিরণ মোরে ও চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত একসঙ্গে খেলেছিলেন। সাদা বলের ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি একাধিকবার দীনেশ কার্তিক, পার্থিব পটেল কিংবা ঋষভ পন্থের সঙ্গে খেলেছেন। ইতিহাস তাই বলে দিচ্ছে, দুই উইকেটরক্ষক নিয়ে দল গঠনের কৌশল একেবারেই নতুন নয়—তবে এবার এর পিছনে গম্ভীরের ভাবনা আরও কৌশলগত ও প্রভাবশালী।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টে ভারতীয় দলে দেখা যেতে পারে দুই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, একাধিক অলরাউন্ডার এবং ব্যাটিং গভীরতায় ভরপুর এক ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ—যেখানে কোচ গম্ভীরের চিন্তা ও কৌশলই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Preview image