উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন কলকাতার হেয়ার স্কুলে এক পরীক্ষার্থী ২৫ মিনিট দেরিতে পৌঁছন বাস সমস্যার কথা জানায় সে।
রাজ্যে শুরু হলো উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ তথা চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একদিকে যেমন মূল চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা চলছে, তেমনই একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃতীয় সেমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষাও। ফলে একাধিক ধারায় পরীক্ষার আয়োজন করায় শিক্ষা সংসদের উপর ছিল বিশেষ প্রশাসনিক চাপ।
এ বছর পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। প্রশ্নপত্র পড়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সেমেস্টার পরীক্ষায় ওএমআর শিটে প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক পরীক্ষার্থীর কাছেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সময়ের অভাব নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের তরফে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা সংসদ চতুর্থ সেমেস্টারে বাড়তি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষায় ওএমআর শিট ব্যবহারের সময় অনেক পড়ুয়াই জানিয়েছিল, প্রশ্ন ভালো করে পড়ে নেওয়ার সুযোগ তারা পাচ্ছে না। নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছিল। ফলে ভুল উত্তর চিহ্নিত করা বা সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে চতুর্থ সেমেস্টারে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়ে নিতে পারবে, উত্তর কৌশল নির্ধারণ করতে পারবে এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারবে।
মাহেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী শ্রেষ্ঠা সাহু, যিনি ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনে পরীক্ষা দিতে এসেছেন, বলেন—
“তৃতীয় সেমেস্টারে বেশ খানিকটা ভয় ছিল। প্রথমবার ওএমআর-এ পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। এ বার খানিকটা সময় দিয়েছে শিক্ষা সংসদ। আশা করি অসুবিধা হবে না।”
এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, বাড়তি সময় পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে।
এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা যে কোনও ধরনের বৈদ্যুতিন যন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের আগে দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলেই নির্দিষ্টভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজ্যের মোট ১০৪টি স্পর্শকাতর কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা বল মোতায়েন রয়েছে। কোথাও যেন কোনও অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক প্রশাসন।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই সামনে এল এক বিতর্কিত ঘটনা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হেয়ার স্কুলে এক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। আরও এক পরীক্ষার্থী আসে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩৪ মিনিট পর।
ওই ছাত্রের দাবি, বাসের সমস্যার কারণে সে সময়মতো পৌঁছতে পারেনি। যদিও পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেখা যায়, যা নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছেন, পরীক্ষার দিন পরিবহণ সমস্যার সম্ভাবনা মাথায় রেখে পরীক্ষার্থীদের আরও আগে বের হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে অনেকের মতে, শহরের যানজট ও গণপরিবহণের অনিশ্চয়তাও একটি বাস্তব সমস্যা।
পরীক্ষার প্রথম দিনেই পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, সকল পরীক্ষার্থীর জন্য রইল শুভকামনা, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দাও।
এ ছাড়াও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বহু পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরীক্ষার চাপের মাঝে এই ছোট উদ্যোগ অনেক পড়ুয়ার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা চলবে
? সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা
? দুপুর ১টা থেকে ২টো ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
পুরনো নিয়মে পরীক্ষা
? সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
চূড়ান্ত ও সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট দেওয়া হবে।
সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা রাজ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আগে বার্ষিক পদ্ধতিতে একবারেই পরীক্ষা নেওয়া হত। এখন ধাপে ধাপে মূল্যায়নের ফলে পড়ুয়াদের উপর চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। তবে নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের।
ওএমআর শিট ব্যবহারের ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। তবে সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট না করলে নম্বর কাটা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই পদ্ধতিতে মানসিক স্থিরতা ও মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে প্রথম দিন মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টার পরীক্ষা। অতিরিক্ত ১০ মিনিটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কঠোর।
তবে হেয়ার স্কুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সময়নিষ্ঠা যে অত্যন্ত জরুরি, তা আবারও সামনে এল।
আগামী কয়েকদিন ধরে চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। শিক্ষা সংসদ এবং প্রশাসনের নজর এখন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার দিকে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এখন একটাই বার্তা—
আত্মবিশ্বাস রাখো, সময় মেনে চলো, আর ঠান্ডা মাথায় প্রশ্ন পড়ে উত্তর দাও।
আপনি চাইলে আমি এটি আরও বেশি বিশ্লেষণধর্মী, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বা সম্পূর্ণ সংবাদপত্রের ফিচার ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।
নীচে অংশটি প্রায় ২০০০ শব্দের বিশদ বিশ্লেষণধর্মী আকারে সম্প্রসারণ করে দেওয়া হলো—
রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কাঠামোয় সাম্প্রতিক পরিবর্তন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে শিক্ষাব্যবস্থায়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত বার্ষিক পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তে চালু হয়েছে সেমেস্টার ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়সূচির বদল নয়, বরং শিক্ষণ-পদ্ধতি, মূল্যায়ন-দর্শন এবং ছাত্রছাত্রীদের মানসিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
আগে উচ্চ মাধ্যমিক মানেই ছিল দুই বছরের প্রস্তুতির পর একবারে চূড়ান্ত পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করত ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের দিশা। ফলে মানসিক চাপ ছিল অত্যন্ত বেশি। এক দিনের খারাপ পারফরম্যান্স বা একটি বিষয়ে ভুল হলে তার প্রভাব পড়ত সামগ্রিক ফলাফলের উপর। নতুন সেমেস্টার পদ্ধতিতে সেই চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে পরীক্ষা হওয়ায় পড়ুয়াদের নিয়মিত প্রস্তুতির অভ্যাস গড়ে উঠছে।
তবে পরিবর্তনের সঙ্গে আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও মানিয়ে নিতে হচ্ছে নতুন কাঠামোর সঙ্গে। পাঠ্যসূচি ভাগ করা, সময়মতো সিলেবাস শেষ করা, পুনরাবৃত্তি এবং মক টেস্টের পরিকল্পনা—সব কিছুই নতুনভাবে সাজাতে হচ্ছে। স্কুলগুলির প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বেড়েছে কাজের চাপ। প্রশ্নপত্র তৈরি, ওএমআর শিট ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি—সবই আরও সংগঠিতভাবে করতে হচ্ছে।
সেমেস্টার পদ্ধতিতে একটি বড় পরিবর্তন হলো সময়ের গুরুত্ব। এখন আর বছরের শেষে একবারে প্রস্তুতি নিলেই চলবে না। প্রতিটি সেমেস্টারই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পড়ুয়াদের ধারাবাহিক পড়াশোনার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
অনেক ছাত্রছাত্রী জানাচ্ছে, শুরুতে এই ধারাবাহিক চাপ মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। আগে পরীক্ষার আগে কয়েক মাস জোরকদমে পড়াশোনা করার প্রবণতা ছিল। এখন সেই সুযোগ নেই। প্রতিটি সেমেস্টারে ভালো ফল করতে হলে নিয়মিত অধ্যবসায় দরকার।
এই ধারাবাহিক মূল্যায়নের ইতিবাচক দিক হলো, পড়াশোনায় ফাঁক থাকলে তা দ্রুত ধরা পড়ছে। ফলে সংশোধনের সুযোগও মিলছে আগেভাগেই। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষার মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
এই নতুন ব্যবস্থায় ওএমআর শিটের ব্যবহার একটি বড় পরিবর্তন। আগে যেখানে খাতায় উত্তর লিখতে হত, এখন বহু ক্ষেত্রে বৃত্ত পূরণ করে উত্তর চিহ্নিত করতে হচ্ছে। এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে, ফল প্রকাশের সময় কমছে এবং মানবিক ভুলের সম্ভাবনা কমছে।
কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সূক্ষ্ম সতর্কতার প্রয়োজন। একটি বৃত্ত ভুলভাবে ভরাট হলে বা আংশিক পূরণ করলে যন্ত্র তা সঠিকভাবে পড়তে পারে না। ফলে নম্বর হারানোর ঝুঁকি থাকে। অনেক পড়ুয়া প্রথমদিকে এই প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে অভ্যস্ত ছিল না। তাই তৃতীয় সেমেস্টারে সময়ের অভাব এবং মানসিক চাপের অভিযোগ উঠেছিল।
চতুর্থ সেমেস্টারে অতিরিক্ত ১০ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে মূলত এই সমস্যার প্রেক্ষিতেই। এই সময়ে পড়ুয়ারা প্রশ্ন বুঝে নিতে পারছে, উত্তর কৌশল নির্ধারণ করতে পারছে এবং মানসিকভাবে স্থির হতে পারছে। অনেকেই বলছেন, এই বাড়তি সময় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
চতুর্থ তথা চূড়ান্ত সেমেস্টারের প্রথম দিন মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়মতো পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া। মোবাইল ফোন বা কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দেহ তল্লাশির ব্যবস্থাও ছিল প্রতিটি কেন্দ্রে।
রাজ্যের ১০৪টি স্পর্শকাতর কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং অনিয়ম রুখতে প্রশাসন ছিল তৎপর।
তবে কলকাতার হেয়ার স্কুলে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দেরিতে পৌঁছনোর ঘটনা নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেউ ২৫ মিনিট, কেউ ৩৪ মিনিট পরে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের দাবি, বাসের সমস্যার কারণে দেরি হয়েছে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন সময়নিষ্ঠার গুরুত্ব সামনে এসেছে, অন্যদিকে শহরের পরিবহণ সমস্যার বাস্তবতাও আলোচনায় এসেছে।
পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে আসতে দেখা গিয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবুও এই ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গকে সামনে এনেছে।
পরীক্ষার দিন সকালেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও বহু কেন্দ্রে গোলাপ ফুল দিয়ে পড়ুয়াদের স্বাগত জানানো হয়। এই ছোট উদ্যোগ মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
উচ্চ মাধ্যমিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে পড়ুয়ারা প্রায়শই মানসিক চাপে ভোগে। তাই প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক সমর্থনও সমানভাবে জরুরি।
সেমেস্টার পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত বলা যায়, এটি শিক্ষার ধারাবাহিকতা বাড়াচ্ছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়নের দিকে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিবর্তনের মধ্যেই সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও প্রশাসন—সবাই যদি সমন্বয় রেখে এগোতে পারে, তবে এই নতুন পদ্ধতি শিক্ষার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের সূচনা আশাব্যঞ্জক। অতিরিক্ত ১০ মিনিটের সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে। যদিও প্রথম দিনেই কয়েকটি দেরির ঘটনা নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ।
আগামী কয়েকদিন এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চলবে। শিক্ষা সংসদ ও প্রশাসনের লক্ষ্য—সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন পরীক্ষা পরিচালনা।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বার্তা একটাই—
আত্মবিশ্বাস রাখো, সময়ের মূল্য বোঝো, মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন পড়ো এবং স্থিরভাবে উত্তর দাও।
এই পরীক্ষাই শেষ নয়, বরং জীবনের বৃহত্তর যাত্রার একটি ধাপ মাত্র।