চিরাচরিত ছক ভেঙে নায়কের ভূমিকায় তাঁর দাপুটে উপস্থিতি আর তাতেই দারুণ উপভোগ।
সাদা সালোয়ার কামিজ, রামধনু রঙের ওড়না। মুখে সেই চেনা, দীপ্ত হাসি—গজদাঁতে ঝিলিক। সামনে বসে আছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি বাংলা ছবির পর্দায় নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করেছেন, তিনি আজও সমান সাবলীল, সমান স্পষ্টভাষী। তাঁর কথায় আত্মবিশ্বাস আছে, অভিজ্ঞতার ভার আছে, আবার আছে একরাশ দুষ্টুমি। পরিচালক শৌর্য দেব-এর নতুন ছবি ‘প্রমোটার বৌদি’ নিয়ে মুখোমুখি আড্ডায় তিনি যেন নিজেকেই নতুন করে আবিষ্কার করলেন।
স্বস্তিকার সঙ্গে ‘বৌদি’ শব্দটার যোগ বহু দিনের। ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছরের পথচলায় তাঁকে নানা চরিত্রে ‘বৌদি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রমোটার বৌদি’ শুধু একটি সম্বোধন নয়—এ এক চরিত্রের ভেতর দিয়ে নিজের সীমা ভাঙার প্রয়াস। তিনি স্পষ্টই বললেন, “একই ধরনের কাজ করে গেলে মানুষ কেন আমায় দেখবে?” তাই ভোজপুরি গানে নাচা, ধুলো উড়িয়ে বাইক থেকে নামা, ‘ডন’ মেজাজে এন্ট্রি নেওয়া—সবই তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ।
এই ছবিতে তিনি যে চরিত্রে, সেই পেশায় সাধারণত মেয়েদের দেখা যায় না। সিরিজ় ‘কালীপটকা’র শ্রীমা থেকে শুরু করে ট্যানারিতে কাজ করা নারী—স্বস্তিকা বরাবরই ছক ভাঙতে পছন্দ করেন। এ বার তিনি প্রমোটার। নাম শান্তি দে—যা জুড়ে হয় “শান্তি দে”! রসিকতা করলেও চরিত্রের ভিতরে রয়েছে সামাজিক বার্তা। সাধারণ মানুষ তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় প্রমোটারের হাতে তুলে দেন পাকা বাড়ির আশায়। প্রতারণা, মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়া—এসব বাস্তব সমস্যাকে ছবিতে মজার মোড়কে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বস্তিকার কথায়, এই ছবি তথাকথিত সমান্তরাল নয়; বরং পুরনো দিনের কমার্শিয়াল ধারার। তিনি নিজেই তুলনা টানলেন বাংলা ছবির সেই সময়ের সঙ্গে, যখন বড় ক্যানভাসে গল্প বলা হত, গান-অ্যাকশন-ড্রামা মিলিয়ে পূর্ণ বিনোদন পরিবেশন করা হত।
স্বস্তিকা খোলাখুলি বললেন, “একটা ছবিতে সবাই ক্যারেক্টার আর্টিস্ট।” ‘তারকা নায়িকা’র তকমা ধরে রাখতে হলে তাঁকে শুধু হিরোর নায়িকা হয়েই থাকতে হত। কিন্তু বিশ্ব সিনেমার ভাষা বদলেছে। নারীকেন্দ্রিক গল্প বাড়ছে। তিনি কেন শুধু ‘হিরোদের হিরোইন’ হয়ে থাকবেন? তাঁর মতে, প্রতিভা থাকলে তা কাজে লাগানোই উচিত।
গত দুই দশকে বাংলা ছবির ধারা বদলেছে। মূল ধারার ছবিতেও এখন নারীচরিত্র শক্তিশালী, কেন্দ্রে। দর্শক এখন অভিনয় দেখতে ছবি দেখেন। ‘স্বপ্নের নায়িকা’ হিসেবে দেখতে চাইলে তাঁর ইনস্টাগ্রাম আছে—এই মন্তব্যে যেমন রসিকতা আছে, তেমনই আছে বাস্তবতা। সময়ের সঙ্গে নিজেকে না বদলালে ২৫ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সম্ভব হত না—এ কথা তিনি নির্দ্বিধায় বলেন।
স্বস্তিকার কেরিয়ারের বড় অংশ জুড়ে আছে নতুন পরিচালক, নতুন প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তিনি কখনও শুধুমাত্র বড় হাউস বা তারকাদের সঙ্গে কাজ করবেন বলে ঠিক করেননি। তাঁর কাছে চিত্রনাট্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয়ে তিনি সতর্ক—পরিচালক নতুন হলেও টিম যেন নবিশ না হয়। কারণ, টিমের দক্ষতা না থাকলে ছবি মাঝপথে থেমে যেতে পারে।
এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তাঁর সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ নয়; বরং অভিজ্ঞতার আলোয় গড়া। তিনি ঝুঁকি নেন, কিন্তু অন্ধভাবে নয়।
বাংলা ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি ইন্ডাস্ট্রির ‘মাথা’দের বিষয়। বহু বছর কাজ করলেও তিনি নিজেকে সেই জায়গায় দেখেন না। ছবি কবে মুক্তি পাবে, কীভাবে বানানো হবে—এসব সিদ্ধান্ত অন্যরা নেন। তিনি তাঁর কাজটুকু মন দিয়ে করতে চান। ছবিমুক্তির পর সেটি ভালভাবে চলুক—সেটুকু চেষ্টাই তাঁর হাতে।
ব্যক্তিগত জীবন, সংসার, কলকাতা-মুম্বই যাতায়াত সামলে শিল্পরাজনীতিতে মাথা গলানোর সময় বা ইচ্ছে—কোনোটাই নেই তাঁর। এই সরল স্বীকারোক্তি তাঁর ব্যক্তিত্বের আর এক দিক তুলে ধরে।
স্বস্তিকা রাজনীতিতে নেই। নানা দল থেকে ডাক পেয়েও সাড়া দেননি। তাঁর মতে, সবাই সব পারে—এই প্রত্যাশা এখন তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমের প্রসারে প্রত্যেকের মতামত থাকা বাধ্যতামূলক যেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, যা পারেন না, তা করার ভান করার প্রয়োজন নেই।
সমাজমাধ্যমে তিনি সরব—কিন্তু অনেক সময় উত্যক্ত হয়ে। কুরুচিকর মন্তব্য, ক্লিকবেট শিরোনাম—এসব তাঁকে বিরক্ত করে। দীর্ঘ সাক্ষাৎকার কেউ পড়েন না; একটি লাইন তুলে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর কথায় স্পষ্ট হতাশা, কিন্তু তাতে পরাজয় নেই।
মেয়ের প্রসঙ্গে এলে তাঁর চোখে আলাদা দীপ্তি। অন্বেষা নিজের মতো। বিদেশে বড় হওয়া, কাজ করা—সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি সম্মান শেখানো হয় ছোট থেকেই। কেউ অনুমতি ছাড়া গায়ে হাত দেয় না। এই তুলনায় ভারতীয় সমাজের আচরণ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট।
অন্বেষার প্রেম নিয়ে শহরের কৌতূহল তাঁকে বিব্রত করে না। বরং হাস্যরসের সঙ্গেই নেন। প্রেমের পাশাপাশি মেয়ের একাডেমিক সাফল্য, পিএইচডির জন্য আবেদন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ—এসব নিয়েই তিনি বেশি গর্বিত।
বাংলা ছবির দর্শকের মনে বহু বছর ধরেই এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কেউ তাঁকে শক্তিশালী অভিনেত্রী বলেন, কেউ আবার সাহসী নারীচরিত্রের মুখ। তবে একটা ইমেজ তাঁর সঙ্গে বরাবর জুড়ে থেকেছে—‘স্বপনচারিণী’। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, চোখের ভাষা, অদ্ভুত এক সংযত আবেদন—সব মিলিয়ে বহু পুরুষের কল্পনায় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, তবু সেই আকর্ষণ মুছে যায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই ‘স্বপ্নের নায়িকা’ ইমেজ ধরে রাখতে গেলে কি নিজেকেও থামিয়ে রাখতে হয়? বয়সের ছাপ মুছে ফেলতে হয়? শরীরকে আগের ছাঁচে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হতে হয়? স্বস্তিকার উত্তর স্পষ্ট—না।
তিনি হাসতে হাসতেই বলেন, তখন যে বয়স ছিল, তিনি তখনকার মতোই ছিলেন। আজ তাঁর বয়স, অভিজ্ঞতা, জীবন—সবই আলাদা। শরীরও বদলাবে, মুখের রেখা বদলাবে, অগ্রাধিকার বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক। তিনি বিশ্বাস করেন, বয়স লুকিয়ে রাখার মধ্যে নয়, তাকে গ্রহণ করার মধ্যেই সৌন্দর্য।
এক সময় অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ওজন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮০ কেজি। সাধারণত তারকাদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ওজন কমানোর চাপ তৈরি হয়—ডায়েট, জিম, হঠাৎ রুটিন বদল। কিন্তু স্বস্তিকা সেই পথে হাঁটেননি। চিকিৎসক তাঁকে সতর্ক করেছিলেন, হঠাৎ ওজন কমাতে গেলে শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তিনি সেই পরামর্শ মেনেছেন। শুটিং করেছেন বাড়তি ওজন নিয়েই। কারণ তাঁর কাছে চরিত্রটাই বড়, শরীরের মাপ নয়।
এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, এক অর্থে রাজনৈতিকও। বিনোদন জগতে নারীদের শরীর নিয়ে প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। নায়িকাদের জন্য আলাদা মাপকাঠি তৈরি থাকে—কতটা রোগা, কতটা টোনড, কতটা ‘যৌবনদীপ্ত’। নায়কদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়া অনেক সময় ‘গ্রেস’ হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু নায়িকাদের ক্ষেত্রে সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। স্বস্তিকা সেই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলছেন—শরীর বদলানো লজ্জার নয়।
ধীরে ধীরে তিনি ওজন কমিয়েছেন। এখন ৬৭ কেজি। কিন্তু এই কমানো তাড়াহুড়োর ফল নয়; সময় নিয়ে, শরীরের কথা শুনে, চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে। এই যাত্রাপথে তাঁর উপলব্ধি—নিজের শরীরের প্রতি দায়বদ্ধতা অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে আলোচিত তাঁর মন্তব্য—“গত ২৫ বছরে পুরুষের ফ্যান্টাসাইজ় করার দৃষ্টিভঙ্গিও তো বদলেছে! আমি আগের মতো থাকলে হবে?” এই এক বাক্যেই যেন বহু স্তরের কথা লুকিয়ে আছে। একসময় যে সৌন্দর্যকে ‘আদর্শ’ বলা হত, আজ তা বদলেছে। আগে যে ধরনের নায়িকাকে কেন্দ্র করে পুরুষের কল্পনা গড়ে উঠত, এখন সেই কাঠামো আর আগের মতো নেই। সামাজিক মাধ্যম, গ্লোবাল কনটেন্ট, বিভিন্ন ধরনের শরীর ও ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে ‘ফ্যান্টাসি’ শব্দটাই অন্য অর্থ পেয়েছে।
স্বস্তিকা আসলে বলতে চেয়েছেন—যদি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, তবে অভিনেত্রীরও বদলানো স্বাভাবিক। তিনি কি শুধুই কারও কল্পনার উপাদান? তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা, বয়স, মাতৃত্ব, কাজের চাপ—এসব কি অদৃশ্য হয়ে যাবে? কেন তিনি চিরকাল এক বয়সে আটকে থাকবেন?
এই কথার মধ্যে আত্মসম্মান আছে। আছে নারীর নিজস্ব সত্তার দাবি। তিনি কারও জন্য ‘স্থির’ হয়ে থাকতে চান না। তিনি চলমান, বিবর্তিত। তাঁর শরীর যেমন সময়ের সঙ্গে বদলেছে, তেমনই বদলেছে তাঁর চরিত্র নির্বাচনের ধরন, কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিগত জীবন।
স্বস্তিকার কেরিয়ার দেখলে এই বিবর্তন স্পষ্ট। বাণিজ্যিক ছবির গ্ল্যামার থেকে তিনি হেঁটেছেন চরিত্রনির্ভর গল্পের দিকে। কখনও ট্যানারির শ্রমজীবী নারী, কখনও প্রমোটার, কখনও সমাজের প্রান্তিক মানুষদের প্রতিনিধি—প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজের এক নতুন দিক তুলে ধরেছেন। এই পথচলায় তাঁর চেহারার চেয়ে অভিনয়ের শক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘স্বপনচারিণী’ ইমেজ নিয়ে তিনি বিরক্ত নন, লজ্জিতও নন। বরং সেটাকে হাসিমুখেই নেন। কারণ তিনি জানেন, দর্শকের ভালবাসা নানা রকম হতে পারে। কেউ তাঁকে শক্তিশালী নারীচরিত্রের প্রতীক হিসেবে দেখেন, কেউ বা এখনও রোম্যান্টিক কল্পনায় রাখেন। কিন্তু সেই কল্পনা তাঁর জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে না—এই জায়গাটাই তাঁর স্পষ্ট অবস্থান।
বয়স বাড়া নিয়ে তাঁর নির্ভীকতা আলাদা করে চোখে পড়ে। সমাজে এখনও নারীর বয়সকে আড়াল করার প্রবণতা আছে। বয়স মানেই যেন আকর্ষণ কমে যাওয়া—এমন ভুল ধারণা বহু দিন ধরে চলে আসছে। স্বস্তিকা সেই ধারণাকে প্রশ্ন করেন নিজের উপস্থিতি দিয়েই। তিনি প্রমাণ করেন, আকর্ষণ শুধু ত্বকের টানটানিতে নয়; আত্মবিশ্বাসে, অভিজ্ঞতায়, ব্যক্তিত্বে।
অস্ত্রোপচারের পরের সময়টা সহজ ছিল না। শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক চাপও থাকে। তবু তিনি সেটাকে গোপন করেননি। খোলাখুলি বলেছেন, কীভাবে ওজন বেড়েছিল, কীভাবে কমিয়েছেন। এই স্বচ্ছতা অনেক নারীর জন্য সাহসের উৎস হতে পারে। কারণ তারকাদের জীবনকে অনেক সময় নিখুঁত মনে হয়; তাঁদেরও যে শরীর নিয়ে লড়াই আছে, তা সামনে আসে না। স্বস্তিকা সেই পর্দাটা সরিয়েছেন।
আরও বড় কথা, তিনি নিজের শরীরকে কাজের অন্তরায় হতে দেননি। ৮০ কেজি ওজন নিয়েই শুটিং করেছেন। এতে বোঝা যায়, তাঁর কাছে অভিনয় মানে নিখুঁত ‘লুক’ নয়; চরিত্রের সত্যতা। শরীর বদলেছে বলে চরিত্রের শক্তি কমে যায় না—এই বিশ্বাস তিনি কাজে প্রমাণ করেছেন।
শেষ পর্যন্ত স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক নারীর প্রতিচ্ছবি। তিনি জানেন, টিকে থাকতে হলে বদলাতে হয়। কিন্তু সেই বদল অন্যের খুশির জন্য নয়—নিজের প্রয়োজন, নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, নিজের আত্মসম্মানের জন্য।
নিজের রসিকতায় মুখচোখ লাল করে হেসে ওঠা এই নারী বুঝিয়ে দেন, জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই সৌন্দর্য আছে। কুড়ির সৌন্দর্য আলাদা, চল্লিশের আলাদা। শরীরের মাপ নয়, নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্কটাই আসল। আর সেই সম্পর্ক যত দৃঢ়, ততই শক্তিশালী হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্ব।
তাই তিনি আগের মতো নেই—এটাই স্বাভাবিক। আর ঠিক সেই কারণেই তিনি এখনও প্রাসঙ্গিক। সময়ের সঙ্গে বদলানোই তাঁর টিকে থাকার চাবিকাঠি। আর সেই বদলের মধ্যেই তাঁর সৌন্দর্য, তাঁর শক্তি, তাঁর সত্য।