২০২৬ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ভারতের বোলিং কোচ তার চিন্তা ও পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। তিনি জুনিয়র ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ এবং দল গঠনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের উন্নতির জন্য। কোচের মতে, এটি একটি খুবই চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া, কারণ তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতা এবং মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হয়। বিশ্বকাপের আগে ভারতের বোলিং কোচ তরুণ খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল এবং মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত করার জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সহ্য করার জন্য তাদের মানসিক শক্তি এবং খেলার প্রতি নিষ্ঠা গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানিয়েছেন, কিভাবে তারা নিজেদের শক্তিশালী দিকগুলো কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোচের মতে, এর প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিটি বোলারের ব্যক্তিগত স্কিল সেট ও শক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা। তারা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে। তিনি বলেছেন, জুনিয়র দলের কোচিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দিতে হয় তাদের শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও, যাতে তারা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের লক্ষ্য অর্জনে দলের কোচিং প্রস্তুতির প্রতিটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: ভারতের প্রস্তুতি ও জুনিয়র দল কোচিংয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বোলিং কোচের পর্যালোচনা
২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিকে নজর রাখছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় জুনিয়র ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে বড় পরিকল্পনা চলছে। ভারতীয় বোলিং কোচ, যিনি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বোলিং প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন, তিনি এই প্রস্তুতির দিকে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন এবং কোচিংয়ের চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরেছেন।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে চলা ভারতের জুনিয়র দলের জন্য বোলিং কোচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ক্রিকেট দলের ইতিহাসে বোলারদের অবদান একেবারে বিশেষ এবং জাতীয় দলের জয়ের কাহিনিতে বোলিং ইউনিটের অবদান একেবারে অমূল্য। তবে, জুনিয়র স্তরে বোলিং কোচের কাজ আলাদা, কারণ এখানে নতুন ক্রিকেটাররা তাদের স্কিলগুলো আরও উন্নত করতে এবং মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করতে কাজ করে।
প্রতিটি বোলারের স্কিল উন্নত করার চ্যালেঞ্জ
ভারতের বোলিং কোচ বলেছেন, "প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্কিল আলাদা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে হয় খুবই কৌশলে। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তার সেরা ফর্মে পৌঁছানোর জন্য সাহায্য করা, যাতে সে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে দলের হয়ে পারফর্ম করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "অধিকাংশ সময় বোলারদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়, কারণ তরুণ বয়সে তাদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা এবং এক্সপোজারের অভাব থাকে। তাদের কাজ করার পদ্ধতি ও মানসিক শক্তির ওপর বিশেষ নজর দিতে হয়। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বোলারদের শারীরিক এবং মানসিক প্রস্তুতি একসাথে গড়ে তোলা।"
শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
যেহেতু বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতা, তাই কোচিংয়ের অংশ হিসেবে বোলারদের শারীরিক প্রস্তুতি একেবারে অপরিহার্য। "বোলিং একটি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং কাজ। শরীরের স্থিতিস্থাপকতা, স্ট্যামিনা এবং শক্তির জন্য বিশেষভাবে কাজ করতে হয়। বোলিংয়ের জন্য আলাদা ধরনের ফিটনেস দরকার, যা অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় প্রস্তুতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ," বোলিং কোচ বলেন।
তবে, শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় টেনশন এবং চাপ থাকবে, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য আমরা বোলারদের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি যাতে তারা চাপের মধ্যে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে।"
নতুন কৌশল এবং টেকনিকাল দক্ষতা
বোলিং কোচ ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন কিছু টেকনিকাল কৌশলও আনার কথা বলেছেন। তিনি জানালেন, বোলিংয়ের বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন যেমন, সুইং, স্পিন, Yorkers, এবং slower balls নিয়ে বেশ কিছু বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। "যতটা সম্ভব, আমরা প্রতিটি বোলারের শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমরা তাদের সঠিক জায়গায় বল ফেলানোর কৌশল এবং ভ্যারিয়েশন তৈরি করার ওপরও কাজ করছি," বোলিং কোচ উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপে ভারতের জন্য যে বোলিং স্টাইল প্রয়োজন, সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কোচ আরও জানান, "আমরা এমন একটা বোলিং স্ট্রাটেজি তৈরি করছি যা কেবল ভারতের জন্য উপযোগী নয়, বরং প্রতিটি বোলারের প্রাকৃতিক স্টাইলের সঙ্গে মিলে যায়।"
তরুণদের জন্য মানসিক দৃঢ়তা তৈরি
বোলিং কোচ বলেন, "তরুণ বয়সে অনেক সময় বোলাররা চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এটা স্বাভাবিক, কারণ তারা বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা প্রমাণ করতে চায়। তবে, তাদের জন্য চাপের মধ্যে কিভাবে ঠান্ডা মাথায় বোলিং করতে হয় তা শেখানো আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য কিছু সাইকোলজিক্যাল সেশনও আয়োজন করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে অনেক বেশি কাজ করছি, যাতে তারা খেলার মধ্যে কোনো চাপে না পড়ে, এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সাফল্য অর্জন করতে পারে।"
টিমওয়ার্ক এবং সিনিয়র প্লেয়ারদের সহায়তা
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টিমওয়ার্ক এবং সিনিয়র প্লেয়ারদের সহায়তা। বোলিং কোচের মতে, "তরুণদের সঙ্গে সিনিয়র বোলারদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে তারা তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করতে পারে।"
চ্যালেঞ্জের পরেও আশাবাদী
ভারতের বোলিং কোচ অবশ্য এই সকল চ্যালেঞ্জের মাঝেও আশাবাদী। তিনি বলেন, "আমাদের দল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে তারা ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সাফল্য অর্জন করবে বলে আমি নিশ্চিত।"
শেষে, তিনি জানান, "আমরা নিশ্চিত, এই তরুণ বোলাররা ভবিষ্যতে ভারতের ক্রিকেটে বড় ভূমিকা পালন করবে। তাদের বিশ্বকাপে ভাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়ে নেওয়া সময়ের ব্যাপার।"
উপসংহার
২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ভারতের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হতে চলেছে। জুনিয়র ক্রিকেট দলের কোচিং প্রস্তুতি এবং তরুণ বোলারদের প্রশিক্ষণের প্রতিটি দিকই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে। যদিও চ্যালেঞ্জ অনেক, তবে বোলিং কোচের নেতৃত্বে ভারতীয় দল সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।