বুধবার সকালে ভাই হর্ষ বজাজের সঙ্গে কর্মস্থল গুরুগ্রাম থেকে অম্বালার বাড়িতে ফিরেছিলেন নিকিতা। তিনি গুরুগ্রামের একটি সংস্থায় চার বছর ধরে চাকরি করছিলেন। বৈদ্যুতিক রিকশায় চেপে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ২৪ বছরের তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে অম্বালা ক্যান্টনমেন্টে পিছন থেকে এসে তাতে ধাক্কা দেয় হেড কনস্টেবলের ‘বেপরোয়া’ গাড়ি। ধাক্কার অভিঘাতে রিকশা থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। তাঁকে পিষে দেয় সেই গাড়ি। মৃত্যু হয় নিকিতা বজাজ নামে ওই তরুণীর। গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। মৃতার পরিবারের দাবি, ওই পুলিশকর্মী মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে পুলিশ।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ভাই হর্ষ বজাজের সঙ্গে কর্মস্থল গুরুগ্রাম থেকে অম্বালার বাড়িতে ফিরেছিলেন নিকিতা। তিনি গুরুগ্রামের একটি সংস্থায় চার বছর ধরে চাকরি করছিলেন। তাঁর ভাই দিল্লির একটি হোটেলে চাকরি করেন। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ক্যান্টনমেন্ট থেকে অম্বালা শহরে যাওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক রিকশায় চাপেন নিকিতা এবং হর্ষ। সে সময় দুরন্ত গতিতে পিছন থেকে ছুটে এসে ধাক্কা দেয় হেড কনস্টেবলের গাড়ি। রিকশা থেকে নিকিতা পড়ে গেলে তাঁকে পিষে দেয় গাড়িটি। নিকিতাকে কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।রিকশাচালক রবীন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, স্থানীয়েরা ছুটে এসে গাড়ির চালককে ধরে ফেলেন। তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কারও কারও দাবি, ওই পুলিশকর্মী মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বাকি পুলিশ কর্মীরা। মৃতার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা দাবি করেন, ঘাতক গাড়ির চালক মত্ত কি না, তা সকলের সামনে হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হোক। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, স্থানীয়দের ক্ষোভ, মৃতার পরিবারের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সড়ক নিরাপত্তা, পুলিশি দায়িত্ববোধ এবং আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে। অভিযোগের তীর যে এক জন পুলিশকর্মীর দিকেই উঠেছে, সেটাই ঘটনাটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক রবীন্দ্র সিংহ জানান, ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ করেই। তাঁর কথায়, “আমি তখন যাত্রী নামিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘুরে দেখি একটি গাড়ি ধাক্কা মেরে এক মহিলাকে ফেলে দিয়েছে। সব কিছু এত দ্রুত ঘটেছে যে বুঝে ওঠার সময়ই পাইনি।” তাঁর দাবি, ধাক্কার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন ওই মহিলা।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের দোকানদার, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খুব দ্রুত। রবীন্দ্র সিংহ বলেন, “লোকজন গাড়িটাকে ঘিরে ফেলে। চালক পালানোর চেষ্টা করেছিল কি না জানি না, তবে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধরে ফেলা হয়।” স্থানীয়রাই ওই চালককে আটকে রেখে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশকর্মী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের দাবি, চালকের আচরণ, কথা বলার ভঙ্গি এবং শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কেউ কেউ আরও দাবি করেন, গাড়ি থেকে নামানোর সময় তাঁর শরীর থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা আরও বাড়ে। স্থানীয়দের একাংশ সরাসরি দাবি তোলেন—চালকের অবিলম্বে মদ্যপান পরীক্ষা (ব্রেথ অ্যানালাইজার ও মেডিক্যাল টেস্ট) করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, “যদি সাধারণ মানুষ হত, সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট করা হত। পুলিশ বলে কি ছাড় পাবে?”
দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম মহিলাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই হাসপাতালে ভিড় জমে মৃতার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের। শোক দ্রুতই ক্ষোভে রূপ নেয়।
মৃতার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ তোলেন, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, “ওই পুলিশ মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল। তাই আমাদের মেয়ের প্রাণ গেল। আমরা চাই সবার সামনে ওর পরীক্ষা হোক।”
হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিবার ও স্থানীয়রা স্লোগান দিতে থাকেন—দোষীর কঠোর শাস্তি চাই। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি পরিষেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলেই কিছু পুলিশকর্মী অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি, তবু তা জনমনে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি, ওকে তাড়াতাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। কেন? যদি দোষ না থাকে, তাহলে লুকোচুরি কেন?”
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—আইনরক্ষক যদি আইন ভাঙেন, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার কোথায় পাবে? কেউ কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান, আবার কেউ বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথাও তোলেন।
পুলিশ অবশ্য প্রাথমিকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া দেয়। এক আধিকারিক জানান, “পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি—দুই দিকেই তদন্ত শুরু হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। গাড়িটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে—ব্রেক ফেল, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অতিরিক্ত গতি—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—চালক মদ্যপ ছিলেন কি না। এই প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, “মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এলে তবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে।” যদিও পরিবার চাইছে রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হোক।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে—অবহেলায় মৃত্যু, বিপজ্জনক ড্রাইভিং, এবং ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ—সব মিলিয়ে শাস্তি গুরুতর হতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ড্রাঙ্ক ড্রাইভিং এখনও বড় সমস্যা। প্রতি বছর অসংখ্য দুর্ঘটনার পেছনে থাকে নেশাগ্রস্ত চালনা। “পুলিশকর্মী হলে দায় আরও বেশি,” বলেন এক বিশেষজ্ঞ। “কারণ তাঁরা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকেন।”
ঘটনাটি প্রশাসনিক স্তরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। কারণ অভিযুক্ত যদি সত্যিই কর্তব্যরত বা পুলিশ পরিচয়ে থাকেন, তবে তা বাহিনীর ভাবমূর্তির উপরও প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে বিভাগীয় তদন্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
মৃতার পরিবার জানিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালাবে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা শুধু ক্ষতিপূরণ চাই না। আমরা বিচার চাই। যেন আর কোনও পরিবার এভাবে না ভাঙে।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলিও ঘটনাটির দিকে নজর দিয়েছে। তারা বলছে, “নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্তের পরিচয় দেখে তদন্তের গতি বদলানো চলবে না।”
হাসপাতালের বাইরে এখনও মাঝে মাঝে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা মোমবাতি মিছিলও করেন নিহত মহিলার স্মরণে। তাঁদের দাবি—সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, পুলিশদের ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি প্রয়োগ করতে হবে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—একটি দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ, বহু স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। আইন সবার জন্য সমান কি না—এই প্রশ্নই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
তদন্ত এগোচ্ছে—রিপোর্ট আসবে, চার্জ গঠন হবে, আদালতে বিচার চলবে। কিন্তু মৃতার পরিবারের কাছে সময় যেন থমকে গেছে সেই মুহূর্তেই, যখন একটি বেপরোয়া গাড়ি তাদের জীবনকে দুমড়ে-মুচড়ে দিল।
এখন সবার নজর—তদন্তের স্বচ্ছতা, আইনের নিরপেক্ষতা, এবং ন্যায়বিচারের উপর।
ঘটনাটিকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন দিক সামনে আসছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্ত পুলিশকর্মী কর্তব্যরত ছিলেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, নাকি কোনও সরকারি দায়িত্বে ছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কারণ কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনিক দায় আরও বেড়ে যায়।
এদিকে দুর্ঘটনাস্থলের ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা রাস্তার ব্রেকের দাগ, গাড়ির ধাক্কার কোণ, এবং ধাক্কার গতিবেগ বিশ্লেষণ করছেন। এতে বোঝা যাবে গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল কি না। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, গাড়িটি খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। তবে পুলিশ বলছে, বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
মৃতার পরিচয় সামনে আসার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানা গিয়েছে, তিনি একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীও ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুতে পরিবার শুধু মানসিক দিক থেকে নয়, আর্থিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা খেয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, “আমাদের ভরসার জায়গাটাই শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা কীভাবে চলব?”
স্থানীয় বাসিন্দারাও মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, কেউ আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। এলাকার এক সমাজকর্মী বলেন, “এটা শুধু একটা পরিবারের লড়াই নয়, এটা ন্যায়বিচারের লড়াই। আমরা শেষ পর্যন্ত ওদের পাশে থাকব।”
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, প্রথমদিকে মামলা রুজু করতে গড়িমসি করা হয়েছিল। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই দুর্ঘটনার মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত দ্রুতগতিতেই চলছে।
আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, এই ধরনের মামলায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হলে উচ্চতর সংস্থার তত্ত্বাবধান জরুরি। কেউ কেউ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত বা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবিও তুলেছেন। তাঁদের মতে, “অভিযুক্ত যদি পুলিশবাহিনীরই সদস্য হন, তাহলে স্বচ্ছতা প্রমাণ করতেই আলাদা নজরদারি দরকার।”
সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। যদিও পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে না দিতে। কারণ এতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এবং গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ভারতে হিট-অ্যান্ড-রান বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি খুব কমই হয়। ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হয় না। এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে তারা কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল ফৌজদারি মামলা নয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতেও আইনি পথে হাঁটবে। তাদের বক্তব্য, “একটা প্রাণের মূল্য টাকা দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু দায় স্বীকার করাতে হবে।”
এই ঘটনার পর আবারও উঠে এসেছে—পুলিশকর্মীদের মানসিক চাপ, ডিউটি আওয়ার, এবং আচরণগত প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কাউন্সেলিং, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং কঠোর মদ্যপান নীতি প্রয়োগ করলে এ ধরনের ঘটনা কমতে পারে।
সব মিলিয়ে, একটি দুর্ঘটনা এখন রূপ নিয়েছে বৃহত্তর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার কেন্দ্রে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট, মেডিক্যাল পরীক্ষার ফল, এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ—সব কিছুর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মৃতার পরিবার, স্থানীয় মানুষ এবং গোটা সমাজ। ন্যায়বিচার কত দ্রুত এবং কতটা নিরপেক্ষ ভাবে হয়—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।