বলিউডের গ্রিক গড নামে পরিচিত হৃতিক রোশনকে নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। তাঁর অভিনয়, নাচ, ফিটনেস ও ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস। শোনা যাচ্ছে, হৃতিক রোশনের শরীরে নাকি প্রায় ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত বইছে। এই দাবি এসেছে তাঁর বংশানুক্রমিক ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে। হৃতিকের দাদু রোশন লাল নাগরথ ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম খ্যাতনামা সংগীত পরিচালক। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাগরথ পরিবারের এক প্রজন্ম আগে বাঙালি নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই হৃতিকের শরীরে বাঙালি রক্তের উত্তরাধিকার প্রবাহিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। যদিও এই শতাংশ কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল নয়, বরং পারিবারিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল, তবু সম্পর্কের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়নি। অনেকের মতে, হৃতিকের অভিনয়ের সংবেদনশীলতা, আবেগের গভীরতা ও চরিত্রে ডুবে যাওয়ার ক্ষমতার মধ্যেই বাংলা শিল্পচেতনার এক ধরনের ছাপ দেখা যায়। বাংলা সাহিত্য ও সিনেমার যে সূক্ষ্ম আবেগপ্রবণ ধারা, তার সঙ্গে এই বৈশিষ্ট্যের মিল খুঁজে পান সমালোচকরা। সব মিলিয়ে, হৃতিক রোশন ভারতের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে পাঞ্জাবি ও বাঙালি ঐতিহ্যের সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে।
হৃতিক রোশনের শরীরে ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত: পারিবারিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক সংযোগের বিস্তারিত বিশ্লেষণ বলিউডের 'গ্রিক গড' নামে পরিচিত হৃতিক রোশনকে নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের শেষ নেই। তাঁর সুঠাম শরীর, চোখের রং, নাচের দক্ষতা কিংবা অভিনয়ের বহুমাত্রিকতা—সব কিছুর মধ্যেই যেন রয়েছে এক বিশেষ আকর্ষণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতাকে ঘিরে যে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে, তা তাঁর অভিনয় বা ফিটনেস নিয়ে নয়, বরং তাঁর রক্তের সম্পর্ক ও পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে—হৃতিক রোশনের শরীরে নাকি বইছে '২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত'। এই দাবি কোথা থেকে এল, কোন সম্পর্কের সূত্র ধরে এমন কথা বলা হচ্ছে, আর এর পেছনের ইতিহাসই বা কী—এই সব প্রশ্ন ঘিরেই কৌতূহল তুঙ্গে।হৃতিক রোশনের পারিবারিক ইতিহাস জানলে বোঝা যায়, তাঁর শিকড় শুধুমাত্র মুম্বই বা পাঞ্জাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বাবা রাকেশ রোশন বলিউডের পরিচিত অভিনেতা ও পরিচালক, আর দাদু রোশন লাল নাগরথ ছিলেন হিন্দি ছবির সংগীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নাগরথ পরিবার মূলত উত্তর ভারতের হলেও তাঁদের পারিবারিক বিবরণে এমন কিছু সম্পর্কের কথা উঠে আসে, যা ভারতের নানা প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে বাঙালি সংযোগের গল্প।রোশন লাল নাগরথ বলিউডের স্বর্ণযুগে সংগীত পরিচালক হিসেবে অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর সৃষ্টি করা সুরগুলি আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। সংগীতের প্রতি তাঁর এই গভীর অনুরাগ ও শিল্পবোধ কেবল তাঁর নিজস্ব প্রতিভা নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্যেরও অংশ ছিল। তাঁর পরিবারে সংস্কৃতিচর্চা ও শিল্পকলার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয়েছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে বাঙালি সংস্কৃতির সংযোগও। এই '২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত'-এর দাবি মূলত আসে হৃতিকের পারিবারিক বংশানুক্রম বিশ্লেষণ থেকে। জানা যায়, তাঁর দাদু রোশন লাল নাগরথের পারিবারিক বংশে এক প্রজন্ম আগে বাঙালি নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সেই বিয়ের মাধ্যমে পরিবারে প্রবেশ করেন এক বাঙালি নারী, যাঁর সাংস্কৃতিক ও রক্তের উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। ফলে হিসাব অনুযায়ী, সেই রক্তের ধারা মিলিয়ে হৃতিকের শরীরে প্রায় এক চতুর্থাংশ বাঙালি রক্ত থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।এই বিবাহ কেবল দুই পরিবারের মিলনই ছিল না, বরং দুই সংস্কৃতির সংমিশ্রণও ঘটেছিল তার মধ্য দিয়ে। বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—সাহিত্য, সংগীত, নাটক, শিল্পকলা—সব কিছুই সেই বাঙালি নারীর মাধ্যমে নাগরথ পরিবারে প্রবেশ করে। আর সেই প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মেও বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এই দাবি কোনও হঠাৎ গুজব নয়, বরং বহু বছর ধরে পারিবারিক আলোচনায় উঠে আসা এক তথ্য। যদিও হৃতিক নিজে কখনও সরাসরি গণমাধ্যমে শতাংশের অঙ্ক কষে বলেননি, তবু বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের নানা সংস্কৃতির প্রতি নিজের টান ও শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে বাংলা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি তাঁর পরিবারের অনুরাগের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন একাধিকবার। রক্তের শতাংশ নির্ণয় কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল নয়, বরং বংশানুক্রমিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। যদি কোনও ব্যক্তির পরপিতামহ বা পরপিতামহীর একজন বাঙালি হন, তাহলে গাণিতিক হিসাবে তাঁর শরীরে প্রায় ২৫ শতাংশ সেই বংশের রক্ত থাকার কথা। ফলে '২৫ শতাংশ' সংখ্যাটি প্রতীকী হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবু সম্পর্কের সূত্র যে রয়েছে, তা পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রে অস্বীকার করা হয়নি। বাঙালি রক্তের প্রসঙ্গ উঠলেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—এর প্রভাব কি হৃতিকের ব্যক্তিত্ব বা শিল্পীসত্তায় পড়েছে? অনেকের মতে, হৃতিকের অভিনয়ের সংবেদনশীলতা, আবেগপ্রবণ দৃশ্যগুলিতে তাঁর চোখের ভাষা, কিংবা চরিত্রের গভীরতায় ঢুকে পড়ার ক্ষমতা—এই সব কিছুর মধ্যেই নাকি এক ধরনের বাঙালি শিল্পচেতনার ছোঁয়া পাওয়া যায়। যদিও এটি একান্তই দর্শকের অনুভূতি ও ব্যাখ্যার বিষয়, তবু বলিউডের বহু বিশ্লেষক এই মতকে উড়িয়ে দেন না। বাংলা সংস্কৃতি মানেই সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও সিনেমার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন—বাংলার শিল্পচর্চায় যে গভীরতা ও দার্শনিকতা রয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। হৃতিক রোশনের পরিবার যে সংস্কৃতিমনস্ক ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর দাদু রোশন লাল নাগরথের কাজের মধ্যেই। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ, সুরের সূক্ষ্মতা ও আবেগ—এই সব গুণই বাংলা সংগীতধারার সঙ্গেও বহু ক্ষেত্রে মিলে যায়। তাই কেউ কেউ মনে করেন, এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনই হৃতিকের শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। হৃতিকের অভিনীত চরিত্রগুলির মধ্যে অনেক সময়েই দেখা যায় গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব, নীরব বেদনা ও সংযত আবেগের প্রকাশ। 'কহো না প্যার হ্যায়' ছবিতে তাঁর চরিত্রের সংবেদনশীলতা, 'গুজারিশ'-এ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগীর ভূমিকায় তাঁর অসাধারণ অভিনয়, 'কাবিল'-এ দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চরিত্রে তাঁর পারফরম্যান্স—এই সব ক্ষেত্রেই তিনি যে গভীরতা দেখিয়েছেন, তা নিছক অভিনয়কৌশল নয়, বরং এক ধরনের শিল্পবোধেরই প্রকাশ। বাংলা সাহিত্য ও সিনেমায় এই ধরনের চরিত্রচিত্রণ অত্যন্ত পরিচিত। মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, তার মনোজগতের জটিলতা, জীবনের নানা রঙের বিষাদ ও আনন্দ—এই সব কিছু বাংলা শিল্পে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। ফলে সমালোচকরা কখনও কখনও বলেন, হয়তো অজান্তেই হৃতিক সেই ধারার প্রভাব বহন করছেন। এটা হতে পারে তাঁর পারিবারিক উত্তরাধিকার থেকে পাওয়া এক অদৃশ্য শিক্ষা, যা তাঁর অভিনয়ে প্রতিফলিত হয়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, বলিউডে বাঙালি সংযোগ নতুন কিছু নয়। বহু খ্যাতনামা অভিনেতা ও পরিচালক তাঁদের বংশের কোথাও না কোথাও বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া বহন করেন। অমিতাভ বচ্চনের পরিবারের সঙ্গে বাংলার গভীর সম্পর্ক সবারই জানা। তাঁর মা তেজি বচ্চন ছিলেন বাঙালি, আর কবি হরিবংশ রাই বচ্চন নিজেও বাংলা সাহিত্যের গভীর অনুরাগী ছিলেন। একইভাবে বহু বলিউড তারকার পরিবারে বাঙালি সংযোগ রয়েছে। হৃতিকের ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অধ্যায় যেন সামনে এসেছে নতুন করে। বলিউডের ইতিহাসে বাঙালিদের অবদান অসামান্য। সত্যজিৎ রায়ের মতো চলচ্চিত্র নির্মাতা শুধু বাংলা সিনেমা নয়, ভারতীয় সিনেমাকেই বিশ্বমানে পৌঁছে দিয়েছেন। ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত—এঁরা সবাই বাংলা সিনেমার পথিকৃৎ। বলিউডেও বহু বাঙালি অভিনেতা, পরিচালক, সংগীত পরিচালক তাঁদের অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। সুচিত্রা সেন, শর্মিলা ঠাকুর, জয়া বাদুড়ী, রাখি গুলজার, রানি মুখার্জি, কাজল, অজয় দেবগন (যাঁর মা বীণা দেবগন একজন বাঙালি)—এই তালিকা দীর্ঘ। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, বাঙালি অনুরাগীদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই গর্বের সঙ্গে বলেন, "হৃতিক আমাদেরই একজন।" ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে বাঙালি ভক্তরা এই তথ্য শেয়ার করে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ হৃতিকের ছবির নিচে বাংলায় মন্তব্য করে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এমনকি কিছু ভক্ত হৃতিকের সঙ্গে বাংলায় কথা বলার আশাও প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের সংযোগ আবিষ্কার করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যখন কোনও বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের কোনও সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়, তখন একটা আত্মীয়তার বোধ জাগে। বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে বাঙালিদের যে গর্ব, তা সবারই জানা। ফলে হৃতিকের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকার সঙ্গে বাংলার সংযোগ জানতে পেরে তাঁরা স্বভাবতই আনন্দিত। হৃতিক রোশনের ব্যক্তিত্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি নিজেকে কখনও কোনও একক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ভারতীয় হিসেবে তিনি সব ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মান করেন। বাংলা হোক বা মারাঠি, পাঞ্জাবি বা তামিল—সব কিছুর প্রতিই তাঁর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তিনি নিজেকে সর্বভারতীয় শিল্পী হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন, এবং তাঁর কাজেও সেই বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়। হৃতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ভারতের বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। একটি দেশে এত ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, শিল্পকলা—এই সবই ভারতকে অনন্য করে তুলেছে। তিনি তাঁর ছবিতেও এই বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। 'জোধা আকবর'-এ মুঘল ঐতিহ্য, 'মোহেঞ্জোদারো'-তে সিন্ধু সভ্যতা, 'সুপার থার্টি'-তে একজন সাধারণ শিক্ষকের চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি ভারতের নানা রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই বাঙালি রক্তের দাবি তাঁর কাছে গর্বেরই বিষয় হতে পারে, এমনটাই মনে করেন অনেকে। এটা তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয়ের আরও একটি স্তর মাত্র। হৃতিক কেবল একজন পাঞ্জাবি পরিবারের সন্তান নন, তিনি ভারতের বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিল্পী। সব মিলিয়ে, 'হৃতিকের শরীরে ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত'—এই দাবি নিছক চমকপ্রদ শিরোনাম হলেও এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক ইতিহাসের বাস্তব সূত্র। এটি কোনও রাজনৈতিক বা বিপণনমূলক প্রচার নয়, বরং ভারতীয় বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার এক সুন্দর উদাহরণ। যেখানে এক অভিনেতার শরীর ও সত্তার মধ্যে মিশে আছে নানা অঞ্চলের রক্ত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ভারত একটি বহুজাতিক, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে সহস্র বছর ধরে বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়, সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। বিয়ে, সামাজিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, অভিবাসন—নানা কারণে এক অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মানুষের মেলবন্ধন ঘটেছে। ফলে আজকের ভারতের অধিকাংশ পরিবারেই যদি গভীরভাবে খোঁজ করা হয়, তাহলে একাধিক অঞ্চলের রক্তের মিশ্রণ পাওয়া যাবে। হৃতিক রোশনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। তাঁর পরিবারে উত্তর ভারতের পাঞ্জাবি ঐতিহ্য যেমন আছে, তেমনি পূর্ব ভারতের বাঙালি সংস্কৃতিরও সংযোগ রয়েছে। এই মিশ্রণই তাঁকে করে তুলেছে আরও সমৃদ্ধ, আরও বহুমুখী। তিনি শুধু একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন না, বরং পুরো ভারতের বৈচিত্র্যকেই তুলে ধরেন।