Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নাগরদোলা ঘুরিয়ে দিনে ১০ লক্ষ টাকা আয়! ভাইরাল ভিডিওতে চমক দেশজুড়ে

একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, এক রাইড অপারেটর দাবি করছেন— তিনি নাগরদোলা ঘুরিয়ে দিনে ১০ লক্ষ টাকা আয় করেন! ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে চাঞ্চল্য। কেউ বিশ্বাস করছেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন এই অঙ্কের বাস্তবতা নিয়ে।

নাগরদোলা ঘুরিয়ে দিনে ১০ লক্ষ টাকা আয়! ভাইরাল ভিডিওতে চমক দেশজুড়ে

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও এখন দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি দাবি করছেন— তিনি নাগরদোলা চালিয়ে দিনে ১০ লক্ষ টাকা আয় করেন! অবিশ্বাস্য এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে, আর সেই সঙ্গে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক— আসলে কী সত্যি এমন আয় সম্ভব?

ভাইরাল ভিডিওর ঘটনা

ভিডিওটি প্রথমে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায়, এক ব্যক্তি মেলায় দাঁড়িয়ে নাগরদোলার সামনে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। রাইড অপারেটরের পাশে থাকা তরুণটি বলে উঠলেন— “আমরা দিনে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা কামাই করি!” এই এক কথাতেই হৈচৈ পড়ে যায় নেট দুনিয়ায়।
ভিডিওটির নিচে লাখ লাখ ভিউ, হাজার হাজার মন্তব্য। কেউ অবিশ্বাসে চোখ কচলেছেন, কেউ আবার বলেছেন— “যদি এমন হয়, তাহলে আমরা সবাই নাগরদোলা চালাবো!”

কীভাবে হিসেব মিলছে না

তবে ভিডিওর দাবি শুনে অনেকেই মাথা খাটাতে শুরু করেছেন। যুক্তি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, যদি একটি নাগরদোলায় একসঙ্গে ১০০ জন ওঠে এবং প্রতি টিকিটের দাম হয় ২০০ টাকা, তাহলে এক রাইডে আয় হবে ২০,০০০ টাকা।
একটি রাইড ঘুরতে লাগে প্রায় ৫ মিনিট। দিনে ১২ ঘণ্টা ধরে নাগরদোলা চললে প্রায় ১৪৪ বার রাইড দেওয়া সম্ভব।
অর্থাৎ দিনে সর্বাধিক আয় হতে পারে প্রায় ২.৮৮ লক্ষ টাকা। তাতে খরচ বাদ দিলে হাতে থাকবে আরও কম। তাহলে ১০ লক্ষ টাকার হিসেব আসছে কোথা থেকে — এই প্রশ্নেই নেটপাড়ায় তোলপাড়।
 

news image
আরও খবর

বাস্তবের পেছনের পরিশ্রম

একজন রাইড অপারেটরের জীবন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই পরিশ্রমসাধ্য। তাঁরা প্রতিদিন সকালে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন, এবং রাতভর রাইড চালান।
বিদ্যুৎ খরচ, কর্মচারীদের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাড়ার খরচ— সব মিলিয়ে দৈনিক আয় থেকে বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। তাই ১০ লক্ষ টাকার মতো বিশাল মুনাফা বাস্তবে সম্ভব নয় বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।
 

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যের বন্যা। কেউ মজা করে লিখেছেন, “এখন থেকে চাকরি ছেড়ে নাগরদোলা চালাব!” আবার কেউ লিখেছেন, “এই ভিডিওটা পরিষ্কার প্রমোশনাল স্টান্ট।”
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “যদি সত্যিই দিনে ১০ লক্ষ রুপি আয় হয়, তাহলে এই রাইড অপারেটর দেশের সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তা হতেন!”
 

তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল হলেও সেগুলির সত্যতা যাচাই করা জরুরি। মেলার ব্যবসা মৌসুমি, তাই প্রতিদিন সমান আয় হওয়া সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে অনেক রাইডের মালিকানা থাকে একাধিক ব্যক্তির হাতে, তাই আয় ভাগ হয়ে যায়। ফলে পুরো হিসেবটিই একটি অতিরঞ্জিত অনুমান বলে মনে করা হচ্ছে।

নাগরদোলার মতো রোমাঞ্চকর রাইড শুধু আনন্দ দেয় না, কর্মসংস্থানও তৈরি করে। কিন্তু “দিনে ১০ লক্ষ টাকা আয়” — এই দাবিটি বাস্তবের থেকে অনেক দূরের এক কৌতূহলোদ্দীপক গল্প বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবুও, এই ভাইরাল ভিডিও মানুষকে আবারও ভাবাচ্ছে— সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা কত দ্রুত বিশ্বাস করি যা দেখি, যাচাই না করেই!


ভিডিওটি যতই হাসির বা আশ্চর্যের হোক, সেটি আমাদের শেখায়— প্রতিটি ভাইরাল দাবির পেছনে সত্য ও সংখ্যার মিল খুঁজে দেখা সবসময় জরুরি।

Preview image