Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মাত্র ২৫ বছরে থেমে গেল ‘জামতাড়া ২’-এর অভিনেতা সচিন চন্দওয়াড়ের জীবন

মাত্র ২৫ বছর বয়সে ‘জামতাড়া ২’-এর অভিনেতা সচিন চন্দওয়াড়ের আকস্মিক মৃত্যু।পরিবার ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন সচিনকে; হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আত্মহত্যা, তবে সুইসাইড নোট এখনও পাওয়া যায়নি।শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী সচিন সম্প্রতি মরাঠি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে সুযোগ পেয়েছিলেন।সহকর্মী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন; তার মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সকালে ভারতের চলচ্চিত্র ও প্রযুক্তি জগতে একটি শোকাবহ খবর ছড়িয়ে পড়ে। ‘জামতাড়া ২’ এবং সম্প্রতি মরাঠি সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া তরুণ অভিনেতা সচিন চন্দওয়াড় মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। এই আকস্মিক মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। অভিনেতা ও আইটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত সচিনের জীবন, তার স্বপ্ন, এবং তার অকাল মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সচিন চন্দওয়াড়ের জন্ম ও শৈশবের সময়টা মুম্বইয়ের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কেটেছে। তার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই সচিনের মধ্যে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। স্কুলের নাটকে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করত, এবং সেই সময় থেকেই তার মধ্যেই আত্মবিশ্বাস ও প্রকাশের ক্ষমতা বিকশিত হতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাকে সব সময় উৎসাহিত করেছেন, কিন্তু কেউই জানতেন না যে এই আগ্রহ ভবিষ্যতে তার পেশাগত জীবনের মূল দিক হয়ে উঠবে।

শৈশব থেকেই সচিন শিক্ষায়ও ভালো ছিল। আইটি ও প্রযুক্তির প্রতি তার ঝোঁক তাকে একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হিসেবে গড়ে তুলেছিল। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে তার অভিনয়ের স্বপ্ন কখনো ম্লান হয়নি। কাজের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নাটক, ছোট চলচ্চিত্র ও অনলাইন ভিডিওগুলিতে অভিনয় করতে থাকেন।

সচিনের ক্যারিয়ার আসলেই শুরু হয়েছিল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে। সেখানে তার অভিনীত ছোট নাটক এবং কমেডি ভিডিওগুলো দর্শকদের মধ্যে প্রশংসিত হয়। এরপর তাকে ‘জামতাড়া ২’-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায়। সিরিজটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল, এবং সচিনের অভিনয়কে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়।

সম্প্রতি, সচিন একটি মরাঠি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে সুযোগ পান। এটি তার জীবনের এক বড় সুযোগ ছিল, যা তার স্বপ্ন পূরণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সে এই খবর উচ্ছ্বাসের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। সেই পোস্টে দেখা যায়, তিনি কতটা উদ্দীপ্ত ছিলেন এবং নতুন প্রজেক্টে কতটা উৎসাহিত।

২৩ অক্টোবর সকালে সচিনকে তার বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন। ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান তারা। তৎক্ষণাৎ তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সক্ষম হননি। ২৪ অক্টোবর দুপুর দেড়টার সময় মৃত্যুর ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরিবারের এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে সচিনের জীবনে কোনো বড় মানসিক চাপ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল।

সচিনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র জগত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী এবং অনুরাগীরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে তাকে একজন প্রতিভাবান এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অভিনেতা হিসেবে স্মরণ করছেন। তার সহকর্মী একটিকে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যখন সচিনের অভিনয় কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং দর্শকদের অনুভূতির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে সচিনের ছবি, ভিডিও এবং স্মৃতিচিহ্ন শেয়ার করছেন। অনেকে লিখেছেন যে তিনি খুব ছোট সময়ে অনেক বড় স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছিলেন। তার জীবনযাত্রা, উজ্জ্বল স্বপ্ন এবং আকস্মিক মৃত্যু অনেকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

news image
আরও খবর

সচিন চন্দওয়াড়ের মতো তরুণদের আকস্মিক মৃত্যু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপ মোকাবেলার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতে কর্মরত তরুণদের জীবনে মানসিক চাপ, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, এবং সমর্থনের অভাব অনেক সময় গভীর প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের উচিত নিয়মিতভাবে একে অপরের মানসিক অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নেওয়া। সচিনের মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

অল্প বয়সেই সচিনের অভিনয় দক্ষতা এবং প্রতিভা দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছে। ‘জামতাড়া ২’-তে তার অভিনয় কেবল দর্শকদের নয়, সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। নতুন মরাঠি প্রজেক্টটি তার পেশাগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার সুযোগ ছিল। এই সিনেমায় তার অভিনয় কেবল একটি চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের আবেগ এবং অনুভূতি স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।

এছাড়াও, সচিনের অনলাইন ভিডিও এবং নাটকগুলো তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভা তাকে একটি নতুন প্রজন্মের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সচিন চন্দওয়াড়ের মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তরা শোকাহত। অনেকেই তার স্মরণে ছোট ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন এবং তার প্রতিভা, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উচ্ছ্বাসকে স্মরণ করছেন। চলচ্চিত্র জগতের অনেক বড় তারকা এবং পরিচালকরা তাদের সামাজিক মাধ্যমে সচিনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়েছেন।

তার ছোট কিন্তু প্রতিভাময় জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য আছে। সচিন চন্দওয়াড়ের জীবন, যদিও সংক্ষিপ্ত, তবুও অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সচিন চন্দওয়াড় একজন প্রতিভাবান অভিনেতা এবং সম্ভাবনাময় তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু কেবল পরিবারের জন্য নয়, পুরো চলচ্চিত্র জগত এবং ভক্তদের জন্য একটি বড় শোক। যদিও তিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে গেছেন, তার উজ্জ্বলতা, প্রতিভা এবং স্বপ্ন অনন্তকাল দর্শকদের মনে জীবন্ত থাকবে।

সচিনের জীবনের এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারস্পরিক সমর্থনের গুরুত্ব কখনো হালকাভাবে নেওয়া যায় না। তার প্রতিভা এবং স্বপ্ন আমাদের অনুপ্রাণিত করবে, এবং তার স্মৃতিচিহ্ন চিরকাল অম্লান থাকবে।

Preview image