Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২৯, ৩০, ৩১ জানুয়ারি ভারী বৃষ্টি কাঁপাবে ৪ রাজ্য শীতের শিরশিরানি বাড়বে কোন কোন রাজ্যে কী হবে বাংলায় জানিয়ে দিল IMD

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সকালের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমে যাবে, যার ফলে আবার কাঁপুনি শুরু হবে। রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি, ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপট: দেশে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা নামবে আরও, বাড়বে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব

শীতের তীব্রতা কিছুটা কমতে শুরু করেছিল দেশজুড়ে। বহু জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছিল, কুয়াশার প্রভাবও কমছিল, ফলে মানুষজন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। ফের একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)।

আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টি শুরু হতে পারে, যা আগামী কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকবে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আবারও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সকালের দিকে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার ফলে ফের কাঁপুনি ধরতে পারে সাধারণ মানুষের।


পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী এবং কেন এই বৃষ্টি?

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) হল একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা, যা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিম দিক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে। শীতকালীন মাসগুলিতে এই ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতের আবহাওয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

এই ঝঞ্ঝার ফলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, কখনও ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাত দেখা যায়। পাশাপাশি আর্দ্রতা বেড়ে যায়, কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষভাগে একাধিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হয়ে উঠছে, যার ফলেই আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


কোন কোন রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা?

IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি শুরু হতে পারে

বৃষ্টির সম্ভাব্য অঞ্চলগুলি হল:

  • রাজস্থান

  • জম্মু ও কাশ্মীর

  • লাদাখ

  • হিমাচল প্রদেশ

  • উত্তরাখণ্ড

  • পঞ্জাব

  • হরিয়ানা

এই রাজ্যগুলির বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।


তাপমাত্রা কমবে, বাড়বে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে এবং সূর্যের আলো কমে গেলে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায়।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সকালের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলবে।

বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা অত্যন্ত নিচে নেমে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ঝোড়ো বাতাসও বইতে পারে বলে জানিয়েছে IMD। ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

ঝোড়ো বাতাসের ফলে—

  • গাছপালা উপড়ে পড়ার আশঙ্কা

  • বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা

  • ছোটখাটো কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি

  • পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা

এছাড়া বিমান ও রেল পরিষেবাও কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে।


বজ্রপাত ও বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাত এবং বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাতের সতর্কতা

১ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে

এই তুষারপাতের ফলে—

  • পাহাড়ি রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে

  • পর্যটকদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে

  • তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামতে পারে

  • বরফ জমে যানবাহন চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে

পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন এবং পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


কৃষকদের জন্য কী প্রভাব পড়তে পারে?

এই বৃষ্টি ও ঠান্ডার পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রে মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতিবাচক দিক:

  • শীতকালীন ফসলের জন্য বৃষ্টি উপকারী হতে পারে

  • গম, সরিষা ও ডাল জাতীয় ফসলের জন্য মাটির আর্দ্রতা বাড়বে

  • ভূগর্ভস্থ জলস্তর কিছুটা উন্নত হতে পারে

নেতিবাচক দিক:

  • অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি

  • তুষারপাতের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

  • শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে

কৃষি বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।


সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা ও পরামর্শ

বৃষ্টি ও তীব্র ঠান্ডার সময় সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সতর্কতা:

  • পর্যাপ্ত উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করা

  • বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থদের বাড়তি যত্ন নেওয়া

  • বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা

  • পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের সময় আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত দেখা

  • ঝোড়ো বাতাসের সময় বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে না যাওয়া


শহরাঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাব

শহরাঞ্চলে বৃষ্টি ও ঠান্ডার ফলে—

  • ট্রাফিক সমস্যা বাড়তে পারে

  • সকালের কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে

  • ফ্লাইট ও ট্রেন পরিষেবায় বিলম্ব হতে পারে

  • দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে

বিশেষ করে উত্তর ভারতের বড় শহরগুলিতে (দিল্লি, জয়পুর, চণ্ডীগড় ইত্যাদি) শীতের প্রকোপ ফের বাড়তে পারে।


আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কতদিন স্থায়ী হতে পারে?

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কয়েক দিন ধরে থাকতে পারে। জানুয়ারির শেষভাগ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উত্তর ভারতের আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে।

এর পর ধীরে ধীরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে শীতের প্রভাব পুরোপুরি কমতে এখনও সময় লাগবে।


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শীত ও বৃষ্টির এই আচরণ

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা যাচ্ছে, শীতের চরিত্র বদলাচ্ছে। কখনও হঠাৎ তীব্র ঠান্ডা, আবার কখনও অস্বাভাবিক উষ্ণতা—এই পরিবর্তন জলবায়ু পরিবর্তনের একটি লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংখ্যা ও তীব্রতা পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে শীতকালীন বৃষ্টির ধরণও বদলে যাচ্ছে। এটি কৃষি, জলসম্পদ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি থেকে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রভাবিত হতে পারে।


পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হল একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থা, যা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয় এবং পশ্চিম দিক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে। শীতকালীন সময়ে এই ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতের আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে—

এই কারণে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতের শীতকালীন আবহাওয়ার অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে পরিচিত।


কোন কোন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা?

IMD-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে

বৃষ্টির সম্ভাব্য রাজ্য ও অঞ্চলগুলি হল:

  • রাজস্থান

  • জম্মু ও কাশ্মীর

  • লাদাখ

  • হিমাচল প্রদেশ

  • উত্তরাখণ্ড

  • পঞ্জাব

  • হরিয়ানা

এই রাজ্যগুলির বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।


তাপমাত্রা কমবে ২-৩ ডিগ্রি, বাড়বে ঠান্ডার দাপট

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির ফলে সূর্যের আলো কমে যায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যার ফলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়।

IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকালের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই তাপমাত্রা পতনের ফলে ফের কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি ফিরে আসতে পারে।

বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা অত্যন্ত নিচে নেমে যেতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


ঝোড়ো বাতাসের সতর্কতা: ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে বলেও সতর্ক করেছে IMD। ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ঝোড়ো বাতাসের ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলি হল:

  • গাছপালা উপড়ে পড়া

  • বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়া

  • ছোটখাটো ঘরবাড়ি ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

  • কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা

এছাড়া, বিমান চলাচল ও রেল পরিষেবায়ও কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।


বজ্রপাত ও বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাত এবং বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।


পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী তুষারপাতের আশঙ্কা

১ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে

তুষারপাতের ফলে—

  • পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে

  • পর্যটকদের যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিতে পারে

  • বরফ জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে

  • পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে

পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন এবং পর্যটকদের আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

এই বৃষ্টি ও ঠান্ডার পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতিবাচক প্রভাব

  • শীতকালীন ফসল যেমন গম, সরিষা ও ডালের জন্য বৃষ্টি উপকারী হতে পারে

  • মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে

  • ভূগর্ভস্থ জলস্তর উন্নত হতে পারে

নেতিবাচক প্রভাব

  • অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

  • তুষারপাতের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

  • শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে

কৃষি বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।


সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঠান্ডা ও বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে—

  • শিশু

  • বয়স্ক ব্যক্তি

  • শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

তীব্র ঠান্ডার কারণে সর্দি-কাশি, ফ্লু, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শ্বাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। চিকিৎসকরা উষ্ণ পোশাক পরা, গরম খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


শহরাঞ্চলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারণে শহরাঞ্চলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাবগুলি হল:

  • যানজট ও ট্রাফিক সমস্যা

  • কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া

  • বিমান ও ট্রেন পরিষেবায় বিলম্ব

  • দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত

বিশেষ করে দিল্লি, চণ্ডীগড়, জয়পুর, লুধিয়ানা ও দেরাদুনের মতো বড় শহরগুলিতে শীতের প্রকোপ ফের বাড়তে পারে।


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শীতের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কখনও অস্বাভাবিক উষ্ণতা, কখনও হঠাৎ তীব্র ঠান্ডা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত—এই সবই জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংখ্যা ও তীব্রতা বদলে যাওয়ায় শীতকালীন বৃষ্টির ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, জলসম্পদ এবং মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


সাধারণ মানুষের জন্য করণীয়

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

  • উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করা

  • বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া

  • বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা

  • পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখা

  • ঝোড়ো বাতাসের সময় বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে না যাওয়া

  • জরুরি পরিষেবা নম্বর সঙ্গে রাখা


উপসংহার

সব মিলিয়ে, ৩১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে ফের বৃষ্টি, তুষারপাত ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তাপমাত্রা কমবে, ঝোড়ো বাতাস বইবে এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকবে।

আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পর্যটকদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। শীতের দাপট কিছুটা কমেছিল ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতি আবারও তার শীতল ও রুক্ষ রূপ দেখাতে চলেছে।

Preview image